Friday, February 23, 2024
বাড়িক্রীড়াবঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল

বালক বিভাগে বরিশাল চ্যাম্পিয়ন বালিকা বিভাগে খুলনা

অনিন্দ্য আরিফ: স্বাধীনতার মাসের সূচনাদিনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব-১৭) এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালিকা (অনূর্ধ্ব-১৭) বিভাগের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বালক ও বালিকা বিভাগের খেলা শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বালক বিভাগে বরিশাল ও বালিকা বিভাগে খুলনা।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা বিভাগ। বিকেলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা টাইব্রেকারে ৪-৩ (২-২) গোলে হারায় ঢাকা বিভাগকে।
বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল বিভাগ। ফাইনালে তারা ২-১ গোলে হারায় চট্টগ্রামকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলে ছেলেদের ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ওই সময়ে গোল করে বরিশালের ছেলেরা জিতে নেয় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশু-কিশোররা অত্যন্ত মেধাবী এবং আমরা এই মেধা বিকাশের সুযোগই করে দিতে চাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোর এবং তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিলে তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে এবং মনও যথেষ্ট উদার হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো- দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ দলকে ট্রফি এবং প্রাইজমানিসহ খেলোয়াড়দের হাতে ব্যক্তিগত পুরস্কারও তুলে দেন।
এই আসরকে সামনে রেখে নতুন সাজে সেজেছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। গ্যালারির সামনে টাঙানো নানা রঙের কাপড়। মাঠের চারপাশে পতপত করে উড়েছে বর্ণিল পতাকা। ভিআইপি গ্যালারির ঠিক উল্টো পাশে বিশাল আকারের একটা বিলবোর্ড, যেখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাস্যোজ্জ্বল ছবি। মাঠের চারপাশেই ছিল শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছবি।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে উপজেলা পর্যায়ে ৪ হাজার ৮২৮টি, জেলা পর্যায়ে ৫৮১টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৬৮টি ও জাতীয় পর্যায়ে ৮টি দলে ৯৮ হাজার ৭৩০ জন ফুটবলার অংশ নিয়েছে। ২০১৮ সালের বাছাইকৃত ৪০ প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বিকেএসপি’তে তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখান থেকে ৪ খেলোয়াড়কে ব্রাজিলের গামা ক্লাবে এক মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া এই ৪০ জনের মধ্যে বাকি ২২ জন বিভিন্ন জাতীয় বয়সভিত্তিক দল, সাইফ পাওয়ার ফুটবল একাডেমি, আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, পিডবিøউডি (প্রথম বিভাগ), যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র (প্রথম বিভাগ) এবং শেখ জামাল অনূর্ধ্ব-১৮ দল, বসুন্ধরা অনূর্ধ্ব-১৮ দল, রহমতগঞ্জ অনূর্ধ্ব-১৮ দল, শেখ রাসেল অনূর্ধ্ব-১৮ দল, ব্রাদার্স অনূর্ধ্ব-১৮ দল, মোহামেডান অনূর্ধ্ব-১৮ দল, সিলেট বিকেএসপি, দিলকুশা (দ্বিতীয় বিভাগ) এবং উত্তরা আজমপুর (দ্বিতীয় বিভাগ) ক্লাবে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। গতবারের মতো এবারও উঠে আসা প্রতিভাবান ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পাশাপাশি ইউরোপের কোনো দেশে পাঠাতে চায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধকবিতা
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য