Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderমার্কিন মুলুকে ‘গণতন্ত্রের শেষকৃত্য’

মার্কিন মুলুকে ‘গণতন্ত্রের শেষকৃত্য’

সাইদ আহমেদ বাবু: বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই বৈশ্বিক গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজন করবেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম গণতন্ত্র সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো। এই গণতন্ত্র সম্মেলন কতটুকু গণতান্ত্রিক সে-প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য যে ১১২টি দেশকে নির্বাচন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সামরিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং নিজেদের কৌশলগত সমর্থনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যারা আমন্ত্রণ পেয়েছে, তারা সবাই মোটামুটি আমেরিকার মিত্র দেশ হিসেবে বিবেচিত। তবে মিত্র দেশগুলোর সবাই এখানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি। বাইডেন প্রশাসন যাকে আমন্ত্রণ জানানো ‘লাভজনক’ মনে করেছে, তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ আমন্ত্রণ পেলেও ওই সম্মেলন থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আরব মিত্র মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোভুক্ত মিত্র তুরস্কও আমন্ত্রণ পায়নি। কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন হাঙ্গেরি আমন্ত্রণ পায়নি। আফ্রিকায় কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং নাইজারসহ আরও কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পেয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও দেশটির ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকার পরও গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছে পোল্যান্ড। মোটের ওপর আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ড সূচকে যারা উত্তীর্ণ তারাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছে। গণতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলন করে, আমেরিকা সম্ভবত তার আন্তর্জাতিক অবস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করার সাথে সাথে বাইডেন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ভাবমর্যাদাকেও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। দেশে নির্বাচন করতে গিয়ে আমেরিকা যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তাতে আমেরিকার বন্ধু দেশগুলোকে বিভাজিত করে ফেলেছে। ৩টি বিশেষ মানদ- ঘিরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলোÑ ১. গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতার সুরক্ষা ও কর্তৃত্ববাদের বিরোধিতা, ২. দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ৩. মানবাধিকারের সমুন্নয়ন। উল্লিখিত মানদ-ে কিন্তু আমন্ত্রিত বেশিরভাগ দেশই উত্তীর্ণ হওয়ার কথা নয়। আসলে এই সম্মেলন যতটা না গণতন্ত্র বিষয়ক, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। এই রাজনীতি হলো বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্বের রাজনীতি। মিত্রদের কাছে টানার রাজনীতি। কিছু দেশকে দেখিয়ে দেওয়ার রাজনীতি। বাংলাদেশের মতো দেশকে সতর্ক করার রাজনীতি। কিন্তু সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকায়, এর কারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনকে বাদ দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাইওয়ানকে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ চীন-মার্কিন উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। গণতন্ত্রের জন্ম ইংল্যান্ডে, পরবর্তীকালে নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লিখিত আকারে গৃহীত হয়। তারপর বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রধান লক্ষণ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি ও জনসাধারণের হাতে নির্বাচনের মাধ্যমে সেই বিভিন্ন দলের যে কোনো একটি বা একাধিককে মসনদে বসানোর বা সেখান থেকে সরাবার ক্ষমতা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজকের বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বৃহৎ শক্তি। সব বৃহৎ শক্তিরই উদ্দেশ্য হয় ক্ষমতা অক্ষুণœ রাখা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও সেটিই সর্বপ্রধান উদ্দেশ্য। আমেরিকা নিজ দেশে যতই গণতন্ত্র চর্চা করুক না কেন, বিশ্ববাসীর সাথে তাদের আচরণ কিন্তু মোটেই গণতান্ত্রিক নয়। ভালোবাসা, প্রেম, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, সবই কিতাবি কথা, মুখের কথা, কথার কথা। বলতে হয় তাই বলা। আসল কথা হলো, সম্পদের ওপর আধিপত্যের বিস্তার বা দখল। মানুষে মানুষে, দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে সম্পর্ক হলো ঘৃণার। একে অন্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা। ঈশ্বর ছিলেন মধ্যযুগে। বিজ্ঞানের যুগে, পাওয়ার আর অসভ্যতা। বাহুবল আবার উঁকি মারছে অরণ্য সভ্যতার পশুবল সবচেয়ে মজার হলোÑ একদিকে যা নিন্দার, অন্যদিকে তা প্রশংসার, তা সাধনার। আমেরিকার আফগান ত্যাগ একটি সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয়। পরাজয়ের পরে তালিবান কাবুলসহ পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে। দেশে দেশে সেসব যুদ্ধের মূল কারণ ছিল সম্পদের ওপর আধিপত্যের বিস্তার। আসলে আধুনিক বিশ্বেও সম্পদের ওপর একচেটিয়া আধিপত্যের এবং অর্থনৈতিক শোষণই হিংসার প্রধান কারণ এ-কথা অমøান বা লেখার মধ্যে প্রতিভাত। কারণ এ-রকমের বিশ্বে গরিব দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক শোষণ চালানোর জন্য হিংসা বাড়বে, মানুষের ওপর নিষ্পেষণের জন্য আর্তনাদ ভিন্ন মাত্রায় অনুরণিত হবে, অনেক বঞ্চনার আগুন, যা ছাইচাপা ছিল, প্রকাশ্যে নতুন করে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মার্কসবাদ, ধনতন্ত্রবাদÑ সবই যেন এক বিরাট ধাপ্পার মতো। একসময় বিবেকবান ও চিন্তাশীল কিছু মানুষ, মানুষ নিয়ে, দেশ নিয়ে, সমাজ নিয়ে প্রকৃতই কিছু ভাবতেন, চোখের জল ফেলতেন, বই লিখতেন, আন্দোলন করতেন, বিপ্লবও হতো। এখন আর সেসব কিছু নেই। এখন আছে বন্ধ্যা সেøাগান, লোক ঠকানো কথা। লক্ষ্য ধর্ম নয়, নয় মানবকল্যাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি নয়, লক্ষ্য হলো পাওয়ার, ব্যক্তির ভোগ, গোষ্ঠীর ভোগ।
গণতন্ত্র বহু রাষ্ট্রনায়কের আদৌ পছন্দ নয়; কিন্তু ‘গণতন্ত্র’ নামটা খুব পছন্দ। তাই পঞ্চাশের দশকে ইন্দোনেশিয়ায় সুকর্ন প্রবর্তন করেছিলেন ‘আইগাইডেড ডিমক্রেসি’, চীনে মাও ‘পিপলস ডিমক্রেসি’, পাকিস্তানে আইয়ুব খান ‘বেসিক আই ডিমক্রেসি’Ñ সবগুলোই নানারকম মোড়কে একনায়কতন্ত্র বা এক-পার্টিতন্ত্র। মার্কসবাদÑ হয় লেনিনবাদের ‘সর্বহারার একনায়কতন্ত্র’ও আসলে ইয়ং কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কতন্ত্র।
ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়া ও ব্রহ্মদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বিশাল ভূ-খ-ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, মহাচীনই ভবিষ্যতে বৃহৎ শক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, ইতিহাসের গতি এদিকেই। পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্ব প্রবল হয়ে উঠবে। বিশ্বের শান্তি বিপন্ন হবে। আমাদের সকলের পক্ষেই এটা দুশ্চিন্তার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব আফগানিস্তানে উপনিবেশ স্থাপনে ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়ে চীনের দ্রুতগতির উত্থান দেখে হকচকিত হয়ে পড়ে। ‘ম্যাককিনসি করপোরেশন’-এর গবেষণা মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর ধনী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। ২০২০ সালে বিশ্বের মোট সম্পদ ৫১৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১২০ ট্রিলিয়নই চীনের সম্পদ। এভাবে চীনের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অস্ত্র সম্ভারে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি আর আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের আসনে সমাসীন দেখে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক কর্তৃত্ব হারানোর শঙ্কায় পড়ে যায়। চীন ঠেকাও প্রকল্পে তাদের সাথে সংযুক্ত করে নেয় আঞ্চলিক শক্তি জাপান, ভারত আর অস্ট্রেলিয়াকে। সেই সাথে চেষ্টা করতে থাকে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশকে সাথে নেওয়ার জন্য। ফলে এই নতুন মেরুকরণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জন্য কিছু উদ্বেগের জায়গা সৃষ্টি হচ্ছে। কাজেই এ মুহূর্তে সতর্ক-কূটনীতির সফলতাই হতে পারে আমাদের নিরাপত্তার প্রথম স্তর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন বিশ্বের এক শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গণতন্ত্র সম্মেলন করছিলেন, ঠিক তখনই তার দেশের কিছু সংখ্যক নাগরিক, অধিকার কর্মীরা মিলে জাতিসংঘের সামনে ‘গণতন্ত্রের শেষকৃত্য’ অনুষ্ঠান করছিল। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্টরা মিডিয়াকে বলেছে, আমেরিকার গণতন্ত্র মরতে বসেছে। তাকে বাঁচাতেই তারা প্রতীকী এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা ‘মার্কিন গণতন্ত্রের কফিন’ও বহন করে নিয়ে আসে।
অর্থ আর অগাধ সামরিক জোরের কারণে বর্তমানে সারাবিশ্বে আমেরিকা একটা দানবীয় ত্রাস। এই দানবীয় ত্রাস তারা মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি করে বিশ্ববাসীকে ভয় দেখিয়ে থাকে। তাদের এই দানবীয় ত্রাস দেখেছে ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াসহ পৃথিবীর নানা দেশের কোটি কোটি বনি আদম। সারাবিশ্বে আমেরিকা মানেই দানবীয় শক্তিতে কম্পমান, আক্রমণাত্মক একটা শক্তি। যে শক্তির তা-বে সারা পৃথিবী আজ জর্জরিত। আসলে আমেরিকান গণতন্ত্র হচ্ছে মুখে মুখে, অন্তরে তাদের গণতন্ত্রের ছিটাফোঁটাও নেই। কাজেই আমেরিকা নিজেকে উন্নত গণতন্ত্রী দাবি করলেও তাদের কর্মকা- দেখলে সে দাবি ভুয়া প্রমাণিত হয়। আমেরিকা দুনিয়াকে ভালো-মন্দ যাই হোক, একভাবে দাবড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু তার সেসব বহু সক্ষমতাই আজ আর নেই।
কিছু বিশ্লেষক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘গণতন্ত্র শীর্ষ সম্মেলন’-এর মাধ্যমে আদর্শিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। যাতে নতুন মার্কিন ব্যবস্থার জন্ম হয় এবং চীনকে বিচ্ছিন্ন ও দমন করা যায়। তবে, এ-ধরনের ষড়যন্ত্র অবশ্যই সফল হবে না। বাস্তবতা প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের পতাকা ধারণ করলেও তা মূলত নিজের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। গত ২০ বছরে মার্কিন বাহিনী ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ৯০ হাজারেরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে; এতে কমপক্ষে ৪৮ হাজার সাধারণ মানুষ মারা গেছে। তার প্রতিবেদন দেখার পর মার্কিন নেটিজেনরাও মার্কিন বাহিনীর প্রতি নিন্দা জানিয়েছে। এ বিষয়ে সিএমজি সম্পাদকীয় জানিয়েছে, নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার যোগ্য নয়!
যখন কোনোখানে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে আমেরিকার তার স্বার্থরক্ষার প্রয়োজন ছিল, তখন সে সেটি করেছে। এখন আমেরিকা যদি মনে করে গণতন্ত্রকে আবার শক্তিশালী করার মাধ্যমেই তার স্বার্থ রক্ষা হবে, তাহলে সে সেটিই করবে। এখানে আমেরিকাকে আলাদা করে দেখার কোনো কিছু নেই। এখনও পৃথিবীতে গণতন্ত্রই বিকল্পহীন শাসনব্যবস্থা; জনগণের আস্থার একমাত্র জায়গা। তাই বনিয়াদি ‘গণতন্ত্র’, উন্নয়নের ‘গণতন্ত্র’ কিংবা কার্যকরী ‘গণতন্ত্র’ নামে নয়, আদতে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি নিজের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় সব স্বৈরাচারী শাসক। এভাবেই তারা জয়ী করেন, অপরিহার্য করে তোলেন গণতন্ত্রকে।
আমেরিকা রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে কর্তৃত্ববাদ পছন্দ করে এবং দেশে দেশে সেটি রপ্তানিও করে; কিন্তু নিজেদের দেশে কেউ কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠুক সেটি তারা বরদাশত করে না, সেই সংস্কৃতিকে তারা প্রশ্রয়ও দেয় না, তাদের গণতন্ত্র চর্চিত হয় ব্যক্তির ইচ্ছায় নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়। এটাই আমেরিকা, এটাই আমেরিকার গণতন্ত্রের বিশেষত্ব। কারণ সেখানে জন্মেছিলেন একজন জর্জ ওয়াশিংটন-থমাস জেফারসন-আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো রাষ্ট্রনায়ক, যারা সংবিধান ও গণতন্ত্রকে ব্যক্তির ওপরে নিয়ে গেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র চর্চাকে সমাজ-রাষ্ট্রের ঐতিহ্য হিসেবে আঁটসাঁট করে বেঁধে দিয়েছেন। এ-কারণেই বুঝি সারাবিশ্ব পছন্দ করুক আর নাইবা করুক, আমেরিকা সগর্বে-প্রত্যয় নিয়ে বলে এই পৃথিবীকে দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের।
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন আমেরিকার প্রধান প্রতিপক্ষ চীন। পুরনো শত্রু রাশিয়া তো আছেই। এ দুই দেশই গণতন্ত্র সম্মেলনের তালিকায় বাদ পড়েছে। কিন্তু চীনের প্রবল প্রতিপক্ষ তাইওয়ান এবং রাশিয়ার গলার কাঁটা ইউক্রেনকে আমেরিকা ঠিকই দাওয়াত দিয়েছে। বলাবাহুল্য, কোনো কোনো দেশ এখনও চায় যে আমেরিকা একটি প্রধান শক্তি হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুক, অনেক দেশ চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো পক্ষ বেছে নিতে রাজি নয়। যখন আমেরিকা মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা নিয়ে তার ভাবমর্যাদা বজায় রাখতে চায়, তখন আফগানিস্তান থেকে সরে আসায় সেই ভাবমর্যাদা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবানন পরিস্থিতি ওয়াশিংটনকে স্বাধীনতা ও মানবতার বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
গণতান্ত্রিক সংস্কারের উছিলায় একতরফা নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে। গণতন্ত্র আমেরিকার গণনিধনের অস্ত্র হয়ে উঠেছে। আমেরিকা আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। তারা বিশ্বে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়। ক্যাপিটাল দাঙ্গার খবরে কেঁপে গিয়েছিল বিশ্ব। জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা গণবিক্ষোভ তৈরি করেছিল। কোভিড-১৯ মহামারিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণই করে উঠতে পারেনি আমেরিকা।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বব্যাপী আমেরিকার যে ভূমিকা তাতে তাদের মুখে কর্তৃত্ব, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা শুনলে খটকা লাগে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তীতে দেশে দেশে যতগুলো সামরিক ক্যু ও সরকার উৎখাত হয়েছে এর ৯৯ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে আমেরিকার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ হস্তক্ষেপে। অপছন্দের শাসকদের সরাতে আমেরিকা গত ৮০ বছরে বিশ্বে কি না করেছে? যুদ্ধ বাধানো, বোমা ফেলা, ক্যু, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ, সরকারের বিরুদ্ধে মিডিয়ার নিরন্তর অপপ্রচার এবং এক সময় সামরিক আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করা ও তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আমেরিকা গোটা দুনিয়ায় নিজের অপছন্দের শাসকদের উচ্ছেদ ও উৎখাত করেছে। প্রতিপক্ষ কোনো দেশের অগ্রগতি থামানোর জন্য সেই দেশের এলিট শ্রেণি, বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা বা গুপ্তহত্যায়ও আমেরিকার জুড়ি নেই! এমনকি কৌশলে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে লাখ লাখ মানুষকে হত্যার ক্ষেত্রেও আমেরিকা ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো এ সত্যের সাক্ষ্য দেয় যে, জাতিসংঘ সম্ভবত মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ হাসিলে একটি প্রচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করতে পছন্দ করেছে বা নীরব দর্শক থেকেছে। সমস্যাগুলোর প্রতি জাতিসংঘ উদাসীন ছিল। ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, জাতিসংঘের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সীমিত। মানবাধিকার বিষয়ক ঘোষণা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এমন একটি দেশ কী করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পৃষ্ঠপোষক হয়? আমেরিকার গণতন্ত্র আসলে নিজের স্বার্থ রক্ষার গণতন্ত্র। তারা নিজেদের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব রক্ষার জন্য এখন গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বাক-স্বাধীনতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। নিজেদের প্রভাব ও ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং অপকর্ম আড়াল করতে এই ৩টি জিনিসের কথা বলে তারা আগ্রাসন চালায়, লুটপাট করে, যুদ্ধ বাধায়। ভুল ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এ দেশটি ইরাকে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। একটি অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি নির্মমতা তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। তাই তো বাইডেনের গণতন্ত্র সম্মেলনেও ইসরায়েল ডাক পেয়েছে। প্রশ্ন উঠেছেÑ কেননা জর্ডান, মিশর, মরক্কোকেও বাইডেন ডাকেননি! ‘আরব বসন্ত’র ধাত্রীভূমি তিউনিশিয়াকেও নয়!
এখানেই চলে আসছে রাজনীতি ও কূটনীতির মিশেল। অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো, ইরাক, পাকিস্তান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সার্বিয়া ও জাম্বিয়া কি আদৌ কোনো গণতান্ত্রিক দেশ? তারা ডাক পেলেও বাংলাদেশের অনাহূত থাকা সম্ভবত এটাই বোঝায়, পাকিস্তানের অঙ্গহানি যুক্তরাষ্ট্র আজও তাদের পরাজয় বলে মনে করে। এই তালিকায় স্পষ্ট, আমেরিকা তাদেরই আমন্ত্রণ জানিয়েছে যাদের সঙ্গে তারা সম্পর্ক দৃঢ় করতে আগ্রহী। ভারত তার কৌশলগত অংশীদার, পাকিস্তানকে তার প্রয়োজন আফগানিস্তানের জন্য।
‘নির্বাচনী অস্বচ্ছতা’, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বড় নয়, বাংলাদেশকে উপেক্ষার বড় কারণ হচ্ছে চীনমুখী ভূমিকা। যা হোক, আমেরিকার গণতন্ত্র সম্মেলনে দুর্নীতি প্রতিরোধ, গণতান্ত্রিক সংস্কার, গণতন্ত্রের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচনের সুরক্ষা ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এই ৫টি আদর্শিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের এক বিশেষ তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা করেছে। ইউএস এইডের ব্যবস্থাপনায় এই অর্থ নানা প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হবে। নিজের স্বার্থ, সুবিধা ও বিশেষ মতলব থেকে বাছাই করা দেশগুলোকে নিয়ে করা আমেরিকার ‘গণতন্ত্র সম্মেলন’ নিয়ে তাই বিশ্বব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রও আজ হুমকির সম্মুখীন। মার্কিন পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের তা-বের ঘটনায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘বিক্ষোভকারীদের কর্মকা- রাষ্ট্রদ্রোহের কাছাকাছি। এটা আমেরিকার গণতন্ত্রের ওপর “নজিরবিহীন হামলা”।’ ওই হামলার পর পার্লামেন্টের অধিবেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়। এমনকি ওয়াশিংটনে ১২ ঘণ্টার কারফিউও জারি করা হয়। তা-বের পর অধিবেশন শুরু হলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলের ইতিহাসে একটি কালোদিন এটি।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে যেভাবে হামলা ও কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছিল এমন ঘটনা কখনও বাংলাদেশে হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনেও তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশ অনেক উন্নত রাষ্ট্রের চেয়েও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজকে তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে যেই নিষেধাজ্ঞা এটি আসলে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে, উৎসাহিত করছে। আমেরিকা বিগত ২০ বছরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে উপনিবেশবাদ চালু করেছে। যে দেশ একাধিক যুদ্ধে বিভিন্ন দেশে যখন-তখন যুদ্ধ করে যাচ্ছে। ভিয়েতনামকে তছনছ করল, ইরাক তছনছ করল, ইরানে চেষ্টা করেছিল। সেই দেশের গণতন্ত্রকে যদি কেউ গণতন্ত্র বলে, তাদের গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও একটু ভালোভাবে জানতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতার হত্যাকা-ের মামলায় দ-প্রান্ত খুনিদের আশ্রয়দাতা আমেরিকার কাছ থেকে আমাদের আইনের শাসনের ছবক শুনতে হয়, মানবাধিকারে কথা শুনতে হয়, গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়, ন্যায়বিচারের কথা শুনতে হয়, সেটিই খুব অবাক লাগে।’ আমেরিকা ন্যায় বিচার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের কথা বলে; কিন্তু তারাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়ে বসে আছে। খুনি রাশেদ এখন আমেরিকায়। আর নূরকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে কানাডা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালে চুক্তি অনুযায়ী চাল পাঠাতে অহেতুক বিলম্ব করে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ ঘটায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে সহযোগী ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ‘মানবাধিকারের অস্ত্র’ ব্যবহার করত। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন এ অস্ত্র ব্যবহার করছে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দেশগুলোর বিরুদ্ধে। এ অস্ত্রের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে নিজের মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে আসছে। বাস্তবতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানবাধিকার ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার মাত্র। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জেমস পেক অনেক ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন, মার্কিন সরকারের তথাকথিত ‘মানবাধিকার’ আর আসল মানবাধিকার এক নয়। মার্কিন সরকার মানবাধিকারের পতাকা ধরেছে কেবল নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য। নিজের আধিপত্য রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একে একে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এসেছে। এর ফলে অনেক দেশে নেমে এসেছে বিপর্যয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেসব দেশের জনগণের ওপর।
মার্কিন স্কলার সিউং হোয়ান চৌ এবং জেমস পাট্রিক গত ৩০ বছরে ১৪৪টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারভিত্তিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রায় সবকটি ব্যর্থ হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৈশ্বিক মানবাধিকার চর্চায় প্রমাণিত হয়েছে, মানবাধিকারের রাজনীতিকরণ বিশ্ববাসীর শান্তি ও উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৮তম সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের মানবাধিকার সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে। বর্ণবাদ, বন্দুকের বিস্তার, আইনের অতিরিক্ত প্রয়োগ এবং ধনী-গরিবের বড় তফাত মার্কিন সমাজের আসল চিত্র। যেখানে মার্কিন রাজনীতিবিদরা নিজ দেশের মানবাধিকার সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না, সেখানে অন্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করার কী অধিকার তাদের থাকতে পারে? বিশ্ববাসী যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা বুঝতে পেরেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এবং ইউএন পিস বিল্ডিং কমিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে বিপুলভাবে প্রশংসিত। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এবং বিশেষত বিগত এক যুগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্জনসমূহ বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিম-লে এক অনন্যসাধারণ উচ্চতায় পর্যবসিত করেছে। আমাদের উন্নয়ন এখন অন্য দেশের সহায়তার প্রতি মুখাপেক্ষী নয়। আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্কের সিদ্ধান্তসমূহ এখন বহিঃশক্তির চাপের ওপর নির্ভরশীল নয়। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি ও বন্ধুত্বের মূলনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে বহির্বিশ্বে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে হয়ে উঠল উন্নয়নের এক বিস্ময়কর মডেল। এছাড়া নজিরবিহীন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব অসাধারণ। দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হলো উজ্জ্বল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইস্যুতে ও ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আজ বাংলাদেশ, জাতিসংঘের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় রয়েছে অগ্রণী ভূমিকায়। স্বল্পোন্নত দেশের বৃত্ত ছাপিয়ে এবার চলেছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে। আজ এ আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়েছে যে, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে এক উন্নত দেশ, হয়তো আরও কাজ বাকি থাকল। দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, সুশাসন নিশ্চিতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং নির্বাচনসহ সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য কাজ করতে হবে। বিজয়ী বীর জাতি হিসেবে এসব কাজে নিশ্চয় ব্যর্থ হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই সেই রাঙা আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, সেদিন দূরে নয়।
গণতন্ত্রের উত্তম কোনো রেফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের নাম কিন্তু আসে না, সেরা গণতন্ত্রের দেশ বলার কোনো সুযোগ নেই। গণতন্ত্রের সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ২৫তম। প্রথম দেশ স্ক্যান্ডেনেভিয়ানদের জয়জয়কার, সাথে আছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানাব, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, এদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি নিয়ে ঈর্ষান্বিত, তাদের কথায় যেন তারা প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত না হয়। সেটিই থাকবে আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে মুজিববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য, উত্তরণ

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য