Sunday, February 5, 2023
spot_img
বাড়িSliderনৌকা মার্কায় ভোট দিন

নৌকা মার্কায় ভোট দিন

যে দলের শীর্ষ দুই নেতাই সাজাপ্রাপ্ত, তারা কী দেশকে কিছু দিতে পারে? এরা শুধু মানুষের রক্ত চুষে খেতে জানে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ হয়- সেটি আমরা প্রমাণ করেছি।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আবারও দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু করলেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির রটানো গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির কাজই হলো সব সময় মিথ্যাচার আর গুজব রটানো। এদের গুজবে কান দেবেন না। এরা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, লুটপাট করে খেয়েছে। হত্যা-সন্ত্রাস-রক্ত আর দুর্নীতি ছাড়া বিএনপি দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি, বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-দুঃশাসন চালিয়ে দেশের মানুষের জীবন নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলেছে। যে দলের একজন (তারেক রহমান) মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। আরেকজন (খালেদা জিয়া) এতিমের টাকা মেরে খাওয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যে দলের শীর্ষ দুই নেতাই সাজাপ্রাপ্ত, তারা কী দেশকে কিছু দিতে পারে? এরা শুধু মানুষের রক্ত চুষে খেতে জানে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ হয়- সেটি আমরা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। এ-সময় জনসভায় উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ ‘হ্যাঁ’ বলে এবং দুই হাত তুলে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। গত ২৪ নভেম্বর যশোরে শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহত্তর যশোর, খুলনা ও সন্নিহিত এলাকার লাখো মানুষ এ জনসভায় যোগ দেয়। স্টেডিয়াম উপচে জনস্রোত যশোর শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। যশোরের সঙ্গে নিজের নাড়ির টানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা, মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ।
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ্। যে দেশে একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না, কোনো মানুষ ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না, সবার জন্য আমরা নিজস্ব ঠিকানা দেব।
’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে বঙ্গবন্ধু-কন্যা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, সব হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলাম দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর দেশকে মূল আদর্শ থেকেই বিচ্যুৎ করা হলো, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। শত শত সেনা অফিসারকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এই জিয়া-মুশতাক দুজন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বাবা-মা-ভাইদের হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকারটুকুও আমার ছিল না। তবে একটাই লক্ষ্য ছিল, যে জাতির জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, সেই জাতির মুখে হাসি ফোটানো।
’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এরা দেশকে দুর্ভিক্ষের জাতিতে পরিণত করেছিল। মানুষের পেটে খাদ্য ছিল না, পরনে জামা ছিল না। সেখান থেকে দেশকে উন্নত করে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছি। আজ সবার হাতে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট- এসবই আওয়ামী লীগ দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দেশকে কী দিয়েছে?
বিগত নির্বাচনে যশোরের সব আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকায় ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার সময়ে বিশ্বের অনেক দেশে যখন অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল, তখনও আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতে পেরেছি। রিজার্ভ নিয়ে কথা বলা হয়, ব্যাংকে না-কি টাকা নেই বলে গুজব রটানো হয়। আমাদের রিজার্ভ যথেষ্ট মজবুত আছে, প্রত্যেক ব্যাংকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে। অনেক রেমিট্যান্স আসছে, দেশে বিনিয়োগও বাড়ছে। সারাবিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, রিজার্ভ কোথাও যায়নি, মানুষের কল্যাণেই লেগেছে। ২০০ ডলারের গম আমাদের ৬০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। আমরা আমদানি করছি যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে। আর আমি বারবার দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, কারোর এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। পতিত জমিতে যার যা ইচ্ছে উৎপাদন করুন। যাতে আমাদের কারোর কাছে হাত পেতে বা চেয়ে আনতে না হয়। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায় তখন দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে সেই রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। তারা আবার রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে! তিনি বলেন, করোনার সময় ভ্যাকসিন কেনা, চাল-গম-সার আমদানি করতে হচ্ছে। দেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়, ভালো থাকে সেজন্য খরচ করতে হয়েছে। রিজার্ভের টাকা মানুষের কল্যাণের জন্যই ব্যয় হচ্ছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সারাদেশে যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সবকিছু পালটে গেছে। প্রত্যেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি। এই সেতু হওয়ার পর খুব দ্রুতই এ অঞ্চলের মানুষ যাতায়াত ও পণ্য সরবরাহ করতে পারছে। যশোর এয়ারপোর্টকে আরও আধুনিক করা হচ্ছে, যশোর থেকে কক্সবাজার বিমান চলাচলও শুরু হয়েছে। আমরা যশোরের অভয়নগরে ইপিজেড স্থাপন করে দিচ্ছি, সেখানে ৪০০-র মতো শিল্প স্থাপন হবে, বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলযোগাযোগ ব্যবস্থাও আমরা গড়ে তুলব।
যশোরে জনসভা করতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানকার মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর ছিল, তখন তিনি মারা যান। এখানে আমার নানার স্মরণে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হবে। যশোর স্টেডিয়াম সংস্কার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য যা যা দরকার আমাদের সরকার কাজ করবে। আমি আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা চাই। একইসঙ্গে আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আপনারা আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করবেন। যশোরের খেজুর গুড়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার ছন্দে : “নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই; আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।”
জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে এবার খেলা হবে। যশোর-খুলনার মানুষ প্রস্তুত হয়ে যান। গণতন্ত্র হত্যাকারী বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। এদের বিরুদ্ধে হবে খেলা। শেখ হাসিনা ছাড় দেবেন না। আগুন নিয়ে খেলা করতে দেবেন না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম এমপি, এসএম কামাল হোসেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও সামছুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য