Sunday, July 3, 2022
বাড়িছোট গল্পসহযাত্রিণী

সহযাত্রিণী

শেখ মেহেদী হাসান

ডা. কুশানের সঙ্গে রেবতীর সম্পর্ক বেশ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রয়েল কলেজ অব ­মেডিসিনের অ্যাওয়ার্ডের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় ডা. রেতবীর মন ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল আহমেদাবাদ ফিরে যাওয়ার। ওর স্থপতি বাবা চিঠি লিখে জানিয়েছিল- তুমি সমাবর্তনের আগে দুদিনের জন্য হলেও দেশে চলে এসো। ড. মাধবন আমার বাল্যবন্ধু। তার একমাত্র পুত্র ড. কিরণের সঙ্গে তোমার বিয়ের সম্বন্ধ স্থির করেছি। কিরণ অ্যারোনটিস ইঞ্জিনিয়ার। লসএঞ্জেলসে থাকে। তোমার ভালো লাগবে।
রেবতীর বাবা, সব সময় ফোনেই মেয়ের সঙ্গে কথা বলত। কেবল জš§দিনে হাতে লেখা চিঠি পাঠাত। রেবতী বলত, বাবার চিঠি পেলে মেডিসিনের ভারী ভারী বইগুলো খুব সহজ মনে হয়। এবারের চিঠি আমাকে সত্যি চমকে দিয়েছে। নিজের একাডেমিক জীবনটা তো শক্তপোক্ত হয়নি, এখন ডা. কুশানকে কী বলব? ওর কাছে বায়োডাটা চাইলাম, দিল না। ও পড়াশোনা ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। কত করে ওকে বলেছি, বাবাকে তোমার কথা জানাতে চাই। ও-ই তো মানা করেছে। বাবা এখন মাধবন কাকাকে কী বলবে? সাত পুরুষের জীবনবৃত্তান্ত না দেখে বিয়ের রীতি আমাদের পরিবারে নাই।
এপ্রিলের তিন তারিখ ওর পিএইচডি ডিফেন্স। ডিফেন্স শেষ হলেই ডা. কুশানকে বিষয়টি শেয়ার করে ডা. রেবতী। জীবন গোছানোর কথা বলে যে মানুষটি দিন গুনেছে এতদিন, সেই মেডিসিন স্পেশালিস্টের মেজাজ সত্যি চড়া হয়ে গেল। পিএইচডি ডিফেন্সের চেয়ে ডা. রেতবীর কথার উত্তর দেওয়া শক্ত মনে হচ্ছিল। সে রেবতীর কাছে জানতে চাইল, তুমি কি আহমেদাবাদ যাচ্ছ?
– যাব। কিন্তু এই মুহূর্তে বিয়ে নয়। বাবাকে বুঝিয়ে বলব। এমআইটি’তে আমার পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ শেষে বিয়ে নিয়ে ভাবব।
– যাক, তুমি আমাকে চিন্তামুক্ত করলে।
– তোমার সিভিটা আমাকে দাও।
নিজের বিয়ের সিভি দিতে ডা. কুশানের একটু দ্বিধা ছিল। কারণ সে তার বাবাকে দেখেনি কখনও। এই নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার বাদানুবাদ। রয়েল কলেজ অব মেডিসিনে পড়ার স্বপ্নটা তো মায়ের। মা-ই তো তাকে বলেছিল, লন্ডনের রয়েল কলেজ অব মেডিসিন থেকে তুমি এফসিপিএস করতে পারলে, তোমার বাবার ঠিকানা জানাব। হয়তো সে-সময়টা আমার সম্মুখে।

মমতাজ উদ্দিন, খুব সাদাসিধা। সম্বলহীন পরিবারের মেধাবী সন্তান। আশৈশব সংগ্রাম করে মাধ্যমিক গণ্ডি পার করেছে। দরিদ্র পিতা তার উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করাতে অপারগ। ঠিক ওই মুহূর্তে এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন রউফ মুন্সি নিজ সন্তান পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে জায়গির থাকার অনুমোদন করেছিল। একদিন সকালবেলা গরম ভাত খেয়ে এক পুটলি বই আর জামা-লুঙ্গি নিয়ে রওনা দিয়েছিল রউফ মুয়াজ্জিনের বাড়ি। তার স্ত্রী খোদেজা বেগম বর্ধমানের মেয়ে। কলকাতার ঠাকুরপুকুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নার্সের কাজ করত। তাদের চারজনের সংসার ভালোই কাটছিল। এ-মুহূর্তে মমতাজের আগমন।
রউফ মুন্সি চেয়েছিল, মমতাজের মতো দরিদ্র ছেলেরা একটু সাহায্য পেলে ভালো কিছু করতে পারে। মন দিয়ে নিজের পড়া আর রহিমাকে পড়ানো ছিল তার কাজ। আর টুকটাক বাজার-সদয়। এখন তার আগের মতো খাওয়ার চিন্তা নেই। দুপুরবেলা একটু শুয়ে থাকা যায়। রেডিওর খবর শোনা, পত্রিকা পড়া; জীবনটা বেশ আনন্দময় ঠ্যাকে। মাসান্তে বাড়িতে ঘুরে আসে। কয়েক মাসের মধ্যে মমতাজ উদ্দিনের চেহারা বেশ নাদুষ হয়ে ওঠে।
মমতাজ উদ্দিনের পড়াশোনার মাথা সাচ্চা। কুইন মেরি কলেজের শিক্ষকরা তাকে বাড়তি যতœআত্তি করেন। বিধান স্যার তো নিজ থেকেই অংক, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান পড়িয়ে দেন। মাঝেমধ্যে রউফ মুন্সির বাড়িতে এসেও তদারকি করেন। এই পোড় খাওয়া মানুষটা মমতাজের জীবন বদলে দিয়েছিল। সে নিজেই বলত গরিবদের জীবন বড়ই নিষ্ঠুর, এখন পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছি, তাই ভালো রেজাল্ট আমাকে করতেই হবে। মমতাজের উৎসাহে রউফ মুন্সির ক্লাস টেনে পড়া একমাত্র মেয়ে সুমনাও মন বসিয়েছিল পড়াশোনায়। সুমনা রীতিমতো মমতাজ স্যারের পাঠ্যাভ্যাস অনুকরণ করত। বাড়তি যত্ন নিত।
শ্রাবণের এক রাতে জ্বরের ঘোরে যখন ভুল বকেছিল সেদিন ওই সুমনাই জলপট্টি দিয়েছিল মমতাজ উদ্দিনের কপালে। তখনও তেমন কিছু নয়। তিন মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা। জোর প্রস্তুতি চলছে। রাত দশটায় ঘুমিয়ে পড়লেও ভোররাতে উঠে ফজরের নামাজ শেষে পড়তে বসে। রউফ মুন্সিও বাড়তি নজর রাখে। সকালবেলা সুমনা এক গ্লাস গরম দুধ দিয়ে যায়।
পরীক্ষার পনেরো দিন আগে মমতাজ উদ্দিনকে নতুন একটা জামা কিনে দিলেন রউফ মুন্সি। বাড়ি থেকে খেজুরের গুড় আর পিঠা নিয়ে মমতাজকে দেখতে এলেন তার বাবা মেহরাব আলী। তারপর পরীক্ষা শেষে মমতাজ উদ্দিন ডাক্তারি পড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। চার মাস সে ঘর থেকে বাইরে পা মাড়ায়নি।
এর মাঝে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার কার্ড এলো। যাওয়ার দিন রাতে আচমকা মমতাজ উদ্দিনের ঘরে হাজির হয় সুমনা।
– আমি তোমার জন্য সাতটি রোজা রেখেছি। তুমি ডাক্তারি চাঞ্চ পাবে।
– তুমি কি করে বুঝলে আমি ডাক্তারি চাঞ্চ পাব?
– আমি স্বপ্নে দেখেছি। যদি আমাকে ভুলে না যাও তাহলে সত্যি তুমি চাঞ্চ পাবে।
সেদিন রাতে সুমনার এই নিবেদনে মমতাজ উদ্দিন চমকে উঠেছিল। ওকে ভুলে না গেলে সত্যি চাঞ্চ হবে।
পরদিন সকালে ট্রেনে চড়ে রওনা দেয় কলকাতা। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা তার ভালোই হয়েছিল। মাত্র সাত দিন পর জানা গেল মমতাজ উদ্দিন সৌভাগ্যক্রমে চাঞ্চ পেয়েছে। সেই খবর চিঠি লিখে জানিয়েছিল সুমনাকে। ওই চিঠিতে সে লিখেছিল, আমি আসছি তোমার সঙ্গে দেখা হবে।
মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল মমতাজের জন্য। ওর বাবা মেহরাব আলী বাড়ির ভিটার একটি অংশ বিক্রি করে, অন্যের কাছে ধার-দেনায় ভর্তির অর্থ জোগান দেন। মেডিকেলে ভর্তির পর মমতাজ উদ্দিন ছুটি পেলে বেড়াতে যেত বর্ধমানে সুমনাদের বাড়িতে। ওদের দুজনের মন যে জোড়া লাগতে চাইছিল তা টের পাচ্ছিল সুমনা। বিষয়টি তার মাও জেনেছিল; কিন্তু তিনি আর বাধা দেননি। কারণ সুমনা ততদিনে বর্ধমান কলেজে ভর্তি হয়েছে। মেডিকেলে পড়াশোনার চাপ বেশি। এ-সম্পর্কে কোনো আইডিয়া সুমনার ছিল না।
এভাবে কেটে গেল পাঁচ বছর। সুমনা স্নাতক পাস করে। এদিকে মমতাজ উদ্দিন এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি করছে। দু-পরিবারের উদ্যোগে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর সুমনা বর্ধমানে ছিল। তাকে কলকাতায় শহরে এনে মমতাজের সংসারে মনোযোগ দেওয়ার সামর্থ্য তখনও হয়নি। সংসারি সুমনার চাপ ছিল তাকে দ্রুত কলকাতায় নিতে হবে। মমতাজ উদ্দিন মাঝেমধ্যে বর্ধমানে বেড়াতে আসত; কিন্তু সেই না-দেখার বেদনার তর সইছিল না সুমনার। এ নিয়ে মৃদু-মধুর ঝগড়া বাধত। এক সময় তা বড় আকার ধারণ করে। এরপর সুমনাকে অন্তঃসত্ত্বা রেখে ইন্টার্নি শেষ না করেই মমতাজ উদ্দিন চলে আসেন ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেলে ইন্টার্নি শেষ করে সহকারী মেডিকেল সার্জন হিসেবে যোগ দেন খুলনা সদর হাসপাতালে। চালু করেন নিজস্ব চেম্বার। সুমনার সঙ্গে ক্রমশ যোগাযোগ কমতে থাকে।

সুমনা বহু চেষ্টা করে ডা. মমতাজ উদ্দিনের ঠিকানা খুঁজে পেয়ে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছিল, ‘আমি জানি, তোমার জীবনে আমার আর প্রয়োজন নেই। আমি সরে দাঁড়ালাম। কিন্তু তোমার সন্তান কুশানের কী হবে?’ মমতাজ উদ্দিন এ চিঠি পেয়েও কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। সুমনা বর্ধমান ছেড়ে চলে আসে কলকাতার উপকণ্ঠে গড়িয়ায়। সেখানে একটি স্কুলে চাকরি নেয়। ভাড়া বাসায় কুশানকে নিয়ে সে একা বাস করত। মাঝেমধ্যে রউফ মুন্সি দেখতে আসতেন। সুমনার জীবনের এই পরিণতির জন্য মুন্সি সাহেব নিজেকেই দায়ী ভাবতেন। তার শরীর ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে সুমনার মন আরও দৃঢ় হয় কুশানকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতেই হবে। কুশান ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। সে তার বাবা কে জানতে চায়। সুমনা তাকে নানা কথা বলে ভুলিয়ে রাখত।
কুশান উচ্চ মাধ্যমিকে পশ্চিমবঙ্গের সেরা ছাত্র হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করে। স্বর্ণপদক প্রাপ্তি উপলক্ষে সে তার মায়ের কাছে আবার বাবার কথা জানতে চায়। তখন তার মা কুশানকে প্রমিজ করে, তুমি যেদিন লন্ডনের রয়েল স্কুল অব মেডিসিন থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি করতে পারবে সেদিনই আমি তোমার বাবার ঠিকানা দিব।
কুশান সত্যি সত্যি রয়েল স্কুল অব মেডিসিনে চাঞ্চ পায়। রয়েল স্কুল থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি শেষে বৃত্তি লাভ করেন হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিনে পিএইচডি কোর্সে। এমআরসিপি শেষে মাত্র তিন দিনের জন্য সে কলকাতায় এসেছিল কিন্তু তার বাবার কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। হার্ভার্ডে ফিরে গবেষণায় মন দেয়।
মাত্র তিন বছরের মাথায় হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ডা. কুশান উদ্দিন। কলকাতায় আসার পর এবার সুমনাকে কোনো প্রশ্ন করতে হয়নি; নিজেই ডা. মমতাজ উদ্দিনের একটি ছবি আর ঠিকানা দিয়ে কুশানকে বলে, যাও তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করে আসো। কুশান চলে আসে খুলনায়। নিরালা আবাসিক এলাকায় সে খুঁজে বের করে ডা. মমতাজ উদ্দিনের চেম্বার। খুলনার বিখ্যাত সার্জনের চেম্বার দেখে থমকে দাঁড়ায় ডা. কুশান। এই তবে সেই ঠিকানা, যা খুঁজে বেড়াচ্ছি জীবনের এতটা দিন। চেম্বারে প্রবেশ করতেই তার সহকারী জানায়, স্যার উপরে বিশ্রামে আছেন। আপনি বাইরে বসুন।
ডা. কুশান উদ্দিন ভিতরে বসতে চাইলে, ডা. ইমরুল এসে তাকে বাধা দেয়। সে তার হাত ঠেলে বাবার রুমে ঢুকে পড়ে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দোতলায় জানিয়ে দেওয়া হয়। স্যার তখন লাঞ্চে ব্যস্ত। এদিকে ডা. কুশান সোজা তার বাবার চেয়ার বসে পড়ে, যা ডা. ইমরুল সহ্য করতে পারেনি। সে রীতিমতো বাহাস শুরু করে। এক পর্যায়ে ডা. মমতাজ উদ্দিন হন্তদন্ত রুমে প্রবেশ করলে ডা. কুশান উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়। রাগান্বিত কণ্ঠে ডা. মমতাজ বলেন, হু আর ইউ?
– আই অ্যাম কুশান।
– স্টুপিড। কেন আমার চেয়ারে বসেছেন। কে আপনি? বেরিয়ে যান চেম্বার থেকে।
ডা. কুশান বাবার রাগান্বিত কণ্ঠের গতি বৃদ্ধি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। সে বলে, আমি আপনার খোঁজে এসেছি।
– আমার খোঁজে?
– হ্যাঁ, আপনার খোঁজে।
– আপনার পরিচয়?
– আপনিই আমার পরিচয়।
– স্টুপিড। আই সি গেট আউট।
ডা. কুশান সময় না নিয়ে পকেট থেকে একটি পুরনো ছবি বের করে বাবার সামনে রেখে বলেÑ দেখুন তো এই ছবিটি চেনেন কি না?
ডা. মমতাজ উদ্দিন ছবিটি এক নজর দেখেই মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এবার ক্ষেপে ওঠে ডা. ইমরুল। সে কুশানকে লক্ষ করে বলে বেরিয়ে যান এখান থেকে। কুশান তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে ফ্লোরে শুইয়ে দেয়। হাত-পা ম্যাসাজ করতে থাকে। ডা. ইমরুল দুটো ট্যাবলেট আর পানি নিয়ে হাজির হয়। কুশান তার কাছে জানতে চায়Ñ কি ঔষধ। ডা. ইমরুল কর্কস কণ্ঠে বলে, আপনি ঔষুধের কি বোঝেন? এক্ষুনি খাওয়াতে হবে।
– কোনো ঔষুধ লাগবে না। পাঁচ মিনিটেই সেন্স ফিরে আসবে।
এর মধ্যে দোতলা থেকে মিসেস মমতাজ এবং তার মেয়ে কামিনী নিচে নেমে আসে। তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। অ্যাম্বুলেন্স ডাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। এর মধ্যে সেন্স ফিরে আসে ডা. মমতাজ উদ্দিনের। তাকে সোফায় বসিয়ে দেন কুশান। পাশে বসেছিল কুশান। কামিনী এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি করছিল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেও তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তোড়জোড় করছিল। তখন কুশান বলল, হাসপাতালে নেওয়ার কোনো দরকার নেই। এবার ডা. কামিনী চিৎকার করে বলে, কে আপনি?
কুশান পকেট থেকে কার্ডহোল্ডার বের করে একটি ভিজিটিং কার্ড কামিনীর হাতে দেয়। ডা. কুশান উদ্দিন, পিএইচডি (হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিন), এফসিপিএস ও এমআরসিপি, রয়েল কলেজ অব মেডিসিন, লন্ডন। অ্যাসিটেন্ট প্রফেসর, হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিন।
ডা. কামিনী এবার কণ্ঠ নামিয়ে বলে, সরি স্যার।
ডা. কুশান তার নীরবতা ভাঙে। সে ডা. মমতাজ উদ্দিনের হাত দুটো নিজের হাতে পুরে নেয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে বাবা, আমার সঙ্গে হার্ভার্ড যেতে হবে। রেবতী এমআইটিতে পোস্টডক করছে। আপনি উপস্থিত থেকে আমাদের বিয়ে দেবেন।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য