Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderপরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আরিফ সোহেল : তখন অমর একুশে বইমেলার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বিকাল ৪টা ৪০ মিনিট বাজতেই- ফিতা কেটে বইমেলায় মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন বইবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ঘুরে ঘুরে দেখেন বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন ও স্টল। ঘুরে দেখেন একাডেমি প্রাঙ্গণে ভাষাশহিদদের ম্যুরাল ঘিরে প্রদর্শিত বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলনের ছবিগুলো। একাডেমি প্রাঙ্গণের কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখার সময় এসেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’ স্টলেও। সেখানে তিনি কাটিয়েছেন প্রায় পৌনে ৩ মিনিট।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টলে প্রদর্শিত ‘উত্তরণ’-এর বিভিন্ন সংখ্যা হাতে তুলে দেখেন। তাকে সর্বশেষ জানুয়ারি সংখ্যা তুলে দেওয়া হলে; তিনি বলেন, ‘আমাকেই আমার ছবিওয়ালা সংখ্যা তুলে দিচ্ছ।’ তিনি একঝলকে ‘উত্তরণ’-এর অনন্যসেরা সংখ্যা ‘অন্য আলোকে জাতির জনক : স্মরণে সান্নিধ্যে স্মৃতিতে’ হাতে তুলে নেন। স্মিত হাসিমুখে একটু ঘেটে দেখেন। ‘উত্তরণ’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক জননেত্রী শেখ হাসিনা বিপুলভাবে প্রশংসিত সেই বর্ণিল সংখ্যাটি হাতে নিয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে ফটোসেশনে অংশ নিয়েছেন। এ সময়ে তার পাশে ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা প্রমুখ। স্টলে এ সময় ছিলেন ‘উত্তরণ’ সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আনিস আহামেদ, আরিফ সোহেল এবং সাইদ আহমেদ বাবু।
এর আগে- ভাষার মাসের প্রথম দিনেই ‘অমর একুশে বইমেলা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের অমর একুশে বইমেলার প্রতিপাদ্য ছিল ‘পড়ো বই, গড়ো দেশ : বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাঙালির প্রাণের এই বই মেলার ৪০তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শুধু কাগজে প্রকাশ করলে হবে না, ডিজিটালের প্রকাশক হতে হবে। ডিজিটাল প্রকাশক হলে এটা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও পৌঁছাতে পারব। মন-মানসিকতা পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তিটাও রপ্ত করতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে আমরা এগিয়ে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল যেটা এখন করতে পেরেছে, আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। কাজেই, স্মার্ট বাংলাদেশ হতে হবে সর্বক্ষেত্রে। আমাদের স্মার্ট জনগোষ্ঠী হবে, স্মার্ট গভর্মেন্ট হবে, স্মার্ট ইকোনোমি হবে এবং স্মার্ট সোসাইটি হবে। এই স্মার্ট সোসাইটি করতে গেলে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি- সবকিছুই আমাদের সেখানে নিয়ে যেতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলায় স্টল পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’-এর মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নানা গুণীজনের লেখায় সমৃদ্ধ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ২০০ পৃষ্ঠার এই বিশেষ সংখ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখাও রয়েছে। মুজিববর্ষ বিশেষ সংখ্যায় শেখ হাসিনার হৃদয়াবেগ আপ্লুত লেখা- ‘শেখ মুজির আমার পিতা’ মুদ্রিত হয়েছে। তার লেখা প্রবন্ধের স্পর্শকাতর উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি পুনরায় তুলে ধরা হলো- “সেদিন কামাল আব্বাকে ডাকার অনুমতি চেয়েছিল, আমি সঙ্গে সঙ্গে ওকে আব্বার কাছে নিয়ে যাই আব্বাকে ওর কথা বলি। আব্বা ওকে কোলে তুলে নিয়ে অনেক আদর করেন। আজ আর তারা কেউই বেঁচে নেই- আজ বারবার আমার মন আব্বাকে ডাকার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মায়ের স্নেহ, ভাইদের সান্নিধ্য পাবার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি, কিন্তু শত চিৎকার করলেও তো কাউকে আমি পাব না। কেউ তো আর সাড়া দিতে পারবে না। তাদের জীবন নৃশংসভাবে বুলেট দিয়ে চিরদিনের মতো যে ঘাতকেরা স্তব্ধ করে দিল, তাদের কি বিচার হবে না?”
‘উত্তরণ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন সম্পাদিত এই বিশেষ সংখ্যায় যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্য পেয়েছেন এমন সব বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতিমূলক বেশ কিছু লেখা ছাপা হয়েছে। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে উত্তরণ- প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যা কোনো গতানুগতিক স্মারক সংখ্যা ছিল না। এই বিশেষ সংখ্যার থিম ছিল- ‘বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ’। বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যসম জীবনের বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্যোগ, আন্দোলন, জাতীয় পুনর্গঠন, ইত্যাকার রাজনৈতিক মূল্যায়নধর্মী লেখা নয়, যারাই বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখেছেন, তার সঙ্গে যাদের কাজের সম্পর্ক ছিল, যারা তার আদেশ-নির্দেশ-পরামর্শ শুনেছেন এবং অত্যন্ত পারিবারিক পরিবেশেও তার সংস্পর্শে এসে ব্যক্তি মুজিবকে, তার খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত জীবনাচরণ, তার স্নেহ-মায়া-মমতা, বাৎসল্যের পরিচয় পেয়েছেন, তার উদারতা, তার সরলতা, দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ করেছেন, যারা তার পার্শ্বচর হিসেবে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা-সঞ্জাত স্মৃতিকথাই ছিল এই বিশেষ সংখ্যার মূল উপজীব্য। এই সংখ্যায় আরও লিখেছেন- শেখ রেহানা, সুফিয়া কামাল, শেখ আব্দুল আজিজ, ড. নুরুল ইসলাম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, রাশেদ খান মেনন, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এইচ টি ইমাম, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. মসিউর রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সন্জীদা খাতুন, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, শেখর দত্ত, সৈয়দ হাসান ইমাম, নূহ-উল-আলম লেনিনসহ ৫২ জন ঋদ্ধ ব্যক্তিত্ব।
একজন বহুমাত্রিক মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘উত্তরণ’-এর স্টলে এসে আমাদের উদ্দীপ্ত করেছেন। ‘উত্তরণ’-এর প্রধান পরামর্শকের সান্নিধ্যে আমরা আপ্লুত। তার হাস্যোজ্জ্বল সাবলীল সংক্ষিপ্ত আলাপন অপার বিস্ময়ে স্পর্শ সীমানা থেকে দেখেছি।
বইমেলায় এসেও সাধারণ মানুষের ভাষায় নির্দ্বিধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘বইমেলায় আসতে পেরে খুবই আনন্দিত। প্রাণের মেলার এই উচ্ছ্বাসে সেভাবে আগের মতো আর মিশতে পারি না। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ঘেরাটোপে এভাবে মেলায় আসার কোনো মজা নেই। কারণ, নিরাপত্তার বেড়াজালে স্বাধীনতাটা হারিয়ে গেছে। এখানে আসলে মনে পড়ে সেই ছোটবেলার কথা, স্কুল-জীবনের কথা, এমনকি ’৮১ সালে দেশে ফিরতে পারার পর থেকে আমি প্রতিবারই আসতাম। এই প্রাঙ্গণের সাথে আমি এত ওতপ্রোতভাবে জড়িত, অথচ যেখানে এখন আর সেই স্বাধীনতাটা নেই।’ ক্লান্তিহীন সদাহাস্যোজ্জ্বল চিরসবুজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের অগ্রগতি-উন্নয়ন-সাফল্য অর্জনের কঠিন পথ জয় করে ছুটছেন অবিরাম। স্বপ্ন এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার। হ

পূর্ববর্তী নিবন্ধওলান
পরবর্তী নিবন্ধভাষা আন্দোলনে নারী
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য