Friday, February 23, 2024
বাড়িউত্তরণ ডেস্কখুনি রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা ফের চালু হচ্ছে

খুনি রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা ফের চালু হচ্ছে

উত্তরণ ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে ‘ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ’ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলাটি আবার চালু করার মাধ্যমে এই খুনিকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। গত ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথাটি। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ সফল হলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আরও একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন হবে বাংলাদেশের। খুনি রাশেদ চৌধুরীকে নিয়ে এখনও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাঁচজন পলাতক। খুনিদের ধরিয়ে দিতে রেড নোটিস জারি করা আছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের। কূটনৈতিক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৫ বছর আগে নিষ্পত্তি হওয়া এই মামলা এখন আবার চালু করে রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। গত জুন মাসে আলোচিত এই মামলাটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। গত ১৭ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল বার রাশেদ চৌধুরীর মামলাটি তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন ‘বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিল’কে। রাশেদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের অনুমতি বাতিল করতে চাইবেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারই। উইলিয়াম বারই সফল হলে শুরু হবে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। হত্যাকা-ের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ে অন্য আসামিদের সঙ্গে পলাতক অবস্থায় তাকেও মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত ১২ জন কর্মকর্তার মৃত্যুদ- বহাল রাখেন। ফাঁসির দ-প্রাপ্ত সাতজনের রায় কার্যকর হলেও রাশেদ চৌধুরীসহ বিদেশে পলাতক অন্যদের দ- কার্যকর হয়নি। রাশেদ চৌধুরী তার পরিবার নিয়ে ভ্রমণ ভিসায় ১৯৯৬ সালে আমেরিকায় যায়। দুই মাসের মধ্যে তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে। প্রায় ১০ বছর পর সেই অনুমতি পায়। এরপর বাংলাদেশ নানাভাবে তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনি তথা ফাঁসির আসামি রাশেদ চৌধুরীকে তুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময়েই মার্কিন মুলুকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তার কাছে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পের একটি চিঠিও তুলে দেন। ওই চিঠিতে করোনার সংকটকালেও মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসির পরই বঙ্গবন্ধুর বাকি পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চেয়ে মার্কিন সরকারের কাছে ফের অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকা-ে জড়িত প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। একাধিকবার জায়গা বদল করে ২০১৫ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী সেক্রামেন্টো থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কনকর্ডের হ্যাকলবেরি ড্রাইভে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তাতে তার এই অবস্থানের কথা উল্লেখ আছে। এমনকি গত বছরের নভেম্বর মাসেই মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পের কাছেও রাশেদ চৌধুরীর বিচারের যাবতীয় নথিপত্র পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও তারপরে এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি ট্রাম্প প্রশাসন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকবিতা
পরবর্তী নিবন্ধনির্বাসনের দিনগুলি
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য