Saturday, July 13, 2024
বাড়িউত্তরণ-২০২৩ত্রয়োদশ বর্ষ, ষষ্ঠ সংখ্যা, মে-২০২৩বিএনপি-জামাত ও জঙ্গিদের বোমা হামলা

বিএনপি-জামাত ও জঙ্গিদের বোমা হামলা

উত্তরণ ডেস্ক: 

* ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য শেখ হাসিনার জনসভায় বোমা পেতে রাখা হয়। জনসভার প্যান্ডেল করার প্রস্তুতির সময় ২০ জুলাই সকালে শেখ লুৎফর রহমান কলেজের উত্তর পাশে সন্তোষ সাধুর দোকান ঘরের সামনে থেকে ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার করা হয়।
* ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শহরের ৪টি সিনেমা হলে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে ১১ জন ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও আটজনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন দু-শতাধিক সিনেমা দর্শক।
* ১ মার্চ ২০০৩ খুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় কর্তব্যরত পুলিশের ওপর বোমা হামলা হয়। নিহত একজন এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
* ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২৫ আগস্ট সকালে নিহত হন। আদালতে যাওয়ার সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ ও ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম ও অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক নিহত হন। আহত অন্য আইনজীবী বিজন বিহারী মণ্ডলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
* ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালালের মাজারে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। নিহত ৭, আহত ৭০।
* ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে দৈনিক সংবাদ ও ডেইলি নিউ এজ-এর সিনিয়র রিপোর্টার এবং বিবিসি’র খুলনা প্রতিনিধি বিশিষ্ট সাংবাদিক মানিক সাহা (৪৮)-কে বোমা মেরে হত্যা করা হয়।
* ২০০৪ সালে ২১ মে ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহজালালের (র.) মাজার প্রাঙ্গণে আবারও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। কলেজ ছাত্রসহ দুজন নিহত, বিস্ফোরণে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেনসহ শতাধিক লোক আহত হন।
* ২০০৪ সালের সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা সদরের দিরাই বাজারে ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে ২১ জুন বিকালে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। সুরঞ্জিত বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার এক মিনিটের মধ্যেই বিকাল পৌনে ৫টায় মঞ্চের নিচে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় মঞ্চ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম সর্দার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহেল আহমদসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।
* খুলনা নগরীর শান্তিধাম মোড়ের দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকা ভবনের সামনে খুলনা প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও জন্মভূমি পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বালু সন্ত্রাসীদের বোমা নিক্ষেপে ২০০৪ সালের ২৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় নিহত হন।
* ২০০৪ সালের ১৮ জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজম এমপির ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছয়জন আহত হন।
* ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে ব্যাপক গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালানো হয়। উপর্যুপরি হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীসহ ২৪ জন নিহত এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতা, সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
* ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে দলের জনসভায় এক ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া এমপি নিহত হন। বর্বরোচিত এ হামলায় প্রাণ হারান তার আপন ভাইয়ের ছেলেসহ আরও ৪ জন। আহত হন দেড় শতাধিক নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
* ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন একজন সাংবাদিক। আহত হন তিনজন।
* ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোবাসা দিবসের অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। আহত হন আটজন।
* ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গিরা সারাদেশের ৬৩টি জেলায় একসঙ্গে ৫০০ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল তারা কত শক্তিশালী।
* ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং চট্টগ্রামের কোর্টে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন তিনজন, লক্ষ্মীপুর কোর্টের একজন বিচারকসহ আহত হন ৩৮ জন।
* ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারকদের বহনকারী গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ (৩৮) এবং বিচারক জগনড়বাথ পাঁড়ে (৩৫) নিহত এবং তিনজন আহত হন।
* ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর সদরে সকাল পৌনে ১০টায় বোমা হামলা হয়। বিস্ফোরণে সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন।
* শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলাভাই-এর হাতে নিহত হনÑ খেজুর আলী, আবদুল কাইয়ুম ওরফে বাদশা মিয়া, ইয়াসিন আলী, গোলাম রব্বানী, জিয়াউল হক জিয়া, মাহবুবুর রহমান, আজহার মেম্বার, দিপঙ্কর।
* ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত আমলে ৫৪টি জঙ্গি সংগঠনের উত্থান হয়েছিল।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য