Monday, December 4, 2023
বাড়িঅন্যরকমজিআই স্বীকৃতি পেল আরও ৪ পণ্য

জিআই স্বীকৃতি পেল আরও ৪ পণ্য

কোনো একটা দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া ও মানুষের সৃজনশীলতা মিলে কোনো পণ্য তৈরি হলে তাকে বলা হয় সেই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য।

ফারুক শাহ: ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আরও চার পণ্য। সেগুলো হলো- বগুড়ার দই, শেরপুরের তুলসীমালা ধান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম। এ ৪টিসহ বাংলাদেশের মোট জিআই পণ্যের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টিতে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) গত ২৬ জুনের সভায় অনুমোদন দেয় এবং ৫ জুলাই শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়।
উল্লেখ্য, কোনো একটা দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া ও মানুষের সৃজনশীলতা মিলে কোনো পণ্য তৈরি হলে তাকে বলা হয় সেই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। শুধু বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয় এমন ১৫টি পণ্য আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব কর্তৃপক্ষ থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্য কোনো দেশে নয়, এই পণ্যগুলো শুধু বাংলাদেশে উৎপাদন করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিপিডিটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে। ২০১৩ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন হয়। ২০১৫ সালে আইনের বিধিমালা তৈরির পর জিআই পণ্যের নিবন্ধন নিতে আহ্বান জানায় ডিপিডিটি। এরপর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৬ সালে স্বীকৃতি পায় জামদানি শাড়ি।
এরপর একে একে স্বীকৃতি পেয়েছে ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, মসলিন, বাগদা চিংড়ি, কালিজিরা চাল, বিজয়পুরের সাদা মাটি, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম। নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও চার পণ্য। এখন থেকে পণ্যগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।
ডিপিডিটি সূত্র জানায়, আরও অন্তত ২৪টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতির আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশ ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগল, রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, কুষ্টিয়ার তিলেরখাজা, কুমিল্লার রসমালাই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম, নোয়াখালীর মহিষের দুধের দই, লতিরাজ কচু, সোনালি মুরগি, সাবিত্রী রসকদম, চাচুরি বিলের কৈ মাছ, নাক ফজলি আম, সুন্দরবনের মধু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী মিষ্টি, জামালপুরের নকশিকাঁথা, ফুটি কার্পাস তুলা প্রভৃতি।

শত বছর সংরক্ষণ সম্ভব মাছের শুক্রাণু
প্রযুক্তির নাম ‘ক্রায়োপ্রিজারভেশন’। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি অ্যাগ্রিকালচার সেন্টারের অ্যাকুয়াটিক জার্মপ্লাজম অ্যান্ড জেনেটিক রিসোর্সেস সেন্টার যৌথভাবে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ প্রযুক্তিতে দেশের মাছের শুক্রাণু শত বছর বা তারও বেশি সময় সংরক্ষণের পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। এতে মাছের প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে। গবেষকরা কাতলা, রুই, মৃগেল, সিলভার, বিগহেড ও গ্রাস কার্প- এই ছয় প্রজাতির মাছের ওপর গবেষণা চালিয়ে সাফল্য পেয়েছেন।
গত ৫ জুলাই সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) মিলনায়তনে এক কর্মশালায় এ প্রযুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ‘ক্রিওজেনিক স্পার্ম ব্যাংকিং অব ইন্ডিয়ান মেজর কার্পস অ্যান্ড এক্সোটিক কার্পস ফর কমার্শিয়াল সিড প্রোডাকশন অ্যান্ড ব্রুড ব্যাংকিং’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। এতে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড ও ফিড দ্য ফিউচার ইনোভেশন ল্যাব ফর ফিশ। মৎস্য অধিদপ্তরও এতে সহযোগিতা করেছে।
বাকৃবির ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের নেতৃত্বে এ গবেষণার সহকারী প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম। আর এ গবেষণাকর্মের পরামর্শ বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক মো. ফজলুল আউয়াল মোল্লা। সে-সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যাগ্রিকালচার সেন্টারের অধ্যাপক টেরেন্স টিয়ার্স।
গবেষকরা বলেন, হালদা ও পদ্মা থেকে কাতলা, রুই ও মৃগেল এবং চীন থেকে সিলভার, বিগহেড ও গ্রাস কার্প মাছের বিশুদ্ধ প্রজাতি আহরণ করা হয়। সেগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয় শুক্রাণু। তারপর সেসব বিশুদ্ধ শুক্রাণু দিয়ে দেশের ময়মনসিংহ, যশোর, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ হ্যাচারি যেসব শুক্রাণু থেকে মাছের পোনা উৎপাদন করে, তার চেয়ে এই সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকে উৎপাদিত মাছের পোনার বৃদ্ধি বেশি। যেমন সাধারণ হ্যাচারির শুক্রাণুর একটি মৃগেল মাছ যে সময়ে ১০৭ গ্রাম ওজন হয়, একই সময়ে সংরক্ষিত শুক্রাণুর মৃগেল মাছের ওজন হয় ১৪০ গ্রাম।
গবেষকরা আরও জানান, তরল নাইট্রোজেনের ভেতর মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় যত দিন রাখা যাবে, ততদিনই শুক্রাণু ঠিক থাকবে। বিদেশে এ প্রযুক্তি চালু থাকলেও দেশে এটা প্রথম সফল প্রয়োগ।
জানা যায়, এ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ আগামী আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

যমুনার উল্টো লিখে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন
শিক্ষাজীবনে অনেকের অনেক প্রতিভা দেখা যায়। কিন্তু যমুনার মতো প্রতিভা এখন পর্যন্ত হয়তো কেউ দেখাতে পারেনি। তিনি সবসময় খাতায় উল্টো করে লেখেন। আর উল্টো করে লিখে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে তিনি একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এসএসসির মতো এইচএসসিতে এভাবে খাতায় উল্টো করে লিখবেন। সে-সঙ্গে এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করবেন বলে প্রত্যাশা তার। বিরল এই প্রতিভার অধিকারী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দীঘিবরাব এলাকার যমুনা আক্তার। যমুনার বাবা কাদের খা একজন চা দোকানি। মা শেফালী বাবার সঙ্গে চায়ের দোকান সামলান। পাঁচ বোনের মধ্যে যমুনা সবার ছোট। যমুনা হাতেখড়ি থেকে শুরু করে এসএসসি সম্পন্ন করেন প্রতিভা বিকাশ কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুল থেকে।

নিপার এক আঙুলের ‘যুদ্ধ’
এক হাতে কোনো আঙুল নেই। আরেক হাতে মাত্র একটি আঙুল। জন্ম থেকে এ অবস্থা নিপা আক্তারের (১৬)। আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এক আঙুল দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা (২০২৩) দিয়েছে নিপা। অদম্য ওই কিশোরীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরকাশাভোগ গ্রামে। সে বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও নাছিমা বেগম দম্পতির মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর তার হাতে ৯ আঙুল না থাকলেও থেমে যায়নি পড়াশোনা। নিপা এক আঙুল দিয়ে চালাতে পারেন মোবাইল ও সংসারের যাবতীয় কাজ। সহযোগিতা করেন মা ও বোনকে। নিপার স্বপ্ন পড়াশোনা করে একজন আদর্শ শিক্ষক হবেন। পড়াশোনা করে দাঁড়াতে চান প্রতিবন্ধীদের পাশে। দেখিয়ে দিতে চান ইচ্ছের কাছে বাধা নয় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষায় সব সুবিধা পেয়েছে নিপা। এবারও সে ভালো ফল করবে বলে আসা তাদের। সে পিএসসি ও জেএসসিতেও ভালো রেজাল্ট করেছিল।

কলা ফেরত দিল চোর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাউতলা গ্রামে কিছুদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গাছের ফলা-ফলাদি বেশি চুরি হচ্ছে। এ কারণে অনেকে রাতে গাছের ফল পাহারা দিচ্ছেন। সম্প্রতি ওই গ্রামের আবু তাহের মিয়ার মেয়ে আসমা আক্তার এবং স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি থেকে কলা ও পেঁপে চুরি হয়। কলা চুরির ঘটনায় আসমা আক্তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে চোরদের বকাবকি করেন। এ ঘটনার পর রাতের কোনো একসময় তার বাড়ির দরজায় চুরি হওয়া একটি পাকা কলার বড় কাঁদি রেখে যায়। একইসঙ্গে তারা একটি চিরকুট দিয়ে যায়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় : ‘আমরা আপনার কলাগাছ থেকে কলা চুরি করেছি। তাই আপনারা আমাদের গালাগালি করেছেন। আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই আমাদের পরিমাণমতো কলা খেয়ে বাকিটা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। আপনারা আমাদের মাফ করে দিয়েন। আর যদি গালাগালি করেন তাহলে বাকি কলা নিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য