Friday, February 23, 2024

চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে

‌‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের যে সেবা দিচ্ছে, এই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

উত্তরণ ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাÐ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেই টাকায় ফুটানি করলে দেশের মানুষ কখনও বরদাশত করবে না। কেন দুর্নীতি ও চুরি করে টাকা বানাতে হবে? ওই সন্ত্রাসী কর্মকাÐ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেটা দিয়ে আবার বিলাসবহুল জীবনযাপন করা কেউ মেনে নেবে না। অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎ পথে নুন-ভাত খাওয়া অনেক মর্যাদার। আমরা দেশ থেকে মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান তা অব্যাহত রাখব। কারণ দেশের মানুষের শান্তি-নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কোনো কারসাজি কিংবা ষড়যন্ত্র আছে কি না, দাম বৃদ্ধির পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ যতই এগিয়ে যায়, মানুষ ভালো থাকে, তখন একটা-না-একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবে পেঁয়াজ নিয়ে আর চিন্তা নেই। দ্রæত চাহিদা মেটাতে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। আগামীকাল বা পরশুর (রবি বা সোমবার) মধ্যেই বিমানে করে পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে। এখন পেঁয়াজ বিমানেও উঠে গেছে। কাজেই আর চিন্তা নেই।
গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়ে বলেন, তাদের (বিএনপি-জামাত জোট) এই স্বভাব কোনোদিন যাবে না। ওই খুনি, দুর্নীতিবাজরা যেন আর কোনোদিন এই দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে, বাংলাদেশের জনগণকে সে-ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। এরা ক্ষমতায় আসা মানেই মানুষের ফের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া। দেশ আবারও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে ভরে যাওয়া।
দৃষ্টিনন্দন ও নানা সাজে সজ্জিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হলে সারাদেশ থেকে আসা সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী গগনবিদারী সেøাগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি উপস্থিত হওয়ার পর জাতীয় সংগীতের সুরে সুরে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহŸায়ক ও সদস্য সচিব এবং বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল নৌকা প্রতীক দিয়ে তৈরি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহŸায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ ও সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ প্রধানমন্ত্রীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। এরপর প্রধান অতিথিকে উত্তরীর পরিয়ে দেন দুই নেত্রী মাহফুজা বেগম সাঈদা এবং কাজী শাহানারা ইয়াসমিন। এরপর দলীয় সংগীত এবং থিম সংয়ের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দুটি গান পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহŸায়ক নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান মতি। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল। এরপর সবাই এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। পরে দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের মতামত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কারও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহŸান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের জন্য একটা সুন্দর জীবন দেওয়াই তার সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে একটা শ্রেণি আছে, একটি গোষ্ঠী আছেÑ মানুষ যত ভালো থাকবে তারা তখন মনোকষ্টে ভোগে, অসুস্থতায় ভোগে। এখন তাদের এই রোগ কীভাবে সারানো যায়, এটা জনগণই বিচার করবে। জনগণই এটা দেখবে।
তিনি বলেন, দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হলে দারিদ্র্য বিক্রি করে যারা চলত, তাদের আঁতে ঘা লাগে। তাই তারা বারবার বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করে এবং অপপ্রচার চালায়। কেউ যেন এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন, আমি সেটাই বলব। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের যে সেবা দিচ্ছে, এই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ-সময় আবার আমেরিকায় জয়কে (পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়) কিডন্যাপ (অপহরণ) করার পরিকল্পনা হয়। বিএনপি দুর্নীতি করে এত টাকা কামিয়েছিল যে, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র একজন অফিসারকে ভাড়া করে ফেলে, তাকে টাকা দিয়ে কিনে ফেলে। আমেরিকা সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তার দুই পুত্রের দুর্নীতির তথ্য জানতে পারে। তাদেরই (এফবিআই) রিপোর্ট, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) এবং তার ছেলে ও বোন, আমাদের বিষয়ে কোথাও কোনোরকম কমিশন খাওয়া, দুর্নীতির কোনো দৃষ্টান্ত তারা (এফবিআই) খুঁজে পাননি। বরং যে অফিসারকে বিএনপি হায়ার করেছিল, এফবিআই তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে বের হয়ে আসে কোন কোন বিএনপি নেতা ওই এফবিআই অফিসারকে টাকা দিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ সবাইকে পড়ার আহŸান জানিয়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, নীতি ও আদর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু মহান আত্মত্যাগ করে গেছেন, দেশকে স্বাধীন করে গেছেন। কখনও নিজের দিকে তাকান নি। তাই যারা মুজিবাদর্শে বিশ্বাসী, সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতি মেনেই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, মানব কল্যাণে কাজ করতে হবে। এদেশকে গড়ে তুলতে হবে। কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেটি বড় কথা নয়। দেশের মানুষকে কী দিয়ে যেতে পারলাম সেটিই বড় কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এক উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে গেছি। এই মর্যাদা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে তার সরকারের ঘোষিত ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, আর ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই একটি বছরকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর ২০৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালন করব। সে-কারণে আমরা শত বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যাতে আগামী প্রজন্মকে আমরা একটি সুন্দর ও অর্থবহ জীবন দিতে চাই। তাই সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে সেবার মনোভাব নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য