Friday, February 23, 2024
বাড়িউত্তরণ প্রতিবেদনশিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে

শিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের প্রতি কোনো অন্যায়-অবিচার বরদাশত করা হবে না। যারা শিশু নির্যাতন করবে তাদের অবশ্যই সাজা পেতে হবে। কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি পেতে হবে। গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না আর কোনো শিশু এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হোক। তাই প্রত্যেক অন্যায়-অবিচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে। কাজেই যারা এ-ধরনের শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে। আর শিশুদের সততা নিয়ে নিজেদের বড় হতে হবে। সততা থাকলে কারোর কাছে মাথানত করতে হয় না। সততার মধ্যে এক অন্যরকম শক্তি থাকে। আর সব ধরনের অন্যায় দিক এবং জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে অতিপ্রিয় ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন শেখ হাসিনা। পুরো সম্মেলনস্থল ছেয়ে যায় পিনপতন নীরবতায়। একসময় কান্নায় ভেঙে পড়লে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত শত শত শিশু-কিশোর নিজেদের অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই মানুষের প্রতি দরদি মন ছিল শেখ রাসেলেরও। আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য অনেক কিছু করত। মাঝে মাঝে মনে হয় ৫৪ বছর বয়সে কেমন দেখতে হতো শেখ রাসেল? এ-সময় তার দুই চোখ বেয়ে ঝরছিল বেদনার অশ্রু, কিছু সময় থেমে যায় তার বক্তৃতা। বারবার রুমাল দিয়ে চোখ মুছে আবেগ সামাল দিতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে। ১৯৬৪ সালে জন্মের পর থেকে শেখ রাসেলের বেড়ে ওঠা, আন্দোলনের জন্য কারাগারে থাকায় পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে পিতা-মাতা, অন্য ভাইদের সঙ্গে ছোট শিশু শেখ রাসেলকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার আবেগে জড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, প্রত্যেকটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, সেটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর শিশুরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজ না করে সেই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বিভিন্ন শিক্ষাদীক্ষায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। পাশাপাশি ঝরেপড়া শিশুদেরও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে যারা এতিম; যাদের সমাজে কেউ দেখার নেই তাদের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রতিবন্ধী বা যারা অটিজমে ভুগছে, এ শিশুদের তো কোনো দোষ নেই। আমি আজকে শিশুদের উদ্দেশ্যে বলব, তোমরা যারা ছোট এখনও, তোমাদের আশপাশে যখন দেখবা কেউ প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক অথবা দরিদ্র, তাদের কখনও অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও, তাদের পাশে থেকো।’ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ সংগঠনটি গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮৯ সালে আমরা এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলাম। শিশুদের নিয়ে শিশু সংগঠন হিসেবে পাশে থাকার জন্য। সেই প্রতিষ্ঠানটি আজ অনেক বড় হয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানের অনেক ছেলেমেয়ে আজকে কত বড় হয়ে গেছে।’
আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য অনেক কিছু করত। শেখ রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। ঠিক যেই মুহূর্তে রাসেল জন্মায় তখন আব্বা (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু) খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। বঙ্গবন্ধু সেই নির্বাচনে প্রচারের কাজে চট্টগ্রামে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। একাত্তরের যুদ্ধচলাকালীন স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলত না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনও বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলত চোখে কী যেন পড়েছে। ওইটুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখত? আমার ভাবতেও অবাক লাগে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শেখ কামাল, সে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিল। শেখ জামাল বন্দিখানা থেকে বের হয়ে সেও মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘যখন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন বন্দিদশায় আমার ছেলে জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন আক্রমণ হতো, বিশেষ করে যখন এয়ার রেইড হতো, রাসেল সব সময় পকেটে একটু তুলা রাখত। নিজের কানে দিত, ছোট্ট জয়ের কানে দিয়ে দিত। যেন ঐ আওয়াজে জয়ের কোনো ক্ষতি না হয়। রাসেল সব সময় খুব খেয়াল রাখত জয়ের প্রতি। স্বাধীনতার পর আব্বা যখন ফিরে আসল, আপনারা দেখবেন সব সময় আব্বার পাশে রাসেল। রাসেল যেন আব্বাকে ছাড়তে চাইত না।’ অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত দাবা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চের সামনের আসনে বসে শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. রকিবুল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উদ সামাদ চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সচিব একেএম শহীদ উল্যাহ প্রমুখ। সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিশু সদস্য আফিয়া।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য