Sunday, July 3, 2022
বাড়িআরওস্বপ্নজয়ী আবুল মাল আবদুল মুহিত

স্বপ্নজয়ী আবুল মাল আবদুল মুহিত

কীর্তিমান মানুষের মৃত্যু হয় না। আপন কর্মমহিমায় যারা নিজেকে অনন্য মর্যাদার সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে দেন, তারা সব সময় বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে। প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত তেমনই একজন কীর্তিমান মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একজন সফল অর্থমন্ত্রী। রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে এক সময়ের দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষ মঙ্গা-খরাকবলিত ও দারিদ্র্য জর্জরিত ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতির অব্যাহত অগ্রযাত্রায় দুর্বার গতিতে সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই সাফল্য-সংগ্রামের অন্যতম প্রধান সেনাপতি আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক ১২টি বাজেট প্রণয়ন করেছেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি যখন মহাজোট সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন তখন বিরোধী দল বিএনপিসহ দেশের অনেক বুদ্ধিজীবী বলেছিলেন উচ্চাভিলাষী বাজেটÑ বাস্তবায়ন যোগ্য নয়, অসম্ভব, অলিক কল্পনা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে আবুল মাল আবদুল মুহিতের সেই উচ্চাভিলাষ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহুদূর এগিয়ে নিয়েছেÑ তার কল্পনা ‘অলিক কল্পনা’ ছিল না, ছিল স্বপ্নজয়ের দুর্নিবার প্রত্যয়। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবুল মাল আবদুল মুহিতের কর্মপ্রয়াসে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো বিনির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে একদিন যে দেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক ‘উন্নয়ন-বিস্ময়’। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বের রোড মডেল। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছর আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের অগ্রগতির ও অর্জনের কয়েকটি নমুনা উত্তরণ পাঠকদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হলোÑ
* ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল ১০ বছরে ভিশন ২০২১-এর বিস্তৃত মাইলফলক অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নামে দুটি বিস্তারিত ও সমৃদ্ধ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন। যার ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুধু ভিশন ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১-ই নয়, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুদূরপ্রসারী ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ পর্যন্ত নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে।
* যেখানে বিএনপি-জামাত অশুভ জোট আমলের ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি ছিল ২২ লাখ কোটি টাকা, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ছিল প্রায় ৫ গুণ। রপ্তানি আয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সাড়ে ৩ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৬.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫-০৬ সালে যেখানে ছিল ৩.৮৮ বিলিয়ন ডলার সেখানে ২০১৮ সালে এসে দাঁড়ায় ৩৪.০০ বিলিয়ন ডলার।
* দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ সেখানে ২০১৮ সালে ২১.৪ শতাংশে হ্রাস পায়। অতি দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে যেখানে ছিল ২৫.১০ শতাংশ সেখানে ২০১৮ সালে দাঁড়ায় ১১.৩০ শতাংশে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ ডলার, যা ২০১৮ সালে উন্নীত হয় ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে।
* দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়। এগুলো হচ্ছেÑ পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকায় দ্রুত গণপরিবহনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, এলএনজি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৯.৫ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন।
* দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা হয়। সামাজিক নিরাপত্তার খাতে মোট ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়, যা ছিল বাজেটের ১৩.২৮ শতাংশ এবং জিডিপির ২.৩৪ শতাংশ। এই খাতে বরাদ্দ ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা থেকে ৪.৬ গুণ বেড়ে ২০১৮ দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায়। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৩৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়।
* সরকারের নীতি সহায়তা এবং মানসম্পন্ন উপকরণ সরবরাহের ফলশ্রুতিতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ২০০৮-০৯ সালের সাড়ে ৩ কোটি টন থেকে ২০১৮ সালে ১০ বছরে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টনে উন্নীত হয়। চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ স্থানে, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ চাষে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম এবং আলু উৎপাদনে অষ্টম স্থানে উন্নীত হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন যথাক্রমে ২৯.৫০ লাখ মেট্রিক টন, ১৯.৯০ লাখ মেট্রিক টন ও ৬০৭.৮৫ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯৪.০৬ লাখ মেট্রিক টন, ৭২.৬০ লাখ মেট্রিক টন ও ১,৫৫২.০০ কোটিতে উন্নীত হয়।
* অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময়কালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেই সাথে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো মাত্র ৩,২৬৭ মেগাওয়াট সেখানে ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়ায় ২০,৪০০ মেগাওয়াট।
* নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ হয়। বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছে। বিশ্বের ৪১তম রাষ্ট্র হিসেবে সাবমেরিন যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
* বছরের প্রথম দিনে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয়। শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশে উন্নীত। মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ। ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ। বিদ্যালয়বিহীন ১ হাজার ১২৫টি গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন।
* মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়ে এখন ৭২.৮ বছর। দক্ষিণ এশিয়ায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এমডিজি’তে নির্ধারিত ২০১৫ সালের এই লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ ২০১৩ সালেই অর্জন করে। ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
* উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম সোনালি আঁশ পাটের জিন প্রযুক্তির আবিষ্কার। সম্ভাবনার স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত হয়।
* গার্মেন্ট শ্রমিকদের পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণ। সরকারি কমকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বর্ধিত বেতন স্কেল কার্যকর করা। শিল্প পুলিশ বাহিনী গঠন। শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

ব্যক্তিগত জীবনে আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক এবং ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এমপি তার ছোট ভাই। আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৫১ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঐ বিষয়ে প্রথম শ্রেণি পেয়ে কৃতকার্য হন এবং একই বিষয়ে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশে চাকরিরত অবস্থায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। অতঃপর ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে যোগদান করেছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা কমিশনের প্রধান ও উপ-সচিব ছিলেন। ঐ সময় তিনি পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরেন ও পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসে পেশ করেন। ওয়াশিংটনে তৎকালীন পাকিস্তানের দূতাবাসে প্রথম কূটনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্বরত থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বপক্ষে নিজ অবস্থান তুলে ধরে চাকরি থেকে ইস্তফা প্রদান করেন মুহিত। পরে ১৯৭১ সালে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়াশিংটন দূতাবাসে ইকোনমিক কাউন্সেলরের দায়িত্ব পালেন করেন তিনি। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়া, ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহিত। ১৯৮১ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর তিনি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা বা ইফাদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ, আইডিবি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়নে ২০০৯ সিলেট-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পুনরায় অর্থমন্ত্রী হন এএমএ মুহিত। স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত আবুল মাল আবদুল মুহিত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতি অম্লান ১৯৭১’-সহ এ পর্যন্ত ২১টি বই লিখেছেন। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৬৬ সালে মুহিতকে তমঘা ই খিদমত পদকে ভূষিত করে। ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং ফেলো ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনেরও পুরোধা আবুল মুহিত ছিলেন বাপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

গ্রন্থনা : রায়হান কবির, গবেষণা সহকারী, উত্তরণ

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য