Friday, February 23, 2024
বাড়িনবম বর্ষ,দ্বাদশ সংখ্যা,নভেম্বর-২০১৯জিয়াই প্রথম দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল

জিয়াই প্রথম দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল

“যারা চলমান অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা নিজেরাই (বিএনপি) দুর্নীতির খনি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াই দেশে প্রথম দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল। তার হাতে গড়া দলটি খুন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, অস্ত্র চোরাচালানসহ হেন কোনো অপকর্ম নেই যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টার সঙ্গেও তারা জড়িত। ক্ষমতায় থাকতে তারা দুর্নীতিকেই নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বিএনপির এতই অবৈধ অর্থ যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন এফবিআই অফিসারকে পর্যন্ত ভাড়া করেছিল আমার ছেলে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) অপহরণ ও হত্যা করার জন্য। পরে তদন্ত করে এফবিআই নিজেরাই এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলে, তদন্তে উঠে আসে বিএনপিই এই ষড়যন্ত্রটি করেছিল। বিএনপির নেত্রীর এক ছেলের ঘুষের পাচার করা টাকা আমরা উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনতে পেরেছি। “

আনিস আহামেদ: চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ‘আইওয়াশ’ বলে বিএনপির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যারা (বিএনপি) আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ, যাদের বিরুদ্ধে খুন-দুর্নীতি-অগ্নিসন্ত্রাস-অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে, যে দলের শীর্ষ দুজনই দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, তারা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে কথা বলে কোন মুখে, কোন সাহসে। অপরাধী অপরাধীই। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, সবাইকে ধরা হবে। কখন কাকে ধরা হবে, তা সময়ই বলে দেবে। আর অপেক্ষা করুন, চলমান অভিযান আইওয়াশ কি না তা দেখতে পারবেন। আর জীবনের ভয় বলে কোনো কথা আমার ডিকশনারিতে নেই। ভয় থাকলে এমন অভিযানে নামতাম না।
গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ এবং অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরতে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে মূল মঞ্চে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি ছিলেন।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান ও বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আর আমি যখন নেমেছি, তখন কে কি করে, পরিবারের কেউ কি না, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না।
তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবাকে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু) দেখেছি কীভাবে সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় এ শব্দটা আমার ছোটবেলা থেকেই নেই। ভয় পাওয়ার লোক আমি না। ভয় পেলে এ অভিযানে আমি নামতাম না। আর আমি যখন নেমেছি, তখন সে কি করে, কোন দলের সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না। বিএনপিকে ‘দুর্নীতির খনি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান। তার (জিয়া) হাতে গড়া দল, সেখানে আপনারা দেখেন বিএনপির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা তো আছেই। হত্যা, খুন, দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস- হেন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। সেই দলের নেতা যিনি চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া), দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে এখন কারাগারে। আরেকজন যাকে (তারেক রহমান) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা হলো, সে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দুর্নীতি মামলায় দÐিত হয়ে এখন দেশান্তরে। তাদের (বিএনপি) মুখে এত কথা কোথা থেকে আসে, কোন সাহসে। ক্যাসিনো ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করে এ ইস্যুতে কোনো সংবাদপত্রে কোনো সংবাদ প্রকাশিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক, কোনো সংবাদপত্র কিন্তু একটা নিউজও করেন নি যে, বাংলাদেশে ক্যাসিনো খেলা হয়। আমি যদি প্রশ্ন করি- আপনারা (সাংবাদিক) এত খবর রাখেন, এ-রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি (ক্যাসিনোর) এসে গেছে, এত কিছু হলো আপনারা কেউ খবর রাখলেন না? কেউ খবর পেলেন না? ক্যাসিনো সম্পর্কে তো কেউ কোনো নিউজ দেননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব থেকে বেশি সংবাদপত্র। কয়েকশ’ সংবাদপত্র। এক সময় বাংলাদেশে একটাই চ্যানেল ছিল। আমি তো সবকিছু ওপেন করে দিলাম। ৩২টির মতো টিভি চ্যানেল চালু। কোনো একটি চ্যানেল থেকে এ-বিষয়ে কোনো একটি নিউজ দিতে পারলেন না। এর জবাব কি আপনারা জাতির কাছে দিতে পারবেন? পারবেন না। তিনি বলেন, মানুষ যখন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়ায়, সে মনে করে- আর কেউ জানবে না। কিন্তু ধরা কোনো না কোনোভাবে পড়ে যেতেই হয়। এটা হলো বাস্তবতা। আমরা চাচ্ছি, দেশটা শান্তিপূর্ণভাবে চলুক। দেশের উন্নতি হোক। দিন-রাত পরিশ্রম করি দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে, জীবনমান যেন উন্নত হয়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাসিনো কাণ্ডে ক্রিকেট বোর্ড জড়িত এটা ঠিক না। এটা বোর্ডের কিছু না। ক্যাসিনোতে যিনি ছিলেন, তিনি ধরা পড়েছেন। এছাড়া দেশের মধ্যে এ-ধরনের একটা কাÐ (ক্যাসিনো) চলেছে, কেউই তো জানতো না! সংবাদমাধ্যমও তো জানে না! আমিই তো এদের ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এতগুলো চ্যানেল আছে, আপনারা কেউ নিউজ করতে পারলেন না? আমরাই এদের ধরব, আবার আমাদেরই প্রশ্ন করবেন- সেটা তো হতে পারে না। আমিই ধরেছি, জানতে পেরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান চালাতে বলেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তো অভিযান চালাচ্ছি। কে কখন কীভাবে ধরা পড়বে, বলা যায় না। আমরা কিন্তু ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ধরেছি। তাদের কেউ বহাল তবিয়তে আছে, সেটাও ঠিক না। এখন আপনারা খুঁজে দেখেন, কোথায় কী পাওয়া যাচ্ছে। তবে কারও যদি জুয়া খেলার আকাক্সক্ষা থাকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি- একটি চর বরাদ্দ দিন। সেখানে খেলুক, ট্যাক্স বসান। একটা নীতিমালা করুন, অন্তত ট্যাক্সটা তো পাওয়া যাবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এমন ১০০ জনের নাম আপনি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে। এ-রকম আর কতজনের তালিকা আপনার হাতে আছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কতজনের তালিকা আছে, সেটা কেন আমি এখন বলব? তবে এতটুকু বলতে পারি- কোনো এক পত্রিকার সম্পাদক, কোনো এক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলেছে- কিছু টাকা চায়, সেটা যদি না দেওয়া হয় তাহলে এমন লেখা লিখবে যে, তার জীনটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। সেটা আগে বের হোক তারপর জানবেন। ব্যাংকের এমডি ফোন করে বলে দিয়েছে কত দিতে হবে। না দিলে নিউজ হয়ে যাবে। এটা রেকর্ড আছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত সফরে কলকাতায় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই টেস্ট দেখার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত নয়। বাঙালি ছেলে সৌরভের দাওয়াত। সৌরভের দাওয়াত বলেই আমি সেখানে যাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকব এবং বিকেলেই চলে আসব।
এ-বিষয়ে বিসিসিআই’র প্রধান হওয়ার পর সৌরভ গাঙ্গুলির ফোন পাবার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সৌরভ বাঙালির ছেলে। সে একসময় ক্রিকেটে খুব নাম করেছিল। এই প্রথম একজন বাঙালি হিসেবে বিসিসিআই’র প্রধান হলো। এরপর সে (সৌরভ) ফোন করেছিল। আমাকে দাওয়াত দিল। বলল, আমি যেন ওখানে যাই এবং খেলার শুরুতে অন্তত থাকি। আমি রাজি হয়ে গেলাম। কলকাতা টেস্ট উপলক্ষে তিস্তা চুক্তি নিয়ে না হলেও ক্রিকেট কূটনীতি থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেটকে নদীর মধ্যে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপি এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা চলমান অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা নিজেরাই (বিএনপি) দুর্নীতির খনি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াই দেশে প্রথম দুর্নীতির দুয়ার খুলে দিয়েছিল। তার হাতে গড়া দলটি খুন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, অস্ত্র চোরাচালানসহ হেন কোনো অপকর্ম নেই যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টার সঙ্গেও তারা জড়িত। ক্ষমতায় থাকতে তারা দুর্নীতিকেই নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বিএনপির এতই অবৈধ অর্থ যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন এফবিআই অফিসারকে পর্যন্ত ভাড়া করেছিল আমার ছেলে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) অপহরণ ও হত্যা করার জন্য। পরে তদন্ত করে এফবিআই নিজেরাই এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলে, তদন্তে উঠে আসে বিএনপিই এই ষড়যন্ত্রটি করেছিল। বিএনপির নেত্রীর এক ছেলের ঘুষের পাচার করা টাকা আমরা উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনতে পেরেছি। যারা আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা, তারা এ অভিযান নিয়ে কথা বলে কীভাবে? তিনি বলেন, দেশ চালাতে এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন করতে কাজ করে যাচ্ছি। রাজনীতি করতে গেলে বহুজন বহু ভাষণ দেবে, অনেক কথা বলবে। কিন্তু তাদের কথা শুনলে তো দেশের মানুষের জন্য কোনো কাজই করতে পারব না। আর ভয় আমরা ডিকশনারিতে নেই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যার জন্য অতীতেও অনেক চেষ্টা হয়েছে, ষড়যন্ত্র এখনও আছে। সমস্ত বৈরী পরিবেশে উজানে নাও ঠেলেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি, দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ দেশের উন্নয়ন করতে পারে না আমরা তা প্রমাণ করেছি। উন্নয়নে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন এক বিস্ময়ের নাম। আমরা দেশের হৃদগৌরব আবারও ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছে এটা কী শাস্তি নয়? এটাও কী তাদের জন্য শাস্তি নয়। আর নুসরাত জীবিত থাকতেই নিজে জবানবন্দি দিয়েছিল বলেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এতে সাংবাদিকরাও বিরাট ভূমিকা রেখেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারও একটা দৃষ্টান্ত।
পদ্মাসেতু ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত আনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতুটি অত্যন্ত হাইটেকনিক্যাল। সেখানে নদী খুবই খরস্রোতা। দোতলা পদ্মাসেতু হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট করে দিন-ক্ষণ এখনই বলা যাবে না, কিছুটা সময় লাগবে।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত আনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিদের ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা এক খুনিকে ফেরত পেতে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন। আরেক খুনির ব্যাপারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে পৃথিবীর অনেক দেশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে ফেরত আনতে দেশ দুটির আদালতের কিছু আইনি বাধা রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের আমরা দেশে ফেরত আনতে পারব।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য