Friday, February 23, 2024
বাড়িSliderরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরাও পারি। শান্তি ও উন্নয়নের জন্য পরমাণুশক্তির ব্যবহারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটা একটা দৃষ্টান্ত, আমরা এ ধরনের একটা কাজ করতে পারি। পরিবেশ ঠিক রেখে আমরা ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছি। এতে আমাদের দেশের মানুষ খুব স্বচ্ছ একটা বিদ্যুৎ পাবে, যা আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখবে।’ গত ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপন কাজের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। চুল্লি স্থাপন কাজের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। পারমাণবিক চুল্লিপাত্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে বড় ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এলো। রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এর ভেতরেই ইউরেনিয়াম থেকে শক্তি উৎপাদিত হবে, যা কাজে লাগিয়ে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। সেই সঙ্গে তেজস্ক্রিয় দ্রব্য বেরিয়ে যাতে পরিবেশ দূষণ করতে না পারে, সে-জন্য কতগুলো প্রতিবন্ধকতার কাজও করে রি-অ্যাক্টর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১০ অক্টোবর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক চুল্লিপাত্র স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। সরকার আশা করছে, আগামী বছর রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

‘আমরা আজ খুবই গর্বিত। বাংলাদেশকে আবার একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারলাম। আমার বিশ্বাস- আজকে বাংলাদেশের জন্য বিরাট অর্জনের দিন হিসেবে আমাদের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্মান বয়ে আনবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণুু শক্তি, এটার ব্যবহার মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। আমাদের লোকবল সৃষ্টি করা, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। অনেকগুলো বিষয় থাকে, যেগুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করি এবং ব্যবস্থা নিই। ২০১৩ সালের অক্টোবরে যখন প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করি, তখন থেকেই এর মান নিশ্চিত রাখার জন্য আমরা বিশেষভাবে যতœবান হই। আমেরিকার সিমাইল্ড আইল্যান্ড, চেরনোবিল বা জাপানের হিরোশিমায় যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল তা মাথায় রাখা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। ২০১৭ সালে আইআইইএ পরিচালকের আমন্ত্রণে আমি ভিয়েনা সফর করি। সেখানে আন্তর্জাতিক শক্তির কমিশনের সদর দপ্তরে গিয়ে আলোচনা করি। সেখানে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখানকার নিরাপত্তার নিশ্চিত করা। আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে আজ আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের মধ্যেই প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যাবে। সবাইকে বলব- দোয়া করেন, যাতে আমরা এটা ঠিকমতো করতে পারি। আশা করি, দ্বিতীয় ইউনিটও ২০২৪ সালের মধ্যে উৎপাদনে যাবে। দুই ইউনিট মিলে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এখন যেমন সবাই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমাদের কিন্তু এ ব্যাপারে কোনোরকম পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়বে না।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে। শিক্ষা-দীক্ষা চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবা সব দিকে বাংলাদেশের মানুষের যে মৌলিক চাহিদা, জাতির পিতা আমাদের সংবিধানে দিয়ে গেছেন সেটা পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
এ সময় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতার জন্য বন্ধুপ্রতিম দেশ রাশিয়া এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ এই কাজের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ খুবই গর্বিত। বাংলাদেশকে আবার একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারলাম। আমার বিশ্বাস- আজকে বাংলাদেশের জন্য বিরাট অর্জনের দিন হিসেবে আমাদের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্মান বয়ে আনবে।’

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য