Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderদ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা

প্রসঙ্গ কথা

আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশিত হয়। হোটেল সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিক-এর বলরুমে এক সুধী সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। রয়েল সাইজের ৯৮ পৃষ্ঠার চার রঙে ছাপা দৃষ্টিনন্দন ইশতেহারে সংশ্লিষ্ট খাতের শিরোনাম, উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং আগামী দিনের অঙ্গীকার-এর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানাভাবে পুরো ইশতেহার না ছাপিয়ে, ইশতেহারের মূল ইস্যুগুলো তুলে ধরেছি। আগ্রহী পাঠক আওয়ামী লীগের জেলা/উপজেলা ও স্থানীয় কার্যালয় থেকে মূল ইশতেহার সংগ্রহ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, ইশতেহার ঘোষণাকালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ ও ইশতেহারে সবশেষে জাতির প্রতি আহ্বান শীর্ষক অংশ দুটিও এখানে হুবহু দেওয়া হলো।

– সম্পাদক

নির্বাচনী ইশতেহার রচনার পটভূমি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দীর্ঘ সংগ্রাম ও যুদ্ধ বিজয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বপ্নের সোনালি অধ্যায় অতিক্রম করছে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রার মহাসড়কে রয়েছে। বিশ্বপরিমণ্ডলে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে উন্নয়নের রোল মডেল। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সঠিক পথেই রয়েছে বাংলাদেশ। জাতীয় আয়ের মানদণ্ডে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃত। কোভিড দুর্যোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বরাজনীতির টানাপোড়েন এবং অর্থনীতির শ্লথ গতি, মন্দার অভিঘাতের মধ্যে বিশ্বের সব দেশেরই অর্থনীতি যখন সমস্যা-সংকটে আবর্তিত, সেই সময়েও দেশে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান, বিশ্বসমাজে উচ্চ প্রশংসিত। ঘরে ঘরে আজ বিদ্যুতের আলো। আশ্রয়ণ প্রকল্পে অতি দরিদ্র গৃহহারা মানুষ আজ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় অর্জিত হয়েছে বিস্ময়কর সাফল্য। ছেলেমেয়ে সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সকল সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নসাধ সংবিধানে স্বীকৃত জনগণের মৌলিক অধিকার অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসা-বাসস্থান প্রাপ্তিতে অতীতের গ্লানি মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘আমার গ্রাম – আমার শহর’ এবং ‘তারুণ্যের শক্তি- বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’, যা ছিল বিগত নির্বাচনে দুটো বিশেষ অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। তারুণ্যের শক্তি কার্যকর হতে থাকার কারণেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে যুব-সমাজের পদচারণা জাতীয় জাগরণে ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বিদ্যুৎসহ সকল সেবা-সুবিধা হাতের নাগালে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের মানুষ আজ শহরের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হচ্ছে।
২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে ১৫ বছর জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যমান বাস্তবতায় জনকল্যাণমুখী ও সুসমন্বিত কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মাণের পথে জাতিকে অগ্রসরমাণ রেখেছে। ইতোমধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি টেকসই ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। এই ভিত্তির ওপর ভর করে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত-সমৃদ্ধ-স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগের বর্তমান লক্ষ্য। সম্ভাবনাময় বিশাল তরুণ-সমাজই হবে এর মূল কারিগর।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার শুধু অঙ্গীকারের ফানুস নয়; বরং তা দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও অর্জনযোগ্য। বিগত নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিশ্রুতি, লক্ষ্য ও কর্মসূচি দেবে, আগামী দিনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনায় বিগত তিন মেয়াদের নির্বাচনী ইশতেহারের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে নেতৃত্বদানকারী দেশের সর্ববৃহৎ জননন্দিত ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগ দেশবাসীর উদ্দেশে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইশতেহার-২০২৪’ উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ তাদেরকে আবারও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তারা বাংলাদেশকে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা আপনাদের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি দিব।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় এ-কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠিত হবে। আসুন, আরও একবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।’
৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে গত ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহারে, আওয়ামী লীগ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার চর্চার প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার করা হবে। এটি অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার, রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল করার, একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্য বীমা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভোটারদের কাছে তাদের অতীতের ভুল ক্ষমা করার জন্য, ‘ক্ষমাশীল চোখে’ দেখার জন্য একটি আবেগপূর্ণ আবেদন জানান।
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের সরকার পরিচালনার পথ-পরিক্রমায় যা কিছু ভুলত্রুটি তার দায়ভার আমাদের। সাফল্যের কৃতিত্ব আপনাদের। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা কথা দিচ্ছি, অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন সকলকে হারিয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি শুধু আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। এ কাজ করতে গিয়ে আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে বারবার। কিন্তু বাবার কথা ভেবে, আপনাদের কথা ভেবে আমি পিছ-পা হইনি। যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, সুস্থ রাখেন, ততদিন যা কর্তব্য হিসেবে আমি গ্রহণ করেছি, সেখান থেকে সরে আসব না। আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়েই আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে দেশ। এই উত্তরণ যেমন একদিকে সম্মানের, অন্যদিকে বিশাল চ্যালেঞ্জেরও।তিনি বলেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।
সরকারপ্রধান স্মরণ করিয়ে দেন, মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়, মাতৃভূমির স্বাধীনতা থেকে শুরু করে এ দেশের যা কিছু মহৎ অর্জন, তা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে।
তিনি বলেন, দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে একটি বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছি। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮-এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিকতা দ্বাদশ নির্বাচনী ইশতেহারেও রক্ষিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে সবসময়ই যে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, এমন দাবি করব না। তবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যা বলি তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন তার প্রমাণ। তিনি বলেন, মাঝে-মধ্যে মনুষ্য-সৃষ্ট, প্রাকৃতিক এবং বৈশ্বিক বাধাবিপত্তি আমাদের চলার গতিপথকে মন্থর করেছে। ২০১৩-১৬ সময়ে বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ বিস্তারের চেষ্টা মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০৯ সালের পর থেকে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ২০২০ সালে যখন বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। এই মহামারি গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছিল।
সরকারপ্রধান বলেন, তার সরকার একবিংশ শতাব্দীর এই ভয়াবহ মহামারি সফলভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই প্রথমে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এ বছর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। যে কোনো যুদ্ধ শুধু দুই প্রতিবেশীর সমরাস্ত্র ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেমন : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমরাস্ত্র যুদ্ধের পাশাপাশি ভয়াবহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, অবরোধ-পাল্টা অবরোধের ফলে গোটা বিশ্বের অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা হয়েছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অধিক মূল্যে পণ্য ক্রয় ও আমদানি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। দেশীয় মুদ্রার মানের ব্যাপক অবনতিতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দ্রব্যমূল্য এবং মানুষের জীবনযাপনের ওপর। বহুমুখী ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমরা অনেক সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি রোধ করতে পারিনি। এ সমস্যা শুধু আমাদের দেশের নয়, এ সমস্যা ধনী-গরিব সকল দেশের। তবে, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা সম্প্রসারণসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্দশা লাঘবের। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আমরা এই অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন এলেই মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং উন্নয়ন-বিরোধী একটি চক্র ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচনে কূটকৌশল অবলম্বন বা কারচুপির মাধ্যমে কিংবা পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে তারা আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে। সফল না হলে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিশোধ স্পৃহায়। অগ্নিসন্ত্রাস, যানবাহন পোড়ানো, বোমাবাজি, নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে গৃহবন্দি করতে চায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার ওপর এবার তারা বিদেশ থেকেও কলকাঠি নাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট পাবে না- এটা বুঝতে পেরে আগে থেকে এবার তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। হরতাল-অবরোধের নামে যানবাহন পোড়ানো, মানুষ হত্যা, রেললাইন উপড়ে ফেলাসহ বিভিন্ন নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুর অগ্নিদগ্ধ লাশ সকলের বিবেককে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছে। এই ধরনের হীন কাজ আর সহ্য করা যায় না। জনগণের সাড়া না পেয়ে ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এসব নাশকতা চালিয়ে জানমালের ক্ষতি করছে।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সন্ত্রাস করে নির্বাচন বানচাল করার স্বপ্ন-সাধ কোনোদিনই তাদের পূরণ হতে দিবে না এদেশের জনগণ। ২০১৩-২০১৬ সময়ে যেমন আপনারা ওদের প্রতিহত করেছিলেন। আসুন, এবারও সম্মিলিতভাবে ওদের প্রতিহত করি। স্বাধীনতা-বিরোধী, উন্নয়ন-বিরোধী এই শকুনের দল আর কোনোদিন যাতে বিষময় দন্ত-নখর বসিয়ে বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করতে না পারে- এই বিজয়ের মাসে এ শপথ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তি সক্ষমতা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য আমরা ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সরকার’, ‘স্মার্ট অর্থনীতি’ ও ‘স্মার্ট সমাজ’- এই চারটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেই। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ‘স্মার্ট সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বক্তৃতা করেন। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি স্বাগত বক্তৃতা করেন। ‘সমৃদ্ধির আগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা’ শীর্ষক দুটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।
বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর ২০০৬ সালে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ কোথায় ছিল আর আজ বাংলাদেশ কোথায় অবস্থান করছে তার সংক্ষিপ্ত একটি তুলনামূলক চিত্র প্রধানমন্ত্রী সকলের সামনে তুলে ধরেন। এরপরই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক দেশের অবস্থান তুলে ধরে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উল্লেখ করেন।

ইশতেহার ঘোষিত উল্লেখযোগ্য ইস্যুসমূহ

ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বিজ্ঞান শিক্ষা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ’-এ ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। রূপকল্প ২০২১-এর মূল উপজীব্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে প্রণয়ন করা হয়েছিল প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২১। এই পরিকল্পনা ভিত্তি স্থাপন করেছে স্মার্ট বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২৫, ২০৩১ ও ২০৪১-এর সময়রেখার মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে তৈরি করবে স্মার্ট বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ দেশ ও সমাজের উন্নতি নিশ্চিত করবে, গড়ে তুলবে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ঘোষণা করেন সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিগত এবং উদ্ভাবনী। স্মার্ট বাংলাদেশের রয়েছে ৪টি স্তম্ভ- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট সমাজ।

স্মার্ট নাগরিক
শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকেরা নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের এবং সমাজের সকলের জীবন ও জীবিকার মান বদলে দেবে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; সরকারি ও বেসরকারি খাত প্রদত্ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে; দেশ-বিদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ঋদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা নিজেদের সমস্যা সমাধান করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

স্মার্ট অর্থনীতি
স্মার্ট অর্থনীতি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী-পুরুষ, শিক্ষা অথবা ভৌগোলিক দূরত্বনির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের ব্যবহার হবে কৃষি, শিল্প, সেবা সকল খাতে; ক্ষুদ্র-কুটির ও মাঝারিসহ সকল ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশে উদ্ভাবিত সাশ্রয়ী প্রযুক্তি শিল্প-বাণিজ্যে প্রয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সহায়তা করবে। কমিয়ে ফেলা যাবে কায়িক শ্রম; সম্পদের হবে সুষ্ঠু ব্যবহার; কমবে অপচয়; বাড়বে উৎপাদনশীলতা; খরচ কমবে উৎপাদনের; উৎপাদন হয়ে উঠবে প্রতিযোগিতামূলক; প্রসারিত এবং বৈচিত্র্যময় হবে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি বাজার। তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেওয়া যাবে ত্বরিত ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত; সহজে করা যাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে দক্ষ।

স্মার্ট সরকার
প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার পরিচালনা ব্যবস্থাকে দক্ষ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে জ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর; প্রতিটি সেবা হবে একটি চাহিদা অনুযায়ী এবং সমন্বিতভাবে। আইওটি, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং স্মার্ট নাগরিকদের স্মার্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করবে। সরকার তথা রাষ্ট্র হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

স্মার্ট সমাজ
স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর করা যাবে সবরকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজে নাগরিকেরা জ্ঞানচর্চা ও প্রয়োগের সুযোগ পাবেন অনেক বেশি। সঠিক তথ্যপ্রবাহের ফলে কমে যাবে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ। প্রযুক্তি ব্যবহার সংস্কৃতিচর্চা, বিনোদন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তি সক্ষমতা একান্ত প্রয়োজন। শিল্প উৎপাদনের নতুন ধারায় তুলনীয় সক্ষমতা ছাড়া গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব নয়। দূরদর্শী নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান; যার সাফল্যের ভিত্তিতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ অব্যাহত রাখবে এবং সমন্বয় সাধন করবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতির নৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজ তথা রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে সমাজে দুর্নীতির মাত্রা বর্তমানে ক্রমহ্রাসমান।
* বিভিন্ন সেক্টরে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনগণের ভোগান্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের টোল ফ্রি নম্বর ১০৬-এর মাধ্যমে জনগণ যে কোনো স্থান থেকে বিনা খরচে জানাতে পারছে।
* দুর্নীতি দমন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা হয়েছে।
* রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন, নাগরিক সনদ রচনা, তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতি মোকাবিলায় কার্যকর পন্থা ও উপায় নির্বাচনপূর্বক তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য ও দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ চলমান থাকবে।
* প্রশাসনে দুর্নীতি নিরোধের জন্য ভূমি প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আদালত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ক্ষেত্রে সূচিত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হবে।
* শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যক্রমে দুর্নীতির কুফল ও দুর্নীতি রোধে করণীয় বিষয়ে অধ্যায় সংযোজন করা হবে।

সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা
বিএনপি-জামাত জোটের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ উন্নয়ন এবং জনগণের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার প্রধান বাধা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠীর জীবনের প্রতি হুমকি। বিএনপি-জামাত জোট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত এবং আন্দোলনের নামে অরাজকতা, অগ্নিসন্ত্রাস ও হত্যা এবং শান্তিবিনাশী অপরাধ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস দমন, সকল নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যা জনজীবনে স্বস্তি এনেছে এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রশংসা পেয়েছে।
* ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
* সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ নীতি অনুসরণ করছেন।
* আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত ‘আইন সংস্কার কমিশন’ দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্নের জন্য আইন সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন সুনিশ্চিত করা হবে।
* আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ ও আইনি পন্থায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সকল মত ও পেশার জনগণকে সম্পৃক্ত করবে।
* জোট সরকারের আমলে সংঘটিত সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডÑ প্রায় ৬০০ স্থানে একই সময়ে বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, গ্রেনেড হামলা তদন্ত ও প্রচলিত আইনে বিচার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে আছে ও বিচার সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে।
* সপরিবারে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকারী শাস্তিপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় বাস্তবায়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সামষ্টিক অর্থনীতি : উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
আওয়ামী লীগের আর্থ-সামজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সংবিধান ও বঙ্গবন্ধুর সমাজ উন্নয়ন দর্শনেরই প্রতিফলন। গত দেড় দশকে বাংলাদেশ একটি গতিশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মর্যাদা লাভ করেছে। জাতীয় আয়ের মানদণ্ডে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম অর্থনীতির দেশ। এ-সময়ে দেশের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি বৃহৎ অভ্যন্তরীণ ভোক্তাবাজার সৃষ্টি হয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। মূলত সরকারের ধারাবাহিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ-ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে।
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিগত ১৫ বছরে গড়ে ৬.৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেøাগান ছিল ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৮ শতাংশ অর্জিত হয়। ২০২০-২১ সালে বিশ্বব্যাপী কোভিড অতিমারি বাংলাদেশের জনজীবন ও অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা, বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতি ও মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের দেশজ আয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে (৩.৪৫ শতাংশ), যা অর্থনীতির সহনশীলতা ও সক্ষমতার পরিচায়ক। পরবর্তী বছরগুলোতেও বাংলাদেশ কম-বেশি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশজ আয় ১১ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে অর্থনৈতিক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটেছে। জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ, শিল্পের ৩৮ শতাংশ এবং সেবা ৫০ শতাংশ হয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন কৃষিপণ্য রপ্তানি করছে।
অপরদিকে, মূল্যস্ফীতি সর্বসাধারণের জন্য সহনীয় মাত্রায় রাখার ব্যাপারে সরকার সবসময়ই সজাগ ছিল, যা অর্থবছর ২১ বা পূর্ববর্তী পাঁচ বছর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে ছিল। বিশ্বব্যাপী মন্দার অভিঘাতে ডলারের মূল্য বেড়েছে; যার ফলে আমদানি করা পণ্য- গম, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি), সার, তুলা, ডাল, চিনি প্রভৃতি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি মানুষের সহনীয় পর্যায়ের বাইরে চলে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বমন্দার অভিঘাত মোকাবিলা, মুদ্রাফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিলাসদ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করে, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করা, প্রবাসী আয় দেশে পাঠাতে বিশেষ প্রণোদনা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় এনে এবং প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করেছেন।
সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে; ২০২১ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়ন ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির গতিধারা থেকে সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশ উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে অগ্রসরমান।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫.৩ গুণ বেড়ে হয়েছে ৫৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিগত ১৫ বছরে রপ্তানি আয় গড়ে ১৬.০ শতাংশ হারে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। একই সময়কালে আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পায়।
* আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনের মেয়াদ এক বছর হতে পাঁচ বছরে উন্নীত করা হয়েছে এবং নিবন্ধন কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* রপ্তানি উৎসাহিত ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
* যৌথ মূলধনী কোম্পানির নামের ছাড়পত্র ও এনটিটি প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পাদন করা হচ্ছে।
* ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; ভোক্তা অধিকার-সংক্রান্ত সমস্যাবলি সমাধানের জন্য সফটওয়ার চালু করা হয়েছে।
* জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্প-কারখানার পরিবেশ, শ্রম অধিকার, সুশাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা সংক্রান্ত ৩২টি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন স্বাক্ষর/অনুস্বাক্ষর করা হয়েছে।
* আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রণোদনা প্রদান ইত্যাদির ফলে বার্ষিক রেমিট্যান্স ২০০৫-০৬ সালের তুলনায় প্রায় ৪.৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক উচ্চপ্রবাহের কারণে বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ অর্থবছর ২০০৫-০৬ এর ৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থবছর ২০২০-২১ শেষে সর্বোচ্চ ৪৬.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে অর্থবছর ২০২২-২৩ শেষে ৩১.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয় এবং অক্টোবর ২০২৩ শেষে ২৬.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়, যা দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
* মাথাপিছু আয় বর্তমানে উন্নীত হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ মার্কিন ডলারে, যা ২০০৫-০৬ সালে ছিল মাত্র ৪২৭ ডলার।
* ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপি হয়েছে প্রায় ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় জিডিপি এখন প্রায় ১০ গুণ।
* ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে তা ছিল ৬১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। এ সময়ে বাজেটের আকার বড় হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ গুণ। বাজেট ঘাটতি আশানুরূপভাবে জিডিপির ৫ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে গত ১০ বছর।
* অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৯ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৩১.৬৮ শতাংশ, যা ২০০৫-০৬ এ ছিল ২৫.৮ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ সালের ৪.১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.৬২ শতাংশ।
* রাজস্ব সংগ্রহের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা হয়েছে, যার ফলে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে ক্রমবর্ধমান বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হচ্ছে। মোট রাজস্ব আয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪৪ হাজার ২০০ হাজার কোটি টাকা।
* আয়বর্ধক কর্মসৃজন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, নতুন বেতন স্কেল ও ১০ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশসহ) ইত্যাদি কার্যক্রমের ফলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ২০০৯-১৮ সময়কালে বেতন ৩৪৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
* জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস (২০১৫-৩০) এবং ঋণাত্মক (২০২৫-৩০) হওয়ার ফলে সার্বিক জাতীয় আয়ের তুলনায় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার হবে উচ্চতর।

আমাদের অঙ্গীকার
আওয়ামী লীগ লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল গ্রহণ করবে। উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, যা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্জিত হবে। আওয়ামী লীগ তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

বৈদেশিক বাণিজ্য
* বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকার বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছে, যা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।
* মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য-সহযোগিতা যাতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, সে-লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
* ২০৩০ সাল নাগাদ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জনের জন্য নতুন পণ্য ও বাজার বহুমুখী করা হবে।
* কৃষিজাত পণ্য, সিফুড, হালাল পণ্য ও সেবা, হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধশিল্প এবং আইটি সেবার গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তা প্রদান করা হবে।
* ভারত, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও শ্রীলংকার সঙ্গে অংশীদারত্ব/মুক্ত বাণিজ্য/ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা জোরদার করা হবে।


* দক্ষিণ আমেরিকার (মার্কুসোরভুক্ত) দেশসমূহ, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ, পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সমীক্ষা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
* বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কে গবেষণা ও চুক্তি আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

আমার গ্রাম – আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সংবিধানে নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণের ব্যবস্থা, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার যুক্ত করেছিলেন। গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনা করে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্বসহকারে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* প্রতিটি উপজেলায় রাস্তাঘাট উন্নত ও সম্প্রসারিত হয়েছে, যা প্রতিটি গ্রামকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং উপজেলার সঙ্গে জেলা সদর ও জাতীয় সড়ক যুক্ত রয়েছে।
* প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ সুনিশ্চিত হয়েছে। সুপেয় পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সুসম্পন্ন হয়েছে, যা আরও উন্নত ও সম্প্রসারিত করা হবে।
* প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার সরকার গ্রহণ করেছে। বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
* উপজেলাসমূহে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ১০০ শয্যাতে উন্নীত করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছে।
* প্রতিটি ইউনিয়নে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সেবাকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। গ্রামের তরুণ-সমাজ এই সেবার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামের জনগণ এই সেবার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে যোগাযোগ করছে।
* যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের ফলে গ্রামীণ উৎপাদন ও বাজার-ব্যবস্থা গতিপ্রাপ্ত হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহজলভ্য ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে, গ্রামীণ চাহিদা মেটানোর জন্য কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। কৃষিজ ও অকৃষিজ উভয় ক্ষেত্রে কর্মকাণ্ড বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।
* জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্রুপ ভিত্তিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও সৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উৎসাহ ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
* গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র সেবাকেন্দ্র, ওয়ার্কশপ স্থাপন করে যন্ত্রপাতি মেরামতসহ গ্রামীণ যান্ত্রিকায়ন সেবা সম্প্রসারণ এবং এসবের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে। এসব সেবার পাশাপাশি হালকা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং উপকরণে বিনিয়োগ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
* গ্রামে অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি করা হবে।
* গ্রামের তরুণ যুব-সমাজের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে গ্রামেই আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তরুণদের কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় উৎসাহ বাড়াতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

তরুণ যুব-সমাজ : তারুণ্যের শক্তি – বাংলাদেশের সমৃদ্ধি
কর্মোদ্দীপ্ত তারুণ্য বাংলার অহংকার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ যুব-সমাজ। উন্নত, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুব-সমাজই প্রধান শক্তি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জনমিতির সুবিধা নিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দ্রুতায়ন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ ‘তারুণ্যের শক্তি Ñ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করেছে। এই সেøাগানের সফল বাস্তবায়নের জন্য যুব-সমাজকে আত্মপ্রত্যয়ী, দক্ষ এবং ইতিবাচক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা; তাদের সহজাত সম্ভাবনা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা; তাদের অর্থনৈতিক এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে সমর্থন করা আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জাতীয় যুবনীতি, ২০১৭’ প্রণয়ন এবং ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুব বিনিময় কর্মসূচিসহ আরও অনেক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
* বেকারত্বের হার ২০০৯ সালে ছিল ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা ৩.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
* যুব-সমাজকে সঠিক দিক-নির্দেশনা, কর্মোপযোগী কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে যুব উন্নয়ন পরিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে।
* যুব-সমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় যুবদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণোত্তর আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বীকরণ, যুবঋণ প্রদান, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি কর্মসূচি চালু হয়েছে।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মোহনী নেতৃত্ব ও বিশ্বজনীন স্বীকৃতির প্রভাব যুবদের মধ্যে প্রতিফলনের লক্ষ্যে ২০২২ সাল থেকে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রবর্তন করা হয়েছে।
* কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৩১ লাখ যুবকে ৮৩টি ট্রেডে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত ৭ লাখ ৫৪ হাজার জন আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে।
* গত ৫ বছরে ৪ হাজার ৬৪টি যুব-সংগঠন নিবন্ধন করা হয়েছে। যুব-কল্যাণ তহবিল থেকে বিগত পাঁচ বছরে ৯৩০টি যুব-সংগঠনকে ১৪ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
* প্রশিক্ষিত যুবদের প্রকল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য ঋণ কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ১২ লাখ ১০ হাজার উপকারভোগীকে মূল ও ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল থেকে ২ হাজার ৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এ পর্যন্ত দেশের ৪৭টি জেলার ১৩৮টি উপজেলা ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় এসেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার জন বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত হয়েছে।
* তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার জন্য ‘যুব গবেষণা কেন্দ্র’ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে যুব কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে ‘জাতীয় যুব কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে। জাতীয় যুব কাউন্সিলের সদস্যরা দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
* নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ চালক সৃষ্টির লক্ষ্যে যুবদের যানবাহন চালনা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫০০ জন দক্ষ যানবাহন চালক তৈরি করা হয়েছে।
* তথ্যপ্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লব উপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে মোবাইল ভ্যানে তৃণমূল পর্যায়ে পশ্চাৎপদ, অনগ্রসর যুবদের কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
* দেশের যুব-সমাজের উন্নয়নকল্পে শেখ হাসিনা ‘জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটট, সাভার, ঢাকায় ৭ হাজার ৫১৭ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি সংক্ষিপ্ত কোর্স ও ৩টি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে।
* গত পাঁচ বছরে বেশ কিছু আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে : যুব উদ্যোক্তা নীতিমালা, ২০২২; যুব প্রশিক্ষণ নীতিমালা, ২০২২; শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮; যুব উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২০; জাতীয় যুব কাউন্সিল বিধিমালা, ২০২১; যুব প্রশিক্ষণ নীতিমালা, ২০২২; যুব উদ্যোক্তা নীতিমালা, ২০২২; ক্রীড়া পরিদপ্তর এবং শারীরিক শিক্ষা কলেজ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০২২; শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা, ২০২২; জাতীয় যুব পুরস্কার নীতিমালা (সংশোধিত), ২০২৩।
* অনলাইন শ্রমের বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম (২১ শতাংশ) সেবা প্রদানকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ৬ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষিত যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের অর্জিত আয় ৫ মিনিটের মধ্যে দেশে আনার জন্য ‘প্রিয়পে’ চালু করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৬৬৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।
আমাদের অঙ্গীকার
* বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তরুণ-সমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। জনমিতিক পরিবর্তনে ২০৪১ সালে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স হবে ৩০ বছরের কম; ১৫-২৯ বছর বয়সের তরুণের সংখ্যা কম-বেশি ২ কোটি। বাংলাদেশের রূপান্তর ও উন্নয়নে আওয়ামী লীগ এই তরুণ ও যুব-সমাজকে সম্পৃক্ত রাখবে।
* কর্মক্ষম, যোগ্য তরুণ ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসারিত করা হবে। জেলা ও উপজেলায় ৩১ লাখ যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা প্রদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
* ২০৩০ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকদের সর্বশেষ হার ১০.৬ শতাংশ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩.০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
* নিরক্ষর ও স্বল্পশিক্ষিত তরুণ ও যুব-সমাজের জন্য যথোপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আত্মকর্মসংস্থানে উদ্যোগীদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
* অনলাইন শ্রমের বাজারে বিভিন্ন পেশাদারি সেবাসমূহ যুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ, পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা, পে-রোল, আইটি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজসহ আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র সংযুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
* যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ধীরে ধীরে দেশের সকল উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
* তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে।
* শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা ১৭.৮ শতাংশ যুবদের অনুপাত আগামী পাঁচ বছরে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২ লাখ যুবকদের মাঝে ৭৫০ কোটি টাকা যুব ঋণ বিতরণ করা এবং ২ লাখ ৫০ হাজার যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
* চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে দেশে-বিদেশে বিকাশমান কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোকে ঢেলে সাজানো হবে।
* যুব-সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য প্রতিটি উপজেলায় পাঠাগার স্থাপন, গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং ‘স্মার্ট ইয়ুথ হাব’ গড়ে তোলা হবে।
* যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেবার জন্য বিশেষ সেল গঠন করে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।
* অসহায়, অসমর্থ এবং শারীরিকভাবে অক্ষম যুবদের শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
* মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নিরসন এবং মাদকাসক্তদের ও মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
* অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটকে ‘Centre of Excellence’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
উন্নত কিংবা উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যাপ্ত, নির্ভরযোগ্য ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মূল্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংস্থান একটি পূর্বশর্ত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে বিদেশি শোষণ চিরতরে বন্ধ এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষা দিতে দেশের জ্বালানি ও খনিজসম্পদসহ সকল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু-হত্যার ২১ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের সময় (১৯৯৬ থেকে ২০০১) জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের ব্যাপক লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার সরকারের তিন মেয়াদে দেশে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক উন্নয়ন করা হয়। ফলে শিল্প ও বাণিজ্য খাত প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সুনিশ্চিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* একক জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরতার অতীতের সরকারগুলোর ভ্রান্তনীতি পরিহার করে শেখ হাসিনার সরকার জ্বালানি বহুমুখীকরণের নীতি গ্রহণ করেছে। মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
* দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
* মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২৮ কিলোওয়াট (২০০৮ সালে) থেকে বৃদ্ধি করে ৬০৯ কিলোওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে।
* বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।
* ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* ক্লিন এনার্জি, অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* বিদ্যুৎ খাতে নিম্নলিখিত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে :
ক) পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র;
খ) রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র;
গ) মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প।
* ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যুতায়িত বিতরণ লাইন ৬ লাখ ২৯ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৯ সালের পূর্বে ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার।
* রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হচ্ছে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে।
* বিদ্যুতের বিতরণ সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০০৯ সালের পূর্বে সিস্টেম লস ছিল ১৮.৮৫ শতাংশ।
আমাদের অঙ্গীকার
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়া ও উন্নয়নশীল বিশে^র একমাত্র সরকারপ্রধান, যিনি জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই নীতি অব্যাহতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
* নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
* বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ভাড়াভিত্তিক ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহ বন্ধ (রিটায়ারমেন্ট) করা হবে।
* পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য গ্রিড যুগোপযোগী করা হবে।
* নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি এবং এই অঞ্চলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাণিজ্য তরান্বিত করা হবে।
* সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ২৪ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে উন্নীত করা হবে।
* পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ও পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি খাতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* গ্যাসের উৎপাদন ২০২২ সালের জুন মাসে দৈনিক ২ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এটি ছিল দৈনিক ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট।
* সরকার ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, ২০৪১’-এর মাধ্যমে ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ কর্তৃক যৌথভাবে Integrated Power and Energy Master Plan (IPEMP)-2023-২০২৩ প্রণয়ন করেছে।
* নতুন ৬টি গ্যাসক্ষেত্র (সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ, ভোলা নর্থ, জকিগঞ্জ ও ইলিশা) আবিষ্কৃত হয়েছে। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-এর সক্ষমতা (একটি রিগ পুনর্বাসন, ৪টি নতুন রিগ ক্রয় ও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয়) বৃদ্ধি করা হয়েছে।
* দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশব্যাপী গ্যাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সরকারের সময়ে মোট ১ হাজার ৫২৩ কিলোমিটার ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
* ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা নিরসনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য প্রতিটি ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার দুটি ভাসমান টার্মিনাল (FSRU) স্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ FSRU যথাক্রমে কক্সবাজারের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রাতে স্থাপন, মহেশখালীতে বিদ্যমান একটি FSRU-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এলাকায় দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল’ নির্মাণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান।
* জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা ২০০৯ সালের ৯ লাখ মেট্রিক টন হতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.০৯ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হওয়ার ফলে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানোর/মজুদের সময়কাল ৩০ দিন থেকে ৪০-৪৫ দিনে উন্নীত হয়েছে।
* দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির শিলিগুড়ি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর, দিনাজপুর পর্যন্ত ১৩১.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
* গভীর সমুদ্রে ভাসমান আনলোডিং ফ্যাসিলিটি Single Point Mooring (SPM) with Double Pipeline স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকৃত তেল জাহাজ হতে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে খালাস করা হচ্ছে। ঝচগ সিস্টেম চালুর ফলে তেল পরিবহন খাতে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
* বর্তমানে দেশের পেট্রোল এবং অকটেনের চাহিদার প্রায় সম্পূর্ণটুকু অংশ সরকারি ও বেসরকারিভাবে স্থাপিত কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্ট ও Catalytic Reform Unit (CRU)-এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
* জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত তেল পাইপলাইন (২৪৯.৫৭ কিলোমিটার) নির্মাণ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি তেল জেট-এ-১ সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য প্রায় ২১ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণকাজ চলমান।
* তরল জ্বালানি সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। জানুয়ারি ২০০৯-এ লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মোট সরবরাহ ছিল ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ৩০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* নতুন কূপ খননের ফলে গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাফল্যের এই ধারাকে আরও বেগবান করা হবে।
* দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে; গ্যাস ও এলপিজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ করা হবে।
* জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কয়লানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতির ভিত্তিতে কয়লা ও খনিজসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
* বিদেশি তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কূপ খনন ও উন্নয়নের চুক্তিতে দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখা হবে।
* প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, উত্তোলন এবং গ্যাসের যুক্তিসংগত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
* জ্বালানি খাতে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিধি সম্পর্কে দেশের সক্ষমতা বিশ্বমানে উন্নীত করা হবে।
* ইস্টার্ন রিফাইনারির জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।

যোগাযোগ : মহাসড়ক ও সেতু
* যোগাযোগ-ব্যবস্থায় সরকারের সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ। জাতীয় মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতু গত ২৬ জুন ২০২২ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। কোনো রূপ বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয় সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প। এটি একদিকে যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক।
* কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণ আরেকটি বড় সাফল্য। ইতোমধ্যে টানেলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, যানবাহন চলাচলের জন্য ২৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে খুলে দেওয়া হয়েছে।
* ঢাকা মহানগরী এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে পরিবেশবান্ধব ৬ সেকশন ও ১০৫ স্টেশনবিশিষ্ট প্রায় ১৩০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল সেকশন চালু করা হয়েছে। কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে।
* বিশ্বমানের যোগাযোগ-ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে আরও বেশ কিছু মেগা প্রকল্প। বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট উল্লেখযোগ্য।
* নিরবচ্ছিন্ন মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিগত দেড় দশকে ৫ হাজার ৬৫৯টি সেতু ও ৬ হাজার ১২২টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

রেলওয়ে
* বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেলওয়ের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রেলপথ বিভাগকে গত ৪ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে উন্নীত করা হয়েছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য অধিক অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
* দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ দ্রুতায়ন ও সহজীকরণের লক্ষ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে নির্মিত রেলসংযোগ উদ্বোধন করা হয়েছে।
* দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
* পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সঙ্গে ঢাকা থেকে সরাসরি রেলসংযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
* জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিমিত্ত রেলওয়ের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন রুটে মোট ১৪২টি নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু এবং ৪৪টি ট্রেনের রুট বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আকাশপথ
* বিমান বাংলাদেশ ৪টি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও ৩টি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজসহ মোট ১২টি নতুন উড়োজাহাজ (২০১১-২০১৯) ক্রয় করে বিমানবহর আধুনিকায়নপূর্বক এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।
* কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে সুপিরিয়র বিমান অবতরণে সক্ষম দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দর। নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হচ্ছে।
* হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প (তৃতীয় টার্মিনাল), নতুন রাডার স্থাপন ও জেট ফুয়েল সরবরাহ করার জন্য পাইপলাইন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল থেকে বিমানবন্দরে বার্ষিক অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন যাত্রী হ্যান্ডলিং এবং ৪ মিলিয়ন টন কার্গো হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি তৈরি হয়েছে। উক্ত বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আরও ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বিদ্যমান থাকবে।

বন্দর ও নৌপথ
* নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথকে নিরাপদ, যাত্রীবান্ধব ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নৌবন্দরসমূহের আধুনিকায়ন, নৌপথের আধুনিকায়ন, নৌপথ সংরক্ষণ, নৌসহায়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন, নৌপথে নৌযান উদ্ধারকাজে উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহসহ নানাবিধ কার্যক্রম চলমান।
* রাজধানীকে ঘিরে নাব্য ও প্রশস্ত নৌপথ নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
* সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে চালু হয়েছে এবং এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
* মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দর ভালোভাবে সচল করার জন্য মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল পুনরায় ড্রেজিং করা হয়েছে।
* প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি নতুন মেরিন একাডেমি। এসব মেরিন একাডেমির শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* উন্নয়নের ধারা গতিশীল করার লক্ষ্যে সুনির্মিত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে।
* ২০৪১ সাল নাগাদ ১২টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়েগুলো হচ্ছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম (এলিভেটেড), ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা আউটার রিং রোড, ঢাকা-বগুড়া, মিরসরাই-কক্সবাজার, ময়মনসিংহ-বগুড়া, গাবতলী-পাটুরিয়া-কাজিরহাট, ফেনী-বরিশাল, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-দাশুরিয়া। বর্তমানে দেশে একটি এক্সপ্রেসওয়ে রয়েছে (ঢাকা-ভাঙ্গা)।
* জাতীয় মহাসড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়ককে চার-লেন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
* এমআরটি-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর ও নতুন বাজার-পূর্বাচল ডিপো), এমআরটি-২ (গাবতলী-কাঁচপুর সেতু), এমআরটি-৪ (কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ) ও এমআরটি-৫ (সাভার-ভাটারা) নির্মাণ ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
* ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং এক্সপ্রেস রেলওয়ে নির্মাণ সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
* ভারতের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য চিলাহাটি থেকে বর্ডার পর্যন্ত রেললাইন নির্মিত হচ্ছে।
* ছোট-বড় নদী খনন অব্যাহত থাকবে, নদীগুলোতে পরিচ্ছন্নতা এবং সারাবছর নাব্য নিশ্চিত করে সারাদেশে অতীতের নৌযোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। এতে পরিবহন খরচ কমে আসবে।
* ঢাকার চারদিকের নদীগুলোর নাব্য নিশ্চিত করে চক্রাকারে নৌযোগাযোগ-ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে গণপরিবহনের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে।
* আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ ও সম্প্রসারণের জন্য স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
* প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার লক্ষ্যে মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করা হবে।
* বাগেরহাট খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ অগ্রাধিকারসহ বিবেচনা করা হবে।
* বাংলাদেশ বিমানে সর্বাধুনিক বিমান যুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
* সড়ক নিরাপদ করার জন্য একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট)
সুউচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বৃহৎ প্রকল্পের (মেগা প্রজেক্ট) গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বন্দরসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব। সে-লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার তিন মেয়াদে অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট) গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। আশা করা যায়, জাতির অহংকার ও গর্বের প্রতীক পদ্মা সেতুসহ এই সকল প্রকল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি সঞ্চার করবে।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* ২০২২ সালের ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত দেশের সর্ববৃহৎ সেতু পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করেন। পদ্মা সেতুর ফলে সারাদেশে অবাধ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরাট প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এটি হবে Transnational Asian Highway Network-এর অংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
* ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা বহুমুখী সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত রেলওয়ে উদ্বোধন করার ফলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের অনেকগুলো জেলা রেল সংযোগের আওতায় এসেছে।
* মেট্রোরেল স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি ধাপ। এর ফলে ঢাকা নগরীর অসহনীয় যানজট থেকে নগরবাসী মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মাত্রা কমে আসবে। যোগাযোগ-ব্যবস্থা সহজতর হওয়ায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে, মেট্রোরেল মানুষের কর্মঘণ্টা সাশ্রয় করবে।
* চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৩.৩২ কিলোমিটার টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার সঙ্গে আনোয়ারাকে সংযুক্ত করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে ‘One City, Two Towns’ মডেলে গড়ে তোলা হয়েছে।
* ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আকাশপথে যোগাযোগ-ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
* ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা-ফার্মগেট অংশের উদ্বোধন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জগতে প্রবেশ করেছে।
* ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেলের উদ্বোধন ও প্রথম টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই বন্দর চালু হলে একই সঙ্গে কনটেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে।
* ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর বহু প্রতীক্ষিত ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। এ রেলপথ চালু হওয়ায় মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ এবং কক্সবাজার একটি স্মার্ট সিটিতে পরিণত হবে।
* ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর এবং ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর যথাক্রমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিপাত্র বা রি-অ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপনের কাজ উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ৩৩তম রাষ্ট্র হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
* বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
* ২০১৮ সালের আগস্টে দেশে প্রথম এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার কাজ শুরু হয়। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল যাত্রা শুরু করে। কক্সবাজারের মহেশখালীর এলএনজি ফ্লোটিং স্টোরেজের প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক উৎপাদন (রিগ্যাসিফিকেশন) সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
* পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর উপকণ্ঠে রাবনাবাদ চ্যানেল বরাবর গড়ে উঠেছে দেশের তৃতীয় বন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দর। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতের ফলে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট বন্দরটিতে প্রথমবারের মতো কনটেইনার জাহাজ নোঙর করতে শুরু করে।

আমাদের অঙ্গীকার
* সাশ্রয়ী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় কিছুসংখ্যক ব্যয়বহুল প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে, যা যথাসময়ে পুনর্বিবেচনা করে যুক্তিসংগত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নতুন প্রকল্প বিবেচনা ও গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

সুনীল অর্থনীতি
বিশ্ব অর্থনীতিতে সমুদ্র অর্থনীতি প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বহুবিধভাবে অবদান রেখে চলেছে। বিশ্ববাণিজ্যের ৯০ ভাগই সম্পন্ন হয় সামুদ্রিক পরিবহনের মাধ্যমে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরব্যাপী ৩ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে সমুদ্রকে ঘিরে। সমুদ্রের গুরুত্ব এবং বঙ্গোপসাগরের বহুমাত্রিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করেন। এই গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল’ অব দ্য সি (International Tribunal for the Law of the Sea-ITLOS)-এর রায়ে ২০১১ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের রায়ে ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট সমুদ্রসীমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার।
* গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে ‘সুনীল অর্থনীতি’কে সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করা, সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আহরণ ও সদ্ব্যবহার এবং অর্থনীতিতে এর অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সুনীল অর্থনীতি উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ প্রস্তুত করা হয়েছে।
* পায়রা বন্দরের নাব্য রক্ষার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। জাহাজ ভেড়ানোর জন্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে জেটি সম্প্রসারণের বাস্তবায়ন কাজ চলমান থাকবে।
* সব নদী ও সমুদ্রবন্দরে মেনটেইনেন্স ড্রেজিং অব্যাহত থাকবে।
* আওয়ামী লীগ সরকার সমুদ্র গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪টি মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছে।
* সাগর থেকে মৎস্য আহরণের নিমিত্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য এবং সামুদ্রিক প্রাণী আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানামুখী পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে; যার সুফল বাংলাদেশের মানুষ পাচ্ছে।
* বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। সরকার কোস্টাল ট্যুরিজমে গুরুত্ব আরোপ করায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সফলভাবে বাংলাদেশের জাহাজ কোস্টাল ট্যুরিজম পরিচালনায় অংশগ্রহণ করছে এবং জাহাজের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
* ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর ফলে দেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* লবণ চাষে উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার করে লবণ বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
* গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও সমুদ্রবন্দরসমূহে সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে এগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
* রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় জাহাজ তৈরির সক্ষমতা অর্জনের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এক্ষেত্রে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশ দূষণ রোধে পর্যাপ্ত গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
* কক্সবাজারের খুরুশকুলে ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের ঢেউ এবং জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
* বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করছে বাপেক্সসহ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
* বঙ্গোপসাগরে ভারী খনিজের (হেভি মিনারেল) সন্ধান পাওয়া গেছে। সমুদ্র উপকূলীয় খনিজ বালি ও মূল্যবান ধাতু অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে গবেষণা কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
* সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিনোদন ও মনোরম পরিবেশের ব্যবস্থা করে তা কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। দেশি ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
* বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় সমুদ্র উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, যা সুনীল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সামুদ্রিক মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণিজ সম্পদ চাষ ও আহরণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য নিরসন করা হবে।
* জাহাজ শিল্পের উন্নয়ন, মৎস্যসহ অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটনসেবার উৎকর্ষ সাধনের জন্য উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে।
* সাগর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার জন্য গবেষণা-জাহাজ সংগ্রহ করা হবে।

এমডিজি অর্জন এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন) বাস্তবায়ন কৌশল (২০১৬-৩০)
বাংলাদেশ এমডিজি (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতা, শিশু ও পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুদের মৃত্যুহার কমানো, মাতৃমৃত্যুহার কমানো, টিকা গ্রহণের পরিধি বাড়ানো ও সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব কমানোর ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে। এমডিজির ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিসহ ১৩৬ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অনুমোদন করেন। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এসডিজি প্রণয়ন ও প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিল।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
এসডিজি শুরুর সময়কাল ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়কাল একই হওয়ায় এসডিজির অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্র্ণ উন্নয়ন দলিলের লক্ষ্য ও সূচকগুলোতে সমন্বিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন, মুখ্য সমন্বয়ক এসডিজি পদ সৃষ্টি, হোল অব সোসাইটি অ্যাপ্রোচ গ্রহণসহ অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নে প্রথম সাত বছরে (২০১৬-২০২২) উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৬-২০ সালের পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করায় জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সমর্থনে সৃষ্ট ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক’ কর্তৃক ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ভালো করেছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে ১৬৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম। প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জেফরি স্যাকসের নেতৃত্বে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্কের (এসডিএসএন) স্বাধীন মূল্যায়নে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই মূল্যায়নে দেখা যায়, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি অভীষ্ট (গুণগত শিক্ষা এবং পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন) অর্জনে সঠিক পথে আছে দেশ। এছাড়া ৬টিতে (দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধা মুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি এবং শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) পরিমিত রূপে উন্নতি করেছে। ৫টি অভীষ্ট অর্জনে (জেন্ডার সমতা, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই নগর ও জনপদ, জলবায়ু কার্যক্রম এবং অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারত্ব) অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে। অর্থাৎ এগুলোতে উন্নয়ন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
যেসব অভীষ্টে বেশি নজর দিতে হবে, সেগুলো হলো শোভন কাজ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলজ জীবন রক্ষা এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটি হলো ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের ফলে বাণিজ্য সুবিধায় যে অভিঘাত আসবে, সেটি মোকাবিলা করা। বাংলাদেশকে আরও বেশি উদ্ভাবনী সৃজনশীলতা ও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে, বিশেষত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্নীতিমুক্ত সেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উচ্চমূল্য রপ্তানি পণ্য সৃষ্টি, রপ্তানি বৈচিত্রায়ণ।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০
ডেল্টা প্ল্যান তথা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ মূলত একটি অভিযোজনভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা, যা উন্নয়নের ফলাফলের ওপর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবহার, প্রতিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এদের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে বিবেচনা করে করা হয়েছে। ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার রূপকল্প হচ্ছে নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাত সহিষ্ণু সমৃদ্ধিশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা। মহাপরিকল্পনার মিশন হচ্ছে দৃঢ়, সমন্বিত ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল কার্যকরী কৌশল অবলম্বন এবং পানি ব্যবস্থাপনা ন্যায়সংহত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপসংক্রান্তÑ সমস্যা মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদি পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
জাতীয় উন্নয়নের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে : ১. ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ; ২. ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন এবং ৩. ২০৪০ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর কাক্সিক্ষত লক্ষ্য হচ্ছে ৬টি। এগুলো হলো : ১. বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ২. পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা; ৩. সমন্বিত ও টেকসই নদী অঞ্চল এবং মোহনা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা; ৪. জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং সেগুলোর যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা; ৫. অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন গড়ে তোলা এবং ৬. ভূমি ও পানিসম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সামাজিক নিরাপত্তা ও সেবা : সর্বজনীন পেনশন
সর্বজনীন পেনশন হলো আওয়ামী লীগ সরকার প্রবর্তিত একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। একজন ব্যক্তির বয়স ও অবদানের হিসাবের ওপর নির্ভর করে অবসরকালীন সুবিধার তারতম্য হয়ে থাকে। মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্য অর্থ আয়করমুক্ত থাকবে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন প্রণীত হয় এবং ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
দেশের ৮ কোটির বেশি মানুষ এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। বাংলাদেশে এখন পর্যন্তÑ শুধু সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরের পর পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু দেশের সব কর্মক্ষম মানুষকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনতে নতুন এই আইন প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব বা বার্ধক্যের কারণে নাগরিকদের সরকারি সাহায্য দেওয়া, বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। সমাজের সব অংশের মানুষ যাতে সর্বজনীন পেনশন সুবিধা পায়, সে-জন্য রয়েছে ৪টি স্কিম : ১. প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘প্রবাস’; ২. ব্যক্তি মালিকানাধীন/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ‘প্রগতি’; ৩. স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকদের জন্য ‘সুরক্ষা’ এবং ৪. স্বকর্মে নিয়োজিত অতি দরিদ্রদের জন্য ‘সমতা’।
বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে ২ কোটির বেশি মানুষের বয়স হবে ৬০-এর ওপরে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৫ বছরের ওপরে দরিদ্র বয়স্কদের ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেয় সরকার। তবে ৬৫ বছরের ওপরে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো ধরনের পেনশন ও বয়স্ক ভাতাÑ কিছুই পান না। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সর্বজনীন পেনশন গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জনগণের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ জন্ম নেবে। আজ বয়স্ক মানুষরা যেভাবে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, সেই ভাবনা তাদের মধ্যে আর থাকবে না।

নারীর ক্ষমতায়ন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও সম-অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯৭২ সালে সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সম-অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নারীর ক্ষমতায়ন, উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা ও সম-অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় নারীনীতি ২০১১ প্রণয়ন করে। নারীনীতি অনুযায়ী সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে নারীর অগ্রগতি আজ দৃশ্যমান।
উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৫টি বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছে। রাজনীতিতে নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে নারী আসন এক-তৃতীয়াংশে উন্নীতকরণ ও সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* নারী ও শিশুর সুরক্ষা আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০; নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আলোকে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* নারীদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ২০১০-এর ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
* নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৩০ কর্মজীবী নারী শ্রমিকের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* নারীদের ব্যবসা উদ্যোগকে সমর্থন ও সহায়তার জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য অনলাইন মার্কেট প্লেস ‘ই-জয়িতা’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
* নারী ও শিশুদের সেবা প্রদানের জন্য মোট ১৪টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ৪৭টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সেবা ১০৯ চালু করা হয়েছে।
* গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের ই-কমার্সে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ই-কমার্স মার্কেট প্লেস ‘লালসবুজডটকম’ প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে সাড়ে ১৪ হাজার উদ্যোক্তা ‘লালসবুজ ডটকম’-এ নিবন্ধন ও পণ্য আপলোড করে বিক্রয় করছেন।
* গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে ‘তথ্য আপা : ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প দেশের ৪৯০টি উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা ও তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
* জেন্ডার সমতার জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিকৌশল গ্রহণ ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে World Economic Forum-Gi Gender Gap ২০২২ সালে ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে।
* কর্মজীবী মায়েদের নিরাপদে কাজ সম্পাদনের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য ১২৫টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭৩০ জনকে দিবাকালীন সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
* নারীর জন্য শোভন কর্ম সৃজনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। নারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মিত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের বাইরে তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ৬৪টি জেলার ৪৮৮টি উপজেলার মাধ্যমে ২.২৭ লাখ জনকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এসএমই ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
* বিগত দেড় দশকে উপবৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অবৈতনিক শিক্ষা দেওয়ার ফলে নারী শিক্ষার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমনÑ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের ভর্তির হার এখন ৫১ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে তা ৫৩ শতাংশ।
* শিক্ষা খাতের পাশাপাশি অর্থনীতিতে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমবর্ধমান। জিডিপিতে নারীর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।
* কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ সহজ করতে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন এবং ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে খোলা হয়েছে গ্রামভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক।
* সকল জেলায় নারী নির্যাতন সংশ্লিষ্ট মামলা-মোকদ্দমার জন্য জেলা জজের সমমর্যাদায় পৃথক আদালত স্থাপন করা হয়েছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসন কার্যক্রম নারী নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে প্রণীত হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে।
* নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নারী উন্নয়নে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গ্রামীণ নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং শ্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
* আওয়ামী লীগ থেকে ক্রমেই বেশিসংখ্যক নারী সাধারণ আসনে নির্বাচিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ও কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা।
* কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, কর্মবান্ধব পরিবেশ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত থাকবে। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) এবং কর্মজীবী মহিলাদের জন্য ঢাকা ও জেলা সদরে হোস্টেল নির্মাণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
* আওয়ামী লীগ সরকার নারী ও শিশু পাচার কঠোর হাতে দমন এবং পাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে, যা অধিকতর সক্রিয় ও কার্যকর করা হবে।
* নারী উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে আর্থিক সহায়তা, পরামর্শদান এবং সংস্থান নিশ্চিত করা হবে। ই-কমার্সের সঙ্গে সংযুক্ত নারীদের বা নারী মালিকানাধীন ব্যবসার জন্য অনুদান, ঋণ ও বিনিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজির অভিগম্যতা সহজতর করা হবে।
* দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত প্রায় সমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী ৩৬.৩০ শতাংশ। উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান এবং কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
* নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী গড়ে তোলার কাজে ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’-এর কার্যকর ভূমিকা সম্প্রসারিত হবে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় সদরে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
* নারী নির্যাতন সংশ্লিষ্ট পৃথক আদালতের মামলায় বাদীপক্ষকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে।
* বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ কার্যকর করার ব্যাপারে অধিকতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিরক্ষা : নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা
দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অধিকতর শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে আধুনিক সমরাস্ত্র, যানবাহন এবং প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানো ছাড়াও সেনাসদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত ‘প্রতিরক্ষা নীতিমালা, ১৯৭৪’-এর আলোকে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চলমান। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার যে নীতি নিয়েছিল, তা অব্যাহত থাকবে। বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন আধুনিক, স্মার্ট ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা ও গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

উন্নয়ন ও অগ্রগতি
* ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর আলোকে দেশের প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৩টি কোর গঠন করা হচ্ছে। এছাড়া সিলেট, রামু (কক্সবাজার), বরিশাল, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনসহ ৪টি ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা, সেনাবাহিনীতে নতুন ৩টি পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু কম্পোজিট ব্রিগেড, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ, প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড, আকাশ নিরাপত্তায় একটি এয়ার ডিফেন্স ব্রিগেডসহ অনেক নতুন ইউনিট/সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
* সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সমরশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেনাবাহিনীতে নতুন প্রজন্মের ট্যাংক, ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, আর্টিলারি গান, আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবস্থাসহ লোকেটিং রাডার, সশস্ত্র ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টার, রেডিও যোগাযোগ-ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি ইত্যাদি সংযোজন করার পাশাপাশি পুরাতন অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির আপগ্রেডেশন কার্যক্রম চলমান।
* সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বৈদেশিক নির্ভরশীলতা দূরীকরণের লক্ষ্যে দেশেই বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করার পাশাপাশি এর পরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম চলমান।
* পুরুষের পাশাপাশি সকল স্তরে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতিবছরই তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
* সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি, পদসমূহের শ্রেণিবিন্যাস উন্নত করা, বেতন বৃদ্ধি, সদস্যদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ গৃহীত বহুমুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
* প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অবসরোত্তর ছুটি ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর, ছুটি নগদায়নের অর্থ ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীতকরণ, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ অনুদান বৃদ্ধিসহ কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের অবসর ভাতা ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের রেশন ভাতা বৃদ্ধি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
* জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ সমুন্নত রাখার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
* সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা, নজরদারি, দুর্ঘটনা রোধ, চোরাচালান, জলদস্যুতা ও অন্যান্য নাশকতামূলক অপতৎপরতা রোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক সফল কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
* দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালে বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নৌঘাঁটিসহ পূর্ণাঙ্গ সুবিধা-সংবলিত নেভাল এয়ার স্টেশন ‘বানৌজা শের-ই-বাংলা’ এবং সাবমেরিন ঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ স্থাপন কার্যক্রম চলমান।
* আবহাওয়া অধিদপ্তর অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য BMD Weather App এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে BMD Aquaculture App প্রবর্তন করেছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য অটোমেটিক ওয়েদার সিস্টেম, Thunderstorm and Lightning Detection System, Air Quality Monitoring System এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের জন্য Digital Seismometer স্থাপন করা হয়েছে।
* বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর ডিজিটাল ম্যাপিং সেন্টার নির্মাণ করেছে এবং আট বিভাগে ও ৬৪ জেলায় ডিজিটাল ম্যাপ প্রকাশ করেছে।
* বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক বন্যা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে বর্ধিত বন্যাকবলিত এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ফসল এবং বন্যাকবলিত জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করছে।
* স্পারসো স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন, বাংলাদেশের নিজস্ব দূর অনুধাবন স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন, মহাকাশ শিল্পপার্ক স্থাপনসহ নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আমাদের অঙ্গীকার
* জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে, এর আলোকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনার উন্নতি অব্যাহত থাকবে।
* আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার নীতি অব্যাহত রাখবে।
* প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা অনুসরণ অব্যাহত থাকবে।
* সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের পেশাগত দক্ষতা এবং তাদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
* দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা হবে।
* সশস্ত্র বাহিনীর সকল শ্রেণির সদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য