Sunday, July 3, 2022
বাড়িSliderসে তো ঋতুরাজ বসন্ত

সে তো ঋতুরাজ বসন্ত

শাহ্ সোহাগ ফকির: ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্ত মানেই গান আর কবিতা। ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’। বাঙালি হৃদয় রাঙানো আবেগ আর অনুভবের নাম।
দীর্ঘদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে এলেও বাংলা পঞ্জিকা সংশোধনের পর এখন ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের প্রথম দিন বসন্তের আগমন। বরাবরের মতো এবারেও বিভিন্ন সংগঠনের ন্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎসব আয়োজন করে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ।
করোনা মহামারির জন্য এবার সীমিত আকারে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চে বসন্ত উৎসব হয়। আগে একসঙ্গে ঢাকার উত্তরা, বাহাদুর শাহ পার্ক, রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান করা হতো। তবে এবারের আয়োজন অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও বসন্তের দাগ লেগে থাকে বাঙালির হৃদয়ে। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা আর নৃত্যের ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠান।
প্রিয় বসন্ত ঋতুকে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় বরণ করে নেয় বাঙালি। রাজধানী ঢাকার অলিগলি রাজপথে ভিড় লক্ষ করা যায়। রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। সকাল থেকেই বাসন্তি রং শাড়ি পরে বেরিয়ে পড়ে তরুণীরা। তাদের খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুল। হৃদয়ে বাঁধভাঙা আনন্দ। ছেলেরাও হলুদ পাঞ্জাবিতে নিজেদের মেলে ধরে। গালে বসন্তের মনকাড়া আল্পনা। মানুষের ঢল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, চারুকলার বকুলতলাসহ আশপাশের এলাকায়। বসন্তের ঢেউ আছড়ে পড়ে শহরের প্রতি কোণে। রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যানের সবুজের সঙ্গে আজ হলুদ রংটি মিলেমিশে বর্ণিল। সবখানে পরিলক্ষিত হয় উৎসবের রং। উচ্ছ্বল ছোটাছুটি।
ইট-কংক্রিটের এই নগরীতে প্রকৃতির রূপ খোঁজার ফুরসত কই? কিন্তু তাই বলে কি থমকে থাকবে ঋতুবদল, মোটেও না। জবুথবু শীতের জীর্ণতা সরিয়ে বসন্তের আগমন। পাতাঝরা শুষ্কতা কাটিয়ে আসা রঙে রঙিন বসন্ত। চারদিকে নতুন পাতা আর ফুলের সমাহারে এক অনবদ্য দৃশ্য। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত আসেই শুধু আমাদের হৃদয়ে আনন্দের দোলা দিতে। যেদিকে চোখ যায়, যেন রঙের রঙিন।
বসন্ত সে তো পহেলা ফাল্গুন। বাঙালি মুখিয়ে থাকে অন্যরকম ভালোলাগায় দিনটি উদযাপনের প্রতীক্ষায়। আর এমন দিনটি তো আসলে উৎসবে মেতে ওঠার। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রঙে, মানুষকে করে জীর্ণতা সরিয়ে নতুন শুরুর প্রেরণার পথে।
শীতের রুক্ষতা পেছনে ফেলে প্রকৃতিকে আবার নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে বসন্ত। বসন্ত কচিপাতায় নতুন রং আর আলোর নাচন। গাছে গাছে ফুলের মুকুল। পাখির গান বাতাসে ভাসা মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ। পতপত করে উড়া প্রজাপতিরা রঙিন ডানা মেলে জানায় ঋতুরাজের আগমনী বার্তা। বসন্ত শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও জাগায় প্রাণের ছোঁয়া। তাই বসন্তের প্রথম দিনটিকে উদযাপন করতে সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ উৎসবে। সবাই নিজেকে সাজিয়ে তোলেন বসন্তের রঙে। প্রেম আর মিলনের ঋতু বলেও বসন্ত সুপরিচিত। বসন্তের শুরুর দিনে রাঙা মনের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে পোশাকেও, থাকে ফাগুনের আগুন ঝরানো রং।
পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ যেমন, তেমনি এ মাসের রাজনৈতিক গুরুত্বও অসীম। ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহিদদের কথা। মনে করিয়ে দেয় ভাষাশহিদের রক্তের ইতিহাস। এ মাসেই মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, বরকত, সালামরা। তাদের রক্তের সোপান বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই ফাগুন বাঙালির দ্রোহের এক রক্তে রঙিন মাস। এভাবে বসন্ত আর ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বসন্তের আগমনে নেচে ওঠা মন যেন এক মহাকাব্য। পুরনো বেদনা, দুঃখ, কষ্ট আর হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ভালোবেসে এর পেছনে আবারও ছুটতে প্ররোচনা দেয় সে তো ঋতুরাজ বসন্ত।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য