Saturday, July 13, 2024
বাড়িউত্তরণ প্রতিবেদনশেখ হাসিনার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা

শেখ হাসিনার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা

অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন : দীর্ঘ বছর আজিমপুরে বসবাস করে বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাসা পরিবর্তন মানেই নানারকম ঝক্কি-ঝামেলা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে গিয়ে একটা খাম ও একটা চিরকুটে চোখ আটকে গেল।
বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে লেখা কাগজ। চিরকুটে লেখকের নাম উল্লেখপূর্বক একটা বইয়ের নাম। আর খামের ওপর লেখা “জরুরি … ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় লাইব্রেরী থেকে আনা- ফেরৎ দিতে হবে।” ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার আবেগের সম্পর্ক। এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের সাথে আপস করেননি বিধায় মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখেননি। যদিও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট সেই অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৭৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র-জীবন থেকেই তিনি সকল গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হৃদয়ের গভীরতম উপলব্ধি অনুভব করা যায় তার সমাবর্তন বক্তৃতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় আমার হৃদয়ের বিশ্ববিদ্যালয়। আবার যদি ভর্তি হতে পারতাম, মাস্টার্স ডিগ্রিটা শেষ করতাম, খুশি হতাম। কারণ, ’৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করা হয়নি। পৃথিবীর অনেক দেশের অনেক ডিগ্রি পেয়েছি, ওতে মন ভরে না।’
বঙ্গবন্ধুকন্যার সংগ্রামমুখর জীবন বিশ্লেষণে একটি বিশেষ গুণ আমরা দেখি, তাহলো বইয়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। ইতোমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বই লেখেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে – ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন’, ‘বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’। বঙ্গবন্ধুকন্যার সহপাঠী বেবী মওদুদের ভাষায়, ‘… তার প্রথম পছন্দ বই পড়া। বই উপহার পেলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে থাকেন।’
মাননীয় নেত্রীর সেই চিরকুট ও খামের ওপর ‘জরুরি কথা’র সূত্র ধরেই আজকের লেখা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের ঘটনা। গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিসকক্ষে মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ আমলা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারাসহ আমরা কয়েকজন। হঠাৎ নেত্রী একটা চিরকুট হাতে দিয়ে বললেন, ‘দেখ তো, বইটা কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় কি না?’ চিরকুটে বইয়ের নাম ‘চীন দেখে এলাম’ লেখক মনোজ বসু। নিজের বিদ্যাবুদ্ধির সীমাবদ্ধতা থাকলেও বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি, লেখালেখির কিছুটা অভ্যাস আছে। হয়তো সে-কারণে এ দায়িত্ব। শাহবাগ, বাংলাবাজার, নিউমার্কেটসহ কয়েকজন প্রকাশকের সাথে কথা বলেও বইয়ের সন্ধান পেলাম না। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে বইটির সন্ধান পাওয়া গেল। নিউজপ্রিন্টের কাগজে বোর্ড বাইন্ডিংয়ের এক কপি বই। বহু বছরের পুরোনো বিধায় বেশ কয়েক জায়গায় সেলাই ছুটে গেছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সহায়তায় বইটি লাইব্রেরি থেকে হাতে পেলাম। নীলক্ষেত থেকে তড়িঘড়ি করে বইটা ফটোকপি করে ফেললাম। মূল বইটি একটা খামে ভরে গণভবনে গেলাম। নেত্রীকে নিচে না পেয়ে তার এডিসি’র কাছে বইটি দিয়ে এলাম।
কয়েকদিন পরই একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনী ডামাডোল, প্রচার-প্রচারণা শেষে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের জন্য আবারও প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন। এতকিছুর মধ্যে বইটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নেত্রীর সাথে যখন শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলাম তখন আমাকে দেখেই বললেন, ‘বইটি নিয়ে যেও। ইউনিভার্সিটিতে ফেরত দিয়ে দিও।’
এই হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটা জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতা গ্রহণ, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব; সবকিছু পালন করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে একটা বই ফেরত দিতে হবে- কথাটা ভুলে যাননি। মনোজ বসুর ‘চীন দেখে এলাম’ বইটি যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জরুরিভিত্তিতে কেন খুঁজছিলেন তার মাজেজা বুঝলাম যেদিন তিনি বইটি আমার হাতে ফেরত দিলেন। নেত্রী বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর চীন ভ্রমণের বইটি হবে আরও তথ্যবহুল।’ সেদিনই জানলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’ নামে আরও একটা মহামূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়।
ধার দিয়ে বই ফেরত পাওয়া যায় না- এমনটি প্রায়ই হয়। আবার ফেরত দিলেও বইটি আগের অবস্থায় ফেরত পাওয়া যায় না। মনোজ বসুর বইটি একটি খামের ভিতর যেভাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে, তাতে বইয়ের প্রতি যত্নের বিষয়টি খুব স্পষ্ট। ছাত্রাবস্থায় লাইব্রেরিতে বই পড়তে গিয়ে দেখেছি অনেক বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে নিয়ে গেছে কেউ। আবার অনেক মূল্যবান বই ধার নিয়ে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়ার কারণে প্রয়োজনের সময় সেটি আর পাইনি। বই দেরিতে ফেরত দেওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক চমকপ্রদ তথ্য আছে। কানাডার ভ্যানকুবারের সাউথ হিল পাবলিক লাইব্রেরি থেকে এক ব্যক্তি হ্যারি এডওয়ার্ড নেইলের ‘টেলিস্কোপ’ নামক বইটি নিয়েছিল ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল। ৫১ বছর পর পাঠাগারে বইটি ফেরত দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটা চিরকুট। তাতে বই ফেরত দিতে ‘সামান্য দেরি’ হওয়ায় ঐ ব্যক্তির পক্ষে থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লার্চমন্ট পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ১৯৩৩ সালে একটি বই ধার নিয়েছিলেন জিমি এলিস। বইটি গ্রন্থাগারে ফেরত দেওয়া হয় ৯০ বছর পর। পোলিশ-ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জোফেদ কনরাডের লেখা ‘ইয়ুথ অ্যান্ড টু আদার স্টোরিজ’ বইটি যৌবনে ধার নিয়েছিলেন জিমি এলিস। ১৯৭৮ সালে তিনি মারা যান। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাবার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের মধ্যে ছেলে বইটি পেয়ে গ্রন্থাগারে ফেরত দিয়েছিলেন। [কালের কণ্ঠ, ১৬ অক্টোবর ২০২৩]
যাক সে-কথা। আসি বঙ্গবন্ধুর চীন ভ্রমণ প্রসঙ্গে। ১৯৫২ সালের ২-১২ অক্টোবর চীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
‘আমার দেখা নয়াচীন’ স্মৃতিনির্ভর এ ভ্রমণকাহিনি তিনি রচনা করেন ১৯৫৪ সালে কারাগারে রাজবন্দি থাকাকালে। ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু-পরিবারের ওপর অমানিশার অন্ধকার নেমে না-এলে বহু আগে বই আকারে পাঠক হাতে পেতেন। কৃতজ্ঞতা বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি। তার কারণে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা অমূল্য সম্পদ আজ জনগণের হাতে পৌঁছেছে। ভাববার বিষয় হচ্ছে, একটা দেশে সামাজিক বাস্তবতা কত বৈরী হলে একটি বই প্রকাশে ৬৬ বছর সময় লাগে?
বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইয়ের ভূমিকায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন : “সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, তাদের জীবনযাত্রা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো মিটাবার জন্য চীন সরকার বিপ্লবের পর কীভাবে উন্নতি করেছে এবং পরিবর্তন এনেছে মানুষের আচরণে তাও জানা যায়। তিনি শুধু সম্মেলনেই অংশগ্রহণ করেন নাই, তিনি এই দেশকে খুব গভীরভাবে দেখেছেন। কৃষকের বাড়ি, শ্রমিকের বাড়ি, তাদের কর্মসংস্থান, জীবনমান সবই তিনি দেখেছেন।”
কলকাতার লেখক মনোজ বসু যথাসময়ে ভ্রমণকাহিনি লিখে দিল্লি বিশ^বিদ্যালয় থেকে ১৯৫২-৫৪, তিন বছরের জন্য সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে গেছেন। ২০২৩ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর তিনটি বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর জন্য ‘ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচার’ বিশেষ সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়।
গ্রন্থ সমালোচনা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। মনোজ বসুর বইয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে উল্লিখিত অংশ নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। শান্তি সম্মেলনে ৩৭টি দেশ থেকে ৩৬৭ জন ডেলিগেট, ৩৭ জন পর্যবেক্ষক, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ২৫ জন অংশ নেন।
লেখক হিসেবে মনোজ বসুও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল উপস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায় মনোজ বসুর লেখায় : “… ভদ্রলোকের নাম পাওয়া গেল- মুজিবর রহমান। এই নাম তো জানি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির, মানুষ পাগল করে তোলেন না-কি তিনি মিটিঙে!”
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অন্য এক প্রসঙ্গে বলেছেন, “সামনেই তরুণ বন্ধু মুজিবর রহমান- আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। জেল খেটে এসেছেন ভাষা আন্দোলনে; বাংলা চাই- বলতে বলতে গুলির মুখে যারা প্রাণ দিয়েছিল, তাদেরই সহযাত্রী।”
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। রক্তাক্ত পথে ভাষার অধিকার আদায় হয়েছে। চীন সফরে বঙ্গবন্ধু বাংলায় বক্তৃতা করেছেন। তার কথায়- “আমি বক্তৃতা করলাম বাংলা ভাষায়, আর ভারত থেকে বক্তৃতা করলেন মনোজ বসু, বাংলা ভাষায়। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। মাতৃভাষায় বক্তৃতা করাই উচিত। কারণ পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলনের কথা দুনিয়ার সকল দেশের লোকই কিছু কিছু জানে।” [আমার দেখা নয়াচীন, পৃ. ৪৩]
মনোজ বসু তার বইয়ে একই কথা বলেছেন, “মুজিবর রহমানের বক্তৃতা হল মাঝে আরও কতকগুলো হয়ে যাবার পর। ইনিও বললেন বাংলায়। ছেয়াশিজন বক্তার মধ্যে বাংলায় মোট দুজন- পাকিস্তানের মুজিবর আর ভারতের এই অধম!”
দেশ দুইটার ভাষা এক, অক্ষর এক দেখে মার্কিন মুল্লুকের একজন মনোজ বসুকে জিজ্ঞেস করলে হাসিরছলে তার সাফ জবাব ছিল- বুঝতে পারলে না- বাংলা আন্তর্জাতিক ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সত্যিই ভাষা আন্দোলনের শহিদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় বক্তৃতা দেওয়ার পর- বিদেশিদের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে লিখেছেন : “অনেকেই আমাদের জিজ্ঞাসা করলো, ভারত থেকে একজন বাংলায় বক্তৃতা করলেন, আর পাকিস্তান থেকেও একজন বক্তৃতা করলেন, ব্যাপার কী?
আমি বললাম, বাংলাদেশ ভাগ হয়ে একভাগ ভারতে আর একভাগ পাকিস্তানে পড়েছে। বাংলা ভাষা যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষা এ অনেকেই জানে। ঠাকুর দুনিয়ায় ‘ট্যাগর’ নামে পরিচিত। যথেষ্ট সম্মান দুনিয়ার লোক তাঁকে করে। আমি বললাম, পাকিস্তানের শতকরা ৫৫ জন লোক এই ভাষায় কথা বলে। এবং দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ-ভাষার অন্যতম ভাষা বাংলা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পিতার পথ অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলিতে যখনই জাতিসংঘে গেছেন তখনই বাংলায় বক্তৃতা করছেন। দুই বাংলার ভাষা সাংস্কৃতিক বন্ধনের আবেগী বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মনোজ বসুর কথায়- ‘বাংলাদেশ দু-টুকরো হয়ে গেছে আজকে। তবু একই ভাষা। বাংলা ভাষা বেঁধে রেখেছে আমাদের। রাডক্লিফের খড়গ মাটি কেটে ভাগ করে দিয়েছে, ভাষার ওপর তার কোনো কোপ পড়েনি। সাত সমুদ্র পারের বিদেশির চোখেও এই ঐক্য ধরা পড়ে গেছে।’
যে প্রসঙ্গে লেখাটা শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে যাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে মনোজ বসুর বইটি এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছিলাম। সম্প্রতি ঢাকা থেকে বইটি পুনর্মুদ্রণ হয়েছে।
মনোজ বসু একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক। তার লেখার উপস্থাপনা-শৈলীর সাথে একজন রাজনীতিকের লেখার পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধুর ‘আমার দেখা নয়াচীন’ সম্পর্কে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাষায়, “তিনি মুক্ত মন নিয়ে যেমন ভ্রমণ করেছেন আবার তীক্ষè দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিটি বিষয় গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন।… এই ভ্রমণ কাহিনি অতি প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়ে তিনি পাঠকের জন্য উপভোগ্য করেছেন। প্রতিটি শব্দ, বাক্য রচনায় যে পারদর্শিতা আমরা দেখি, তাতে মুগ্ধ হয়ে যাই।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ-বছর ২১ বারের জন্য বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বই পড়ার অভ্যাস সবার থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সেই স্কুল-জীবন থেকেই বইমেলায় ছুটে আসতাম। বাংলা একাডেমি লাইব্রেরি আমার প্রিয় লাইব্রেরি।… বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনে বাংলা একাডেমির বটতলা অথবা পুকুরপাড়ে বসে পড়াশোনা করতাম।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণ থেকেই বইয়ের প্রতি আমরা তার ভালোবাসার নিদর্শন পাই।

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য