Friday, February 23, 2024
বাড়িউত্তরণ প্রতিবেদনরোহিঙ্গা ফেরতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ফেরতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

উত্তরণ প্রতিবেদন: রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে যাতে অবিলম্বে ফেরত যেতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে।
ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন অ্যাডওয়ার্ড বিগান গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর আগে সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বিগানের বৈঠক হয়।
বিগানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চাই; যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করা।’ জবাবে বিগান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চাই। আমরা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে। এটি আমাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা। সমস্যাটি মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং আমরা তাদের সাথে সংলাপ করছি, তাদের উচিত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া।”’
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি সামাজিক সমস্যা এবং মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিক কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরগুলোতে বাস করছে। তিনি বলেন, ‘কিছু মহল অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে তাদের ভুল পথে চালিত করতে পারে। সুতরাং আমরা অবিলম্বে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করাতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি আত্মগোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন। এ বিষয়ে বিগান জানান, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসাসেবা আবার চালু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন এডওয়ার্ড বিগান বলেন, তিনি এরই মধ্যে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন সরকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।’
মার্কিন এই শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তার সরকার দেশজুড়ে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। তিনি মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে তার সরকারের পদক্ষেপগুলোও সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য