Saturday, July 13, 2024

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে

বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের ওপর যে অত্যাচার করেছিল, বর্তমান সরকার সে পথে যায়নি। আওয়ামী লীগের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে, তার এক ভাগ করলেও বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

উত্তরণ প্রতিবেদন: যে অবৈধ শক্তি জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিলÑ তাদের কোনো প্রেতাত্মা যেন আবার বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে না পারে, আবার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থেকে দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিতবে না জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। শুধু দেশের ভেতরে না, বাইরে গিয়ে নালিশ করা, কান্নাকাটি করা বিএনপির চরিত্র। তারা মনে করে বিদেশ থেকে এসে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলার জনগণ এখন অনেক সজাগ, অনেক সচেতন। বিদেশিদের কাছে কাঁদলে তারা ক্ষমতায় বসাবে না।
গত ২৭ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা তো বিএনপির ওপর অত্যাচার করিই নাই। বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের ওপর যে অত্যাচার করেছিল, বর্তমান সরকার সে পথে যায়নি। আওয়ামী লীগের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে, তার এক ভাগ করলেও বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। দুর্নীতি মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, অর্থ পাচার, একদিনে ৫০০ স্থানে বোমা হামলাকারী, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (তারেক রহমান) যদি কোনো দলের নেতা হয়, সেই দলের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রাখে কীভাবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, অনেক আন্তর্জাতিক শক্তি আছে, দেশের এই ধারাবাহিক গণতন্ত্র তাদের পছন্দ না। আর আমাদের কিছু আতেল আছে, তাদের তো (ধারাবাহিক গণতন্ত্র) পছন্দই না। তারা মনে করে, একটা অস্বাভাবিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে তাদের কদর বাড়ে। কারণ যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে, তাদের কিছু লোক, হাতের লাঠি লাগে বা খুঁটি লাগে। সেই লাঠি হতে পারছে না বলেই তাদের মনে খুব দুঃখ।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর শাহজাহান খান এমপি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম, পারভীন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি ও হুমায়ুন আহমেদ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।
স্বাধীনতার ৫৩ বছরের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ২১ বছর এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আট বছর; সব মিলিয়ে এই ২৯ বছরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘কালো অধ্যায়’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেই কালো মেঘ কেটে দেশের মানুষের জন্য আমরা একটা নতুন সূর্যের আলো নিয়ে এসেছি।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ, সেই পথেই এগিয়ে যাবে। এ-সময় দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যে আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েই যেন তারা এগিয়ে চলে। কারও মিথ্যা কথায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যে অবৈধ শক্তি ’৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের কোনো প্রেতাত্মা যেন আবার দেশের মানুষের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে না পারে। আবার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে তার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও দেশের জনগণকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থেকে দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আবার সরকারে এসেছি। ধারাবাহিক গণতন্ত্র রয়েছে, ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে বলেই আজ বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। সারাবিশ্ব বলতে বাধ্য হয়, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এখান থেকে আর পিছে হাঁটবে না। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের প্রতি সম্মান দেখাতে বাধ্য হলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন না দেখা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীর কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বর্ণনা করতে বাধ্য হয়েছে। তার সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অব্যাহত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
এ-সময় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি বিদেশিদের কাছে নালিশ করে, তাদের ওপরে না-কি খুব অত্যাচার করা হচ্ছে। অত্যাচার তো আমরা করি নাই। অত্যাচার করেছে বিএনপি-জামাত জোট। এর শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসার, সৈনিক থেকে শুরু করে প্রায় ৫ হাজার সামরিক অফিসার-সৈনিকসহ মানুষকে নির্বিচারে ফাঁসি দিয়েছে, গুলি করে হত্যা করেছে। পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের লাশ পর্যন্ত পায়নি। সব লাশ গুম হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জিয়ার আমলে ছিল সাদা মাইক্রোবাস, সেটিতে যে উঠেছে সে আর কোনোদিন মায়ের কোলে ফিরে আসেনি। এইভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তাদের অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এভাবে অগণিত মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে, কত নাম বলব? আমরা তো তাদের (বিএনপি) মিছিল-মিটিং করতে দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে তো কোনোদিন তারা মাঠেই নামতে দেয়নি। হাত কেটেছে, পা কেটেছে, চোখ তুলে নিয়েছে। পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
বাড়িঘর দখল করে সেখানে রাতারাতি পুকুর কেটেছে। সারা বাংলাদেশে তারা তাণ্ডব করে বেড়িয়েছে। এখন তারা আসে গণতন্ত্রের ছবক দিতে। তাদের ওপর না-কি অত্যাচার হয়! ওরা (বিএনপি) যা আমাদের সঙ্গে করেছে তার যদি এক ভাগও আমরা করি, তাহলে ওদের তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা তো সে পথে যাইনি, আমরা তো আর প্রতিশোধ নিতে যাইনি। ওরা যে অন্যায়গুলো করেছে আমরা মানুষের জন্য সেই ন্যায় বিচারগুলো করেছি, ন্যায়ের কাজ করে যাচ্ছি।
বিএনপির জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে প্রথমে লেবাস পরে ক্ষমতা দখল করা। রাজনীতিকে গালি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে আবার সেই লেবাস খুলে নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে গেছে। ক্ষমতা উচ্ছিষ্টভোগীদের নিয়ে দখল গঠন করার কালচার শুরু হয় বাংলাদেশে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অবৈধ দখলকারীদের হাতে তৈরি করা যে সংগঠন তারা না-কি এখন দেশে গণতন্ত্র চায়। যাদের জন্মই গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি। যাদের জন্ম মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে তারা আবার গণতন্ত্র চায়! আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র দেয়নি, তারা না-কি গণতন্ত্র দেবে! গণতন্ত্রের জন্য না-কি তারা লড়াই করে। ওদের জিজ্ঞেস করতে হয়, তাদের জন্মটা কোথায়? অবৈধ দখলদারি এটা তো আমাদের কথা না। আমাদের উচ্চ আদালত বলে দিয়েছে যে, জিয়া-এরশাদ সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপর তারাও না-কি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে!
’৭৫ সালের পর মানবাধিকার কোথায় ছিল প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি দিয়ে পার্লামেন্টে বসিয়েছে। জিয়াউর রহমান তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এরশাদ তাদের দল গঠন করার সুযোগ দিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে দিয়েছে খুনি কর্নেল ফারুককে। দুই খুনি রশিদ ও হুদাকে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি করে তাদের সংসদে এনে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছে। তাদের বিচার করা যাবে না? আজ তারাও মানবাধিকারের কথা বলে! আমরা যারা ১৫ আগস্টে আপনজন হারিয়েছি, আমাদের কি মানবাধিকারের কোনো সুযোগ নাই? আমি বিচার চাইতে পারিনি বাবা-মা হত্যার। তারা আজ এত কথা বলে কোথা থেকে?

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য