Friday, February 23, 2024
বাড়িSliderখাবো এবার দেশি ফল

খাবো এবার দেশি ফল

বাংলাদেশে মোট প্রায় ১৩০ ধরনের ফল পাওয়া গেছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ ধরনের ফলই অপ্রচলিত, যা বাড়ির আনাচে-কানাচে, বনে-বাদাড়ে অনাদরে জন্মে। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে প্রচলিত ফল তথা আম, জাম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি ফলের চেয়ে বেশি; বরং কম নয়।

রাজিয়া সুলতানা: এগিয়ে চলছে দেশ। সেই সাথে কৃষিও। বাড়ছে জনসংখ্যা। কমছে চাষের জমি। ফলে বাড়ছে দারিদ্র্যসীমা। চরম দরিদ্রতা, পুষ্টিহীনতা, খাদ্য নিরাপত্তা কড়া নাড়ছে প্রায় ৫০ শতাংশ জনগণের দোরগোড়ায়। পুষ্টির অভাবে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। দেশ আজ খাদ্যশস্য তথা দানাদার শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষ খাচ্ছে; কিন্তু পেটপুরে খাওয়ার সবটাই নিরাপদ পুষ্টি নয়। বিষয়টি আমলে নিয়েছে সরকার এবং নিয়েছেন কৃষিবিদরা। তাই খুঁজে বের করেছে স্বল্প দামে, হাতের নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় এমন পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশজ অপ্রচলিত ফল। ফরমালিন শব্দ যখন বাংলাদেশে সব মাথাব্যথায় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে; তখন বাড়ছে নিরাপদ পুষ্টিসমৃদ্ধ অপ্রচলিত ফলের চাহিদা। সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বাংলাদেশে অপ্রচলিত ফলের গাছ-বীজ সংরক্ষণ, উৎপাদন এবং তৃণমূলে বীজ-চারাগাছ সরবরাহের জন্য জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে উঠেছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়েও বাড়ছে অপ্রচলিত ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় কয়েকটি শব্দ চলে এসেছে, যেমন অপ্রচলিত ফল, নিরাপদ পুষ্টি ও জার্মপ্লাজম। জেনে নেই এর পরিভাষা। অপ্রচলিত ফল মানে অস্তিত্ব আছে কিন্তু খুঁজে নিতে হয়। অবহেলিত কিন্তু চাহিদা কম। তবে গুরুত্বহীনও নয়। বাংলাদেশে মোট প্রায় ১৩০ ধরনের ফল পাওয়া গেছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ ধরনের ফলই অপ্রচলিত, যা বাড়ির আনাচে-কানাচে, বনে-বাদাড়ে অনাদরে জন্মে। তবে পুষ্টিগুণ বিচারে প্রচলিত ফল তথা আম, জাম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি ফলের চেয়ে বেশি; বরং কম নয়। আমরা জানি, রান্না করা খাদ্যে সকল পুষ্টি উপাদানই প্রায় বহাল তবিয়তে থাকে। কিন্তু যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঢাল স্বরূপ, অর্থাৎ ভিটামিন-সি রান্নার তাপে প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। আর অপ্রচলিত ফল হলো ভিটামিন-সি এর গুদাম ঘর, যা সরাসরি খাওয়া হয়। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে ভিটামিন-সি আছে ৪৬৩ মিলিগ্রাম, অরবরইয়ে ৪৬৩ মিলিগ্রাম, পেয়ারায় ২১০ মিলিগ্রাম। সেখানে আপেলে ভিটামিন-সি আছে মাত্র ৩.৫ মিলিগ্রাম। তাহলে বলাই যায়, ‘আর নয় বিদেশি ফল, খাবো কেবল দেশি ফল।’
তাছাড়া অপ্রচলিত ফল আমাদের কৃষক ভাইদের জন্য সাশ্রয়ী এবং আমাদের ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ। কারণ চাষাবাদে লাগে না কোনো বাড়তি যত্ন। দিতে হয় না সার, কীটনাশক, বালাইনাশক। সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহার করতে হয় না ফরমালিন। তাই তো আজকাল আমাদের চোখে পড়ে মনোলোভা কমলা মাল্টা রেখে মানুষ ঝুঁকছে দেশি সবুজ মাল্টার দিকে। সুতরাং আমরা দৃপ্তকণ্ঠে বলতে পারি, আমাদের দেশীয় অপ্রচলিত ফল খাদ্য হিসেবে নিরাপদ, পুষ্টি হিসেবেও। কিন্তু সমস্যা একটা। প্রচলিত ফলের মতো নেই এদের বিচরণ। বিলুপ্ত প্রায় এসব ফল। গবেষকরা দমে যাওয়ার পাত্র নয়। গড়ে তুলল জার্মপ্লাজম সেন্টার। ঘুরে বেড়াল দেশের আনাচে-কানাচে। যেখানে যে ফল চোখে পড়ল, তাই অতি যতœসহকারে রোপন করতে আরম্ভ করল জার্মপ্লাজম সেন্টারে। এরপর সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এদের বিশেষ করে অপ্রচলিত ফলের বীজ, চারা উৎপাদন করে পৌঁছে দেওয়া শুরু করল কৃষক পর্যায়ে। যার ফলে অনেক অপ্রচলিত ফল আজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি অবদান রাখছে নিরাপদ পুষ্টিতে। অপ্রচলিত ফলের মধ্যে রয়েছেÑ অমৃত ফল, অরবরই (নোয়াল), আদাজামির, আলুবোখারা, আতা, দেশি আমড়া, আমঝুম, আমরুল, আঁশফল, উড়ি আম, বিলাতি আমড়া, আমলকী, কাউ, কামরাঙা, কদবেল, কালোজাম, করমচা, রাম কলা, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কোয়াগোলা কাগজিলেবু, কাউফল, কেক ফল, কেন ফল, খেজুর, খিরনি, দেশি গাব, বিলাতি গাব, গুটগুটি, গোলাপজাম, চালতা, চামফল, চাপালিশ, পানকি-চুনকি, চিনাডুলি, চুকুর, চাউর, লতা ডুমুর, চেরি, চিনার, চিকান, গুটি জাম, বামন জলপাই, লাল টকটকে আপেল জামরুল, গোলাপজাম, পানিজাম, কালোজাম, গোলাপি রঙের নাশপাতি জামরুল, জামির, জঙ্গিবাদাম, চেস্টনাট, সবুজ জামরুল, জিলাপি ফল, টাকিটুকি, টমিটমি, ট্যাংফল, বন্য ডুমুর, ডেওয়া, ডেফল, তারকা ফল, তেঁতুল, তাবা, তাল, ত্রিপত্রিক লেবু, তিনকরা, তৈকর, তরমুজ ডালিম, পানিফল, পেয়ালাগোটা, পানিয়ালা, পদ্মফল, ফলসা, বেল, বাঙ্গি, বকুল, বাতাবিলেবু, বৈঁচি, বুদুমচোরা, মহুয়া, মাখনা, মনফল, মুড়মুড়ি, রুয়াইল, রুটি ফল, রক্তগোটা, লটকন, লুকলুকি, বেল, বকুল, বেতফল, বিলিম্বি, বনলেবু, শরিফা, টকলেবু, বেঁটে সফেদা, কালোপাতি সফেদা, বাদামি সফেদা, তুঁত, সিঙ্গাড়া ফল, সাতকরা, হরীতকী, বহেড়া, বন কাঁঠাল, স্টার আপেল, লোকাট, চেরি ইত্যাদি। এসব ফলে রয়েছে ভিটামিন, আঁশ ও খনিজ উপাদান, যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দেহ ও মনকে সুস্থ সবল রাখে। তাছাড়া ঐসব পুষ্টি উপাদান খাদ্যদ্রব্য হজম, পরিপাক ও বিপাকে সাহায্য করে। তবে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ফল আমাদের শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দেয় না। তাছাড়া ফল সরাসরি খাওয়া যায় বলে এতে সবটুকু পুষ্টি উপাদানই বিদ্যমান থাকে। ফলে অ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধকারী হিসেবেও ফল খুবই কার্যকরী। পুষ্টিবিদের মতে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের কমপক্ষে দৈনিক ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু পাচ্ছি গড়ে মাত্র ৭৭ গ্রাম, যা আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। নিরাপদ পুষ্টি বললে প্রথমে বলতে হয় পুষ্টি নিরাপত্তার কথা। পুষ্টি নিরাপত্তা হলো খাদ্যাভাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালরি ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট গ্রহণ করা। আর নিরাপদ পুষ্টি হলো খাদ্য উৎপাদন হতে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের নিরাপত্তা ও পুষ্টিমান বজায় রাখা। বাংলাদেশে প্রায় সকল ধরনের কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। তথাপি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অনেকটাই ভাঁড়ে মা ভবানী। তবে এ অবস্থা হতে অনেকটা পরিত্রাণ দিতে পারে আমাদের দেশীয় ফল। হোক প্রচলিত বা অপ্রচলিত। আর জার্মপ্লাজম হলো কোনো একটি জীবের বংশগত সম্পদ বা কৌলিক সম্পদ। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে জনন কোষের প্রটোপ্লাজমকে জার্মপ্লাজম বলে। আমরা জানি, একই ফলের বিভিন্ন জাতের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে বা একই ফলের ভিন্ন ভিন্ন জাত রয়েছে। আর এই এক একটি জাতই এক একটি জার্মপ্লাজম। আর প্রত্যেকটি জীবন্ত জাতকে সংরক্ষণ করাই হলো জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ। আমাদের দেশের কয়েকজন কৃষিবিজ্ঞানীর নিরলস পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ফলজ গাছের জার্মপ্লাজম সেন্টার।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এমএ রহিম মাত্র ১ একর জায়গা নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ প্রান্তে প্রথম ফলজ গাছের জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য ফল গাছের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, উন্নয়ন ও তা সারাদেশে সম্প্রসারণ। তবে মূল উদ্দেশ্য বিপন্ন প্রায় দেশীয় ফলগুলোকে বন-বাদাড় হতে তুলে এনে তা সংগ্রহ করা ও কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের মাধ্যমে দেশের জনগণের হাতের নাগালের মধ্যে এদের এনে দেওয়া। সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা। শুরু করেছিলেন মাত্র কয়েকটি জার্মপ্লাজম নিয়ে। বর্তমানে জার্মপ্লাজমের সংখ্যা ১১,৫২৮। এর মধ্যে রয়েছে আমের ১ হাজার ৮৫৮টি, লিচুর ৬৫টি, পেয়ারার ১ হাজার ১৬০টি, বিভিন্ন লেবুর ৬৬৯টি, কাঁঠালের ১০৫টি, অপ্রচলিত ফলের ১ হাজার ২১৮টি, বিদেশি ফলের ১ হাজার ৯২৫টি এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন ফল গাছের ১ হাজার ১৪টি জার্মপ্লাজম। সীমানা এখন ৩২ একর, যা বাউ জার্মপ্লাজম হিসেবে খ্যাত। এই জার্মপ্লাজম সেন্টারটি পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় আর এশিয়ার মধ্যে বৃহতম। পৃথিবীর অন্যান্য জার্মপ্লাজম সেন্টার শুধু জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে। কিন্তু বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টার জার্মপ্লাজম সংগ্রহের পাশাপাশি জাতের উন্নয়ন, পরিবর্ধন ও সম্প্রসারণ করে। এই সেন্টারের প্রথম উদ্ভাবিত ফলের জাত ছিল বাউকুল ১, যা দেশে ফল উৎপাদনে বিপ্লবের সূচনা করেছিল। আর বর্তমানে এই সেন্টার থেকে ১২৩টি ফলের জাত কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য নিবন্ধিত করেছে। ষড়ঋতুর এদেশে যেখানে শুধু মধুমাসে ফলের সমারোহ দেখা যেত। এখন প্রায় সারাবছরই চোখে পড়ে বিভিন্ন রকমের ফলের পসরা। দেশীয় ফল এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও চলে এসেছে। এরপর ২০১১ সালে এগিয়ে এলো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে অপ্রচলিত ফলের সংরক্ষণ ও উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের পরিচালনায় হেকেপ-এর আর্থিক সহযোগিতায় ফলজ গাছের জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে উঠেছিল। যার প্রধান গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানী। সেন্টারের আয়তন প্রায় ৪ একর। এখানে রয়েছে ৬০ প্রজাতির ৬৪৬টির বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছ। দেশি অপ্রচলিত ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে ৮টি। এছাড়াও দেশি ফলের জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রধান কার্যালয় ছাড়াও আঞ্চলিক ইনস্টিটিউটগুলোতে নিবিড় গবেষণাসহ দেশীয় ফলের জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা (বিনা) পরমাণু শক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে দেশি ফলের জাত উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বসে নেই সরকারি বিভিন্ন মহলও। ‘দেশের অপ্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় ফল উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি’ নামে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে হারিয়ে যাওয়া অপ্রচলিত ফল নতুন করে উৎপাদন করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত। তাছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশি ফলকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ফল প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। সুপারশপেও স্থান পাচ্ছে বিভিন্ন রকমের অপ্রচলিত ফল। আবার সরকারি প্রচার-প্রচারণায় অনেক অপ্রচলিত ফলও জায়গা করে নিয়েছে প্রচলিত ফলের ডালায়। এগুলোর মধ্যে বরই, পেয়ারা, লটকন ইত্যাদি। বাণিজ্যিকভাবে অপ্রচলিত ফলের চাষ হলে বিলুপ্ত প্রায় অপ্রচলিত ফলগুলো হুমকির হাত থেকে রক্ষা পাবে।
বাগানে, অব্যবহৃত আঙিনা, বাড়ির আশপাশ, জমির আইল, পাহাড়ি অঞ্চলে নানাজাতের ফল গাছের সঙ্গে বিলুুপ্তপ্রায় দেশজ অপ্রচলিত ফল গাছ লাগিয়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থা পাল্টে ফেলার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ-জন্য সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বীজ ও চারা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করতে হবে। পরিকল্পনামাফিক চাষাবাদের সাথে সাথে আধুনিক শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। তদুপরি ভোক্তা সাধারণকে অপ্রচলিত ফল খাওয়ার জন্য গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে অপ্রচলিত তথা দেশজ ফল সামগ্রিকভাবে পুষ্টিসূচকে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। ফরমালিনমুক্ত এসব ফল হয়ে উঠতে পারে পুষ্টি নিরাপত্তার বিপুল সম্ভাবনার আরেক নাম।

লেখক : শিক্ষক ও পিএইচডি গবেষক
প্ল্যান্ট প্যাথলজি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
raziasultana.sau52@gmail.com

পূর্ববর্তী নিবন্ধকবিতা
পরবর্তী নিবন্ধচালের বস্তায় লিখতে হবে ধানের জাত
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য