Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderনির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ

সম্পাদকের কথা : নির্বাচন কমিশন আগামী নভেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে চলেছে। ইতোমধ্যে কমিশন জানিয়েছে আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন এই লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সংগত কারণেই দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
তবে এ-কথাও ঠিক, নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টাও অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের দ্ব্যর্থহীন অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার এ-কথা সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, জনগণ অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’Ñ এই সেøাগান আমরাই প্রথম উচ্চারণ করেছিলাম। আমরাই জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। যত অপচেষ্টা-ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, বাংলাদেশ কখনোই গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না।
পক্ষান্তরে বিএনপি বারবার সংবিধান লঙ্ঘনের হুমকি দিচ্ছে। তারাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেÑ বর্তমান সরকারের অধীনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এ-কথার অর্থ সুস্পষ্ট। বিএনপি সংবিধানের আওতায় কোনো নির্বাচনে যাবে না। তাহলে বিকল্পটা কী? ওরা যে বলছে, দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। ২০১১ সালের ১০ মে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বিবেচনায় বে-আইনি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারাটি সংবিধান থেকে বিলুপ্ত করে। বিএনপি-জামাত জোট এই সংবিধান সংশোধনী মেনে নিয়েই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
আর এখন সেই বিএনপি-ই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পুনরুত্থাপন করেছে। বিএনপির এই অভিসন্ধিকে মদত জোগাচ্ছে দেশি-বিদেশি নানা অপশক্তি। তারা চায়, বাংলাদেশকে তাদের স্বার্থরক্ষার নিশানবরদার হিসেবে ব্যবহার করা। আরও পরিষ্কার করে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক ও রণকৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে আজ্ঞাবহ দেশ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এ-কথা সবাই জানেন, ভারত মহাসাগরের উপরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই ভারত মহাসাগরকে মার্কিন একক কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে চীন যেমন চায় তাদের প্রভাব বলয় তৈরি করতে, তেমনি ভারতও তাদের জাতীয় স্বার্থে ভারত মহাসাগরে কোনো দেশেরই একক কর্তৃত্ব ও খবরদারি চায় না। এক্ষেত্রে আরেক পরাশক্তি রাশিয়াও মার্কিনী কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের কোনো কোনো দেশকে রণকৌশলগত তথা সামরিক জোটভুক্ত করতে চাইছে। আমেরিকা চায় বাংলাদেশ মার্কিনী জোটে যোগদান করুক।
কিন্তু বাংলাদেশ ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’Ñ নীতি অনুসরণ করছে। চীন ও ভারত বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক সহযোগী। তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। তাই সকলের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখাই বাংলাদেশের নীতি। কিন্তু এতেই যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা সহযোগীরা বাংলাদেশে এমন একটি সরকার চায়, যে সরকার হবে তাদের আজ্ঞাবহ। তাদের স্বার্থের পাহারাদার। আর এজন্য হত্যা, সন্ত্রাস, অগ্নিসন্ত্রাস, সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী ফ্যাসিবাদী দল বিএনপিকে তাদের খুব দরকার। গত প্রায় এক দশক যাবত আন্দোলনের নামে শত চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগকে হটানো যায়নি। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক পন্থায় পরাজিত করা সম্ভব নয়। এ জন্যই চলছে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র। আমেরিকার তথাকথিত ভিসানীতির আড়ালে চলছে অসাংবিধানিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। ইরাকে, লিবিয়ায় এ কাজটি তারা করেছে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে। বাংলাদেশে তা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সর্বোপরিÑ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে ওঠা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরাসরি হস্তক্ষেপের অজুহাত বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। বিএনপি ও তার মুরুব্বিরা তাই ভিন্ন পথ খুঁজছে।
বাংলাদেশের জনগণকে এখানেই সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিই যেন বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাকে, কোনো অজুহাতেই নস্যাৎ করতে না পারে, সে-জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলনের নামে সশস্ত্র সংঘাত, রক্তপাত, হত্যা-সন্ত্রাস এবং জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টির সকল অপচেষ্টাকে বানচাল করে দিতে হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যাতে তার পছন্দমতো প্রার্থী ও দলকে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেÑ জননেত্রী শেখ হাসিনার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সর্বশক্তি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবন রক্ষা করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমরা নিউক্লিয়ার যুগে প্রবেশ করেছি
পরবর্তী নিবন্ধBNP-Jamaat’s Post-election Terrorism
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য