Friday, February 23, 2024
বাড়িক্রীড়াফিফার চোখে ফুটবলে নতুন বাংলাদেশ

ফিফার চোখে ফুটবলে নতুন বাংলাদেশ

আরিফ সোহেল: মাত্র ১৫ ঘণ্টার ঝটিকা শুভেচ্ছা সফর। তাতে ফুটবলে এই ঋদ্ধ ব্যক্তি বুঝে গেছেন- এ যেন এক নতুন ফুটবলের দেশ। যে দেশের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ফুটবলের ফ্যান। ফুটবলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আর সাধারণ মানুষ তো ফুটবল প্রেমে পাগলপরা। জহুরির চোখে এমন বাংলাদেশ দেখে অভিভূত ফিফা সভাপতি। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমি ফিরে যাচ্ছি অনেক অনুপ্রাণিত হয়ে। বিশ্ব ফুটবল গভর্নিং বডির একজন হয়ে আমি শুধু বলতে পারি- এত উন্মাদনা দেখে যাওয়ার ফলাফল আপনারা অচিরেই দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ ফুটবলেই এগুবে।’ সংক্ষিপ্ততম সফরে ফিফা সভাপতি দেখা করেছেন ফুটবলবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে আমরা আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
গত ১৭ অক্টোবর ভোর ৫টায় ঢাকায় পা রেখেই দিনের প্রথম প্রহরেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) কথা হয়েছে প্রায় এক ঘণ্টা। আলোচনার ফাঁক গলিয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা নামাঙ্কিত নীল রঙের একটি ১০ নম্বর জার্সি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নামাঙ্কিত লাল-সবুজের জার্সি ফিফা সভাপতিকে উপহার দেন। দ্বিপক্ষীয় আলাপেও জিয়ান্নি বুঝে গেছেন ফুটবলের উন্নয়নে ভীষণ আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী। আলোচনাকালে ফিফা সভাপতি নিজেই টেনে এনেছেন ১৫ অক্টোবর কলকাতার যুব ভারতী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের গল্প। জিততে জিততে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের গল্প। ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি সময় ফুটবল নিয়ে কথা হয়েছে, যা আমার ধারণাই বদলে দিয়েছে। ফুটবল নিয়ে এদেশের ১৭০ মিলিয়ন মানুষ গর্ব করতে পারে, কারণ তারা বিশ্ব ফুটবলে ধীরে ধীরে ভালো একটা পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। দুদিন আগে ভারতের সঙ্গে জিততে জিততে ড্র করেছে তারা। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, ফুটবলে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।’ বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের ফুটবলের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ফুটবল থেকে অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে, বিশেষ করে শৃঙ্খলার বিষয়টি।’ তিনি বাংলাদেশে ফুটবলের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। তিনি ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার জন্যও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) পরামর্শ দেন।
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটবলকে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় খেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন ফুটবলপ্রেমী তার দাদা এবং বাবার কথা। বলেছেন, ‘আমার ভাই শেখ কামাল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খেলাধুলার সংগঠন আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সারাদেশে ৪৯২টি মিনি স্টেডিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি দেশে নতুন খেলোয়াড় অন্বেষণে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা ছেলে এবং মেয়েদের জনপ্রিয় খেলা ফুটবলে অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছি।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি এবং সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে গিয়ে কথা বলেছেন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। বাফুফের কৃত্রিম মাঠে উপভোগ করেছেন বাচ্চাদের সঙ্গ। বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বেজায় প্রাণিত জিয়ান্নি বলেছেন, ‘সত্যি বললে আমি বাংলাদেশ নিয়ে এতটা ভাবিনি। এখানে আসার আগে ভেবেছিলাম আমি এমন একটি দেশে যাচ্ছি যেখানে ফুটবল নিয়ে মানুষের তেমন উন্মাদনা নেই। কারণ এখানে অন্য একটি খেলা বেশ জনপ্রিয়। আমি খেলাটির নাম বলতে চাই না। ভেবেছিলাম সেই খেলাটাই এদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু এখানে আসার পর আমার ভুল ভেঙে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এদেশের মানুষ কেবল ফুটবল খেলে না, ফুটবলের সঙ্গেই বসবাস করে।’ ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উন্নয়নে আমাদের পূর্ণাঙ্গ এক পরিকল্পনা আছে। দীর্ঘ আলোচনা করে যা বুঝেছিÑ এখানে কেবল পেশাদার ফুটবল নয়, বয়সভিত্তিক পর্যায়েও অনেক কাজ হচ্ছে। আমাদের একটা সাধারণ চিন্তা হচ্ছে ফুটবল চর্চা বাড়ানো। বেশি বেশি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। বেশি বেশি বিনিয়োগ করা। ফিফাও এখানে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায়। পাশাপাশি আমি বিশ্বাস করি, সরকারও ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়াবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, তিনি নিজেও ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চান। তিনিও চান আরও বিনিয়োগ করে বাচ্চাদের বেশি খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে। তাছাড়া এই অঞ্চলে নতুন নতুন আসর আয়োজন নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ বিশ্ব ফুটবল সম্পর্কে বলেছেন, ‘ফুটবল মানে বিশ্ব, ফুটবল হচ্ছে হৃদস্পন্দন। হয়তো এটা ঠিক, ক্রিকেটে কিছু সফলতা এসেছে এদেশে। যেখানে ২১১টি দেশ ফুটবল খেলে, সেখানে আমি ঠিক জানি না কটি দেশ ক্রিকেট খেলে। যখন অল্প কটি দেশের মধ্যে খেলা হবে তখন শীর্ষে চলে যাওয়াটা সহজ হয়। কিন্তু ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও থাকে অনেক। এদেশে হয়তো ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিকেট। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিতে হবে। ফুটবলের জনপ্রিয়তায় হয়তো খানিকটা ভাটা পড়েছিল আগে, তবে সেটি এখন আবার ফিরে আসছে। ২১১টি দলের মধ্যে মাত্র একটি দল কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আসলে ফুটবলের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। এই খেলার জনপ্রিয়তা কখনও কমে না। দেশের ফুটবলের মান নেমে গেলে চারদিকে কথা হয়, সমালোচনা হয়। এটি মোটেও খেলার জন্য নেতিবাচক নয়; বরং নতুন করে তৈরি হওয়ার তাগাদা।’ আপ্লুত ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ ত্যাগ করার প্রাক্কালে বলেছেন, ‘আমার একটি চোখ কাঁদবে, কারণ আমাকে চলে যেতে হচ্ছে। আরেকটা চোখ হাসবে, কারণ আমি অনেক সম্ভাবনা দেখে গেলাম এখানে। এসবই এখানে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
ফিফা সভাপতি হিসেবে এটি চতুর্থ বাংলাদেশ সফর। এর আগে ১৯৮০ সালে প্রথমবার এসেছিলেন জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ। ২০০৬ ও ২০১২ সালে দুবার এসেছিলেন সেপ ব্ল্যাটার। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফিফা সভাপতি হওয়ার ৪৪ মাস পর এই প্রথম জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশে এসেছেন। এশিয়া সফরের অংশ হিসেবেই তার ঢাকায় আসা। এসেছেন মঙ্গোলিয়া থেকে। সঙ্গী রয়েছেন ফিফার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (ফুটবল) ম্যাটিয়াস গ্রাফসস্ট্রম, চিফ অব কমিউনিকেশনস অনোফ্রি কস্তা, ডিরেক্টর অব মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন এশিয়া অ্যান্ড ওশেনিয়া এবং প্রেসিডেন্টস অফিস ম্যানেজার ফেদেরিকো রিভিগলিওন।

এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ীদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজের সংগ্রামী জীবনের গল্প শুনিয়ে ক্রীড়াবিদদের উজ্জীবিত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৫ অক্টোবর গণভবনে ২০১৬ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ীদের ফ্ল্যাটের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। এ-সময় তার মমতায় আপ্লুত ক্রীড়াবিদরা ফিরেছেন তৃপ্তি নিয়ে। দুপুরে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি দেন সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি থাকবে না। জোড়া স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা, শুটার শাকিল আহমেদ ও ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তর (পক্ষে বাবা হারুনুর রশীদের) হাতে ফ্ল্যাটের কাগজপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের নানা বাঁকে বাঁকে সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে, স্বর্ণবিজয়ীদের নিজের জীবনের, তার সন্তানদের জীবনের পরিশ্রমের গল্প বলেও ক্রীড়াবিদদের উজ্জীবিত করেছেন। ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জীবনে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। তোমরা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাও। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো কমতি থাকবে না।’
২০১৬ সালে গুয়াহাটি ও শিলংয়ের যৌথ আয়োজনের এসএ গেমসে নারীদের ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণ জয় করেন শীলা। ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে শাকিল ও ভারোত্তোলনে নারীদের ৬৩ কেজি ওজন বিভাগে মাবিয়া স্বর্ণ জয় করেন। গেমসের পর স্বর্ণজয়ীদের ফ্ল্যাট প্রদানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে স্বর্ণজয়ীদের বাসা ভাড়া প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখান থেকে এসে অ্যাথলিটদের ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা কঠিন। এ-কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী মিরপুর পুলিশ কনভেনশন হল সংলগ্ন এলাকায় ফ্ল্যাট প্রদানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তরের ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাহফুজা খাতুন শিলা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে আমাদের ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেবেন।’ সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরে তারা নিজ ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন। শিলা আরও বলেন, ‘আমাদের পরম সৌভাগ্য যে শেখ হাসিনার মতো ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমাদের প্রতি আপনার ভালোবাসায় নিজের অনুভূতি বোঝাতে পারব না। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।’ এ-সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি উপস্থিত ছিলেন।

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট
চট্টগ্রাম আবাহনী আয়োজিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের এটা তৃতীয় আসর। আট দলের দুটি ছিল বাংলাদেশের।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ও কৃতী ক্রীড়াসংগঠক শহিদ শেখ কামালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য এই আসরের যাত্রা শুরু হয়েছে। শেখ কামাল বাংলাদেশের ফুটবলে রীতিমতো বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। দূরদর্শিতা আর আধুনিকতার অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছিলেন উপমহাদেশ জুড়ে ফুটবল উন্মাদনা। সেই ১৯৭৩ সালে আবাহনীর জন্য বিদেশি কোচ বিল হার্টকে এনে ফুটবলপ্রেমিকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তখন ক্লাব তো দূরের কথা, এই উপমহাদেশে জাতীয় দলের কোনো বিদেশি কোচ ছিল না। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট, হকিসহ অন্যান্য খেলাধুলাতেও নতুন দিনের সূচনা করেছিলেন শহিদ শেখ কামাল। তার স্মৃতি বিনম্র শ্রদ্ধার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতেই এই আসরের সূচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বাহারি নৈপুণ্যের পর আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে মুখরিত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলের তৃতীয় আসরকে বর্ণিল করে তুলতে চট্টলা শহর সেজেছিল নববধূর সাজে।
‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে এবারের আসরের। এই দুই দলই সর্বশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন। ২০১৫ সালে প্রথম আসরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। ২০১৭ সালে দ্বিতীয় আসরে বাজিমাত করে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস। দুই চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনীর সূচনা ছিল উড়ন্ত। একেবারে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। ‘এ’ গ্রুপে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ভারতের মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব ও লাওসের ইয়ং এলিফেন্ট। প্রথমে ‘বি’ গ্রুপের দলগুলো ছিল বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস, ভারতের চেন্নাই এফসি, মালয়েশিয়ার তেরাঙ্গানো এফসি এবং ভারতের আরেক ক্লাব গকুলাম কেরালা। এই আসরকে ঘিলে অনেকদিন পর দর্শকদের মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভালো করার কারণেই আবারও ফুটবলমুখী হয়েছে ভক্তরা। সর্বসাধারণ বলছে, ভালো খেললে দর্শক ঠিকই মাঠে আসবে। ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ এবং ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-‘এ’ গ্রুপ রানার্সআপ। দুটি সেমিফাইনাল হবে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর। আর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল হবে ৩০ অক্টোবর। আসরের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ হাজার ইউএস ডলার ও রানার্সআপ দল পাবে ২৫ হাজার ডলার। আর আসরের অংশগ্রহণ মানি ১০ হাজার ইউএস ডলার।
সত্যিই ফুটবলে সুদিন ফিরতে চলেছে বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বলজ্বলে নৈপুণ্য সেই স্বাক্ষর বহন করছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্সের পর এবার চট্টগ্রামও মাতিয়েছে বাংলার তরুণরা। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অনুমোদনক্রমে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ও কৃতী ক্রীড়াসংগঠক শহিদ শেখ কামালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক আসর। দুই বছর পরপর হওয়া এই আসরের এবার তৃতীয় পর্ব। আগের দুই আসরের চেয়ে এবারের আসরটি ছিল আরও জমকালো।
চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়ক চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ‘শেখ কামাল বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল এনেছিলেন। তার নামে ২০১৫ সালে প্রথম টুর্নামেন্ট করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রথম আসরটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ক্লাব পর্যায়ে বাংলাদেশে এত বড় টুর্নামেন্ট আর কখনও হয়নি। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত পা রাখে। ফিফা এএফসি টায়ার ট্যু’র মর্যাদা পেয়েছে। আগামীতেও এই আয়োজনে থাকবে নতুন নতুন চমক।’

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য