Sunday, February 5, 2023
spot_img
বাড়িSliderজয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড

আমাদের দেশটি একটি অসাধারণ দেশ। নিজেরা লড়াই করে, রক্ত দিয়ে এই দেশকে আমরা স্বাধীন করেছি। এই ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাওয়াতে সক্ষম হয়েছি। এই ১৬ কোটি মানুষের দেশকে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দরিদ্র থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছি।’

সালেহীন বাবু: মানবিক কাজ ও সমাজে অবদানের জন্য দেশের সেরা যুব-সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি দিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্লোগান ‘জয় বাংলা’র নামে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’-এর প্রবর্তন করা হয়েছে। বিজয়ীরা ইতোমধ্যে শিশু শান্তি পুরস্কার, ডায়না অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছে। ৬০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০ প্রতিষ্ঠানের হাতে উঠেছে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’। তৃণমূলের তরুণদের উৎসাহিত করতে এ পুরস্কার দিয়েছে ইয়াং বাংলা। পাঁচ ক্যাটাগরির প্রতিটিতে দুটি করে ১০ প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের জন্য বিশেষ অবদান রাখায় আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ‘উন্মাদ’-এর আহসান হাবীব এবং লেখক ও গবেষক পার্বত্য চট্টগ্রামের ম্রো জাতিগোষ্ঠীর ইয়াংগুয়াং ম্রো।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকার সাভারের শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠবারের এই আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই-এর চেয়ারপারসন সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিআরআই ট্রাস্টি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি। অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমার এই বিশ্বাসটাই আছে যে, বাংলার মানুষ, আমরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। আপনার জানেন যে, এখন সারাবিশ্বেই অনেক সংকট চলছে, যুদ্ধ চলছে, সমস্যা চলছে। এই একটি কোভিড মোকাবিলা করলাম আমরা দুবছর আগে। কোভিড যেতে না-যেতে এখন যুদ্ধ, সন্ত্রাস, সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ পড়ছে।’
এ পরিস্থিতি দেশ কীভাবে মোকাবিলা করবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেখেন, সমস্যার কোনোদিন শেষ থাকে না। এই ১৪ বছর যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, এর মধ্যে আমরা কী কী সমস্যা দেখেছি? প্রথমেই ছিল বিদ্যুতের সমস্যা। এই যে লোডশেডিং হয় এটা আমরা কীভাবে সমাধান করব। তারপর অর্থনীতির। এত মানুষকে কীভাবে খাওয়ানো হবে। এই অর্থনীতিকে কীভাবে আগানো যায়, এগুলো আমরা সমাধান করে দেখিয়েছি।’
তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার নিজেরই আনন্দ লাগে যে, যখন দেখি আমাদেরই দেশে আপনারা রোবোটিক হাব বানাচ্ছেন, এটা অসাধারণ। আমাদের দেশ থেকে আপনারা ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্য দাবি করতে ইউএনএ-তে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন, এটা অসাধারণ। আপনারা অসাধারণ। আমাদের দেশটি একটি অসাধারণ দেশ। নিজেরা লড়াই করে, রক্ত দিয়ে এই দেশকে আমরা স্বাধীন করেছি। এই ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাওয়াতে সক্ষম হয়েছি। এই ১৬ কোটি মানুষের দেশকে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দরিদ্র থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছি।’
তরুণরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেনÑ এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকে একটি শব্দেই অনুভূতি জানাতে চাই যে, “অসাধারণ”। আজকে যারা পুরস্কৃত হয়েছে শুধু তারাই নন, যারা ফাইনালিস্ট এবং এই যে ৬০০ জন অংশ নিয়েছেন আপনারা সকলেই আজকে বিজয়ী।’

পুরস্কার পেল যেসব সংগঠন

রোবোলাইফ টেকনোলজিস : ২০১৮ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সহযোগিতায় শুরু করা রোবোলাইফ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জয় বড়ুয়া লাবলু। শুরুতে তারা দুর্ঘটনা বা যে কোনো কারণে হাত হারানো ব্যক্তিদের কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করা শুরু করে।
বিকে স্কুল অব রিসার্চ : সমাজ গঠন, অর্থনীতি ও মানবিকতা নিয়ে কাজ করা এ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিজন কুমার।
বোসন বিজ্ঞান সংঘ : এ সংঘের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান। ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান শিখতে অনুপ্রাণিত করতে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উচ্ছ্বাস : ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করা সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রসেনজিৎ কুমার সাহা।
ইয়ুথ প্ল্যানেট : ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে, সংগঠনটি নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি, স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে পুরুষদের শিক্ষিত করার বিষয়ে সংগঠনটি কাজ করছে। এবিএম মাহমুদুল হাসান এটির প্রতিষ্ঠাতা।
বিজ্ঞানপ্রিয় : ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু। দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার ছাড়াও বিজ্ঞানের অগ্রগতি, খবর, ব্লগ, ইনফোগ্রাফিক্স অডিও-ভিজ্যুয়াল সংবলিত বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে। এটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ শাওন মাহমুদ।
মজার ইশকুল : ২০১৩ সালে পথশিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিতে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। এটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আরিয়ান আরিফ।
মিলন স্মৃতি পাঠাগার : যুব-সমাজকে বই পড়ায় উৎসাহিত করার লক্ষে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মোট ১৪টি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছে। আসাদুজ্জামান মিলন এ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন : সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র এবং আশ্রয়ের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ২০১১ সাল থেকে কাজ করছে সংগঠনটি। মো. মুইনুল আহসান ফয়সাল সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক।
বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন : ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত যুব নেতৃত্বাধীন নারীবাদী সংগঠনটি জলবায়ু ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। জান্নাতুল মাওয়া এটির নির্বাহী পরিচালক।

আজীবন সম্মাননা পেলেন যারা

আহসান হাবীব : দেশের আইকনিক প্রকাশনা ‘উন্মাদ’। প্রায় চার দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের নিয়মিত এক ম্যাগাজিন এটি। প্রকাশকালে অসংখ্য রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয়ে ব্যতিক্রম ও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে সমালোচনা করা হয়েছে এই ম্যাগাজিনে। মাসিক এই ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন পরিচালনা করছেন আহসান হাবীব। ‘উন্মাদ’-এর কার্টুনিস্টরাই এঁকেছে গ্রাফিক নভেল মুজিব।
ইয়াংগুয়াং ম্রো : পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা ইয়াংগুয়াং ম্রো লেখালেখি ও গবেষণা করেন। তিনি ম্রো সম্প্রদায়ের ভাষায় প্রথম বই ‘টোটং’ প্রকাশ করেন। ম্রো ভাষার প্রথম এই কথাসাহিত্যিক ‘ম্রো ফেয়ারি টেইলস’ নামে বই লিখেছেন। ২০১৩ সাল থেকে মাত্র ছয় ব্যক্তির কথ্যভাষা ‘রেণমিতাচ্যা ভাষা’ সংরক্ষণে কাজ করছেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কী অবদান রেখে গেছেন, তাও নিজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি। আমি বড় হয়ে চিন্তা করলাম, জাতির পিতার ৭ই মার্চের যে ঐতিহাসিক ভাষণ, এগুলো তো মানুষকে জানতে হবে। কারণ বাংলা ভার্সন থাকলেও আমাদের মাতৃভাষা ম্রু ভার্সন তো নেই। তখন থেকেই কাজ শুরু করলাম। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আজ ঐতিহাসিক ভাষণ অনুবাদ করলাম আপনাদের আশীর্বাদে।

লেখক : সাংবাদিক

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য