Saturday, July 13, 2024

শেখ হাসিনা সুস্থ থাকুন, দীর্ঘায়ু হোন

সৈয়দ আবুল মকসুদ: মাস দুই আগে সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়েছিলাম। তিনি বঙ্গবন্ধুর মতোই হাস্যরসপ্রিয়, বললেন, আপনার চেয়ে আমার বয়স খুব কম না, বাহাত্তর চলছে। আর কত? অবসর জীবনটা গ্রামে কাটাব। আমি বললাম, আপনার জন্যে এটা মোটেই কোনো বেশি বয়স নয়। আপনার দাদা পরমায়ু পেয়েছিলেন নব্বই বছর। ঘাতকের হাতে নিহত না হলে ধারণা করি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বঙ্গবন্ধুও নব্বই পেরোতেন। আপনি আরও অনেক বছর কর্মক্ষম থাকবেন।
শেখ হাসিনাকে আমি কাছে থেকে দেখছি আগরতলা মামলার সময় থেকে। বঙ্গবন্ধুর কিছু বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে লক্ষ করেছি। তিনি কর্মঠ ও পরিশ্রমী। শেখ হাসিনার অনেকগুলো পরিচয়। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান। তিনি চার মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংসদ নেতা। ওইসব পদে আগেও অনেকে ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। কিন্তু তার প্রধান ও স্থায়ী পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর অতি আদরের বড় মেয়ে।
বৈচিত্র্যপূর্ণ তার জীবন। ছিলেন একটি সুখী পরিবারের সন্তান। হঠাৎ অকল্পনীয় ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। সীমাহীন শোক ও উৎকণ্ঠা নিয়ে বহু বছর স্বামী-সন্তান নিয়ে কাটাতে হয় স্বেচ্ছা নির্বাসনে। নিয়তিই তাকে ফিরিয়ে আনে দেশে। খণ্ড-বিখণ্ড আওয়ামী লীগকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেন। শক্ত হাতে হাল ধরেন দলের। টানা ৩৮ বছর একটি বিশাল সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়া ও ঐক্যবদ্ধ রাখা বিরল কৃতিত্ব।
শেখ হাসিনা বলিষ্ঠ বক্তা। এই গুণ তার উত্তরাধিকারসূত্রে বঙ্গবন্ধু থেকে প্রাপ্ত। আর একটি গুণ তিনি পিতার থেকে পেয়েছেন, তা হলো নিজের দলের ও অন্য দলের ছোট-বড় সব নেতাকেই চেনেন, কার কি যোগ্যতা ও ভূমিকা তা জানেন। শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, শিল্প-সাহিত্য জগতের ও বিভিন্ন পেশার অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির স্বভাব কী রকম সে খোঁজও তিনি রাখেন। আমি তার ব্যক্তিগত স্টাফদের কাছে শুনেছি, তিনি দিন শুরু করার আগেই ভোরে প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলো পাঠ করেন। তিনি একজন ভালো পাঠক। অতীতের লেখকদের গ্রন্থাবলি শুধু নয়, সমকালীন লেখকদের বইপত্রও পাঠ করেন। নিজেকে একজন লেখিকা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি মনে করি, তার অবিস্মরণীয় কীর্তি বহু খণ্ড Secret Document of Intelligence Branch on Father of The Nation Bangobondhu Sheikh Mujibur Rahman. স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস গবেষণায় এই দলিলগুলো বহুকাল সহায়ক হবে।
শেখ হাসিনা অত্যন্ত সময়ানুবর্তী। কোনো অনুষ্ঠানে তিনি এক মিনিটও দেরি করে যান না। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এবং সংসদ নেতা হিসেবে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থেকে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। অতীতে আর কেউ তার মতো এতটা সংসদে উপস্থিত থাকেননি। ধর্মীয় উগ্রবাদের তিনি ঘোরতর বিরোধী। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, তিনি বঙ্গবন্ধুর মতোই সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি তার অকৃত্রিম সহানুভূতি। শেখ হাসিনা অত্যন্ত বন্ধুবৎসল। তার পারিবারিক ঐতিহ্য অতিথিপরায়ণতা। মানুষকে আপ্যায়ন করে, খাইয়ে তার আনন্দ। তার দাদা-দাদিকে দেখেছি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, শেখ হাসিনাকেও দেখছি, কিছু না খাইয়ে বিদায় দেন না। রাজনীতিতে ভিন্ন মত থাকবে। সরকারপ্রধান হিসেবে তার কাজের প্রশংসা শুধু নয়, সমালোচনাও হবে; কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় তার বলিষ্ঠ ভূমিকাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার ভূমিকা স্মরণীয়।
শেখ হাসিনা সুস্থ থাকুন। দীর্ঘায়ু হোন।

লেখক : গবেষক

পূর্ববর্তী নিবন্ধশেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা
পরবর্তী নিবন্ধড. ইউনূসের নোবেল যাত্রা
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য