Friday, February 23, 2024

টুকরো স্মৃতি

মো. মু জি বু ল হ ক:  বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৫৭ সালে। যদিও তার আগে তাকে সামান্য চিনতাম। তিনিও আমাকে অতি সামান্যই চিনতেন। যাক সেসব কথা। ১৯৫৭ সালে আমি যখন মাদারীপুরের মহকুমা প্রশাসক, তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন হয়, যা মাদারীপুরের উপনির্বাচন বলে সে-আমলে সুপরিচিত ছিল। আতাউর রহমান খান পূর্ব পাকিস্তানের চিফ মিনিস্টার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে পরিপূর্ণভাবে শুধু রাজনীতিতেই যুক্ত হলেন।
ওই উপনির্বাচনে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এ জন্য যে কিছুদিন আগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন এবং আই আই চু-িগড় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। নির্বাচনটি হয়েছিল মাদারীপুরের নড়িয়া থানায়। বর্তমানে নড়িয়া থানা মাদারীপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শরীয়তপুর জেলার একটি উপজেলা।
তখন পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতা সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগের প্রার্থীর (গোলাম মাওলা, যিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিয়নের ভিপি এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় যার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়) পক্ষে প্রচারাভিযানে নড়িয়ায় আসেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন তদানীন্তন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী আবুল মনসুর আহমদ, বঙ্গবন্ধু এবং পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী মতিউর রহমান (যশোর)।
মাদারীপুর মহকুমার প্রশাসক হিসেবে ওই নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার আমি।
যে লঞ্চটিতে সোহরাওয়ার্দী এবং তার সফরসঙ্গীরা নড়িয়ায় গিয়েছিলেন, সে লঞ্চটিতে আমি ও তৎকালীন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মরহুম আহমেদ ফজলুর রহমান সফরকারী মেহমানদের দেখভাল করছিলাম। ওইদিন কোনো এক সময়ে সবার উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, “অমুক সেন্টারের অমুক প্রিসাইডিং অফিসারকে তুলে নাও এবং সেখানে অন্য লোক দাও।” (যদিও আগেই সব ঠিক করে রাখা হয়েছে এবং সবাইকে তা জানিয়েও দেওয়া হয়)।
আমি বললাম, “স্যার, আমরা তো অনেক যাচাই-বাছাই করে ওনাকে দিয়েছি। এখন ওই অফিসারকে সরিয়ে নিলে অপরপক্ষ এ নিয়ে কথা উঠাবে। ওই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রটিতে যাকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তিনি ছাড়া নিরপেক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তি এ মহকুমায় আর আছে বলে মনে করি না।”
তিনি মানতে চাইলেন না। বরং একটু শক্তভাবেই বললেন, “তোমাকে এটা করতেই হবে।”
আমি বললাম, “স্যার, সম্ভব নয়।”
তখন বঙ্গবন্ধু এতই উত্তেজিত হলেন যে সোহরাওয়ার্দী সাহেব বঙ্গবন্ধুকে থামিয়ে কথাটি নিজেই আমাকে বললেন এভাবে, “ইয়াং ম্যান, ইজ ইট ইয়োর কনসিডার্ড জাজমেন্ট দ্যাট ইউ ক্যান হোল্ড দ্য ইলেকশন ফেয়ারলি ইন দিস সেন্টার উইথ দ্যাট জেন্টলম্যান অ্যাট দ্য প্রিসাইডিং অফিসার?” (আপনি কি বিচার-বিবেচনা করেই বলছেন যে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ওই কর্মকর্তাকে দিয়ে আপনি সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে পারবেন?)
আমি বললাম, “ইয়েস, স্যার। আই অ্যাম কনফিডেন্ট।” (জনাব, আমি নিশ্চিত।)
এরপর সোহরাওয়ার্দী সাহেব রাজি হয়ে বললেন, “ওকে, গো অ্যাহেড।” এরপর অনেক পানি প্রবাহিত হলো। ওই প্রিসাইডিং অফিসারকে নিয়ে ওই কেন্দ্রে নির্বাচন হলো। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মাওলা জিতলেন। সেই কেন্দ্রটিতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেলেন।
পরে বঙ্গবন্ধু আমি যখন মহকুমা প্রশাসক তখন আরেকবার মাদারীপুরে এলেন। লঞ্চ থেকে নেমে সফরসঙ্গীসহ আমার বাসায় উঠলেন। আমাকে বললেন, “মজিবুল হক, ভাত খাব। আর হ্যাঁ, সেদিন লঞ্চে বড় ভাইয়ের কথায় কি রাগ করেছিলে?”
আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।

দুই
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে ইসলামাবাদে কর্মরত ছিলাম। বাংলাদেশ সরকারের সপক্ষে অপশন দেওয়ার ফলে আমরা বাঙালিরা চাকরিচ্যুত হয়ে প্রায় গৃহবন্দি। তারপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, দৈহিক এবং মানসিক কষ্ট সহ্য করে আফগানিস্তানের গুহায় পোকামাকড়ের সঙ্গে রাত্রিযাপন, সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ডিঙিয়ে সরু চোরাই পথে, কখনও কখনও খচ্চরের পিঠে চড়ে, বুকসমান পানি দিয়ে, শিশুদের পিঠে বেঁধে, দুর্গম পাহাড় ও আফগানিস্তানের পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে কাবুল পৌঁছাই। ঘটনাটি ১৯৭৩ সালের মে মাসের। অবশ্য সে কাহিনি অনেক মর্মান্তিক, অন্য সময়ে সুযোগ হলে বলব।
তো ১৭ মে ১৯৭৩ সালে আমি দিল্লি হয়ে কাবুলে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সৌজন্যে দিল্লি হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাই। ঢাকায় এসে পরদিন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইলি রোডের সুগন্ধায় তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে যাই।
ভেতরে খবর পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি দরজার বাইরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “তুমি এসেছ? আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।”
তখন তিনি আমার পরিবার-পরিজনের কথা জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় উঠেছি, কীভাবে উঠেছি ইত্যাদি। হঠাৎ তিনি বললেন, “কোথায় জয়েন করবে?”
আমি বললাম, “স্যার, আপনি প্রধানমন্ত্রী। আপনি যেখানে নির্দেশ করবেন, সেখানেই জয়েন করব।”
তিনি ইংরেজিতে বললেন, “আই গিভ ইউ চয়েস।”
আমি বললাম, “না, স্যার। আমি পছন্দ করে পদ বেছে নেব, এটা আমার নীতি নয়।”
তখন তিনি বললেন, “তুমি আমার সেক্রেটারি (সেক্রেটারি টু প্রাইম মিনিস্টার) হও।”
আমি বললাম, “না, স্যার। ওটা ছাড়া।” (তখন সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু আবদুর রহিম)।
বঙ্গবন্ধু বললেন, “কেন?”
চট করে জবাব দিলাম, “আপনার এত কাছে থাকলে পরে আপনি আমাকে আর পছন্দ করবেন না, এ জন্য।”
মুচকি হেসে তিনি বললেন, “রহিম তোমার বন্ধু, তাই না?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, স্যার।”
তখন তিনি বললেন, “তাহলে ভেবে দেখো কোথায়, কোন পদে যাবে। কাল এসো।”
সেদিনের জন্য বিদায় নিলাম। পরদিন গেলাম। স্বল্পক্ষণ অপেক্ষা করার পর একান্ত সাক্ষাৎ পেলাম (বঙ্গবন্ধুর পিএস নূরুল ইসলাম অনুর তৎপরতায়)।
বঙ্গবন্ধু বললেন, “কী ঠিক করেছ?”
আমি বললাম, “আমার তো ঠিক করার কথা নয়। আপনি আমাকে যেখানে ঠিক করেছেন, সেখানে যাব।”
বঙ্গবন্ধু বললেন, “মুজিবুল হক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়টি পুনর্গঠন করা দরকার। সেখানে বহু ফোর্স, যেমনÑ এস ফোর্স, কে ফোর্স, জেড ফোর্স, গণবাহিনী, মুক্তিবাহিনীসহ আরও অনেক বাহিনী ও আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সের বাঙালি অফিসার, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাদের একটি কাঠামোর মধ্যে কী করে আনা যায়, সে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি। তো তুমি যদি ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেও, তাহলে ভালো হয়।”
আমি বললাম, “ইফ ইট ইজ ইয়োর অর্ডার, আই অ্যাম বাউন্ড টু এক্সেপ্ট ইট।” (এটা যদি আপনার আদেশ হয়, তাহলে আমি মেনে নিতে বাধ্য)।
তিনি বললেন, “তোমাকে আমি বাধ্য করতে চাই না। খুশি হয়ে জয়েন করতে হবে।”
একটু হেসে আমি বললাম, “তাই করব।”
আমি ওই পদে থাকাকালীন কিছু টুকরো স্মৃতি বলতে চাই।
তখন আমরা পাকিস্তান থেকে আটকেপড়া বাঙালি সৈনিকদের ফেরত আনার কর্মসূচি শুরু করি।
প্রখ্যাত আর্মি অফিসার লে. জেনারেল ওয়াসীউদ্দিন যেদিন ঢাকায় এসেছেন, ওইদিনই সম্ভবত বঙ্গবন্ধু একান্ত আলাপচারিতায় বললেন, “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জেনারেল ওয়াসীউদ্দিনকে কোথায় বসাবে?”
আমি বললাম, “স্যার, তাকে তো কোনো নিচু জায়গায় বসানো যাবে না। আর তিনি তা গ্রহণও করবেন না।”
বঙ্গবন্ধু বললেন, “বর্তমান সময়ে আর্মির টপ লেভেলে পরিবর্তন করা রাজনৈতিক বিবেচনায় মোটেই সমীচীন হবে না বোধ হয়। এ ব্যাপারে ওসমানী সাহেবের সঙ্গেও আমি আলাপ করেছি। তিনিও একই কথা বলেছেন।”
তখন আমি জানতে চাইলাম, “জেনারেল ওসমানী কী বলেছেন?” বঙ্গবন্ধু বললেন, “এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।” আলাপচারিতার শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, “তুমি যাও। ভেবে দেখো। কাল কথা হবে।”
পরদিন টেলিফোনেই আমাকে বললেন, “কী, জেনারেল ওয়াসীউদ্দিনের ব্যাপারে ভেবে দেখলে কিছু?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, স্যার। ভেবেছি।”
বঙ্গবন্ধু বললেন, “কী?”
আমি বললাম, “হি শুড বি মেইড দ্য ডিফেন্স সেক্রেটারি অ্যান্ড অল প্রবলেম উইল বি সলভ্ড্।” (তাকে প্রতিরক্ষা সচিব নিয়োগ করা হোক, তাহলেই সমস্যার সমাধান।)
বঙ্গবন্ধু বললেন, “তোমার বর্তমান চাকরিটা যদি পছন্দ না হয়, তাহলে আমাকে বলো। তোমাকে অন্য পদে দেব। মনে রেখো, তোমার পদে আরেকজন সিভিলিয়ান আসবে। তাতে জেনারেল ওয়াসীর সমস্যার সমাধান হবে না।”
আমি বললাম, “সরি, স্যার। সে-রকম কিছু বোঝাতে চাইনি।”
টেলিফোনেই ফাইনাল হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলাম, পররাষ্ট্র সচিব ফখরুদ্দিনকে বলে দেখুন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, যেখানে ওয়াসীকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো যায়।

তিন
আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু একদিন হঠাৎ করে খুব রাগতকণ্ঠে টেলিফোনে বললেন, “তুমি কীসের প্রতিরক্ষা সচিব! আমার ছেলে জামালকে দেশ থেকে বের করে দিতে পারলে না?”
আমি বললাম, “একটু ভেবে দেখি। পরে আপনাকে জানাব।”
বঙ্গবন্ধু রাগতভাবেই টেলিফোনটা রেখে দিলেন। তারপর অনেক কথা। সব বিস্তারিত বলতে চাই না। পটভূমিও বলতে চাই না। ঠিক হলো জামালকে ইংল্যান্ডের স্যান্ডহারস্ট আর্মি ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশের কোটায় দুজন নবীন রিক্রুটকে নির্বাচন করে সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন আর সিট খালি নেই। ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিস্টার গোল্ড এ-কথা জানালেন। তিনি আরও বললেন, স্যান্ডহারস্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখব কোনো প্রাইভেট কোটায় সিট দেওয়া সম্ভব কি না? তিন-চার দিন পর মিস্টার গোল্ড আমার কামরায় এসে বললেন, প্রাইভেট কোটায় একটি সিট দেওয়া যেতে পারে। তবে পূর্ণ খরচ প্রার্থীকে বহন করতে হবে। স্যান্ডহারস্ট বা ব্রিটিশ সরকার থেকে কোনো ধরনের বৃত্তি পাওয়া যাবে না।
বঙ্গবন্ধুকে আমি বিষয়টি জানাই এবং বলি জামালের জন্য ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু কোর্সটি করতে ৫ লাখের বেশি টাকা দরকার।
বঙ্গবন্ধু বললেন, “কে দেবে টাকা?”
আমি বললাম, “আপনি।”
বঙ্গবন্ধু বললেন, “তোমার ঘটে এত বুদ্ধি। তুমি কি মনে করো, ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার আছে!”
আমি বললাম, “তাহলে স্যার এ ব্যাপারে অন্য আর কী করা যায় দেখতে হবে। কারণ, মিস্টার গোল্ড বলেছেন, ব্রিটিশদের কাছ থেকে এ বছর আর কিছুই পাওয়া যাবে না।”
বঙ্গবন্ধু বললেন, “জামালের চাচা নাসেরকে খুলনায় খবর দাও।” নাসের বঙ্গবন্ধুর ভাই, যিনি ১৫ আগস্ট শহিদ হয়েছেন।
আমি তার কামরা থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর সচিব রহিম সাহেবকে বললাম নাসের সাহেবকে খবর দিতে। নাসের সাহেবকে আমি তখন পর্যন্ত চিনতাম না।
পরদিন নাসের সাহেব এলেন রহিম সাহেবের অফিসে। দুজনে মিলে নাসের সাহেবকে বললাম, “টাকা জোগাড় করতে হবে।”
নাসের সাহেব বললেন, “এত টাকা কোথায় পাব? তবে ভাই যখন বলেছেন, ব্যবস্থা একটা করতেই হবে। আপনারা জামালকে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।” পরে জামাল তার চাচার সহায়তায় প্রাইভেট ক্যাডেট হিসেবে স্যান্ডহারস্টে যায়।
বঙ্গবন্ধু রাজনীতিবিদ ছিলেন। তদানীন্তন গভর্নর প্রয়াত মোনায়েম খান যখন বঙ্গবন্ধুকে হেনস্তা করার জন্য অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন, তখন আমি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তথ্য সচিব। আমার দেখার ও জানার সুযোগ হয়েছে যে উভয়ের মধ্যে কী পারস্পরিক তীব্র রাজনৈতিক ঘৃণা বিদ্যমান ছিল। সে-সময়ে বঙ্গবন্ধুর, সোহরাওয়ার্দীর মতোই অনেক রাজনৈতিক উদারতা প্রত্যক্ষ করেছি। রাজনীতিকে তিনি একটি সুন্দর খেলা হিসেবে দেখতেন বলে আমি মনে করি। যদিও তা ছিল পুরোপুরি আদর্শভিত্তিক। সেই আদর্শে তিনি ছিলেন লৌহদৃঢ়। অবশ্য সব হিসাব যে তার নির্ভুল ছিল তা নয়। কিন্তু তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ। যা করতেন, দেশের মানুষের জন্যই করতেন। কখনও কখনও গর্জে উঠতেন। আবার একটু পরই নম্র হয়ে যেতেন। কিন্তু দৃষ্টি নিবন্ধ ছিল রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশসেবার জন্য। কারও কাছে পিছু হটার মানসিকতা আমি কখনও দেখিনি। তার রাজনৈতিক সততা, আদর্শভ্রষ্ট না হওয়া এবং লৌহদৃঢ়তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর মহাপ্রয়াণ দিবসে এই হোক সবার দৃঢ় অঙ্গীকার।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য