Saturday, July 13, 2024
বাড়িউত্তরণ ডেস্কচার সিটিতে নৌকার বিপুল বিজয়

চার সিটিতে নৌকার বিপুল বিজয়

উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে সিলেটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মো. নজরুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট।
রাজশাহী সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট আর মো. মুরশিদ আলম পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। ভোট পড়েছে ৫৬.২০ শতাংশ।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ঢাকার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা অবাধে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন। কোথাও কোনো বাধা পেয়েছেন বলে শুনিনি, তথ্যও পাইনি। কাজেই সার্বিকভাবে আজকের নির্বাচনগুলো ভালো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা দিনভর ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন সিসি ক্যামেরায়। নির্বাচন বেশ সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে হয়েছে। রাজশাহীতে কিছু সময় প্রবল বর্ষণ হয়েছে।’
তিনি বলেন, রাজশাহীতে ৫২ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিত ছিলেন। সিলেটে কম-বেশি ৪৬ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন এটা জানতে পেরেছি। এর হেরফের হতে পারে। পৌরসভা নির্বাচনগুলোও ভালো হয়েছে। বাসাইল পৌরসভার নির্বাচন আশানুরূপভাবে ভালো হয়েছে। এটা ক্রিটিক্যাল প্লেস ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সেখানে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল আরও বলেন, সিলেট ও রাজশাহীতে ভোটের মাধ্যমে বর্তমান কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটির ভোট শেষ হলো। এগুলোতে ভালো নির্বাচন হয়েছে।
এর পূর্বে গত ১২ জুন বরিশাল ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলে দুই সিটিতে বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হয়েছে। বরিশালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। তিনি পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৮০৮ ভোট আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট। খোকন সেরনিয়াবাত ৫৩ হাজার ৯৮০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
খুলনায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক। তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৫ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল আউয়াল পেয়েছেন ৬০ হাজার ৬৪ ভোট।
বরিশাল ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে একাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বড় পর্দায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাংবাদিকদেরও স্ক্রিনে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
দু-চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে দুই সিটিতে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি জানান, খুলনায় প্রায় ৪৫ ও বরিশালে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য