Sunday, February 5, 2023
spot_img
বাড়িSliderতিনি যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে থাকবেন

তিনি যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে থাকবেন

তিনি ক্ষমতায় না থাকলে দেশের অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগ করতে হবে, এমনকি গয়েশ্বর রায়কেও দেশ ত্যাগ করতে হবে। যারা আমরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি, তাদের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন: শরতের বিকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুর-লয় সঙ্গী করে মঞ্চে আসেন নন্দিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শামা রহমান। মাধুর্যময় কণ্ঠে ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে/আমার মুক্তি আলোয় আলোয়/আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে…’ গানে গানে সূচিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ ছাড়িয়ে যাওয়া ৭৬-এর জন্মজয়ন্তীর আয়োজন। ‘সবার আপনজন’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’। সূচনা পরিবেশনার পরপরই প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্র ‘শেখ হাসিনা : কোটি প্রাণের ভালোবাসা’।
তথ্যচিত্রে উঠে আসে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রূপকথার গল্প। ভেসে ওঠে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়মূলক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের চিত্র। সেই সঙ্গে উচ্চারিত হয় এই পরিবর্তনের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। দুই পর্বের এই আয়োজন কথা-গান-নৃত্য ও তথ্যচিত্রের সঙ্গে কবিতার শিল্পিত উচ্চারণের মেলবন্ধন আবিষ্ট করেছে অভ্যাগতদের। গত ৪ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা পর্বে মূল বক্তা ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসীর মামুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়ে বলেন, তিনি ক্ষমতায় না থাকলে দেশের অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগ করতে হবে, এমনকি গয়েশ্বর রায়কেও দেশ ত্যাগ করতে হবে। যারা আমরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি, তাদের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না। ৪ অক্টোবর বিকালে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মুখপত্র ‘উত্তরণ’ আয়োজিত ‘সবার আপনজন’ শীর্ষক কথা, গান, কবিতা, আবৃত্তি ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ-কথা বলেন। আলোচনা পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ‘উত্তরণ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মুক্তিযোদ্ধা ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সঞ্চালনা করেন ‘উত্তরণ’-এর বার্তা সম্পাদক আনিস আহামেদ এবং দ্বিতীয় পর্ব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেবউননেছা।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা মুনতাসীর মামুন বলেন, দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা ধারাবাহিকভাবে থাকলে একদিন আর এসব উন্নয়নকে উন্নয়ন নয় জনগণ অধিকার হিসেবে জানবে। সেদিন উন্নয়নের জন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের নাম মনে থাকবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের একটি মৌল পরিবর্তনের যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তার জন্য তিনি যুগে যুগে দেশের মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মারা যাওয়ার পরে একটি পক্ষ দেশকে পাকিস্তান রাষ্ট্র আর পাকিস্তানি দর্শনের দিকে নিয়ে গেছেন। দেশের ৩৫ শতাংশ মানুষ জিয়াউর রহমান-এরশাদ-খালেদা জিয়া আর নিজামীর সমর্থক। তারা দেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। জামাত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিরোধিতা করেছে। মির্জা ফখরুলের মতো লোক পাকিস্তানি শাসনের গুণগান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিক গণতন্ত্রমনা, তাই এখনও বিএনপি-জামাতকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। এই ইতিহাসবিদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে এখনও স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তি আছে। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে না আসতেন, তবে বিএনপি-জামাত দেশকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলত। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসায় তারা আর সেটি পারেনি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। তিনি একই সাথে ধার্মিক ও অসাম্প্রদায়িক, তাই সব ধর্মের লোক দেশে মিলেমিশে আছে। তিনি বলেন, ৭০ বছর ধরে অমীমাংসিত স্থল ও সমুদ্র জলসীমা শেখ হাসিনা ঠিক করেছেন। গঙ্গা চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করেছেন। গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছেন, যা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে হয়নি। দেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি আর অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখতে আগামীতেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সারাবিশ্বে যখন মন্দা তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার জন্যই দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার বিস্তার হয়েছে। এখন এসব কিছুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তার ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন। এ সময় তিনি বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বলেন, এখন যদি কোনো দল বলে তারা নির্বাচনে আসবে না, তাহলে তারা পলিটিক্যাল সিস্টেমের বাইরে চলে যাবে। তাই দেশের পলিটিক্যাল সিস্টেম ধরে রাখতে সকল দলকে নির্বাচনে আসতে হবে। অনুষ্ঠান সভাপতি ‘উত্তরণ’ সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, যারা বক্তব্য রাখলেন তাদের আমি কৃতজ্ঞা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি এখানে আসার জন্য। আমি কবি, আবৃত্তিকার, সংগীত ও নৃত্যশিল্পীদের ‘উত্তরণ’-এর পক্ষে থেকে অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের ওপর ভরসা করার মতো তেমন কেউ নেই। তেমনই দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। ১৯৮১ সালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই নানান ঝড়, ঝঞ্ঝা ও হত্যার হুমকিÑ সবকিছু মোকাবিলা করেই তিনি আজকে বিশ্ব রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে বিশেষ আসন গ্রহণ করতে পেরেছেন। আমরা তার জন্য গর্বিত। আমাদের জাতি পরিচয়, আমাদের আত্মপরিচয়, সংবিধানের মূলনীতিগুলো তিনি আবার সংবিধানে ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়া তথা তৃতীয় বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে। এই কৃতিত্ব একান্তভাবে প্রাপ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠান সভাপতি বলেন, ১৯৮১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সংকট, বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে তাকে এগুতে হয়েছে। ১৯৮১ সালে যখন তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন; তখন আওয়ামী লীগের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। আওয়ামী লীগের ভিতর নানান দল- উপদল ছিল, তাকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আনা হয়। শেখ হাসিনা তার পিতার মতো আওয়ামী লীগকে দাঁড় করাতে দেশের সর্বত্র গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এই কাজ করতে গিয়ে পথের মাঝে তাকে অনেককেই ছেড়ে দিতে হয়েছে; অনেকে তাকে সহ্য করতে পারেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে আর কোনো বিভাজন নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিশেষ করে বামদেরও ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
সভাপতি শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, তিনি আমার সহপাঠী। আমরা একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। রাজনীতির বাইরেও তাকে জানার সুযোগ হয়েছে। আমি মনে করি, শেখ হাসিনা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার পিতাকেও অতিক্রম করে গেছেন। জাতির পিতা একটা দেশ দিয়ে গেছেন; তিনি সে-দেশটাকে গড়ে তুলেছেন, তার ভিত্তি রচিত হয়েছে। আমরা আশা করি, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলবেন আর দুখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবেন; শেখ হাসিনা সেই কর্তব্য দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করেছেন এবং করে যাবেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অসীম সাহা, নাসির আহমেদ, আনিসুল হক, কামাল চৌধুরী, তারিক সুজাত ও মাসুদ পথিক স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও শাহাদাৎ হোসেন নিপু। দ্বিতীয় পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম, শারমিন সাথী ময়না, শামা রহমান ও মকবুল হোসেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও শাহরিনের পরিচালনায় ‘শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা’ এবং ‘মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা’ শিরোনামে দুটি নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য