Sunday, February 5, 2023
spot_img
বাড়িSliderস্মার্ট বাংলাদেশ হবে

স্মার্ট বাংলাদেশ হবে

আঘাত আসবে, ষড়যন্ত্র আসবে কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবেন- সেটাই আমরা চাই।

উত্তরণ প্রতিবেদন:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই ২২তম কাউন্সিল অধিবেশনে যারা সকলে উপস্থিত হয়েছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন আর বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের যারা কাউন্সিলর-ডেলিগেট ভাইবোনেরা আমার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে যারা এখানে সমাবেত হয়েছেন এবং কূটনৈতিক মিশনের যে সকল প্রতিনিধি এখানে এসেছেন আমি সকলকেই স্বাগত জানাচ্ছি।
গত ২০১৯ সালে আমরা শেষ আমাদের সম্মেলন করেছিলাম। তিন বছর পরপর সম্মেলন। ইতিমধ্যে আমরা মাত্র ১০টি জেলা ছাড়া প্রায় প্রত্যেক জেলা এবং উপজেলার ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যন্ত আমরা কাউন্সিল সম্পন্ন করেছি, অনেকগুলি মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি; বা যেগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ সেগুলি আমরা করব। কাজেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পেরেছি। সে-জন্য আমি আমার সকল নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জেলা থেকে যারা এসেছেন সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। ৮টা কমিটি করে দিয়েছিলাম আমরা, এই উপ-কমিটিগুলি ৮টি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন এবং যথাযথভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করতে পেরেছেন, এখন আমরা বিশেষ করে আমাদের এই কেন্দ্রীয় সম্মেলন। আমি আমাদের সকল নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এটুকু বলব যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তার হাতে গড়া এই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি, ৩০ লক্ষ শহিদ এবং আমার লাখো মা-বোনেরা যাদের মহান আত্মত্যাগ আমাদের বিজয় এনে দিয়েছে।
আমি অত্যন্ত বেদনার সাথে স্মরণ করি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাংলাদেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দেশকে, স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দিয়েছিলেন। সেই সময় চরম আঘাত এলো তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকেই শুধু হত্যা করেনি, একই সাথে হত্যা করা হয়েছে আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে। আমার ছোট তিন ভাই ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মুক্তিযোদ্ধা, তার নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল মুক্তিযোদ্ধা, তার স্ত্রী পারভিন জামাল রোজি এবং আমার ছোট্ট ভাইটি ১০ বছরের রাসেল তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করে। আমার একমাত্র চাচা শেখ আবু নাসেরকে হত্যা করে।
আমার মেজো ফুপুর বাড়ি আক্রমণ করে শেখ ফজলুল হক মণি মুক্তিযোদ্ধা তরুণ নেতা, তাকে এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণিকে হত্যা করে। আমার সেজো ফুপুর বাড়ি আক্রমণ করে আমার ফুফা আবদুর রব সেরনিয়াবাত মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ছিলেন, তাকে হত্যা করেছে; একই সাথে তার ১০ বছরের ছেলে আরিফ, ১৩ বছরের মেয়ে বেবী, ৪ বছরের নাতি, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে শুকান্তকে হত্যা করে। তার ভ্রাতুষ্পুত্র মুক্তিযোদ্ধা শহিদ সেরনিয়াবাত এবং রেন্টুকে হত্যা করে এবং ১৮ জন সদস্য। একই সাথে ব্রিগেডিয়ার জামিল ছুটে এসেছিলেন, আমার বাবার মিলিটারি সেক্রেটারি, তাকে হত্যা করেছে। পুলিশ অফিসার সিদ্দিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন, তাকেও হত্যা করেছে। আমি সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আইভি রহমানসহ যারা গ্রেনেড হামলায় শাহাদাতবরণ করেছেন, আমি তাদের স্মরণ করি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এই আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আমি শামসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নিখিল পাক মানে আওয়ামী লীগ যিনি সভাপতি ছিলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র তার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ এবং সেই সাথে সাথে আজকে আমাদের অনেক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে নেই। আমরা হারিয়েছি আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি, আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, জিল্লুর রহমান সাহেব, সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দা জহুরা তাজউদ্দীনসহ আমাদের অনেক নেতাদের। সৈয়দ আশরাফ, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল যারা দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে এই বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায় করতে যেয়ে বারবার আমাদের যে নেতৃবৃন্দ সেই ছাত্রনেতা, যুবনেতাসহ যারা জীবন দিয়েছেন, আমি তাদেরকে স্মরণ করি। আমি স্মরণ করি আমাদের সংগ্রামের পথে কত মানুষ জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছে এবং তাদের পরিবারবর্গ, তাদের যে দুর্বিষহ জীবন, তাদের এই আত্মত্যাগ সেটাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।
’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়; বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের জনগণের অধিকার বন্দী হয় ক্যান্টনমেন্টে সামরিক জান্তার পকেটে। আর নির্যাতিত এবং হত্যা হয় আমাদের অগণিত নেতাকর্মী। জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে যেয়ে সেই সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আমি তাদেরকেও স্মরণ করি। স্মরণ করি যারা বছরের পর বছর কারাজীবন কেটেছেন এবং তাদের পরিবারবর্গ তাদেরও আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যাতে সরকারে আসতে না পারে, তার জন্য বহু চেষ্টা, অনেক কিছুই করা হয়েছে। আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমার একটা লিখিত বক্তৃতা আছে, সেখানে আওয়ামী লীগের পুরো ইতিহাসটা খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরা আছে। আমি আর যেহেতু সময় অনেক কমে গেছে, আমি সেই ইতিহাস, আপনারা ঐ আমার লেখা বক্তৃতা পড়েই আপনারা জেনে নেবেন আমি আর সেখানে পড়তে যাচ্ছি না। এটা পঠিত বলে গণ্য হলে আমি খুশি হব। মাননীয় স্পিকার আছেন। আমি শুধু দুই-চারটা কথা বলে যাব, যেটা আমার উপলব্ধি থেকে, আর ঠিক এই যুগে যে কথাগুলি আসে সেখান থেকেই।
জাতির পিতা কি চেয়েছিলেন? তিনি চেয়েছিলেন এই বাংলাদেশটা হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এই সুযোগটা তিনি করে দিয়ে এই দেশটাকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় তিনি তা পারেননি। কিন্তু স্বাধীনতার পর তিনি যখন দেশের দায়িত্ব নিলেন, তখন তিনি কী বলেছিলেন? আমি তার বক্তব্য একটু কোড করি, ’৭৫ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, “বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলে এই স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে।” এটাই হলো বাস্তবতা।
’৭৫-এর পর বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো তো দূরের কথা, বাংলাদেশের মানুষ আবার যেন সেই শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। ’৭৫-এ আমি আর রেহানা বিদেশে ছিলাম, আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম; রিফিউজি আকারে বিদেশে থাকতে হয়েছিল। এরপর এক আওয়ামী লীগ এ-রকম এক কাউন্সিলেই আমার অবর্তমানেই আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি আমার ছোটবোন রেহানার সঙ্গে আলাপ করেছিলাম এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দেশে আসতেই হবে।
এমন একটি দেশে ফিরে এসেছি যেখানে আমার পিতার খুনিদের বিচার হবে না বলে তাদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছিল। সেই বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। সেই রকম একটি দেশে আমার কোনো থাকার জায়গা কোথায় কী আমি জানি না, কিছুই ছিল না, আমি কিছুই চিন্তা করিনি। ছেলেমেয়ের দায়িত্ব রেহানার ওপর ছেড়ে দিয়ে আমি চলে এসেছিলাম। এই একটা কথা স্মরণ করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছিলেন, যে-কথা তিনি বলেছিলেন যে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলে এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে। কাজেই এই স্বাধীনতা যেন ব্যর্থ না হয়, এই স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, তৃণমূলের মানুষ যেন সেই সুযোগ পায়, সেটা নিশ্চিত করাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
আমার চলার পথের অনেক সাথী আজকে নেই; সকলের কথা আমার মনে পড়ে। তবে আমি বলবো যে আজকের বাংলাদেশ অন্তত আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এই বাংলাদেশকে আমরা কিন্তু এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। ’৯৬ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি, আপনাদের মনে আছে ২০১৫ সালে ’৯৬ সালে ১৯৯৬, এই ’৯৬ সালে একটা নির্বাচন হয়েছিল ১৫ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কারও ভোট চুরি করলে বাংলাদেশের মানুষ তা মনে নেয় না। এদেশের মানুষ মেনে নেয়নি। তখন গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, আন্দোলন হয়েছিল। খালেদা জিয়া সেই ’৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল আর ৩০শে মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল; বাংলার জনগণ তাকে বাধ্য করেছিল। এরপরে যে নির্বাচন হয়েছিল ১২ই জুন, সেই নির্বাচনে আমরা সরকার গঠন করি। বাংলাদেশটাকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম; বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিলাম; সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করেছিলাম; পুল, ব্রিজ, রাস্তা, ঘাট, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতুসহ অনেক কাজ করে বাংলাদেশকে আমরা একটা জায়গায় নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১-এ আমরা সরকারে আসতে পারিনি, কেন পারিনি এটা অনেকবার বলেছি, আর বলতে চাই না। কিন্তু বাংলাদেশের এতটুকু স্বার্থ আমার জীবন থাকতে নষ্ট হবে না, কারও হাতে তুলে দেব না, আমার এই প্রতিজ্ঞাই ছিল। হয়তো সে-কারণেই আমরা আবার আসতে পারিনি, তাতে আমার কোনো আফসোস নেই। কিন্তু ২০০১-এ যারা ক্ষমতায় এসেছিল, হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি, বিদ্যুৎ না দিয়ে বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা, এ-রকম অনেক কিছু খেলা এদেশের মানুষ দেখেছে। ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার লিস্ট করে নির্বাচনে কারচুপি করার যে চক্রান্ত করেছিল সে-চক্রান্ত এদেশের জনগণ সম্পূর্ণভাবে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে আবার তারপরে অবশ্য ইমার্জেন্সি আসে, গ্রেফতার করে ২০০৮-এ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়, সেই ইমার্জেন্সি সরকার। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মহাজোট করে আমরা জয়লাভ করি। ২০০৮-এ জয়লাভ করে ৯-এ সরকার গঠন করেছি আজকে ২০২২। পরপর তিনবার আমরা ক্ষমতায়। আর এই ক্ষমতায় আছি বলেই আজকে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। যেখানে এই বাংলাদেশে বাজেট হতো মাত্র ৬২ হাজার কোটি টাকার বাজেট। সেখানে এই ২২-২৩ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ বাজেট দিয়েছে ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
করোনাভাইরাস মোকাবেলা করে বিশেষ প্রণোদনা দিয়েও আমরা এই বাজেট দিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এই কয় বছরে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করেছিলাম। যেখানে জাতির পিতা এদেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে প্রবৃদ্ধি ৯ পার্সেন্টে ওঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু এরপরে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার অথবা খালেদা জিয়া সরকার, কেউ কিন্তু আর প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারেনি। আওয়ামী লীগই একমাত্র এই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ পর্যন্ত আমরা তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য আমাদের কোভিড-১৯, এই কোভিড নাইনটিন অতিমারি আমাদের সেই অগ্রযাত্রাটাকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে। তারপরেও আমি বলব যে, এভারেজে আমরা ৬ থেকে ৭ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। তবে এখন আবার আরেকটা এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশন। এতে হয়তো আরও আমরা সারাবিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত, উন্নত ধনী দেশগুলি আজকে অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে, বাংলাদেশ আমরা এখনও আমাদের অর্থনীতি সচল রাখতে পারি; কিন্তু তারপরেও এই আঘাতটাও তো আমাদের ওপর আসবে। যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৩৪ ডলার, আর বিএনপির আমলে তো মাত্র ৩৩৫ ডলার ছিল। আজকে আমাদের সেখানে আমরা মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পেরেছি। আমাদের যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা করেছিলাম ২০১০ থেকে ২০২১, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আমরা আনতে পেরেছি কখন, যখন আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি, যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদযাপন করি। যদিও অতিমারির মধ্যেও আমরা করেছি, তখনই আমরা এই স্বীকৃতিটা জাতিসংঘ দেয় যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটাকে ধরে সামনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আমরা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তায় এই করোনা অতিমারির সময়ও আমরা এই নিরাপত্তা অর্থ বরাদ্দ এবং লোকসংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। আজকে ৮৪ লক্ষ ৭৬ হাজার মানুষ বয়স্ক, বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা যারা তারা ভাতা পাচ্ছেন। যেখানে আমরা খরচ করছি ৯৮১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। আমরা চাই মানুষ যেন কষ্টে না থাকে। তার জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তা, ’৯৬ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি তখন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আমরা এটা দিয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে যারা প্রতিবন্ধী প্রতিটি প্রতিবন্ধীকে আমরা ভাতা দেই। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতা পায় আবার তারা শিক্ষার জন্য বিশেষ অনুদানও পায়, বৃত্তি পায়, উপবৃত্তি পায়। ২ কোটি ৫৩ লক্ষ শিক্ষার্থীকে আমরা কিন্তু বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি, কোনো সময় তা বন্ধ হয়নি বরং আরও প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে প্রণোদনাও দিয়েছি, যাতে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে আর অনলাইনে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে সেই ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি। আমাদের দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা ভাতা দিচ্ছি। তাছাড়া আমাদের মুক্তিযোদ্ধা খেতাবপ্রাপ্ত সকলকেই আমরা কিন্তু আলাদা সম্মানি দিচ্ছি। কারণ তারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সম্মান করা যে যে দলই করুক না কেন, যিনি মুক্তিযোদ্ধা সে সম্মানীয়, আমি এটা বিশ^াস করি, সেটাই আমরা করেছি।
বাংলাদেশের নির্বাচন কী ছিল, নির্বাচন মানেই ছিল আমরা যেটা বলতাম, ১০ হুন্ডা, ২০টা গুণ্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। এই নির্বাচনী সংস্কারÑ এটাও কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ ১৪-দল মহাজোট মিলে আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর যে কাজই করুক, আমাদের জেল খাটাক আর যাই করুক, তারা অন্তত সেই প্রস্তাবের কিছু কাজ বাস্তবায়ন করে গেছে। যেমন আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার লিস্টে করেছিল। সেটা বাদ দিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। যাতে কেউ ভুয়া ভোট দিতে না পারে, সেই জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা; স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ঐ সিল মেরে আগেই ব্যালট বাক্স ভরবে, সেটা যেন না পারে যে কোনো ভোট দিতে যেয়ে দেখতে পারে সেখানে আগের থেকে ভোট ভরা আছে কী না। সেইজন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এখন এটা চালু করা হয়েছে।
আমাদেরই সেøাগান ছিল আওয়ামী লীগের সেøাগান। ‘আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব’; মানে যাকে আমার পছন্দ তাকে দেব। ভোট দেওয়ার যে অধিকার সংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সেই অধিকার আওয়ামী লীগই নিশ্চিত করেছে। আমি জানি এই ভোটকে নিয়ে অনেকেই কন্টোভার্সিয়াল করতে চায়, অনেকে অনেক কথা বলে কিন্তু আমরা সেটা করেছি। আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন করে দিয়েছি। সেই আইন মোতাবেকই মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করছে। সেখানে আমরা আওয়ামী লীগ কোনো হস্তক্ষেপ করি না।
নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। আগে নির্বাচন কমিশনের আর্থিক সক্ষমতা নিজস্ব ছিল না; সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এটা রাখা ছিল। আমরা সেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনকে এই আর্থিক সক্ষমতা তাদেরটা তাদের হাতে আমরা দিয়ে দিয়েছি। বাজেট থেকে সরাসরি তাদেরকে টাকা দেওয়া হয়, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি। আমরা আইডি কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড করে দিয়েছি এবং ইভিএম কিছু কিছু চালু হয়েছে। সেখানে কিন্তু কারচুপি করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমরা সেটা জানি না। ইতিমধ্যে আমরা এই ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২ আমরা পাস করে দিয়েছি। আমাদের যদি জনগণের ভোট চুরির দুরভিসন্ধি থাকত, তাহলে আমরা সেটা কেন করব? খালেদা জিয়ার মতো ওই আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন আমরা করতাম; তা তো আমরা করি নাই। আমাদের জনগণের ওপর আস্থা আছে বিশ্বাস আছে। আমরা সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা চলি।
আমরা ওয়াদা দিয়েছিলাম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত করব। ৪৩০০ মেগাওয়াট থেকে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ৩২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনে। আমরা যখন সরকার গঠন করলাম সেই সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজকে আমরা ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। তো আমাদের রিনিউয়েবল এনার্জি বা বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন এমন কী আমরা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। প্রত্যেকটা ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য হলো অতিমারি কোভিড-১৯, তারপরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, স্যাংশন, পাল্টা স্যাংশন। সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া; আমাদের সেই ধাক্কায় পড়তে হলো। কারণ পৃথিবীটা এখন একক কোনো দেশ চলে না, আমাদের অনেক কিছু আমদানি করতে হয়। ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি আমাদের আমদানি করতে হয়। প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ল। কিছুদিনের জন্য আমাদের এখানে লোডশেডিং দিতে হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন ধীরে ধীরে সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি; কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে, মিতব্যয়ী হতে হবে। কারণ এই বিদ্যুৎ উৎপাদন বা গ্যাস ক্রয় অনেক খরচ হয় এ-কথা মাথায় রাখতে হবে। তাতে আপনাদেরও যারা ব্যবহার করেন তাদের বিল কমবে সেটা আপনারা নিশ্চয়ই করবেন।
আমাদের সব থেকে বড় কথা জাতির পিতা গৃহহীন-ভূমিহীনদের জন্য ঘর করতে চেয়েছিলেন। সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। আবদুর রব সেরনিয়াবাত সাহেব মন্ত্রী হিসেবে তার ওপরে দায়িত্ব ছিল যে এই ঘরগুলি তৈরি করার। তাকেও মেরে ফেলা হলো। আর আওয়ামী লীগ তো ক্ষমতার বাইরে। তাই ’৯৬ থেকেই আমরা শুরু করেছি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেওয়া এবং আজকে ৩৫ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে দুই কাঠা জমি এবং ঘর এবং জীবন-জীবিকার সুযোগ পাচ্ছে। সেটা আমরা করে দিতে সক্ষম হয়েছি।
পদ্মা সেতু, আমাদের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল। দুর্নীতি করে টাকা বানাতে আসিনি। আমার বাবার রাষ্ট্রপতি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর আমি চার চারবার প্রধানমন্ত্রী। আমাদের পরিবার দুর্নীতিই যদি করত, তাহলে আর দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারতাম না। আমরা দেশের মানুষকে দিতে এসেছি, মানুষের জন্য করতে এসেছি। এ-কারণেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এটা অন্তত আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে এটা মেনে নিতে পারি না। চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করব। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি। ধন্যবাদ জানাই আমার দেশের মানুষকে তারাই আমাকে সাহস দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করেছি। শুধুমাত্র পদ্মা সেতু না, আজকের তিনটা এয়ারপোর্ট আন্তর্জাতিকমানের আওয়ামী লীগ সরকারের করা; চতুর্থটা হচ্ছে কক্সবাজার। সারাদেশে রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ করে অত ডিটেইল বলতে গেলে অনেক সময় বক্তৃতায় আছে পড়ে নিয়েনÑ সেগুলি আমরা করেছি মাত্র কিছুদিন আগে ১০০টা সেতু, ১০০টা সড়কের উন্নতিÑ এটা আমরা করতে পেরেছি। কোনোদিন আগে কেউ এভাবে একসাথে করতে পেরেছে? আপনারাই বলেন, পেরেছে কোনো সরকার? জোরে বলেন। কে পেরেছে? আওয়ামী লীগ; আওয়ামী লীগ সরকার। আমরাই পারি দেশের উন্নতি করতে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। ইনশাআল্লাহ্ আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে আসবে।
কোভিড নাইনটিন অনেক দেশ হিমশিম খেয়েছে। এই কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে পারেনি। রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থেকেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এই কোভিড মোকাবেলা করেছি। আমরা করতে পেরেছি। বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। আমি বলেছি যত টাকা লাগে যখন গবেষণা চলছে তখনই আগাম অর্থ দিয়েছি। আমরা বিনামূল্যের টিকা দেওয়া এবং বিনামূল্যে টেস্ট করিয়েছি। হ্যাঁ পরবর্তীতে আমাদের বন্ধপ্রতিম কিছু দেশ আমাদেরকে উপহার দিয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। চিকিৎসাসেবা সেটাও বিনামূল্যে দিয়েছি। ১৫ হাজার সিট অতিরিক্ত করতে হয়েছে। ডাক্তার, নার্স নিয়োগ দিতে হয়েছে। সেই ২০০৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত আমরা ২২ হাজার ডাক্তার, ৪০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি, মানুষের সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। কমিউনিটি ক্লিনিক এবং আমাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ৩০ প্রকার ওষুধ দিচ্ছি। মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। কোনো সরকার তো দেয়নি; বরং কমিউনিটি ক্লিনিক খালেদা জিয়া এসে ২০০১-এ বন্ধ করে দিয়েছিল। বলেছিল কমিউনিটি ক্লিনিকে যারা চিকিৎসাসেবা নেবে তারা না-কি সবাই নৌকায় ভোট দেবে। সেইজন্য ওই সেবা দেওয়া যাবে না। ওরা মানুষের কথা চিন্তা করে না, ওরা নিজেদের চিন্তা।
আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য চলার জন্য আমরা ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। এই প্যাকেজে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে যেন অর্থ সরবরাহ হয় সেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করেছি। নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছি প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষকে। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তাদের শ্রমিক-কর্মচারী, তাদের বেতন, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, সার্ভিস সেক্টর, মাঝারি শিল্প, সমস্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল তারা যেন সময় মতো পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি, ভর্তুকি দিয়েছিÑ সেটাও আমাদের করা। এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড তৈরি করে রপ্তানির শিল্পকে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় এনেছি, কোনোমতেই যেন রপ্তানি নষ্ট না হয়।
আমাদের ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ এই প্যাকেজে ৭ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৫১ জন, বাংলাদেশে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ এখন হিসেবে, তার মধ্যে ৭ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৯১ জন এই প্রণোদনায় তারা লাভবান হয়েছে। এই প্রণোদনা তাদের কাছে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠান ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৭টি প্রতিষ্ঠান এই প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। সেই সুবিধা তাদের আমরা দিয়েছি। এই দেশে কৃষক, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক, কর্মী, রিকশা এমন কী রিকশার পেছনে যারা পেইন্টিং করে তারা, যন্ত্রসংগীত শিল্পী, এমন কী গাড়িচালক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, ইমাম, মোয়াজ্জিন, বস্তিবাসী, শিক্ষক-ছাত্র, এমন কী নন এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক, দিনমজুর কোনো শ্রেণি বাদ নেই, যাদেরকে আমরা প্রণোদনা দেই নাই বা নগদ অর্থ বা বিভিন্নভাবে সাহায্য করিনি; ৩৩৩ এই নাম্বারে ফোন করলেই তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে গেছে, সেইভাবে আমরা কাজ করেছি, প্রণোদনা দিয়েছি।
আমরা সবসময় চাই যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। আমরা এখন আরও বিপদ করানোর সময় যেটা আমরা ধরে রাখতে পেরেছি এই যুদ্ধের কারণে আরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারপরেও আমরা শিক্ষার সুযোগ যেন কোনোমতে না হয় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৫.২ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছি। আমরা এই সাক্ষরতার হার ৬৫ ভাগে বাড়িয়েছিলাম ’৯৬ সালে। বিএনপি এসে তা আবার কমিয়ে ৪৪ ভাগে নামিয়ে দিয়েছিল। এখন ৭৫ ভাগের উপরে আনতে পেরেছি। সেখানে আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা, বিনামূল্যে বই এই করোনাকালীন সময়েও আমরা বিনামূল্যে বই দিয়ে যাচ্ছি। এখন আবারও এই পহেলা জানুয়ারি থেকে নতুন বছর আমরা বিনামূল্যে বই দেব। প্রায় ৪০০ কোটি ৫৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯১১ কপি পাঠ্যপুস্তক ইতিমধ্যেই আমরা ১৪ বছরে বিতরণ করেছি।
আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে বই শুধু দেওয়া না, তাদের শিক্ষার মানও যাতে হয় আর দক্ষ জনশক্তি যাতে গড়ে ওঠে, সেই জন্য কারিগরি শিক্ষা যাতে যুগোপযোগী হয়, মাদ্রাসার শিক্ষা স্বীকৃতি দেওয়া সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল তৈরি করে দিচ্ছি। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি কলেজ স্কুল স্থাপন করেছি। প্রত্যেকটা প্রাইমারি স্কুল থেকে সব স্কুলে দালান করে দিয়েছি। আমাদের মেয়েদের অনেক সময় স্কুলে যেতে অসুবিধা হতো আলাদাভাবে ওয়াশরুম তৈরি করে দিয়েছি। যে সমস্ত স্কুল সরকারি না সেখানেও আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি, বই দিচ্ছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে প্রতি জেলায় জেলায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। মেডিকেল কলেজ করে দিচ্ছি। বাংলাদেশে কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। এখনও ৪টা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। তাছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৪টি আলাদা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করে দিয়েছি। ৮ বিভাগে ৮টা মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল করা হয়েছে, ৫টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের কাজ চলমান। আর ৮০টি মাদ্রাসায় অনার্স ক্লাস চালু হয়েছে। ৬,৫৪১টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রত্যেকটা স্কুলে যাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হয় সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।
আমাদের দারিদ্র্যের সীমা এখন ৪০ ভাগ থেকে আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার কথা ছিল আমরা সেটা করে ফেলেছি। এখন আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে, উপজেলায় অপটিকাল ফাইবার, ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ১ হাজার থানায় ব্রডব্যান্ড দেওয়া হয়েছে। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২৪৪টি ফাইবার ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি স্থাপন করা হবে। গ্রাম পর্যায়ে আমরা এই কানেক্টিভিটি নিয়ে যাব। ৩৫ হাজার ৪৫৬টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং ৪ হাজার ১৭৬টি কমপিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে এবং ইতিমধ্যে এটা করেছি এবং আরও করে দিব সব জাগায়। আমরা ১৮ কোটি ১৭ লক্ষ মোবাইল সিম আমাদের দেশে ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন আসতে পারে জনসংখ্যা থেকে মোবাইল সিম বেশি আসলে তো সবাই দুইটা, তিনটা, চারটা করে সিম ব্যবহার করে সেই জন্য সিম ব্যবহার হয় ১৮ কোটির উপরে।
সেই সাথে ইন্টারনেট প্রায় ১২ কোটি ৬২ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। আমরা জাতীয় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। ৬৮১ ডমিনে প্রায় ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৫৫ জন ব্যবহারকারী নিরাপদে ই-মেইল ও তথ্য সংরক্ষণ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ৮ হাজার ডিজিটাল সেন্ট্রার সেবা প্রদান করছে। ৮,৫০০ ডাকঘরকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। এখানেও ডাকঘর থেকে সেই সেবা জনগণ পাচ্ছে। ৩ হাজারটা স্কুল অব ফিউচার ৩০০০ হাজার কন্সটিটিয়েন্সিতে দুঃখিত ৩০০ কন্সটিটিয়েন্সি সেখানে ৩০০টা স্কুল অব ফিউচার স্থাপন করা হয়েছে। ৫৭টা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্বসাহিত্য আইটি ল্যাব করা হবে। চতুর্থ শিল্প যে বিপ্লবের আওয়াজ আমরা শুনতে পাচ্ছি তার উপযুক্ত দক্ষ জনশক্তি যাতে গড়ে ওঠেÑ আমাদের তরুণরাই হচ্ছে আমাদের ফিউচার আমরা সেই জন্য এভাবে ল্যাব করে দিচ্ছি যেন এই শিক্ষাটা তারা পায়। দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
দশটি রিয়েল টাইম ডাটা প্রাপ্তির জন্য ডিজিটাল ভিলেজ গড়ে তোলা হবে। আমরা যেটা বলেছি আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এটাই আমাদের আয়োজন বায়ান্নটি হাইটেক পাওয়ার, সফটওয়্যার টেকনোলজি পাওয়ার আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবিউশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তিন লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ৬ লক্ষ ৫০০ জনের বেশি ফ্রিল্যান্সার তারা এই আইটি খাতে কর্মসংস্থান পাচ্ছে এবং তাদেরকে আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি তাদের এই কাজটা এটাও একটা কর্মসংস্থান। তাদের এই জন্য সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন এর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে বসে, গ্রামে বসে, বিদেশে তারা ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।
ইতিমধ্যে আমাদের তৃতীয় সাবলাই লাইন সাবমেরিন ক্যাবল তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল যাতে যুক্ত হয় তার পদক্ষেপে আমরা নিয়েছি। আর আগামীতে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট আমাদের আরেকটা আনতে হবে সেটারো উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। আমরা স্ট্যর্টাঅ্যাপ প্রোগ্রাম ইয়াং বাংলা সিআরআই এবং আমাদের মন্ত্রণালয় সিটি মন্ত্রণালয় এরা মিলে এটা উদ্যোগ নিয়েছে। স্টার্টঅ্যাপ প্রোগ্রামের জন্য আমরা আলাদা বাজেটে টাকা রেখেছি। যে সমস্ত ইয়াং ছেলেপেলে তাদের যে দক্ষতা, তাদের জ্ঞান, তারা এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে যে উদ্ভাবনী শক্তি সেটা যাতে বিকশিত হতে পারে সেজন্যই এই স্টার্টঅ্যাপ প্রোগ্রাম আমরা দিয়েছি। যারা এই ধরনের কাজে সুবিধা হবে তাদের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ইয়াং বাংলা থেকে।
আমরা আজকে হ্যাঁ আমরা বলেছি স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ সালে হবে। সেটা করার জন্য কী কী করণীয় এতক্ষণ আমি সেইটাই বললাম। ভবিষ্যতে কী বাংলাদেশ দেখতে চাইÑ এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিটি জনগণ জনশক্তি তারা স্মার্ট হবে; তারা সবকিছু অনলাইনে করতে শিখবে; অনলাইনে ব্যবহার করতে পারবে সেই স্মার্ট জনশক্তি। দ্বিতীয়টা কী আমাদের ইকোনোমি সেটা হবে ই-ইকোনোমি, যাতে করে এই স্মার্ট বাংলাদেশ উপযুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইসে হবে।
আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মযোগ্যতা সবকিছুই আমরা ই-গভর্নেন্স করব এবং যেমন ই-এডুকেশন, ই-হেলথ, এইভাবে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে আমাদের দেশে ব্যবহার করা হবে। আমি আশা করি, ’৪১ সালের মধ্যে আমরা তা করতে সক্ষম হবÑ সেটা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কারণ এটা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন এটা আবার কীভাবে হবে, তা আমি সেই জন্য মনে করি আজকের পরে আর কোনো প্রশ্ন থাকার কথা না এবং আমাদের তরুণ সম্প্রদায় তারা যত বেশি এই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা বা শিখবে তত আমরা দ্রুত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
আমি একটা কথাই বলব যে, আমরা সকল বন্ধ্যত্ব কথা কাটিয়ে উঠে আমরা দুর্দম গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। এই যে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, একটা বাধা করোনা আর যুদ্ধ এই জন্য আমার আহ্বান আমরা যুদ্ধ চাই না, ওই যুদ্ধ চাই না, সংশয় চাই না। ওগুলি বন্ধ করেন। সকল দেশ স্বাধীন, স্বাধীনভাবে তার চলার অধিকার আছেÑ এই অধিকার সকল দেশের থাকতে হবে। যুদ্ধ মানুষের ক্ষতি করে। যুদ্ধের ভয়াবহতা কী আমরা জানি। ওই ’৭১ সালে বন্দিখানায় ছিলাম। আমার প্রথম সন্তান জয় ওই বন্দিখানায় জন্ম নিয়েছিল। আমাদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একটা কম্বল দিয়েছিল। গোটা পরিবার একতলা একটা বাড়ি। কোনো পর্দাও ছিল না, কিছুই ছিল না তার মধ্যে আমাদেরকে থাকতে হয়েছে।
আমার মা আমি আমরা এ-রকম আরও। আর তারপরে আমাদের মেয়েদের ক্যাম্পে নিয়ে কীভাবে অত্যাচার করেছে। সব থেকে বেশি মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুদ্ধের সময়, শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এই জন্য যুদ্ধ চাই না। আমি বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে আহ্বান করব ওই ইউক্রেন, রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করেন। তাদেরকে উসকানি দেওয়া বন্ধ করেন। শান্তি চাই, কোভিডের যে অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে কেবল আমরা বেরিয়ে আসছিলাম এখনি এই যুদ্ধ সংশয় আমাদের সকল অগ্রযাত্রা নষ্ট করছে আর সেখানে শিশুদের কী অবস্থা! এই শীতের মধ্যে আজকে তারা বিদ্যুৎ পায় না। যান ইউক্রেন এর শিশুদের অবস্থা। শুধু ইউক্রেন কেন, উন্নত দেশগুলোর অবস্থা আপনারা দেখেন কত ভাগ তারা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আমরা বাংলাদেশ এখনও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সেজন্য আমি আহ্বান করেছি সকলকে যার যতটুকু জমি আছে চাষ করেন বা উৎপাদন করেন।
আমরা এখন খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, সবজি গবেষণা করে করে আমাদের আমাদের কৃষি গবেষণাগারে গবেষণা করছে। তার মধ্য দিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়াচ্ছি। উৎপাদন বাড়িয়ে আমাদেরটা আমরা খাব; আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলব নাÑ এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমাদের সম্পদ কম; কিন্তু জাতির পিতা বলেছিলেন আমার মাটি আছে মানুষ আছে এই মাটি মানুষ দিয়েই দেশ গড়ব। আমরাও সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি। কী আমরা পারব না? পারব, আমার দেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে।
আর বিশেষ করে আমার আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন যে কোনো সময় দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে যেয়ে দাঁড়ায়। আমাদের ছাত্রদের বলেছিলাম কৃষক ধান কাটতে পারে না; যাও, ধান কাটতে। ছাত্রলীগ যাওয়ার সাথে সাথে আমাদের সকল সহযোগী সংগঠন গেছে, কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এই করোনার সময় রোগীদের সাহায্য করা, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সব রকমের কাজ আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীই তো করেছে বা আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলি পাশে দাঁড়িয়ে আছে; ঝড়, বন্যা, সবসময়।
হ্যাঁ, সরকারি পক্ষ থেকে সকল প্রতিষ্ঠান করে, সাথে সাথে আমাদের সংগঠন সকলের আগে এই দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের কাছে দাঁড়ায়। এটাই আওয়ামী লীগ, এটাই আওয়ামী লীগের শিক্ষা। আমরা চাই আমাদের যে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, এই ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস যেমন আবার সেই সাথে সাথে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশ অর্থনীতিতে সমৃদ্ধর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজে আমরা একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে একটা দেশকে উন্নত করতে, এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমরা সেই ভাবেই এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
জাতির পিতা বলেছিলেন, আমি কোড করছিÑ প্রিয় আমার কাউন্সিল ডেলিগেট ভায়েরা, জাতির পিতার একটি কোড আপনাদের সামনে তুলে ধরিÑ “আওয়ামী লীগের ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন পেট ভরিয়ে খাইতে পারিবে যেদিন প্রত্যেকের মুখে হাসি ফুটিবে আওয়ামী লীগের সংগ্রাম সেই দিনই ক্ষান্ত হবে।” আজকে আওয়ামী লীগ এইটুকু বলতে পারে বাংলাদেশের কোনো মানুষ অভুক্ত থাকে না। তাই পিতাকে বলতে পারি পিতা আমরা কথা দিলাম, আপনার জনগণ কখনও অভুক্ত থাকবে না। আপনার জনগণ কষ্টে থাকবে না। আপনি আজকে নেই, আপনার আদর্শ আছে সেই আদর্শ নিয়েই জনগণের পাশে থেকে আমরা এই জনগণকে সুন্দর জীবন দিব, উন্নত জীবন দিব, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেÑ আমরা সেই ভাবেই এই দেশ পরিচালনা করব। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল বলেছেনÑ
এই পবিত্র বাংলাদেশ
বাঙালির, আমাদের
দিয়া প্রহারেন ধনঞ্জয়
তাড়াবো আমরা করি না ভয়
যত পরদেশী দস্যু ডাকাত
রামাদের গামাদের
বাঙলা বাঙালির হোক।
বাঙলার জয় হোক
বাঙালির জয় হোক ॥

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামই এই কথা বলে গেছেন।
কাজেই আমরা যত অশুভ শক্তি যত আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করুক বাঙালি বাঙালি হিসেবেই এগিয়ে যাবে অগ্রযাত্রার পথে। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করব। এই বিশ্বকে এই শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি নবজাতকের কাছে এই আমার প্রতিজ্ঞা। এটাই আমাদের কথা, সুকান্ত এ-কথা বলে গেছেন। কাজেই আমরা সেভাবেই এদেশের কাজ করে যাব। আঘাত আসবে, ষড়যন্ত্র আসবে কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবেনÑ সেটাই আমরা চাই। বাংলাদেশে আর পিছিয়ে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, জাতির পিতার স্বপ্ন ইনশাআল্লাহ্ আমরা পূরণ করব। সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। মহান আল্লাহ্ সকলের সহায় হোন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য