Saturday, July 13, 2024

নির্বাচনী উৎসবে বাংলাদেশ

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আমজনতা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন বলেই বিজ্ঞজনদের ধারণা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে।

আরিফ সোহেল: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র আর কয়েকদিন। শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী বর্ণিল আমেজে ভাসছে সারাদেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদেও বইছে ভোটের হাওয়া। প্রার্থীরা রাত-দিন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। চায়ের টেবিলে চলছে প্রার্থীদের পাস-ফেলের নানা সমীকরণ। বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সবমিলিয়ে টানটান নির্বাচনী আবহে উদ্বেলিত বাংলাদেশ।
আবার আছে প্রার্থীতে প্রার্থীতে কথার লড়াই। আছে সমর্থক সমর্থকে মার্কার বড়াই। আছে খামাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে- অগ্নিসন্ত্রাসী বিএনপির নির্বাচন বানচালের হুঙ্কারও। কিন্তু ভোটপ্রেমী বাঙালি আমজনতা, ভক্ত-সমর্থক এবং প্রার্থী-নেতা-কর্মীর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মিছিলে তা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। বরং চারদিক প্রকম্পিত সেøাগানে সেøাগানে। পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার আর নির্বাচনী মার্কার ধ্বনিতে ভোট উৎসবমুখর বাংলাদেশ। জনসংযোগের রাতদিন নাই- পার করছেন প্রার্থীরা।
এবারের নির্বাচন অতীতের সংসদ নির্বাচনের মতো জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ৭ জানুয়ারি ২০২৪, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীন বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। নির্বাচনে প্রার্থী নিজপক্ষে ভোট টানতে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। লিফলেটে-হ্যান্ডবিলে জানিয়ে দিচ্ছেন জয়ী হলে কী করবেন তিনি। ভোটারদের মন রাঙাতে বুকে জড়িয়ে, পা ছুঁয়ে সালাম করে, হাত মিলিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। প্রার্থীর পরিবার-স্বজনরাও পিছিয়ে নেই। তারা নির্ঘুম চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের মাঝে চলছে নির্বাচনের শেষ হিসাব-নিকাশ। ভোট চাইতে গিয়ে প্রার্থীদের দাঁড়াতে হচ্ছে জনতার কাঠগড়ায়। বলতে হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার কথা।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। দল-মত-নির্বিশেষে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে একবিন্দু ছাড় না-দেওয়া সাহসী ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগ নেবে না। নির্বাচনে সাধারণ জনগণ যাকে চাইবে তাকেই ভোট দিবে। কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী যদি নির্বাচনে নিজের যোগ্যতায় জয়ী হতে না পারেন, তাহলে তার পরাজয়ের দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির এমন দলীয় ঘোষণার পর থেকে প্রার্থীরা যারপরনাই গণসংযোগে নেমে ভোট প্রার্থনায় ছুটছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা জানাচ্ছেন। সারাদেশে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ প্রায় সাড়ে তিনশ’ ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অনেক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে জনমত প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কারোর পক্ষে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ-কারণে নির্বাচনী প্রচারণার সুবিন্যস্ত ব্যাপকতা ছড়িয়েছে রাজধানীর অফিসপাড়া মতিঝিল থেকে তৃণমূলের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের দিঘলগাঁও পর্যন্ত।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৭টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ৩০০ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১ হাজার ৮৯৬ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫২৯ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩৫৭ জন। বিএনপি-জামাত জোট নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই দাবি জাতীয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান সংবিধানের ৫৭(৩) ও ৫৮(৫৪) অনুচ্ছেদ বিএনপি-জামাতের এই দাবির পরিপন্থী। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কীভাবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে; তা আইনগতভাবে বিএনপি তুলে ধরতে পারেনি। প্রাজ্ঞজনের কাছে বাস্তবতা বিবর্জিত এই দাবি প্রহসনীয় কৌশলরূপে প্রতীয়মান হয়েছে। এই অযৌক্তিক দাবি শুধু সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করবে না; বরং রাষ্ট্রকেও এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেবে। সরকারের পক্ষে সংবিধান পরিপন্থী এই আমলে নেওয়া ন্যূনতম সুযোগ হয়নি। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা তারেক জিয়ার অঙ্গুলি ইশারায় নির্বাচনকে না করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়- নির্বাচন বানচাল করতে অবরোধ-হরতাল-অসহযোগ নামে দেশকে অশান্ত করার প্রচেষ্টা করছে। বাস-ট্রেন-গাড়িতে চোরাগুপ্তা হামলা করে আগুন লাগিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছে। এটা বিএনপি-জামাত জোটের আসল চরিত্র। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তারা বর্জনের নামে দেশে ভীতিকর নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভোট প্রতিহত করতে চেয়েছিল। ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা ও নিরুৎসাহী করার চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েও তারা মহানাটক মঞ্চায়ন করেছে। ভোটের দিন মাঝপথে অযথাই কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করে। যদিও কারচুপির কোনো দালিলিক প্রমাণ তারা আজ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। অথচ তাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ অনেকে নির্বাচিত হন। তাদের অনেকে শপথ গ্রহণপূর্বক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ লাভ করে রীতি অনুযায়ী সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এমনকি একটি সংরক্ষিত নারী আসনও তারা গ্রহণ করেছে। তাদের এই দ্বিচারিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
উন্নয়ন, অর্জন ও সাফল্যের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য উদাহরণ। উন্নয়নশীল বাংলাদেশ এখন উন্নত বিশ্বে প্রবেশের স্বপ্ন দুয়ার খুুঁজে ফিরছে। দেশ ক্রমাগত আরও সমৃদ্ধিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অগ্রগতি ও উন্নয়নের অব্যাহত ধারা ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে।
ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে বিএনপি-জামাত। তারা দেশকে অচল করার চক্রান্ত অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের মতোই বিএনপি-জামাত ধ্বংসাত্মক আচরণ শুরু করেছে। গণবিরোধী হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে শুধু জনজীবন ও অর্থনীতি বিপর্যস্তই করে তুলছে। বাসে, ট্রেনে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্মমভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারার নিষ্ঠুর-হিংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি তারা আসন্ন নির্বাচন প্রতিহতেরও ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার পূর্বে আমেরিকাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ একাধিকবার বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য অনুরোধ করেছে। সর্বশেষ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগকে শর্তহীন সংলাপে বসার লিখিত আহ্বান জানান। কিন্তু বিএনপি এ উদ্যোগকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। একটি বিষয় উল্লেখ করার রয়েছে- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের অতি আগ্রহ; কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমাও ছাড়িয়ে গেছে।

নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনে আশাবাদী আওয়ামী লীগ
সংগ্রাম-ইতিহাস-ঐতিহ্যের গৌবরময় দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। উন্নত-অগ্রগতির পিঠে চড়ে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৫ বছর বহু বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত তিন মেয়াদকালে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও একদিকে যেমন জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার উচ্চতর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান মোকাবিলা এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ়তা ও সাফল্য জনমনে এক নতুন আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডে অসমাপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন এবং আদালতের রায় কার্যকর করা, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরুর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচারকাজ শুরু করা, যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এ-সময়কালে বাস্তবায়ন করা হয়।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী গত ২৭ ডিসেম্বর তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহারে দলটি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতির মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অঙ্গীকার করেছে। বিষয়গুলো মানুষের আকাক্সক্ষার সাথে মিলে যাওয়ায় দলটি আবার নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করবে বলে বিশ্বাস করে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪। এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৭টি নিবন্ধিত দল। এই দলগুলো হচ্ছে- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ২, প্রতীক বাইসাইকেল), দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (নিবন্ধন নম্বর ৩, প্রতীক চাকা), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (নিবন্ধন নম্বর ৪, প্রতীক গামছা) শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন নম্বর ৬, প্রতীক নৌকা), ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী ও ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ৮, প্রতীক কবুতর), আইভি আহমেদ ও মোহাম্মদ আলী ফারুকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ৯, প্রতীক কুঁড়েঘর), রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ১০, প্রতীক হাতুড়ি), অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ (নিবন্ধন নম্বর ১১, প্রতীক কুলা), গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও মো. মুজিবুল হকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ১২, প্রতীক লাঙ্গল), হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) (নিবন্ধন নম্বর ১৩, প্রতীক মশাল), মোস্তফা আমীর ফয়সল ও এজাজুর রসুলের নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ১৬, প্রতীক গোলাপ ফুল), সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও ড. সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (নিবন্ধন নম্বর ১৯, প্রতীক ফুলের মালা), শেখ ছালাউদ্দিন ছালু ও মো. ইদ্রিস চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ২২, প্রতীক আম)। এই তালিকায় আরও আছে মো. জাকির হোসেন ও আহমেদ আলী শেখের নেতৃত্বাধীন গণফ্রন্ট (নিবন্ধন নম্বর ২৫, প্রতীক মাছ), জেবেল রহমান গাণি ও এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ (নিবন্ধন নম্বর ২৭, প্রতীক গাভী), অধ্যাপক ডা. এমএ মুকিত ও জাফর আহমেদ জয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ২৮, প্রতীক কাঁঠাল), সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (নিবন্ধন নম্বর ৩০, প্রতীক চেয়ার), মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক ও আবদুল আউয়াল মামুনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ৩১, প্রতীক হাতঘড়ি), হাফেজ মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মুফতি ফয়জুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট (নিবন্ধন নম্বর ৩২, প্রতীক মিনার), মাওলানা এমএ মতিন ও অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (নিবন্ধন নম্বর ৩৫, প্রতীক মোমবাতি), অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (নিবন্ধন নম্বর ৪০, প্রতীক হাতের পাঞ্জা), আবু লায়েস মুন্না ও মো. শাহজামাল আমিরুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (নিবন্ধন নম্বর ৪১, প্রতীক ছড়ি), এসএম আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ (নিবন্ধন নম্বর ৪২, প্রতীক টেলিভিশন), অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কংগ্রেস (নিবন্ধন নম্বর ৪৪, প্রতীক ডাব), শমসের মবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপি (নিবন্ধন নম্বর ৪৫, প্রতীক সোনালি আঁশ), শাহ মো. আবু জাফর ও ড. মো. শাজহাজানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নিবন্ধন নম্বর ৪৮, প্রতীক নোঙ্গর), শাহাজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ ও মো. আব্দুল আজিজ সরকারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (নিবন্ধন নম্বর ৪৯, প্রতীক একতারা)।

সমমনাদের নিয়ে নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের রেখে বাকি আসনগুলো থেকে দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বাকি ৩৭টি আসনের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটভুক্ত ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জেপিকে মোট ৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সমঝোতায় জাতীয় পার্টির ২৬ আসন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬টি আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে। ওইসব আসন থেকে দলীয় নৌকা মার্কায় প্রার্থীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জাতীয় পার্টি রংপুর-৩ আসন থেকে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের ছেলে ও দলের বর্তমান এমপি সাদ এরশাদের পরিবর্তে জিএম কাদের নির্বাচন করছেন। তার স্ত্রী শেরিফা কাদের নির্বাচন করছেন ঢাকা-১৮ আসন থেকে। বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
জাতীয় পার্টিকে যেসব আসন ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নীলফামারী-৩ রানা মোহাম্মদ সোহেল, নীলফামারী-৪ আহসান আদেলুর রহমান, রংপুর-১ হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, রংপুর-৩ জিএম কাদের, কুড়িগ্রাম-১ মুস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গাইবান্ধা-২ মো. আব্দুর রশীদ সরকার, বগুড়া-২ শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নুরুল ইসলাম তালুকদার, সাতক্ষীরা-২ মো. আশরাফুজ্জামান, পটুয়াখালী-১ রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-৩ গোলাম কিবরিয়া টিপু, পিরোজপুর-৩ মো. মাশরেকুল আজম রবি, ময়মনসিংহ-৫ সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ মুক্তি, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু, মানিকগঞ্জ-১ জহিরুল আলম রুবেল, ঢাকা-১৮ শেরীফা কাদের, হবিগঞ্জ-১ মো. আব্দুল মুনিম চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আব্দুল হামিদ, ফেনী-৩ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান এবং চট্টগ্রাম-৮ সোলায়মান আলম শেঠ।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অংশগ্রহণকারী দল
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ মোট ২৭টি রাজনৈতিক দল এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ৩টি দল প্রথমবারের মতো এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হচ্ছে- তৃণমূল বিএনপি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বা বিএনএম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা বিএসপি। আর এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী হয়েছে স্বতন্ত্র। তাদের সংখ্যা ৩৫৭।
তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএম মূলত বিএনপির সাবেক কিছু নেতার সমন্বয়ে গড়া দল। তৃণমূল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়েছিল। সাবেক বিএনপি নেতা শমসের মোবিন চৌধুরী ও তৈমুর আলম খন্দকার সম্প্রতি দলটিতে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তারাই এখন দলটির চেয়ারপারসন ও মহাসচিব। অন্যদিকে বিএনএম ও বিএসপি নিবন্ধন পেয়েছে গত আগস্টে। বিএনএমের প্রতীক হলো নোঙর। আর বিএসপির প্রতীক একতারা। বিএনএম এই নির্বাচনে ৫৪টি আসনে আর বিএসপি ৭৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাকের পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মূলত কাদের সিদ্দিকী-কেন্দ্রিক। কল্যাণ পার্টি একসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশ-দলীয় জোটে থাকলেও এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হুট করেই অবস্থান বদল করে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

জোটের শরিক যারা ‘নৌকা মার্কা’ নিয়ে নির্বাচন করছেন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাসদের হাসানুল হক ইনুর কুষ্টিয়া-২ ও জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন শূন্য রেখে বাকি ২৯৮টি আসনের দলীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছিল। এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের ৭১ সদস্য। পরবর্তীতে জোটের জন্য আরও ৩২টি আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে। জোটভুক্ত শরিকরা অনেকে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন (বরিশাল-২) এবং ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২), জাসদের একেএম রেজাউল করিম তানসেন (বগুড়া-৪) ও মোশাররফ হোসেন (লক্ষ্মীপুর-৪)। এছাড়া জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বাইসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সব মিলিয়ে এখন ৩০০ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে মোট ২৬টিতে, ওয়ার্কার্স পার্টিকে ২টিতে, জাসদকে ৩টিতে এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে একটি ছেড়ে দিয়ে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

কোন দলের কত প্রার্থী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৫১২ এবং স্বতন্ত্র ৩৮২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১৮ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি ২৬৫ জন, দ্বিতীয় স্থানে আওয়ামী লীগ ২৬৩ জন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের ৩৯, ইসলামী ঐক্যজোটের ৪২, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ২৯, গণফোরামের ৯, গণফ্রন্টের ২১, জাকের পার্টির ২১, জাতীয় পার্টি-জেপির ১৩, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৬৪, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ৩৭, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৫, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৬, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ১১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৫, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৪, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ৩৮, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ৫, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের ৪৫, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৪, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ৭৯, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ৬৩, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ২৬, তৃণমূল বিএনপির ১৩৩, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১০ এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) ৪ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন।
জাতীয় পার্টি-জেপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ ও শেখ শহীদুল ইসলাম ঢাকা-১৪, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম টাঙ্গাইল-৮, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ ও ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বরিশাল-২ ও ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী মুন্সিগঞ্জ-১, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক কিশোরগঞ্জ-৩, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী চট্টগ্রাম-২, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী চাঁদপুর-৫, মেজর জেনারেল (অব.) বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক কক্সবাজার-১, বাংলাদেশ ইসলামী ফন্টের মাওলানা এমএ মতিন চট্টগ্রাম-১২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের এসএম আবুল কালাম আজাদ ঢাকা-১৭, বাংলাদেশ কংগ্রেস অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন মাগুরা-১ ও ২, তৃণমূল বিএনপির শমসের মবিন চৌধুরী সিলেট-৬, তৈমুর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ ও অন্তরা সেলিমা হুদা মুন্সিগঞ্জ-১, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর-১, মহাসচিব মো. শাহ্জাহান চাঁদপুর-৪, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শাহাজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ চট্টগ্রাম-২।
এবারের নির্বাচনে একটি ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। আর তা হলো বিপুলসংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবাধ এবং সরব অংশগ্রহণ। সমানতালে নির্বাচনী মহড়ায় শামিল হয়ে তারা সারাদেশকে মাতিয়ে তুলেছেন। নির্বাচনের পালে রঙিন হাওয়া লেগেছে। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জমজমাট উপস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। নির্বাচনে আসনপ্রতি গড়ে প্রায় ৯ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। ফলে ভোটকেন্দ্রে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোটার উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট নির্বাচনী প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। ভোটাররাও বেশ উৎসাহ দেখাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবাধ অংশগ্রহণ নির্বাচনকে বিপুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এমন সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে নিঃসন্দেহে উৎসাহিত করবে। নেতারা কর্মী ও জনবান্ধব হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আমজনতা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন বলেই বিজ্ঞজনদের ধারণা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে। আর নির্বাচন কমিশন তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করে নির্বাচন অর্থবহ করার চেষ্টা করছে। অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন লাগাম টানতে পারে। নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিরপেক্ষ থাকলে নির্বাচন সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে।
শুধু রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পরই ঝুলিয়েছেন তাদের নির্বাচনী পোস্টার। এর মধ্যে নৌকার পোস্টারই বেশি। প্রার্থী ও সমর্থকরা এলাকার মানুষদের কাছে হ্যান্ডবিল, লিফলেট বিতরণ করছেন। বাড়ি বাড়ি স্পটে স্পটে ভোটারের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখরিত থাকছে নিজ নিজ অঞ্চল। অনেকে পিকআপ, ট্রাক, গাড়ি, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে গান বাজিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য