Saturday, July 13, 2024

বিএনপির সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও সহিংসতা

২০২৩-এর জুলাই মাসের কয়েকটি কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের নানা স্থানে সহিংসতা করে। গত ১৮ ও ১৯ জুলাই দুদিনব্যাপী বিএনপির পদযাত্রায় ঢাকা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, রাজবাড়ী, খাগড়াছড়ি, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, পিরোজপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামসহ ১১ জেলায় সহিংসতা করে বিএনপি। এতে ৪৫ জন সাধারণ মানুষসহ প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী আহত হন বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায়।
পাশাপাশি, এই দুদিনে ৫৭ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন।
* ৪০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ৪ জন সাংবাদিক আহত হন।
* সারাদেশে ২০টি গাড়ি-বাস-পিকআপভ্যান ভাঙচুর, ১৮টি মোটর সাইকেল ও একটি বাইসাইকেল, দুটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আবাসিক ভবনে ভাঙচুর, ভেটেনারি হাসপাতালের মূল ফটকে ভাঙচুর করে।
* চট্টগ্রাম ১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভাঙচুর চালিয়েছিল।
* খাগড়াছড়িতে পৌর কার্যালয় ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এর কয়েকদিন পর আবার বিএনপির ২৮ জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেদিন বিকালে ঢাকায় সমাবেশে আসা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দলীয় পাঁচজন আহত হয়েছেন। একইদিন চট্টগ্রাম নগরে জামাত-শিবিরের হামলায় ইটের আঘাতে ডবলমুরিং থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মুকুল চাকমা ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মুসা আহত হন।
২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচির নামে বিভিন্ন স্থানে আগুন সন্ত্রাস ও সহিংসতা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* এদিন ৭টি বাসে আগুন, ২৪টি বাস ও গাড়ি ভাঙচুর, একটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর, দুটি সিএনজি ভাঙচুর, ৪৬ জন পুলিশ সদস্যকে আহত, ৮টি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও ১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* মাতুয়াইল, উত্তরা, ধোলাইখাল, শ্যামলী, গাবতলী এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘর্ষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* বিএনপির কর্মীদের হামলায় উত্তরায় যুবলীগের মুহিবুর রহমান নয়ন আহত হন।

১৯ আগস্ট সারাদেশে পদযাত্রার নামে একই পুরনো কায়দায় ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* ১৯ আগস্টে বিএনপির লোকজন হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, নাটোর জেলায় সহিংসতা করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
* নারায়ণগঞ্জে ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর, নেত্রকোনায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৩টি অটোরিকশা ভাঙচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* বিএনপির কর্মীদের হামলায় হবিগঞ্জ সদর থানা ওসি অজয় চন্দ্র দেব আহতসহ আরও কমপক্ষে ২৫ নিরীহ মানুষ আহত হন।
* বরগুনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাযাত্রা ঘিরে হামলা, ভাঙচুর, সহিসংতার সার-সংক্ষেপ-
* একজন পুলিশ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম পারভেজ নিহত।
* রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আগুন। দুটি পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন। এতে মোট ২৬টি গাড়ি পুড়িয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
* ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৫টি পুলিশ বক্সে আগুন।
* প্রধান বিচারপতির বাসভবনের ফটকে হামলা ও ভাঙচুর। পাশর্^বর্তী অন্যান্য বিচারপতির অ্যাপার্টমেন্টেও (জাজেস কমপ্লেক্স) হামলা চালিয়েছে, যার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
* ৫০ পুলিশ সদস্য আহত। ২৫ আনসার সদস্য আহত।
* ২১ জন সাংবাদিক আহত। দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর। এক সাংবাদিকের মোটরবাইক ভাঙচুর।
* মোট ৭৬টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০টি মোটর সাইকেলে আগুন ও ভাঙচুর। একটি পিকআপে আগুন।
* ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় আহত হন খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফুল ইসলাম এবং একই স্টেশনের ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম।
* বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনের ভেতর দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিএনপি-কর্মীরা।
* আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫ জন আহত। ২০ জন সাধারণ মানুষ আহত।
* আওয়ামী লীগের ৬ নারীকর্মীকে হেনস্থা করে বিএনপির কর্মীরা।
* নরসিংদীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
* ঢাকার ধামরাইতে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করে।
* মানিকগঞ্জে হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। ককটেল হামলা করে বিএনপির লোকজন।
* ২৮ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ২৭টিসহ সারাদেশে ৪৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপি-জামাতের ডাকা হরতাল ঘিরে সহিসংতার সার-সংক্ষেপ-
* বিএনপির নেতাকর্মীরা হরতালে ১৪টি জেলায় সহিংসতা করে। সেগুলো হলো- ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ফরিদপুর, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, লালমনিরহাট, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর।
* নিহত ৩ জন। বাস হেলপার নাইম, সাংবাদিক রফিক ভুইয়া ও শ্রমিক লীগনেতা জাহাঙ্গীর হোসেন নিহত হন।
* আওয়ামী লীগের আহত ২৫ জন। বগুড়া জেলার দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল আহত।
* ২৫ জন নিরীহ মানুষ আহত। ৩ জন সাংবাদিক আহত।
* সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয় বিএনপির কর্মীরা।
* ৩৪ জন পুলিশ সদস্য আহত। গাজীপুরে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর। পুলিশের ৩টি বাইক ভাঙচুর।
* ৩০টি বাস-যানবাহন ভাংচুর। ১২টি অটোরিকশা ও ৮টি মোটর বাইক ভাঙচুর। ৫টি সিএনজি ভাঙচুর।
* দুই ইউএনও-র সরকারি গাড়ি ভাঙচুর। (কিশোরগঞ্জে সকালে শহরের শোলাকিয়া এলাকায় ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বগুড়ায় বাঘাপাড়া খোলারঘর এলাকায় পিকেটাররা ইটপাটকেলের আঘাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভীনের গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়।)
* ৫৫টি ককেটল বিস্ফোরণ।

২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর অবরোধের প্রথম দিনে সারাদেশে সহিসংতার সার-সংক্ষেপ-
* ১১ জেলায় সহিংসতা হয় (ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, রাজশাহী)।
* ৭২টি যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয় (৩২টি বাসে-ট্রাকে আগুন ও ৩৭টি যানবাহন-বাস-ট্রাক-বাইক ভাঙচুর, পুলিশের একটা গাড়ি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়)।
* ২৫/২৬টি বোমা/ককটেলের বিস্ফোরণ।
* টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মসজিদের মাইক থেকে পুলিশকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা।
* মোট আহত ৯৮ জন (সাধারণ মানুষ আহত ৬ জন, পুলিশ সদস্য আহত ২৫ জন, আওয়ামী লীগ আহত ১২ জন, বিএনপি আহত ৫৫ জন)।
* তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।

গ্রন্থনা : আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য