Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderদ্য ইকোনমিস্ট : এশিয়ার লৌহমানবী শেখ হাসিনা

দ্য ইকোনমিস্ট : এশিয়ার লৌহমানবী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান। তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বেশির ভাগ সময়ই দেশের বার্ষিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশের ঘরে।

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এশিয়ার লৌহমানবী (আয়রন লেডি) উল্লেখ করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, ১৭ কোটি মানুষের দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিবেদনে সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, শক্ত হাতে ক্ষমতা ধরে রাখায় লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ।
‘শেখ হাসিনা ইজ আ এশিয়া’জ আয়রন লেডি’ শিরোনামে গত ২৪ মে এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভার্জিনিয়ার এক হোটেলে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৭৫ বছর বয়সি শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ পরপর ৩টি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। সব মিলিয়ে ৪টি, যা ইন্দিরা গান্ধী বা মার্গারেট থ্যাচারের চেয়ে একটি বেশি। আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে তিনি আশা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান। তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বেশির ভাগ সময়ই দেশের বার্ষিক গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশের ঘরে।’
যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বৈরথের প্রসঙ্গ টেনে সাময়িকীটি লিখেছে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ যে, বিনিয়োগের কারণে শেখ হাসিনা যেন চীনকে কাছে না টানে। ভারতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, তারাও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের সম্পর্ক তাদের নিজস্ব বিষয়। আমি সেখানে নাক গলাব কেন? তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলে যে, তারা গণতান্ত্রিক দেশ; কিন্তু আমাদের দেশে তারা তা প্রয়োগ করে না। কেন তারা আমাকে সমর্থন করে না?’
সাক্ষাৎকারে ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখেছিল, নির্বাচন নিয়ে তিনি কী প্রত্যাশা করেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এই দেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চাই।’ ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর খুব একটা সম্ভাবনা নেই। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বলছেন, শুধু প্রকৃত রাজনৈতিক দলকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া উচিত। বিরোধী দলের এই যোগ্যতা নেই।
ইকোনমিস্ট বলছে, আগামী নির্বাচন বিএনপিকে ক্ষমতায় ফেরার পথ দেখাবে না। শেখ হাসিনা একটি স্বাধীন ভোটের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছেন। তিনি অর্ধশতাব্দী আগে সেনাশাসনের অধীনে গঠিত বিএনপিকে একজন সামরিক শাসক কর্তৃক অবৈধভাবে গঠিত বলে অভিযুক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি দল পাকিস্তানের সাবেক মিত্র এবং সেই দলের প্রায় সবাই যুদ্ধাপরাধী। আমাদের বক্তব্য হলো, এমন কোনো দল নেই (আওয়ামী লীগ ছাড়া) যারা সত্যিই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ, শেখ হাসিনার শক্ত হাতে সরকার পরিচালনা থেকে কোনো-না-কোনোভাবে বাংলাদেশ উপকৃত হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আমার ভাইকে, আমার মাকে, মাত্র ১০ বছর বয়সি আরেক ভাইকে হত্যা করেছে। আমার দুই চাচাতো বোন, আমার একমাত্র চাচা, যিনি একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন, তাদেরও হত্যা করেছে।’ দুর্নীতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক সরকারকে দায়ী করেন শেখ হাসিনা। তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অস্তিত্বহীন দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো নিচের স্তরে দুর্নীতি হয়; কিন্তু আজকাল তেমনটা হচ্ছে না। তারা এটা করার সাহস দেখালে আমি ব্যবস্থা নেব।’ শেখ হাসিনা বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে অবসরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না তিনি। সরকারের ‘ভিশন-২০৪১’ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত দেখতে পাবেন না, সেটাও স্বীকার করে দলে তার উত্তরসূরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি না থাকি, তাহলে জানি না ক্ষমতায় কে আসবে।’

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য