Saturday, July 13, 2024

তিমির-বিদার উদার অভ্যুদয়

সম্পাদকীয় : অভিনন্দন জননেত্রী শেখ হাসিনা। অভিনন্দন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অভিনন্দন বাংলাদেশের বিজয়ী জনগণ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, বর্তমান বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হচ্ছে, জনগণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভরসাস্থল। বাংলাদেশ আপাতত রাহুগ্রাস মুক্ত!
সকলেই জানেন, ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের মনে সংশয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টির জন্য দেশি-বিদেশি কুচক্রীমহলের কী মর্মান্তিক প্রচেষ্টা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের অনুসারী বিএনপি ও তার মিত্র জামাতসহ উগ্র-প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সংবিধানবিরোধী তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। তাদের এই আন্দোলন যতক্ষণ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল, ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষের একটি অংশ বিএনপি আহূত সভা-সমাবেশে যোগদান করেছে। বিএনপির মূল নেতা দুর্বৃত্তকুল শিরোমণি দণ্ডপ্রাপ্ত লন্ডনে পলাতক আসামি তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলার ভেতর দিয়ে বিএনপি-জামাত গোষ্ঠী সূচনা করে হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি দেশবিরোধী ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ। রেলে, বাসে, রাজপথে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষের জীবনহানি ঘটায়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নিশান বরদার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত এই বর্বরতার বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার ছিল না, উল্টো বাংলাদেশ সরকারের নানাভাবে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখে।
কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অবাধ নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়। ফলে ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিজয়ী হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীরা ছাড়াও ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বৈধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। ফলে নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি নির্বাচন হয়ে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
বাংলাদেশের ঐতিহ্য অনুসারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিএনপি-জামাত জোটের নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। নির্বাচনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সকল দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে।
অন্ধকারের অপশক্তির পরাজয়ের ভেতর দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার আলোকোজ্জ্বল পথেই পুনরায় জনগণের রায় পেয়েছে। সকল সন্দেহ-সংশয়ের আশঙ্কা ঘুচিয়ে প্রিয় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তিমির-বিদার উদার অভ্যুদয়ের পথে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য