Sunday, September 24, 2023
বাড়িSliderবিজয়ের ৫০ বছরে নারী ফুটবলারদের ট্রফি উপহার

বিজয়ের ৫০ বছরে নারী ফুটবলারদের ট্রফি উপহার

বিজয়ের ৫০ বছর, দেশস্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ২০২১ সালে ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় অর্জনের প্রয়োজন ছিল। যা অর্জিত হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে। ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের নারীরা। এই অর্জনে ফুটবলের অপ্রাপ্তির কষ্ট-বেদনার চাদর সরিয়ে আলোকিত বাংলাদেশের ফুটবল। বিজয়ের মাসে এই অর্জন জাতিকে উৎসর্গ করেছে নারী ফুটবল দল। দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ট্রফি হাতে বলেছেন, ‘অনেক আনন্দ লাগছে, অধিনায়ক হিসেবে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল; সেটি পূরণ করতে পেরেছি এবং দেশের ৫০ বছরে এমন একটা শিরোপা জাতিকে দিতে পেরেছি।’
আসলেই তাইÑ ২০২১ সালে দেশের ফুটবলে বড় প্রাপ্তি যোগ হয়েছে বছরের শেষ মুহূর্তে। দেশবাসীকে উপহার দিয়েছেন মারিয়া মান্ডারা সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ শিরোপা উপহার দিয়ে। সীমিত সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত মারিয়ারা দেশকে এমন উপহার দিলেও অনেক সুবিধা পেয়েও জামালরা ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দী।
নারীদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ে যারপরনাই প্রাণিত ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সপ্তা না পেরুতেই নারী ফুটবলারদের বিজয়ের আনন্দ করতালিতে উদযাপন করেছেন ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে। ২ জানুয়ারি ২০২২ ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদযাপন অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দিত করতে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সুযোগ পেয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ফুটবলবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুল করেননি। বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবল দল, আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনার জন্য সারাদেশে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও আপনার কল্যাণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, দেশের হয়ে খেলতে পেরেছি এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপারে আমরা আপনার জন্য চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিয়ে আসছি।’
২০১৮ সালে ভুটানে প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় রূপ নেওয়া টুর্নামেন্টে সেই শিরোপা ধরে রেখেছেন মেয়েরা। শুধু এ দুটি সাফল্যই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার গ-ি ছাড়িয়ে এর আগে দুবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার অভিজ্ঞতাও হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। একই মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি খেলতে হচ্ছে জাতীয় দলেও। ফলে মান্ডা-মনিকা চাকমারা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দারুণ কিছু করলেও জাতীয় দলের জার্সিতে পারছে না প্রতিপক্ষের সঙ্গে। এ ব্যাপারে কোচ গোলাম রব্বানী দারুণ যুক্তি দিয়ে বলছেন, আমাদের মেয়েদের বয়স কম। ফলে তাদের মেধা বিকশিত হয়নি। এ কারণে জাতীয় দলের জার্সিতে ওরা পেরে ওঠে না। তবে আশা করি, কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে। আমরা একটি শক্তিশালী জাতীয় দল পাব।
বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভারতকে হারালেও জাতীয় দল কখনও ভারতের বিপক্ষে জেতেনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শিলিগুড়িতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা ভারতের সঙ্গে ড্র করেছিল। ২০১৮ সালে ভারতের সামনে বাংলাদেশ উড়ে যায় ৭-১ গোলে। ২০১৯ সালে ৪-০ গোলে হার। বোদ্ধাদের ধারণাÑ দলের ভালো ফল পেতে হলে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের মেয়েদের বয়স কম, অভিজ্ঞতাও কম। তাই শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য