Sunday, July 3, 2022
বাড়িSliderনতুন বছরের প্রত্যাশা

নতুন বছরের প্রত্যাশা

সম্পাদকের কথা

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছিল, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবে। ২০১৪ ও ২০১২ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারির বিপর্যয়, বিএনপি-জামাত গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা ও বিশ্ব অর্থনীতির নানা অভিঘাত সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ তার অঙ্গীকার রেখেছে। উন্নয়ন, রপ্তানি আয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি, সর্বোপরি দেশ পরিচালনায় জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিস্ময়কর সাফল্য ইত্যাদির ফলে বাংলাদেশ এখন হতদরিদ্র দেশ তথা ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের লজ্জা ঘুচিয়ে উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এখন আমাদের চোখ সামনের দিকে। এলডিজি পর্ব পেরিয়ে এসডিজি-র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্পন্ন হতে চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত দেশে উত্তরণ ঘটবে। কেবল ২০৪১ নয়, আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি শতাব্দী শেষের দিনটি পর্যন্ত। আমাদের ‘ডেল্টা প্রকল্প’- স্বপ্ন বিছানো পথ। কেবল বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, আগামী দিনের বেশ কয়েকটি প্রজন্মের জন্য। আমরা পারব কী? হ্যাঁ, আমরা পারব। আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। ২০২২ সালে আমরা জোর কদমে এগিয়ে যাব। এ বছরটা আমাদের পদ্মাসেতু দিয়ে যাতায়াত করার সুযোগ দেবে। আমরা মেট্রোরেলে চড়ে ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করব। আমরা সুড়ঙ্গ পথে কর্ণফুলি পার হব। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হব। আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। কৃষি, শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্যমোচন এবং জনগণের ক্ষমতায়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
তবে দুটো সমস্যা আমাদের জাতির অগ্রগতিকে, গণমানুষের মনস্তত্ত্বকে নেতিবাচকতায় আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন এবং বৈষম্য। তত্ত্বগতভাবে আমরা যতই বলি না কেন, পুঁজিবাদের প্রাথমিক পুঁজি সঞ্চয়ের যুগে সমাজ-অর্থনীতিতে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন একটি প্রপঞ্চ। এই বাস্তবতা উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের কিছুদিন সহ্য করতে হবে। কথা উঠেছে কিছুদিন মানে কত দিন? এখন তো সময় এসেছে, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের দৌরাত্ম্য দূর করে একটি সুসভ্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বদলে ফেলার। এই সংক্রমণ থেকে সমাজ-অর্থনীতিকে রক্ষা করতে না পারলে, আমরা অতল অন্ধকারে হারিয়ে যাব। কেবল উন্নয়নের দোহাই দিয়ে আমরা নৈতিক অধঃপতন থেকে দেশকে বাঁচাতে পারব না। আমাদের সকল অর্জন ও সাফল্য গিলে খাবে এই দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন। ২০২২ সাল হোক দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের পাপমোচনের এগিয়ে যাওয়ার বছর। দ্বিতীয়ত; এ-কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, আমাদের দেশে মানুষে মানুষে আয়-রোজগার তথা সম্পদের বণ্টনে বিশাল বৈষম্য ক্রমবর্ধমান। আকাশ কুসুম না ভাবলেও মানুষে মানুষে ভেদ-বৈষম্য কমে আসবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। সমাজের সিংহভাগ সম্পদের মালিক যদি হয় মুষ্টিমেয় লোক, তাহলে সেই সমাজ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এই বৈষম্যর ধারা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। এ-কথা মানতে হবে, সমাজের সম্পদ সৃষ্টি করে দেশের ৯০-৯৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ। আর সম্পদের মালিকানা যদি সংখ্যালঘিষ্ঠ ৫-১০ শতাংশ মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়, তাহলে সেই সমাজ টিকে থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন একটি ভেদ-বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজের। মানুষের প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমৃদ্ধ সমাজে পরিণত হবে। ২০২২ সাল হোক ক্রমবর্ধমান বৈষম্য মুক্তির শুভ সূচনার বছর। অন্যথায় আমাদের সকল অর্জন ও সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য