Sunday, July 3, 2022

বিজয় মহোৎসব

শাহ্ সোহাগ ফকির

সারাদেশে উৎসবের মহারূপ পেয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাঁথার ইতিহাসের এই উজ্জ্বলতম দিনটায়। বর্ণিল হয়ে ওঠে রাজধানীর পথ-প্রান্তর। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে জাতির জীবনে। নানা আয়োজনে গৌরবময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর হতে শুরু হয় নানা আয়োজন। বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটারে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ১৬ দিনব্যাপী বিজয়ের মহোৎসব অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের অন্যান্য দিনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও মন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে দর্শকদের সাথে বিজয়ের এ আয়োজন উপভোগ করেন।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করে বিজয়ের অনুষ্ঠান। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তিসহ বৈচিত্র্যময় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পালন করে বিজয় উৎসব। এছাড়া ছায়ানট বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে গীতিআলেখ্য-র আয়োজন করে। ‘রূপান্তরের গান’ মঞ্চস্থ করে সংগঠনটি। তারপর স্বাধীনতা ও বিজয়ের গান পরিবেশন করে শিল্পীরা।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘লাখো শহিদের বাংলাদেশ, মুক্তির লড়াই হয়নি শেষ’  স্লোগানে আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল দলীয় ও একক গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনার পরে উদীচীর নাটক বিভাগ ‘অজ্ঞাতনামা’ নাটক মঞ্চস্থ করে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আট দিনব্যাপী বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠান।
এছাড়াও বর্ণিল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। দেশাত্মবোধক গান, বাউল গান, স্বরচিত কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করে। ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা’ শীর্ষক দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে শিল্পীরা। এছাড়াও মাসব্যাপী ৬৪ জেলার ৬৫টি বধ্যভূমিতে মঞ্চায়িত হয় গণহত্যা নিয়ে বিশেষ নাটক।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য