Saturday, July 13, 2024

গ্রাম-নগরের বিচিত্র সংবাদ

ফারুক শাহ: 

২৫ টাকায় ইলিশ ৩৫ টাকায় গরুর মাংস
বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতে চান না বিক্রেতারা। ফলে দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং অতি নিম্নবিত্তরা নিজের সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় বা শখ করে কিছু কিনে খেতে পারেন না। আর এমনই একটি চিন্তা থেকে রাজধানীর দক্ষিণখানে মোহাম্মদ জুয়েল তৈরি করেছেন একটি মুদি দোকান। জুয়েলের সেই দোকানের নাম ‘পাটোয়ারী স্টোর’।
যেখানে ২৫ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩৫ টাকায় গরুর মাংস, ৫ টাকায় শুঁটকি, ৩ টাকায় চা পাতা, ১ টাকায় মুড়ি, ১৫ টাকায় পাঙাশ কিংবা তেলাপিয়া মাছ নিঃসংকোচে ক্রয় করা যায়। শুধু তাই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীও স্বল্প দামে ক্রয়ের সুযোগ পাবেন সেই দোকানে।
এ প্রসঙ্গে একজন সাধারণ ক্রেতা বলেন, সামর্থ্য যেমনই থাকুক না-কেন, সেখানে গেলে বাজার আপনি করতে পারবেনই। ধরুন আপনার পকেটে রয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। এর মধ্যেই আপনাকে আজকের খাবারের জন্য বাজার করতে হবে। চিন্তা নেই, আপনি নিশ্চিন্তে চলে আসতে পারেন এই দোকানে। দাম ও পরিমাণ নিয়ে চিন্তা নেই। আপনার সাধ্য অনুযায়ী পণ্য পেয়ে যাবেন।
অভিনব এই উদ্যোগ সম্পর্কে জুয়েল জানান, করোনা শুরুর কিছুদিন আগে পেঁয়াজের বাজার দর যখন কেজিপ্রতি ২৮০ টাকায় পৌঁছাল, তখনই আমি দেখলাম অনেক ক্রেতা পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না। কারণ অনেকের দৈনিক উপার্জনই হয়তো তখন ২০০ টাকা। আর দোকানে পেঁয়াজ কিনতে গেলে এক পোয়ার কমে পেঁয়াজ বিক্রি হয় না। দেখলাম এক পোয়া পেঁয়াজ কিনতেই ক্রেতার খরচ হচ্ছে ৭০ টাকা। কেউ তো তখন দোকানে এসে বলতেও পারবে না, আমাকে ১০ টাকার পেঁয়াজ দেন। অথচ হয়তো একটি পেঁয়াজ হলেই সেই লোকের রান্না হয়ে যাচ্ছে। আমি তখন বাজার দর অনুযায়ী ৪টি করে পেঁয়াজ ছোট ছোট প্যাকেটে পুরে ১০ টাকা করে বিক্রি করতে শুরু করলাম। ঢাকায় অনেক ব্যাচেলর থাকেন। হঠাৎ দেখা যায় তার বাজার শেষ হয়ে গেছে। সে-মুহূর্তে তার কাছে যে টাকা আছে সেই টাকা দিয়ে হয়তো তিনি স্বল্প পরিমাণে বাজার খরচ চালিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু দোকানে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের কমে তিনি কিনতে পারছেন না। এটি বেশ ঝামেলার। আমি এ বিষয়টি ভেবেও উদ্যোগটি নিয়েছি।

ভোল মাছটির দাম উঠেছিল ৪০ হাজার টাকা কেজি
খুলনার রূপসা পাইকারি মাছ বাজারে উঠেছে ২৩ কেজি ৬৮০ গ্রাম ওজনের একটি ভোল মাছ। গত ১২ জানুয়ারি ভোরে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের জেলে মাসুম বিল্লাহ মাছটি বিক্রির জন্য নগরীর রূপসা পাইকারি বাজারের মেসার্স মদিনা ফিস ট্রেডার্স নামের আড়তে নিয়ে আসেন। বিরল এই ভোল মাছটিকে দেখতে ভিড় করেন অনেকে। কেউ কেউ মাছটির সঙ্গে সেলফিও তুলেছেন। ১০ জানুয়ারি ভোরে সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় জেলে মাসুম বিল্লাহর জালে মাছটি ধরা পড়ে।
জেলে মাসুম বিল্লাহ জানান, ১০ জানুয়ারি ভোরবেলা সুন্দরবনের দুবলারচরের বঙ্গোপসাগর থেকে মাছটি ভেহেন্দিজালে ধরা পড়ে। প্রথমে মাছটির দাম উঠেছিল ৪০ হাজার টাকা কেজি। সে হিসাবে তখন দাম হয় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। পরে সিন্ডিকেট করে ওরা দাম কমিয়েছে বলে মাছ বিক্রি না করে খুলনার বাজারে নিয়ে এসেছি। জেলে মাসুমের ছোটভাই মারুফ বিল্লাহ বলেন, সমুদ্র থেকে চরে আনা হলে মাছটির দাম বলা হয় ৮ লাখ টাকা। কেসিসি রূপসা পাইকারি মৎস্য আড়তের মেসার্স মদিনা ফিস ট্রেডার্স পরিচালক মো. আবু মুছা বলেন, ভোল মাছ আগে কখনও দেখিনি। এটি একটি দুষ্প্রাপ্য মাছ। সমুদ্রের সোনা খ্যাত ভোল মাছের চাহিদা খুব। স্বাদেও অনেক মজা। শোনা যায়, ভোল মাছের বালিশ (পেটি) সার্জিক্যাল অপারেশনের সুতা, প্রসাধনী ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। যার কারণে ভোল মাছের দাম এত বেশি।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য