Friday, February 23, 2024
বাড়িSliderশেখ কামাল ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক

শেখ কামাল ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক

শেখ কামাল ছিলেন দেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক ও তারুণ্যের প্রতীক। তার যৌবনদীপ্ত ক্রীড়াশৈলী দেশের তরুণদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। তিনিই প্রথম এদেশে আধুনিক ধারার ক্লাব আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠা করেন।

আরিফ সোহেল: ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের গতির ঝলক, আতশবাজির রোশনি, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো উদ্বোধনী এবং সমাপনী আয়োজনে পর্দা নামল শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমসের। আসর শেষ হয়েছে চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠত্বে দিয়ে ৪ মার্চ। ৮টি বিভাগের খেলোয়াড়দের নিয়ে ২৪টি ডিসিপ্লিনে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমসে সেরা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৪৯টি স্বর্ণ, ৪০টি রৌপ্য এবং ৫৭টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪৬টি পদক নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রামের তরুণ-তরুণীরা। দ্বিতীয় হওয়া ঢাকা বিভাগ জিতেছে ৪৬টি স্বর্ণ, ৩৯টি রৌপ্য, ৬১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪৬টি পদক। ৪২টি স্বর্ণ, ৪৩টি রৌপ্য এবং ৫৯টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪৪টি পদক নিয়ে তৃতীয় হয়েছে খুলনা বিভাগ। প্রায় ৬০ হাজার ক্রীড়াবিদ, কোচ, টেকনিক্যাল অফিসিয়াল ও ক্রীড়া সংগঠকের অংশগ্রহণে ২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল ক্রীড়াক্ষেত্রের মহাযজ্ঞ। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো যুব গেমসের আয়োজন করা হয়েছিল।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি জমকালে আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ কামাল দ্বিতীয় যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন করেন। তিনি আসন গ্রহণ করার পরই বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এরপর শুরু হয় মার্চপাস্ট। আর্মি স্টেডিয়ামে প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল মনোমুগ্ধকর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেলাধুলার জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও আধুনিক কাঠামোতে রূপান্তরিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে তিনি ১৯৭২ সালে গঠন করেন ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। সে-সময় একে একে গড়ে ওঠে সাঁতার, হকি, ভলিবল, অ্যাথলেটিকস, টেনিস ইত্যাদি ফেডারেশন। এক কথায় রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ কামাল ছিলেন দেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক ও তারুণ্যের প্রতীক। তার যৌবনদীপ্ত ক্রীড়াশৈলী দেশের তরুণদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। তিনিই প্রথম এদেশে আধুনিক ধারার ক্লাব আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী শেখ কামাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। এটা ছিল তার দূরদর্শী ভাবনা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ফসল। শুধু ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল নয়, হকিতেও তিনি নতুন দিনের সূচনা করেছিলেন। সুদক্ষ সংগঠক, খ্যাতিমান ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব শেখ কামাল সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনে নবযুগের শুভ সূচনা করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি-আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিক-নির্দেশনা রেখে গেছেন, আশা করি আমাদের যুবসমাজ তার আদর্শকে সামনে রেখে নিজেদের গড়ে তুলবে। বর্তমান সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রের সম্প্রসারণ এবং খেলাধুলার মান উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে তরুণ প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা যাতে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়, সে-জন্য দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি।’

এশিয়ান ইনডোরে বাংলাদেশের হয়ে ইমরানুর রহমানের ইতিহাস
এমনটা হতে পারে- আগাম আভাস ছিল ফেডারেশনের পক্ষে। তারা বাজি ধরেছিলেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের ইমরানুর রহমানকে নিয়ে। ইমরানুর প্রত্যাশা পূরণ করে স্বর্ণ জিতেছেন এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্সে। কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ৬০ মিটার স্প্রিন্টে ইতিহাস গড়ে ইমরানুর রহমান দ্রুততম মানব হয়েছেন। সকালে কাজাখস্তানে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে হিটে প্রথম হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন ইমরানুর। হিটে সময় নেন ৬.৭০ সেকেন্ড; যদিও তখন পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং ৬.৬৪ সেকেন্ড। গত বছর বেলগ্রেডে বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিক্সে এই টাইমিং করেন ইমরানুর। সন্ধ্যায় সেমিতে সময় নেন ৬.৬১ সেকেন্ড। ভাঙেন তার আগের রেকর্ড। এরপর রাতে ফাইনালে সময় নিয়েছেন ক্যারিয়ার সেরা ৬.৫৯ সেকেন্ড। যুব গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রীড়াপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে দেশের এই কৃতী সন্তানের।
কাজাখস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব বলেছিলেন, ‘এশিয়ার ইনডোরে ইমরানুরের পদক পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রতিযোগিতায় অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে তুলনায় ইমরানুরের টাইমিং তৃতীয় সেরা। এখন একটি স্বপ্ন নিয়েই বাংলাদেশ অংশ নেবে এই ইভেন্টে। সেটি পদকজয় আর সে-লক্ষ্য পূরণের পথেই আছে ইমরানুর।’

নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফ নারী ফুটবলে ক্রমেই বাংলাদেশ অপরাজেয় উঠছে। বয়সভিত্তিক আসর মানে বাংলাদেশের নজরকাড়া পারফরমেন্স। অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে তারা নেপালকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী মোহম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের হয়ে গোল ৩টি করেন শাহেদা আক্তার রিপা, শামসুন্নাহার ও উন্নতি খাতুন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে শুরু করে মেয়েরা বাংলাদেশ। সফরকারী নেপাল বাংলাদেশের আক্রমণগুলো রুখে দিচ্ছিল। তবে ৪২ মিনিটে এসে আর রক্ষা হয়নি। বুদ্ধিদীপ্ত গোল করেন শাহেদা আক্তার রিপা। ৪৫+ মিনিটে বাংলাদেশকে আরেকবার আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন অধিনায়ক শামসুন্নাহার। বাংলাদেশের অধিনায়ক সুযোগ সন্ধানী ফরোয়ার্ডের মতো বল পেয়েই জোরালো শটে গোল করেন। আর ম্যাচের ৮৭ মিনিটে নেপালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় বাংলাদেশ। শামসুন্নাহারকে বক্সের বাইরে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় বাংলাদেশ। রিপার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে মাথা স্পর্শ করে দলকে তৃতীয় গোল পাইয়ে দেন উন্নতি খাতুন।

বিপিএলে আবার চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
বিপিএলের নবম আসরের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফাইনালে তারা সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছে শিরোপা। টুর্নামেন্টের সফলতম কুমিল্লা দলের এটি চতুর্থ শিরোপা। ফাইনালে না-হারার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখল তারা।
বেশ টানটান উত্তেজনার ম্যাচে লিটন দাস ও চার্লসের ঝলকে আরও একবার বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে, পঞ্চমবারে এসে বিপিএলের ফাইনাল হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো সিলেট অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার।
আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি পেয়েছিল সিলেট। নাজমুল হোসেন শান্ত আর মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় প্রথমবার ফাইনালে ওঠা সিলেট। রান তাড়ায় দলের দায়িত্ব নেন লিটন। তার ফিফটিতে পাওয়া শক্ত ভিত ধরে দুর্বার হয়ে ওঠেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার্লস। তাতে বিপিএলের শিরোপা ধরে রাখল কুমিল্লা। রান তাড়ায় কুমিল্লার জয়ের দুই নায়ক; একজন দেশি, আরেকজন বিদেশি। লিটনের ৩৯ রানে ৫৫ রানের পর ৫২ বলে অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন চার্লস। এছাড়া, মইন আলীর ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে অপরাজিত ২৫ রান।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য