Saturday, July 13, 2024
বাড়িক্রীড়ানতুন নিয়মে বদলে যাওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর

নতুন নিয়মে বদলে যাওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসর

অনিন্দ্য আরিফ দিব্য: বহুল অপেক্ষার চাদর সরিয়ে শুরু হয়েছে‍ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসর। যে কোনোবারের তুলনায় এবার আলোচনা-সমালোচনা টইটম্বুর এবারের আসর। এককভাবে ভারতে অনুষ্ঠিত এই আসরের ফরম্যাটের ভিন্নতা, ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা, ওয়ানডে ক্রিকেটের গতিপথ নির্ধারণ- সবমিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বিতর্কিত রীতিনীতি সরিয়ে এবার থাকছে বেশ কিছু নতুন নিয়ম। আসর চলবে ৫ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।
১০ দলের আসরে ৪৮ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৪৬ দিনে। ভারতের সেই উত্তরের ধর্মশালা, দক্ষিণে চেন্নাই, পূর্বের কলকাতা থেকে পশ্চিমের আহমেদাবাদে বিশ্বকাপের মঞ্চ তৈরি। এবার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০ ভেন্যুতে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে এবার থাকছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতি। সেখান থেকে সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনালে। রিজার্ভ ডে থাকছে শুধু নকআউট পর্বে। বিশ্বকাপের রং হারিয়েছে বাছাই পর্বে, দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিদায়ে। নেই নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা জিম্বাবুয়েও। বাছাই পর্বের চমক নেদারল্যান্ডস।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জমকালো আয়োজনের ঘোষণা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়। এবারই প্রথম এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ভারত। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম কোনো দেশ এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ফলে এই বিশ্বকাপ আগেরগুলোর থেকে আলাদা। পুরস্কারমূল্যের অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও দর্শকদের সেরা মানের অভিজ্ঞতা দিতে মরিয়া আয়োজকরা। ফাইনাল আর চির বৈরিতার ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের ভেন্যুও এক আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। পাকিস্তান শেষ চারে টিকে থাকলে ফিরতে হবে কলকাতায়। ভারতের ক্ষেত্রে ভেন্যু হবে মুম্বাই। আর দুই দল সেমিতে মুখোমুখি হলে দেখা হবে সিটি অব জয়ে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স সাক্ষী হবে সেই ম্যাচের।
আসরে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- হট ফেভারিট ভারত ও ইংল্যান্ড; কিন্তু স্পটলাইট থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর। হ্যাটট্রিক শিরোপাসহ পাঁচবারের বিশ্বসেরা তারা। অবশ্য ঘরের মাঠের সুবিধা আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে হট ফেভারিট ভারত। সাবেক ক্রিকেটার থেকে বিশেষজ্ঞরা তৃতীয় ট্রফি দেখছেন স্বাগতিকদের ঘরে।
প্রায় ১৪২ কোটি মানুষের দেশ ভারত, সঙ্গে দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে বলেই যে কোনোবারের তুলনায় আগ্রহ, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ বাড়িয়েছে এবারের আসরে। সে তুলনায় অবশ্য বাড়েনি প্রাইজমানি। আগের আসরের সমান ১০ মিলিয়ন ডলার এবারও। টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি। যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৪০ কোটির বেশি। রানার্সআপ পাবে এর অর্ধেক।
সাত বছর পর ভারতে পা রেখেছে পাকিস্তান। সেখানেও ভিসা জটিলতা এড়াতে পারেনি। যে কারণে ম্যান ইন গ্রিনদের প্রস্তুতিতেও ছিল ঘাটতি। অসন্তোষ ছিল অনলাইন টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে।
বিতর্কিত নিয়মের কারণে বেশি বাউন্ডারি মেরে গতবারের বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী ম্যাচে ৫ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ড এবার বদলা নিয়েছে কড়ায়-গণ্ডায়। এক্কেবারে উড়িয়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নদের। ওয়ানডে ক্রিকেটের ওপর বেশ ধকল যাচ্ছে। একটু হেলাফেলাও করা হচ্ছে এই ভার্সান নিয়ে। ফলে এবারের আসরটিকে জম্পেশ করার প্রচেষ্টা রেখেছে আইসিসি। সেখানে অনেক দেশই বিশ্বকাপের কথা ভেবে একদিনের ক্রিকেট খেলার দিকে জোর দিয়েছে।
আলোচনার শেষ নেই; বিশেষ করে একদিনের বিশ^কাপ নিয়ে। যে কোনো প্রতিযোগিতার মতোই এখানেও বেশ কিছু নিয়ম থাকে। কোনো খেলা বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে কী হবে বা কোনো ম্যাচে দুই দল একই স্কোর করলে কী হবে, তা নিয়ে নিজেদের নিয়ম স্পষ্ট করে দিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপের এ-রকমই তিনটি নিয়ম একটু আলাদা করে বেঁধে দিয়েছে আইসিসি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের নিশ্চয়ই মনে আছে- গতবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখা গিয়েছিল অদ্ভুত এক নিয়ম। ৫০ ওভারের ম্যাচ এবং সুপার ওভার, দুটি ক্ষেত্রেই দু-দলের স্কোর সমান হয়ে যাওয়ায় যে দল বেশি বাউন্ডারি মেরেছিল, তাদের জিতিয়ে দেওয়া হয়। সেই নিয়ম কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সেই বিতর্কিত নিয়ম আর দেখা যাবে না।
এশিয়া কাপে রিজার্ভ ডে নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। এক দলের ক্ষেত্রে আছে তো অন্য দলের ক্ষেত্রে ছিল না। এবারের গ্রুপের ৪৫টি ম্যাচের জন্য কোনো রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি। যদি কোনো ম্যাচ বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তাহলে দু-দলকে এক পয়েন্ট দেওয়া হবে। কিন্তু দুটি সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়ম রাখা হয়েছে যথারীতি। বৃষ্টি কোনো ম্যাচে বিঘ্ন ঘটালে সেখানে এই নিয়ম ব্যবহার করা হবে। তবে দুটো দলকে অন্তত ২০ ওভার করে খেলতে হবে। একটি দল ৫০ ওভার খেলল, অপর দল ১০ ওভার খেলল, এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে এবং দু-দলই একটি করে পয়েন্ট পাবে।
সুপার ওভার; মানে ভাগ্য নির্ধারণী ফল। কোনো ম্যাচে দু-দলের স্কোর সমান হলে সুপার ওভার হয়। কিন্তু এক্ষেত্রেও গ্রুপের ৪৫টি ম্যাচে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। অর্থাৎ দুটি দলের স্কোর সমান হলে দু-দলই এক পয়েন্ট করে পাবে। দুটি সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে বিজয়ী নির্ধারণ করতে হলে এই নিয়ম কার্যকর হবে। সুপার ওভারেও স্কোর সমান হলে আবার একটি সুপার ওভার হবে। এভাবে যতক্ষণ না কোনো ফলাফল হচ্ছে ততক্ষণ সুপার ওভার চলতে থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকবিতা
পরবর্তী নিবন্ধতিনি আজ বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য