Sunday, July 3, 2022
বাড়িআইন-আদালতমানবাধিকার ও আইনের শাসন

মানবাধিকার ও আইনের শাসন

মাহবুবে আলম: মানবাধিকার বলতে আমরা সাধারণভাবে বুঝি মানুষের অধিকার। অধিকারের মানদ- যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে।
আধুনিক সভ্যতার প্রারম্ভে মেয়েদের ভোটাধিকার ছিল না। বিধবা নারীদের পুনর্বিবাহের অধিকার ছিল না কোনো কোনো ধর্মে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও বহুদিন কালো মানুষরা ক্রীতদাশ হিসেবে সমাজে বিরাজমান ছিল সমস্ত অধিকার বঞ্চিত হয়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংবিধান সংশোধন করে অথবা আইন করে মানবাধিকারের পরিপন্থী কাজ বন্ধ করতে হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৩তম সংশোধন, যার দ্বারা ক্রীতদাশ প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। ব্রাজিলেও ক্রীতদাশ প্রথা বাতিল করে আইন প্রণয়ন করা হয়। মানবাধিকারকে সার্বজনীন করার জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আইন করা হয়। জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বর্ণনার অংশে ১৯৪৮ সালে সাধারণ পরিষদে পাস হয় সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (Universal Declaration & Human Rights)।
কোন দেশে মানবাধিকার কতখানি কার্যকর আছে তা নির্ণয় করা হয় উপরোক্ত ঘোষণার সাথে তুলনামূলক বিচার করে। মানবাধিকার কার্যকর করা সম্ভব নয় আইনের শাসন না থাকলে। আইন ছাড়া রাষ্ট্র বা সমাজ চলতে পারে না। কিন্তু রাষ্ট্র-আইন দ্বারা পরিচালিত হলেই বলা যাবে না আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রে যখন সঠিকভাবে মানবাধিকার রক্ষিত হবে তখনই বলা যাবে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রিটিশদের অধীনে মানবাধিকার নামেমাত্র থাকলেও পাকিস্তান আমলে কিছুই রইল না। রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে রাজবন্দিদের গুলি করে হত্যা ও নারী নেত্রী ইলা মিত্রের ওপর অত্যাচার-বর্বরতার সীমা অতিক্রম করে। মুসলিম লীগ সরকারের সামান্য সমালোচনাকেও গণ্য করা হতো দেশদ্রোহিতা। ভাষার অধিকারও মানবাধিকার। অথচ পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের এ অধিকার অগ্রাহ্য করা হয়। ভাষার দাবিতে আন্দোলন হয়েছে এবং সেই আন্দোলন রূপ নিয়েছে স্বাধিকার আন্দোলনের। এই আন্দোলনের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধিকার আন্দোলন যখন চরম রূপ ধারণ করে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আন্দোলনের প্রাণ-পুরুষ। এ আন্দোলনের নেতা হিসেবে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে বহুবার। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে তাকে সামরিক ছাউনিতে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সামরিক আদালতে তার বিচার করে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন বঙ্গবন্ধু।
পাকিস্তানের ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পাইকারিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে দেশের শাসনতন্ত্র না থাকার কারণে। দেশ চলেছে ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর ইচ্ছায়।
১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হলো। কিন্তু ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে সামরিক শাসন জারি থাকা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত শাসনতন্ত্র বাতিল করা হলো।
১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আইয়ুব খানের শাসনামলে বহু কালো আইন প্রণয়ন করা হয়, বিশেষভাবে হিন্দু সংখ্যালঘুদের তাদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য। পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকরা আরও বেশি বৈষ্যম্যের স্বীকার হতে থাকলেন।
এসব ঘটনা ছিল চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
১৯৭০-এর নির্বাচনে বিশাল বিজয় লাভের পর ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হয় বিশাল জনসভার সম্মুখে। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু তার বক্তৃতায় বলেন :
“এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই থাকবে এবং বাংলাদেশও থাকবে। হিন্দু ও বৌদ্ধদের উপর গত এক দশকে যে অত্যাচার হয়েছে তারও অবসান হবে। মহিলাদের সমান অধিকার প্রদান করা হবে এবং তারা আর দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবেন না।”

বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সার্বজনীন মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি তার বিশ্বাস কত দৃঢ় ছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দোসররা গণহত্যা চালায়।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায়সংগত সংগ্রাম।
বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছিলেন দেশে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সফলভাবে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত ও গৃহীত সংবিধান।
সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১০ এপ্রিল ১৯৭২ তারিখে এবং সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের পর দ্বিতীয় অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর। ঐ তারিখে বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনী ও তার দোসরদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে তার ভাষণের এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু বলেন :
“এদের পাশবিক অত্যাচার পশুর মতোÑ যাতে হিটলারও লজ্জা পায়, যাতে হালাকু খানও লজ্জা পায়, যাতে চেঙ্গিশ খানও লজ্জা পায়। অত্যাচার করেছে বাংলাদেশের মাটিতে। আজ বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্যরা সেই রক্ত লেখা দিয়ে শাসনতন্ত্র দিতে চান। শাসনতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ চলতে পারে না।”

গণজনপরিষদের ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরে শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে বাঙালিদের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন :
“শাসনতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। সমাজতন্ত্রের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক, দুঃখী মানুষকে, মেহনতী মানুষকে যেন কার্যত exploit করতে না পারে। তাদের শোষণ করার জন্য যারা দায়ী, সেইসব শোষককে curtail করা হবে।”

সংবিধান কার্যকর করা হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে। বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে :
“(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি রূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বতিল হইবে।”

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারসমূহের কথা বলা হয়েছে, যেমন আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মীয় কারণে বৈষম্য না করা, সরকারি নিয়োগ লাভে সমান সুযোগ, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ, গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দ-সমূহে রক্ষাকবচ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা, বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা, পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি।
মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য এই বিধানগুলো বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সরকার তাদের বিচারের জন্য আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই আইন বা উক্ত আইনের অধীনে গৃহীত কোনো কার্যক্রম যেন কোনোক্রমে বাধাগ্রস্ত না হয় সে-জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের প্রথম সংশোধন করে অনুচ্ছেদ ৪৭-এ উপ-অনুচ্ছেদ ৩ যুক্ত হয় এবং ৪৭(ক) ধারা যুক্ত হয়।
৪৭-এর নতুন সংযোজিত উপ-অনুচ্ছেদটি হলো নিম্নরূপ :
“(৩) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দ-াদেশ করিবার বিধান সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।”
“৪৭(ক)(১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
(২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোন প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করিবার কোন অধিকার সেই ব্যক্তির থাকিবে না।”

সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরই যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য সংসদে পাস হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৭৩। এ আইনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়, অভিযুক্তদের সমস্ত আইনগত সহায়তার বিষয় নিশ্চিন্ত করা হয় এবং দণ্ডিত ব্যক্তির আপিলের সুযোগের বিধান রাখা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, অনুচ্ছেদ ’৪৭-এর তৃতীয় দফায় “বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন” শব্দসমূহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়।
১৯৭৩ সালে যদিও সংবিধান সংশোধন ও আইন পাস হয় কিন্তু ১৯৭৫ সালে ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার কারণে ও সামরিক আইন জারির কারণে ঐ সময় যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হয়নি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ও বিচার শুরু করে। ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত মোট ৪১টি মামলার বিচার সম্পন্ন করে রায় প্রদান করেছেন। একটি মামলা রায় প্রদানের জন্য আছে। ২৮টি মামলা বিচারাধীন আছে এবং ৭টি মামলা প্রি-ট্রাইট পর্যায়ে আছে। এ পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৯টি আপিলের শুনানি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দ-িতের মধ্যে এ পর্যন্ত ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জামার্নির লুস্কেমবার্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল সামরিক ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সবরকম সুযোগ প্রদান করে বিচারকাজ সম্পন্ন করে। এ বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
আইনের শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এবং ঐ বছরের নভেম্বরে জেলখানার ভিতর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার বিচার ও দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আমলে আনার ব্যাপারে তৎকালীন বিএনপি সরকার ও পরবর্তীতে এরশাদ সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; বরং বিএনপি সরকার অপরাধীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে এসব জঘন্য খুনিদের বিচারের আওতায় আনে।
২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় যে গ্রেনেড হামলা হয় এবং ২৩ জন নিহত হন ও বহু লোক আহত হয়। এই মামলার আসামিদের আড়াল করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করে বিএনপি বিচারের প্রহসন করে।
চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাতেও মূল অপরাধীদের আড়ালে রেখে বিচার চালানোর প্রহসন করে বিএনপি সরকার।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার এসব মামলার পুনঃতদন্ত করে আসল অপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করে।
দেশে আইন থাকলেই আইনের শাসন আছে বলা যায় না। আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো সত্যকে গোপন না করা, সমাজে মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখা, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা ইত্যাদি এবং মানবাধিকার-বিরোধী যে কোনো কাজকে যেন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়। এই প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।
শেখ হাসিনার সরকার সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থাশীল বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও উপরে বর্ণিত অপরাধসমূহের পুনঃতদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হয়েছে। একটি সভ্য জাতি হিসেবে বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান হয়েছে।

লেখক : অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য