Friday, February 23, 2024
বাড়িনবম বর্ষ,দ্বাদশ সংখ্যা,নভেম্বর-২০১৯পঁচাত্তরের আরেক বিয়োগান্ত অধ্যায়

পঁচাত্তরের আরেক বিয়োগান্ত অধ্যায়

হারুন হাবীব: জাতীয় ইতিহাসে কলঙ্কের কিছুদিন আছে- যে দিনগুলো ঘিরে পেছনে ও সামনে তাকানোর দায় আছে আমাদের। ইতিহাসের প্রয়োজনেই কেবল নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনেই সেই দিনগুলোর দিকে তাকাতে হয়। এ-রকমই একটি দিন ৩ নভেম্বর। বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সৃষ্টির লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থাশীল থেকে যারা মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস সফল জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, সেই আত্মত্যাগী নেতৃত্বকে কাপুরুষিতভাবে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। বর্বরোচিত সেই হত্যাকাÐ ঘটানো হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে। কারাগারে বন্দি অবস্থায় কাউকে এভাবে হত্যা করার কাপুরুষতা একমাত্র বাংলাদেশেই দেখানো হয়েছে!
মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ নেতৃত্বদানকারী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এই চার নেতা যথাক্রমে- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং আবু হেনা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান- আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বরেণ্য নাম। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ঘৃণিত, বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের হাতে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রায় সপরিবারে এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মুক্তিযুদ্ধের মহতী অর্জন- স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুসহ চার জাতীয় নেতার হত্যাকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে। তারা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্ট সেকুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে; উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিতে সৃষ্ট বাংলাদেশ যেন পথচ্যুত হয়, মুখ থুবড়ে পড়ে। পঁচাত্তর-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সাক্ষ্য দেয়- বঙ্গবন্ধু ও তার চার ঘনিষ্ঠ সহচরকে হত্যার মাধ্যমে পঁচাত্তরের ঘাতকরা বাংলাদেশকে ইতিহাসের স্বাভাবিক যাত্রাপথ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু-নতুন রাষ্ট্রকে আবারও পাকিস্তানি ‘লিগেসির’ কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত সম্পন্ন করেছিল।
কী অপরাধ ছিল এই চার জাতীয় নেতার? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, তখন এই চারজনের যৌথ নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সফল পরিণতির দিকে অগ্রসর করেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী তারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে স্বাধীনতার শত্রুরা যখন পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হয়েছে, বিজয়ী শক্তি তখন পরাজিতদের অপতৎপরতার খোঁজ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই আঘাত আসে। আঘাত আসে প্রথমে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট। এরপর একই বছরের ৩ নভেম্বর।
কাজেই ইতিহাসকে নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। একটি সুবিশাল জনযুদ্ধ বয়ে গেছে সেদিনকার পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর দিয়ে। সেই যুদ্ধে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সম্পৃক্ত হলেও, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের অপতৎপরতা থেমে থাকেনি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে- মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি আত্মতুষ্টিতে ভুগলেও স্বাধীনতার শত্রুরা বসে থাকেনি। এই অপশক্তি তৎপর ছিল খোদ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই। অতএব, বাংলাদেশ সৃষ্টির পরদিন থেকেই তারা পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে। খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে যুদ্ধকালীন সময়েই এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভণ্ডুল করতে তৎপর হয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে ‘কনফেডারেশন’ করার সব চেষ্টা নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সামরিক বাহিনীর একটি অংশও মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সরকারের বদলে ‘ওয়ার কাউন্সিল’ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। এদের সাথে ছিল বাংলাদেশের জন্মবিরোধী আন্তর্জাতিক মহল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ- যারা পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙার বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু মুজিবনগর সরকারের এই জাতীয় চার নেতার দৃঢ়চিত্ত অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধের ঘনিষ্ট সহযোগী দেশ ভারতের পদক্ষেপে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে; তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথবাহিনীর কাছে পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হয়েছে, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার মাটিতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তান বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের পর কিছুদিন এই মহল সময় নিয়েছে; তারপর সুযোগ বুঝে আঘাত হেনেছে। প্রথম আঘাত হেনেছে তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক, জাতির পিতার ওপর। তারপর জাতির পিতার সুযোগ্য চার সহযোগীর ওপর।
১৫ আগস্টের ঘাতকরা খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতায় বসালেও তারা স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি মোশতাক ও ঘাতক সেনা অফিসাররা বেশির ভাগ সময় বঙ্গভবনের চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই ঘাতকরা তার ঘনিষ্ট চার জাতীয় নেতাকে বন্দি করে রাখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তাদের ওপর চালানো হয় নিপীড়ন। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন কিংবা যোগ দিতে বাধ্য হন। কিন্তু দৃঢ়চিত্ত এই চার জাতীয় নেতা সেই আমন্ত্রণ ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এরই মধ্যে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা চলে- ঘটে আরেকটি সেনা অভ্যুত্থান। ঠিক এ-সময়েই মোশতাক ও ঘাতক দল তাদের শেষ আঘাতটি হানে। ৩ নভেম্বর পঁচাত্তরের ঘাতকেরা চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের গতিপথকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও মূল্যবোধের বিপরীতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই হত্যাকাÐগুলো সম্পন্ন করার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ-বিরোধীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়; অন্তত কিছুকালের জন্য হলেও।
কেবল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নয়, পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর এই চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। নিরলসভাবে যুক্ত হয়েছিলেন তারা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্তার জাগরণে, জেল-জুলুম উপেক্ষা করে পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা সোচ্চার ভ‚মিকা রেখেছিলেন। অবিচল আত্মত্যাগ; দেশপ্রেমের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই চার নেতা তাই হয়ে উঠেছিলেন আদর্শবাদী দেশপ্রেমিকের প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ছিল তাদের আমৃত্যু। তাই কোনো দমন-পীড়ন বা ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করেন নি তারা। আর সে-কারণে জাতির পিতাকে হত্যার পরও ঘাতকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। তারা প্রথমে জাতীয় এই চার নেতাকে আটক করে, কারাগারে বন্দি করে এবং নির্মমভাবে হত্যা করে।
তবে ইত্যকার বেদনাপ্রবাহের পরও সাফল্যের কিছু মাইলফলক আছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। অনেক দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু-হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে, যা ছিল এক জাতীয় দায়বদ্ধতা। বঙ্গবন্ধুসহ এই জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথকে প্রায় তিন দশক ধরে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছিল। বিচার রুদ্ধ করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল! এমনকি বিশেষ ব্যবস্থায় ঘাতকদের বিদেশে অবস্থানের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছিল, বিদেশের মাটিতে ক‚টনৈতিক চাকরি দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। ১৯৭৫-এর ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ এই দুই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করে। বঙ্গবন্ধু-হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়। কয়েকজন ঘাতকের দণ্ড কার্যকর হয়। কয়েকজন খুনি পলাতক থাকায় সেই রায় পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জেলহত্যার মামলাটি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে মামলায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিচারকাজ শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অসহযোগিতায় বিচারকাজ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ পলাতক তিন আসামিকে মৃত্যুদÐ, জেলে অবস্থানরত ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদÐ ও জামিনে মুুক্তি দিয়ে রায় ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত জেলহত্যার মামলার রায় আসে, যা শুধু এই চার নেতার পরিবার নয়, মানতে পারেনি সচেতন দেশবাসী।
এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও কারাগারে আটক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে খালাস দিয়ে যে রায় ঘোষণা করেন, তা জাতিকে স্তম্ভিত করে, মর্মাহত করে। আত্মস্বীকৃত মূল আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়ে যাবে এটা কারও কাছেই প্রত্যাশিত নয়! সবচেয়ে বড় কথা, এই রায়ে এত বড় হত্যাকাণ্ডের চক্রান্তকারী রাজনৈতিক শক্তি সাজার আওতার বাইরে থেকে গেছে।
বিস্ময়করভাবে, তখনকার বিএনপি-জামাতের সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করেনি। ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯-এর সেপ্টেম্বর মাসে প্রত্যাশিত আপিল দায়ের করা হয়। দেশের শীর্ষ আদালত ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনজন সাবেক সেনা অফিসারকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য আটজনকে হত্যায় অংশ নেওয়ার অপরাধে যাবজ্জীবন
দিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু-হত্যা মামলায় শাস্তি লাভ করেছে, কেউ পালিয়ে আছে। যে ১১ জনকে চিহ্নিত করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯ জন পলাতক। দÐপ্রাপ্ত নূর চৌধুরী ও রাশেদ চৌধুরী পালিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও এই খুনিদের দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
জাতির পিতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চার প্রধান নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় বাস্তবায়ন হোক; পলাতক খুনিদের দÐ কার্যকর করার প্রচেষ্টা নেওয়া হোক। এটা হলেই কেবল রাজনৈতিক হত্যা ও খুনিদের রক্ষার অশুভ ধারা রুদ্ধ হবে, শোধ হবে জাতীয় বীরদের রক্তের ঋণ। এভাবেই আমরা জাতীয় ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করতে পারি।
বঙ্গবন্ধুর এই চার ঘনিষ্ট সহচর বেঁচে থাকবেন আমাদের বরেণ্য ইতিহাসের সম্পদ হয়ে। মৃত্যু মানুষের অবধারিত নিয়তি; কখনও তা স্বাভাবিক হয়, কখনও বা অস্বাভাবিক; কিন্তু কোনো মহৎ মানুষের জীবনই ব্যর্থ হয় না, হয় না তাদের মৃত্যুও।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য