Saturday, July 13, 2024

নৌকায় ভোট দিন

সামনে ইলেকশন। আগেভাগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সে-ব্যবস্থা যখন নেওয়া হচ্ছে বিএনপি দিচ্ছে অবরোধ, হরতাল আর পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। সামনে আসার সাহস নাই। অলিগলি থেকে বের হয়ে বাসের ভেতর, স্কুটারে, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিচ্ছে।

উত্তরণ প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য বিএনপি অবরোধ-হরতালের নামে আগুন-সন্ত্রাস শুরু করেছে। চালানো হচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। তবে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হবে না। জনগণ যদি সঙ্গে না থাকে, তবে আন্দোলন হয় না। আগুন-সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি বাসে আগুন দিতে যায় তাকে ধরে সেই আগুনে ফেলে দেবেন। সে বুঝুক আগুনের কত জ্বালা। তাহলে যদি ওদের শিক্ষা হয়, তাছাড়া ওদের শিক্ষা হবে না।’ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গত ১২ নভেম্বর নরসিংদীর মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামাত চক্র) সরকারকে ব্যর্থ করতে নেমেছে। তারা কীভাবে সরকারকে পতন করবে? গোপন হামলার মাধ্যমে? বিএনপির এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।’ তার সরকার সাক্ষরতার হার ৪৪ ভাগ থেকে ৭৬ দশমিক ৬ ভাগে উন্নীত করেছে এবং খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের ব্যক্তিগত শিক্ষাদীক্ষার ইতিবৃত্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা চায় না যে মানুষ শিক্ষিত হোক। ওরা চায় না আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখুক। তাই, আজকে এই নভেম্বর মাস, সামনে ইলেকশন। আগেভাগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সে-ব্যবস্থা যখন নেওয়া হচ্ছে বিএনপি দিচ্ছে অবরোধ, হরতাল আর পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। সামনে আসার সাহস নাই। অলিগলি থেকে বের হয়ে বাসের ভেতর, স্কুটারে, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিচ্ছে।’
পুলিশের ওপর হামলা ও পিটিয়ে পুলিশ হত্যা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা এবং পুলিশ, হাসপাতালে হামলা ও অগ্নিসংযোগকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসন এবং নিরীহ নারী ও শিশু হত্যার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের চামচাবাজরা তার নির্দেশে এসব হামলা করছে।’ তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আরে ব্যাটা, তোর যদি সাহস থাকে বাংলাদেশে ফিরে আয়, আমরা তোকে দেখি।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া, তারেক জিয়ার চ্যালাপ্যালারা অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে গর্ভবতী নারীকে আক্রমণ করে। তাহলে কি এরা ইসরাইলের জারজ সন্তান কি না, সেটাই আমার জিজ্ঞাসা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এত আন্দোলন করে, এত টাকা কোথা থেকে আসে। জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছে। দেশের টাকা লুটপাট করে নিয়ে বিদেশে বসে বিলাসী জীবনযাপন করছে তারেক রহমান। লন্ডনে বসে নেতাকর্মীদের আগুন-সন্ত্রাসের নির্দেশনা দিচ্ছে। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল, আর জামাত হলো যুদ্ধাপরাধী দল। তাদের কথা এদেশের মানুষ শোনে না।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘বিএনপি দেশের কোনো উন্নয়ন-অগ্রগতি করতে পারেনি। তারা ক্ষমতায় আসা মানে দুর্নীতি আর লুটপাট করা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি করে সারাদেশে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমার বাবার মতো বুকের রক্ত ঢেলে দিতে আমি প্রস্তুত আছি। আমি দেশের মানুষের সেবা করতে চাই।’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন খুব কাছাকাছি। আমি যাকেই নৌকা দিয়ে এলাকায় পাঠাব, সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে বিজয়ী করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পোশাক-শ্রমিকদের বেতন ছিল ৮ হাজার, এখন বেতন বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। তারপর আবার আপত্তি কেন?’
সমাবেশ শুরুর আগে নরসিংদীবাসীর জন্য উপহার উল্লেখ করে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম প্রমুখ। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম তালেব হোসেনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলী।

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা উদ্বোধন
পাঁচ বছরের কর্মযজ্ঞ শেষে গত ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরে ‘জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব’ এই কারখানার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর সার কারখানা স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ঋণ সহায়তা প্রদানের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাপান ও চীনের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ সিসি সেভেন চায়না কনসোর্টিয়াম বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’, আমাদের এই পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি ফসল হচ্ছে এই সার কারখানা।’ অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপির সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দীলিপ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য