Sunday, July 3, 2022
বাড়িSliderদীর্ঘজীবী হওয়ার উপায়- মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট

দীর্ঘজীবী হওয়ার উপায়- মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট

আজকাল স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা উঠলেই মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট-এর কথা উঠে আসে। মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট বা ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তি হচ্ছে ইতালি, গ্রিস, ইত্যাদি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের ষাটের দশকের খাদ্যাভ্যাস। এই ডায়েট খুব স্বাস্থ্য উপকারি এবং এটা ওজন কমাতে ও হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ষাটের দশকে যারা এই ডায়েট অনুসরণ করেছেন তাদের অনেকেই ১০০ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে ছিলেন।

যেসব অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করতে হবে
* চিনি মেশানো খাবার : ক্যান্ডি, আইসক্রিম, চিনি এবং আরও অনেক খাবার।
* পরিশোধিত শস্যদানা : ময়দার রুটি, পাউরুটি, পাস্তা ইত্যাদি।
*  ট্র্যান্স ফ্যাট : মার্জারিন এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা চর্বি।
*  পরিশোধিত তেল : সয়াবিন, ক্যানোলা তেল ইত্যাদি।
*  প্রক্রিয়াজাত মাংস : সসেজ, স্যান্ডুইচের মাংস, প্রক্রিয়াজাত ফ্রোজেন মাংস ইত্যাদি।
*  বেশি মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার : যেসব খাবারের লেবেলে লেখা ‘লো ফ্যাট’ কিংবা ‘ডায়েট’ বা যেসব খাবার দেখলে বোঝা যায় এগুলো ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত।

যেসব খাবার খেতে হবে
মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট অনুসরণ করার অনেকগুলো পদ্ধতি আছে, যেহেতু বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন খাদ্য খেয়ে থাকেন।
তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ডায়েটে থাকবে বেশি উদ্ভিদজাত খাদ্য এবং খুব কম পশুজাত খাবার।
তবে সপ্তাহে অন্তত দুদিন মাছ এবং সামুদ্রিক মাছ খেতে বলা হয়েছে।
মেডিটেরেনিয়ান জীবনধারায় স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি ব্যায়াম করতে হবে, খাবার অন্যদের সাথে ভাগ করে খেতে হবে এবং জীবনকে উপভোগ করতে হবে।
আপনার উচিত হবে নিচের লিস্টে দেওয়া স্বাস্থ্যকর, অপ্রক্রিয়াজাত মেডিটেরেনিয়ান খাবার খাওয়া :
* শাক-সবজি : টমেটো, ব্রকলি, পালং শাক, পেঁয়াজ, ফুলকপি, গাজর, শসা, ব্রাসেলস স্পাউট।
* ফল : আপেল, কলা, কমলা, নাশপাতি, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, খেজুর, ডুমুর, তরমুজ, বাঙ্গি, ইত্যাদি।
* বাদাম এবং বীজ : আলমন্ড (কাঠ বাদাম), আখরোট, ম্যাকাডেমিয়া নাট, কাজু বাদাম, সূর্যমুখী ফুলের বীজ, কুমড়ার বীজ, ইত্যাদি।
* শুঁটি বা কলাই : বিন, মটরশুঁটি, মুসুর ডাল, ছোলা, চিনা বাদাম, ইত্যাদি।
* কন্দ : আলু, মিষ্টি আলু, শালগম, ইত্যাদি।
* হোল গ্রেন : ওট, বাদামি চাল, রাই, বার্লি, ভুট্টা, আটা, হোল গ্রেন রুটি, হোল গ্রেন পাস্তা, ইত্যাদি।
* মাছ এবং সামুদ্রিক মাছ : স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ইলিশ, পাবদা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, ইত্যাদি।
* পোল্ট্রি : মুরগি, হাঁস ও টার্কির মাংস ইত্যাদি।
* ডিম : মুরগির ডিম, হাঁসের ডিম এবং কোয়েলের ডিম।
* দুগ্ধজাত খাবার : চিজ, দই, ইত্যাদি।
* মশলা এবং ভেষজ : রসুন, পুদিনা পাতা, তুলসি পাতা, দারুচিনি, জায়ফল, রোজমেরি, মরিচ, ইত্যাদি।
* স্বাস্থ্যকর ফ্যাট : এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, জলপাই, আভোকাডো, আভোকাডো অয়েল।

কফি এবং চা পান করা যাবে, তবে কোমল পানীয় এবং ফলের জুস বাদ দিতে হবে।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য