Saturday, July 13, 2024
বাড়িক্রীড়ানিউজিল্যান্ডে সাদা বলে রঙিন সফর

নিউজিল্যান্ডে সাদা বলে রঙিন সফর

অনিন্দ্য আরিফ দিব্য : জয়ের অপেক্ষার দেড় যুগ পেরিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তিন সংস্করণে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২টি ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ২০২৩ সালে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়ে এখন অনন্য উচ্চতায়। সবশেষ সফরে বরং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খোয়াতে বসেছিল স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপের পর সাকিব-তামিমদের ছাড়া এমন বাংলাদেশে নতুন প্রত্যাশার আলো বইছে।
বিশ্বকাপের পর দেশে ফিরেই নভেম্বর-ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডকে পায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করলেও জয়ের আক্ষেপ ছিল। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই ফিরতি সফরে নিউজিল্যান্ড গিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। হারের বৃত্ত ভেঙে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই রঙিন জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
যদিও সফরের শুরুটা ভালো হয়নি। ওয়ানডেতে পরপর দুই ম্যাচ হেরে বেশ চাপেই ছিল শান্তরা। নেপিয়ারে দুরন্ত এক জয়ে ওয়ানডে শেষ করে। আর টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছিল। সব মিলিয়ে দারুণ সফর হয়েছে টিম বাংলাদেশের।
নিউজিল্যান্ড সফরে বৃষ্টির বিষম বিড়ম্বনা পিছু ছাড়েনি। ১৭ ডিসেম্বর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বৃষ্টি। ৩০ ওভারের খেলায় বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪৫ রানের। তুলেছিল ২০০। পরের ম্যাচে ৭ উইকেটে হার। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখেছে নিউজিল্যান্ড। ২৩ ডিসেম্বর বোলারদের দুরন্ত কীর্তিগাথায় এক অসাধারণ জয় পায় বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি না থাকলেও পরের ২ ম্যাচেই হানা দিয়েছিল। প্রথম ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জিতেছিল। নিউজিল্যান্ডের ১৩৭ রান টপকে ছিল ৮ বল হাতে রেখেই। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। শেষ ম্যাচটা ভালো হয়নি।
শেষ ওয়ানডেতে পেসারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টানা ১৮ ওয়ানডে হারের পর এই সংস্করণে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নেপিয়ারে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। বাংলাদেশের পেসারদের তোপে কিউইরা খেলতে পারে ৩১.৪ ওভার। শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও সৌম্য সরকার নেন ৩টি করে উইকেট। মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নামা বাংলাদেশকে একটুও বিপাকে ফেলতে পারেনি প্রতিপক্ষের বোলাররা। স্মরণীয় জয়ের পথে ১৫.১ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রান তুলে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত ৪২ বলে ৮ চারে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া, ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে ৭ চারের সাহায্যে আসে ৩৩ বলে ৩৭ রান। ২০৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে তিন সংস্করণেই জয়েরচক্র পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছরের শুরুতে সেখানে টেস্ট জেতার পর চলতি সফরে ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পালা ঘুচিয়েছে বাংলাদেশ।
২০০১ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৯ বার নিউজিল্যান্ড সফর করেছে। কিন্তু প্রতিবারই মন খারাপ করে দেশে ফিরতে হয়েছে তাদের। সফরের আগে ১৬ ওয়ানডে খেলে একটিও জিততে পারেনি। টি-টোয়েন্টি খেলেছে ৯টি, সেখানেও বাংলাদেশ জয়হীন। রঙিন পোশাকে জয়ের সাফল্যে মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হচ্ছে। সেই অধরা সাফল্যে খুঁজে নিয়েছে বাংলাদেশ। রঙিন রঙে সাজিয়েছে এক-দিবসীয় এবং সংক্ষিপ্ত ভার্সানের ম্যাচ।

লেখক : সাংবাদিক

 

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের দিনরাত্রি
পরবর্তী নিবন্ধওলান
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য