Sunday, July 3, 2022

ছাত্রলীগ মানবিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে

আনিস আহামেদ

৪ জানুয়ারি ছিল দেশের সর্ববৃহৎ ও ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই ছাত্র সংগঠন বাংলা ও বাঙালির অধিকার আদায়ের এক আপসহীন নাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ’৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফার পক্ষে গণ-অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা, ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল-সবুজের পতাকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রলীগ বিভিন্ন ধরনের দেশ হিতকর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। দেশের সকল সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ। এছাড়া দুর্যোগ দুর্বিপাকে আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় ছাত্রলীগ বরাবরই অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। সাংগঠনিক নেতা জাতির পিতার কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভানগার্ড ছাত্রলীগ করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে ছিল দরিদ্র মানুষদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, মোবাইল ফোনে চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যসেবা, অসুস্থ মানুষের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, পবিত্র রমজানের ইফতার বিতরণ, সবার জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান, ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ইত্যাদি। ক্যাম্পাস, মসজিদ, বাজার ও মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থাও করেছে সংগঠনটি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের কষ্টের ধান যাতে মাঠেই নষ্ট না হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিনামূল্যে ধান কেটে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে সারাদেশের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্যভাবে পালন করতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ উপলক্ষে ৪ জানুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল সাংগঠনিক কার্যালয়ে সূর্যোদয়ক্ষণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এবং সকাল ৯টায় কার্জন হলে কেক কাটা হয়। ৪ জানুয়ারি দুপুর ২টায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় প্রতিটি জেলা, মহানগর ও উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে।
এছাড়া ৬ জানুয়ারি বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে পথশিশুদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, বিকাল ৩টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাবির অপরাজেয় বাংলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রলীগ।

বর্ণাঢ্য র‌্যালি
৪ জানুয়ারি বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ও আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা উপলক্ষে এর আগে থেকে ঢাবির বিভিন্ন হল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকার বিভিন্ন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হতে শুরু করে। সেখানে এক সমাবেশে শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। শোভাযাত্রাটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ-মৎস্য ভবন-কাকরাইল-পল্টন হয়ে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি সৃষ্টিশীল ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোনো অগণতান্ত্রিক সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের মাথার ওপর জগদ্দল পাথর হয়ে বসতে দেয়নি। এই ছাত্রলীগ মানবিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্রকে ছিন্ন করে ছাত্রলীগ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল অশুভ শক্তি ষড়যন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করবে।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য