Sunday, July 3, 2022
বাড়িআইন-আদালতবঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

উত্তরণ প্রতিবেদন: অবশেষে প্রায় ৪৫ বছর পর গ্রেফতার হওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি বরখাস্তকৃত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর করার পরও ৫ মিনিট খুনি মাজেদের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জাতি আরেক দফা কলঙ্কমুক্ত হলো। রাত সোয়া ১টায় মাজেদের পরিবারের চার সদস্যের কাছে লাশ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার স্থাপিত হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হলো। ফাঁসি কার্যকর করে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে তিন জল্লাদ। অপর দুজন হচ্ছে মনির ও সিরাজ। এর আগে ২০১০ সালে পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয় পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন মাজেদ ছিল অন্যতম। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনেই অংশ নেয়নি, ইতিহাসের জঘন্যতম জেলহত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে শেখ রাসেলকেও সরাসরি হত্যায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আছে। খুনের পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক আবদুল মাজেদ বঙ্গভবনে এবং অন্যান্য জায়গায় কাজ করে। কড়া নিরাপত্তায় তাকে রাখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। ফাঁসি কার্যকর করার আগে গত ১০ এপ্রিল মাজেদের স্ত্রীসহ পাঁচজন কারাগারে তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন।
যেভাবে প্রস্তুত করা হয় ফাঁসির মঞ্চ : সকাল থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে নতুন ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করার হয় খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা জন্য। প্রধান জল্লাদ ছিলেন শাহজাহান এবং তার সহকারী জল্লাদ ছিল মনির ও সিরাজ।
রাত ১০টার পর জল্লাদরা ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে মহড়া দেয়। এরপর জল্লাদরা আবার চলে যায়। আরাম আয়েস করে। আধ ঘণ্টা পর আবার ফাঁসির মঞ্চে আসে জল্লাদরা। মঞ্চের কপিকল চেক করা হয়। লিভার লাগানো হয়। মঞ্চের চারদিকে সারিসারি চেয়ার রাখা হয়।
যেভাবে ফাঁসি কার্যকর হলো : বিকেল থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কেরানীগঞ্জে থাকা জেলখানার একাধিক ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছিল। যদি কোনো কারণে একটি মঞ্চ বিকল হয়, এজন্য একাধিক মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যারা : ফাঁসির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মোহাম্মদ মঈনুল আহসান, কারা চিকিৎসক, কারা মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপ-মহাপরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হয়েছে।
খুনির কাছে ফাঁসিতে ঝুলানোর সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হয় : রাত সাড়ে ৮টার পর খুনির সেলে ভালো খাবার পাঠানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে রাতেই ঊর্র্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা খুনির সেলে প্রবেশ করেন। তারা খুনিকে রাতেই তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে জানান। খুনির শেষ ইচ্ছার কথার জানতে চান কারা কর্মকর্তারা। এরপর খুনিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। এরপর খুনিকে তওবা পড়ানোর জন্য সেলে প্রবেশ করেন কারাগারের পেশ ইমাম। খুনিকে তওবা পড়ানো হয়।
খুনির শেষ কথা : বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ চিৎকার করে জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। বলেছিল, আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে জেল থেকে ছেড়ে দেন। আমাকে আপনারা মাফ করে দেন। আমি দূরে কোথাও চলে যাব। আর কোনোদিন এদেশে আসব না। তাতে কেউ কর্ণপাত করেননি। ঠিক এ-সময় যমদূত দুই জল্লাদ বলেছিল, রাসেলও এভাবে চিৎকার করেছিল। তখন কই ছিল তোর দয়ামায়া। আজ কেঁদে লাভ নেই! কনডেম সেলে মাথায় কালো যমটুপি ও দু-হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় জোর করে। এরপর কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত এক প্রকার টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেল থেকে যমটুপি ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে খুনিকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে : খুনি দোয়া দরুদ পড়ছিল। এ সময় একটি কালো যমটুপি হাতে নিয়ে প্রবেশ করে জল্লাদরা। জল্লাদ দেখেই চমকে ওঠে খুনি। প্রাণে বাঁচতে সেলের ভেতরে দৌড় দেয়। চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। পরে ঝাপড়ে ধরে জল্লাদরা। জল্লাদরা জোর করে কালো যমটুপি পরিয়ে দেয়। জোরে জোরে কাঁদতে থাকে। যমটুপি পরানোর সঙ্গে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এক প্রকার টেনে নিয়ে জল্লাদরা রওনা হয় ফাঁসির মঞ্চের দিকে।
যেভাবে কার্যকর হয় ফাঁসি : ফাঁসির মঞ্চে ঝুলানো হয় ক্যাপ্টেন মাজেদকে। এ সময় বাম হাতে ঘড়ি ও ডান হাতে বিশেষ সেই লাল রুমাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মাহবুবুর রহমান। দ-িত খুনির গলায় ফাঁসির রশি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সবকিছু ভালোভাবে চেক করে নেওয়া হয়। তারপর জল্লাদের বিশেষ সিগন্যাল পড়ে। সব ঠিক। তারপর আসে সেই বিশেষ মুহূর্ত। জল্লাদের দৃষ্টি থাকে সেই বিশেষ রুমালের দিকে। রুমাল হাত থেকে ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জল্লাদ লিভারে টান দেয়। গলায় কপিকল গিয়ে আটকে যায়। মৃত্যু কার্যকর হওয়ায় ফাঁক হয়ে যায় উপরের কাঠের পাটাতন। এরপর ১০ ফুট গভীর চৌবাচ্চায় পড়ে যায় লাশ। সেখান থেকে মৃতদেহ তোলা হয়। এরপর তার ঘাড়ের, দু-হাত ও দু-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
সেই লাল রুমাল ও যমটুপি : যে রুমাল যমটুপি দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়, সেসব সংরক্ষণ করা হয়। এসব রুমাল ও যমটুপি আজীবন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সংরক্ষিত থাকবে।
যেভাবে গ্রেফতার : গত ৬ এপ্রিল গভীর রাতে ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগমের ঢাকার মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ১০/এ নম্বরের বাড়ি থেকে ক্যাপ্টেন মাজেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। গ্রেফতারের পর তাকে আনা হয় ঢাকার মিন্টু রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শ্রেষ্ঠ উপহার : খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদকে গ্রেফতার করা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শ্রেষ্ঠ উপহার বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। দীর্ঘদিন ধরেই দ-প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ-াদেশ কার্যকর করার অপেক্ষা করা হচ্ছিল। তাদেরই একজন আবদুল মাজেদ শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে।
দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া : ক্যাপ্টেন মাজেদকে গত ৭ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পরপরই তার দ- কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে মোতাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল ক্যাপ্টেন মাজেদ। রাষ্ট্রপতি আবেদন নাকচ করেন। এরপরই শুরু হয় রায় কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া।
বঙ্গবন্ধু হত্যায় মাজেদের ভূমিকা : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সময় আবদুল মাজেদ, নূর চৌধুরী ও রিসালদার মুসলেহউদ্দিন সেখানেই অবস্থান করছিল। আরও কয়েকজন ছিল। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনে অংশগ্রহণ করেনি, জেলহত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। সে শেখ রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যায় অংশ নিয়েছিল।
এখনও পলাতক যেসব খুনি : বিদেশে পলাতক রয়েছে খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন খান ও এম রাশেদ চৌধুরী। তাদের বিষয়ে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস জারি করে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নবায়ন করা হচ্ছে। পলাতক পাঁচ আসামির মধ্যে খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে, এএম রাশেদ চৌধুরী কানাডায়, শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তানে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। এছাড়া পলাতক অন্যরা কোথায় পলাতক আছে তা জানা যায়নি।
বঙ্গবন্ধুর খুনি পলাতক মাজেদ গ্রেফতার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনির একজন আবদুল মাজেদ।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে খুনি মাজেদকে তোলা হলে গত ৭ এপ্রিল বিচারক এএম জুলফিকার হায়াৎ এই দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আদেশের পরপরই দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ-সময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

কে এই মাজেদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলার পলাতক ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ একজন। তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে। সূত্র জানায়, আবদুল মাজেদের পরিবার বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে। তার স্ত্রী পেশায় চিকিৎসক। আবদুল মাজেদ চার কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জনক।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকা-ের সময় মাজেদ অন্য খুনিদের (আসামি) সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকা- শেষে তিনি অন্য সেনাসদস্যদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত ক্যু করা অফিসারদের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হত্যাকা-ে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় চলে যান। তিনি সেখানে তিন মাস অবস্থান করেন। সে-সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্যাপ্টেন মাজেদকে পুরস্কার হিসেবে সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন। পরে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে উপ-সচিব পদে চাকরি দেন। পরে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ডাইরেক্টর পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অব হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন।
ফিরে দেখা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও দুই আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এএফএম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে এই আদেশের ওপর বিভক্ত রায় প্রদান করেন। বিচারপতি এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রদান করেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ১২ আসামির মৃত্যুদ- বহাল থাকে।
পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে বিচারকাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিমকোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে পাঁচ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য