Saturday, July 13, 2024

মনে হতো আমি একই পরিবারের

মো. ম হি উ দ্দি ন:  কোন্ প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কোলে তুলে নিলেন?
– ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে দেশে একটি বিরাট সাইক্লোন হয়। ঐ সাইক্লোনে দেশের বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের পাশেই তো সুন্দরবন, সুন্দরবনেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। তা সরেজমিনে দেখার জন্য বঙ্গবন্ধু সুন্দরবনে যান। আমাদের স্টিমার সকালে হিরণ পয়েন্টে ভিড়ে। তখন জোয়ার ছিল। স্টিমার সুন্দরবনের পাড়ে ভিড়ে। আমরা সেখানে নেমে যাই। বঙ্গবন্ধুর সাথে সারাদিন ঘুরি। সকাল গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে। বিকালে ভাটা লাগায় স্টিমার পাড় থেকে দূরে চলে গেছে।
বঙ্গবন্ধু তখন স্টিমারে যাবার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। যাওয়ার পথটি ছিল কাদা ভরা। বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে স্টিমার দেখছেন আর যাওয়ার রাস্তায় কাদা দেখছেন। রাস্তার অবস্থা দেখে আমাকে ডেকে বললেন, ‘মহিউদ্দিন রে, বাবা, আমি তো এই কাদা দিয়া হাইটা যাইতে পারুম না।’ আমি বললাম, ‘স্যার আমি কী করুম বলেন?’ তিনি বললেন, ‘তুই আমারে কোলে করে স্টিমারে তুলে দিয়ায়।’ আমি তখন বঙ্গবন্ধুকে কোলে তুলে কাদা দিয়ে হেঁটে হেঁটে স্টিমারে পৌঁছে দেই।
বঙ্গবন্ধুকে আপনি জড়িয়ে ধরেছিলেন পিছন দিক থেকে – প্রেক্ষিতটা বলবেন কী?
– এই ছবিটার কাহিনি actually মনে নাই। এটা হয় মোংলা পোর্টে বা প্লেনের সিঁড়িতে হতে পারে। আমি confuse আছি। উনি যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন সেখান থেকে নিচে হয় সমুদ্র অথবা বিমানের উচ্চ সিঁড়ি থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন। উনি যদি emotionally সামনে পা বাড়ান, উনি হয় সমুদ্র পড়বেন অথবা বিমানের সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে যাবেন। আর তাই, উনি যাতে নিচে পড়ে না যান সে-জন্য আমি পিছন থেকে ধরে রেখেছিলাম।

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের সাথে আপনার সম্পর্ক নিয়ে যদি কিছু বলতেন-
-বঙ্গবন্ধু ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি। আমরা ছিলাম উনার কর্মচারী। শেখ কামাল, শেখ জামাল, নেত্রী, শেখ রেহানা, রাসেল- এরা ছিলেন রাষ্ট্রপতির ছেলেমেয়ে। কিন্তু উনাদের যে আচরণ, আমাদের সাথে যে ব্যবহারÑ এটা কোনো সময়ই মনে হয় নাই যে আমরা একটা পরিবারের বাইরে আছি। উনাদের যে আচরণ, তাতে আমরা কখনোই বুঝতে পারি নাই যে আমরা উনাদের ভাই-ব্রাদার না, এদের পরিবারের না। সব সময় তাদের আচরণে এটাই ভাবছি যে আমরা একটি পরিবার, আপন ভাইবোন। তাদের কোনো মান-অহঙ্কার ছিল না। শেখ কামাল আমাকে ‘মহিউদ্দিন ভাই’ বলে ডাকতো। আমি শেখ কামালকে ‘কামাল’, শেখ জামালকে ‘জামাল’, শেখ রেহানাকে আমি, হানিফ, আমিরুল হক বাদশা (বঙ্গবন্ধুর এপিএস) ‘সিস্টার’ বলে ডাকতাম।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫। জাতীয় জীবনের সবচেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায়। সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে যদি কিছু বলতেনÑ
– ১৫ আগস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। আগের দিন ১৪ আগস্ট, সকালে অফিসে গেলেন, বিকালেও অফিসে গেলেন গণভবনে। আতাউর রহমান খানসহ অনেক বড় বড় নেতার সাথে কথা বললেন।
মতিন চৌধুরী তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। উনি সন্ধ্যার সময় আসলেন। তিনি আমাকে বললেন, মহিউদ্দিন, কালকে এত বড় একটা অনুষ্ঠান ইউনিভার্সিটিতে, উনাকে একটু ভাবতে দিবা না তোমরা। কালকে কী বলবে উনাকে ভাবতে দিবা না। আমি বললাম, কী করুম, স্যার। তিনি বললেন, রোজই তো সাক্ষাৎকার দেয়, আমরা এসে দেখা করি। আজকের এই বেলাটা উনাকে নিয়ে যাওনা বাসায়। একটু ভাবুক, একটু চিন্তা করুক। আমি বললাম, স্যার, দেখি উনাকে উঠাইতে পারি কি না? তিনি বললেন, যাও। আমি নিয়ম অনুযায়ী যেভাবে তাকে উঠাই, সরাসরি বলার তো সাহস নাই। ঐ টুকটাক কিছু পয়েন্ট বা ইঙ্গিত আছে, যার মাধ্যমে স্যারকে জানাই, স্যার আপনি বাসায় চলেন। সেটা কী রকম। যেমন- স্যার তো পাইপ খায়। উনার ব্যাগ, পাইপ- এগুলো উনার টেবিলে থাকে। যখনই যাওয়ার সময় হয় তখন উনার তামাকের প্যাকেট, পাইপ এগুলো হাতে নেই। এগুলো হাতে নিলে উনি বুঝেন, আমাকে যাইতে বলছে। যখন যাওয়ার ইচ্ছা থাকে তখন পাইপটা বা ব্যাগটা হাতে নিলেই উনি বুঝে ফেলেন, বলেনÑ ‘যাইতে হইবো রে।’
মতিন চৌধুরী সাহেব আমাকে ইনসিস্ট করল উনাকে উঠিয়ে বাসায় নেওয়ার জন্য। আমি ওই নিয়মেই আস্তে আস্তে উনার টেবিলের কাছে গিয়ে তামাকের ব্যাগটা ধরলাম। এটা ছিল সেকেন্ড অ্যাটেমপ্ট। আমি তো থাকতাম দরজার বাইরে। প্রথম চেষ্টা ছিল সময়মতো গিয়ে রুমের ভিতর নড়াচড়া করলাম, উনার দৃষ্টি আকর্ষণের। উনি আমায় দিকে তাকালেন না। বুঝলাম উনি যাবেন না।
মতিন চৌধুরী স্যার বললেন, কী ব্যাপার, কী করলা। আমি বললাম, আমি তো স্যার পারলাম না। স্যার বললেন, ওহ, পারলা না তুমি? আমি বললাম, স্যার আরেকটা চান্স নিয়ে দেখি। আমি রুমে ঢুকে তামাকের প্যাকেট হাতে দিলাম। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘ওই, রাখ থো।’ আমাকে ধমক দিয়ে দিল।
আমি তামাকের প্যাকেট রেখে দ্রুত বাইরে গেলাম। মতিন স্যার বললেন, কী ব্যাপার, কী হইছে তোমার? আমি তাকে বললাম, আমি স্যার পারলাম না। তিনি বললেন, কেন? তিনি বললেন, এসো আমার সঙ্গে। আমি উনার সাথে না গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। মতিন স্যার বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বললেন, এই মহিউদ্দিন গাড়ি লাগাইছ।
বঙ্গবন্ধু তখন মতিন স্যারকে বললেন, ‘আপনিও আমার পিছনে লাগলেন।’
ঐদিন সন্ধ্যায় গণভবনে একটা ডিনার ছিল। তা শেষ করে তোফায়েল ভাইয়ের সাথে বঙ্গবন্ধু বাসায় যান। আমি নিচে দাঁড়িয়ে থাকি এবং তোফায়েল ভাই উপরে গেলেন। কাজ শেষ করে তোফায়েল ভাই ফিরে আসেন। আমি রাত্রে বাইরে আছি কি না- বঙ্গবন্ধু মাঝে মধ্যে আমাকে রিং করে খবর নিতেন। তাই ভয়ে তার সামনে যাই নাই। আমি থাকতাম ইস্কাটনে সোনালী বিল্ডিং-এ। তোফায়েল ভাইকে বাসায় নামাইয়া দিয়া আমি গেলাম ইউনিভার্সিটিতে, মঞ্চসহ প্রস্তুতি দেখে বাসায় ফিরলাম। রাত ১২-১২.৩০টায় ঘুমিয়ে পড়লাম।
১৪ আগস্ট আমার পিএস সঞ্জয় ডা. ইকবাল (মতি), সেন্টু ওরা আমার বাসায় ছিল। শেষ রাতে ওরা আলাপ পেয়ে আমাকে জাগায়। আমি উঠে গোলাগুলির শব্দ শুনি। আমি তখন ভাবছি- জাসদ বা ওরা কেউ, বঙ্গবন্ধু যাতে ইউনিভার্সিটিতে না যায়- তাই গোলাগুলি করছে। আমি ভেবেছিলাম যে, ওরা হয়তো রমনা থানায় আক্রমণ করেছে। এরপর একটি টেলিফোন আসলো বাড়ি থেকে আমার বাসায়। টেলিফোন ধরলাম। এরপর সেলিনা আহমেদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিল, সে আমাকে টেলিফোনে বললো, মহিউদ্দিন ভাই, বঙ্গবন্ধুর বাসায় কারা না-কি গ্রেনেড মারছে। আমি বললাম, কন কী আপনি? তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনলাম। টেলিফোন ছেড়ে দিয়ে আমি আলী মেহেদী খান, ডেপুটি সুপাররেন্টেড অব পুলিশ, সে আমার সিকিউরিটি অফিসার, তাকে আমি সোবহানবাগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাছে

বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে স্টিমার দেখছেন আর যাওয়ার রাস্তায় কাদা দেখছেন। রাস্তার অবস্থা দেখে আমাকে ডেকে বললেন, ‘মহিউদ্দিন রে, বাবা, আমি তো এই কাদা দিয়া হাইটা যাইতে পারুম না।’ আমি বললাম, ‘স্যার আমি কী করুম বলেন?’ তিনি বললেন, ‘তুই আমারে কোলে করে স্টিমারে তুলে দিয়ায়।’ আমি তখন বঙ্গবন্ধুকে কোলে তুলে কাদা দিয়ে হেঁটে হেঁটে স্টিমারে পৌঁছে দেই।

একটি কোয়ার্টার দিছি। আমি আলী মেহেদী খানকে বললাম, বঙ্গবন্ধুর বাসায় না-কি কারা গ্রেনেড মারছে। তিনি বললেন, আমি তো স্যার জানি না। আমি বললাম, আপনি ইমিডিয়েটলি রাস করেন। আপনি যান, গিয়া দেখেন। আমি আসতেছি। স্বাভাবিকভাবেই সে জানাবে। কিন্তু জানায়নি। By this time, আমি রিং করলাম ‘পুলে’। আমি বললাম, আমায় তোমার গাড়ি দাও। ওরা বলল, পুলে তো স্যার কেউ নেই। ওরা তো আসবে ৮.৩০টায় পরে। তারপর ফোন করলাম রাজারবাগ। ঐ একই উত্তর দিল। তারপর আমি বললাম, আমার যে স্টাফ আছে এসবি’তে তাদের দেন। উত্তর পেলাম, তারা তো স্যার কেউই নেই। তারা তো আসবে ৮.০০টার পরে। আমার ভক্স ওয়াগান গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করলাম। স্টার্ট নেয় না। তারপর আমার ছোট ভাইয়ের হুন্ডা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসার দিকে রওনা দিলাম। সবুজ হেলমেট পরা ছিলাম। আমার পিছনে ঐ যে ডা. ইকবালও ছিল। শেরেবাংলা নগর থেকে ২৭ নম্বরে পড়লাম। বাম দিকে গভঃমেন্ট বয়েজ স্কুলটা। আমি যখন ক্রস করে যাই, ২৭ নম্বরে ঢুকি, বয়েজ স্কুল ক্রস করে যাই, তখন অনেক লোক বয়েজ স্কুলের গেটের ভিতর। কিছু লোক উঁকি দিয়া আবার ভিতরে যায়। তখন কিন্তু ভোর হয় নাই। আমি যাইতেছি। ঐ লোকগুলো আমাকে থামাইছে। আমাকে বলেন, ওই কই যান? আমি বললাম, কেন কী হইছে? সামনে যাইয়েন না। সামনে By this time আমি দেখতেছি অন্ধকার। এমনে তো অন্ধকার আছেই ধোঁয়ায় যে অন্ধকার সেটাও আছে। মাঝে দু-চারটা গুলির আগুন দেখা যাচ্ছিল। ওরা আবার বলল, সামনে যাইয়েন না। সামনে রক্ষীবাহিনী ও আর্মি দুপক্ষে গোলাগুলি হইছে। দুপক্ষে প্রচুর গোলাগুলি হইছে ওখানে। ওরা সামনে যাইতে বাধা দিল। আমি ভাবলাম, আমি হলাম বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার। আমি ওখানে গেলে রক্ষীবাহিনী হোক আর আর্মি হোক আমাকে তো চিনবো। কাজেই কোনো অসুবিধা নেই। তো বললাম চলো। আমি এদের কথা না শুনে, উত্তর না দিয়ে হুন্ডাটা ছাড়লাম। ফাস্ট গিয়ারে টান দিছি। এই ২০-২৫ গজ টান দিছি। তখন আবার প্রচ- গোলাগুলি শুরু হয়, প্রচ- শব্দ। গুলিগুলো আসতেছে। আমি তখন ভাবলাম, আমি গেলে পরে তো আমাকে চিনবো। আমি কে? কিন্তু গুলি যেভাবে আসতেছে, গুলি তো আমারে চিনবে না। আমি ভাবছি কি করা যায় এখনই। তখন আমার সাথে থাকা ডা. ইকবাল বলল, লিডার আপনি আর আগাইয়েন না। আমরা বাসায় যাইগা। আমি ভাবলাম, হ, ঠিক আছে। বাসা থেকে পুলে কনটাক্ট করে তারপর আসি। তখনই ওখান থেকে ব্যাক করে বাসার দিকে রওনা দিলাম। আমি যখন শেরেবাংলা নগর দিয়া ফার্মগেটের দিকে আসতেছি তখন দেখি ট্যাংক আসতেছে। ট্যাংকটা ফার্মগেটের মেইন রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যায়, আমিও পিছনে পিছনে কিছুদূর গিয়া আমার ইস্কাটনের বাসার দিকে চলে যাই। এখন বুঝতেছি, ঐ ট্যাংকটা গেছে হলো রেডিও অফিসটাকে দখল করার জন্য। ওরা যে ক্যু করতেছে, ট্যাংক যে ডাকাতি করতেছে, তা তো জানা নাই। ওরা যে বঙ্গবন্ধু রে মারতেছে, তা তো জানা নেই। বাসার যখন নিচে আসলাম তখন উপর থেকে আমার ওয়াইফ চিৎকার করে ডাকতেছে। বলছে, তুমি তাড়াতাড়ি উপরে আসো। মুন্সিগঞ্জ থেকে ফোন আসছে। তখনও আমি জানি না। মুন্সিগঞ্জ থেকে ফোনে বলল, আপনি কই গেছিলেন? আমি বললাম, কী রে কী হইছে? আমাকে বলল, আপনি রেডিও ধরেন। ক্যান কী হইছে? আপনি রেডিও ধরেন। রেডিও ধরলাম। প্রথম শুনলাম, মোশতাক। স্বৈরাচারী সরকার শেখ মুজিবকে উৎখাত, মোশতাকের নেতৃত্বে উৎখাত করা হয়েছে। By this time, আমার কাছে ফোন আসছে, ফরাসউদ্দিন সাহেব। তিনি বললেন, মহিউদ্দিন ভাই আমাদের তো বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকা উচিত। আমি বললাম, আমি তো ভাই গেছিলাম কিন্তু ঢুকতে পারি নাই। ব্যাক কইরা বাসায় আসছি। যোগাযোগ কইরা তারপর যামু। আমি বললাম, রেডিওতে কী কইতেছে আপনি শুনছেন নি? মোস্তাক না-কি ক্ষমতা নিয়ে নিছে। ধুরো, ফালতু কথা, তিনি বললেন। ঠিক হলো আমি উনাকে নিয়ে যাব। টেলিফোন ছেড়ে দিলাম। আমারে ডেকে বললেন, দ্রুত এদিকে আসেন? দেখেন রেডিওতে কী বলতাছে। টেবিলের টানাটানির আওয়াজ পাচ্ছিলাম রেডিওতে। আমি মেজর ডালিম বলছি, স্বৈরাচারী সরকার শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। শোনার পর হাত নাড়তে পারছিলাম না, শরীর অবশ হয়ে আসে। [দীর্ঘক্ষণ মহিউদ্দিন সাহেব কথা বলতে পারেন নাই- সাক্ষাৎকারের এই অংশে]
আমার সাথে ওরা বলল, চারদিকের যে অবস্থা, তাতে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। ওরা আমাকে হুন্ডা দিয়ে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির কাছে নিয়ে এলো। সেখানে কিছুদিন থেকে নভেম্বরের এক রাতে আমরা ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লায় চলে আসি। সেখানে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সাথে দেখা হলো। তিনি বললেন, ভারতে গিয়ে কী হবে জানি না। আমাদের দেশের মধ্যেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তারপরের ঘটনা অন্যরকম। আমরা ধরা পড়লাম এবং জেলে নিয়ে যাওয়া হলো।

লেখক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য