Saturday, July 13, 2024
বাড়িSlider‘ও যে আমাদের ঘরের মেয়ে’

‘ও যে আমাদের ঘরের মেয়ে’

“ খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, গ্রামীণ পুনর্গঠন এবং দারিদ্র্য হার কমিয়ে এনে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। সংবিধানে বর্ণিত ভাত, কাপড়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিপুল অগ্রগতির রথচক্র এগিয়ে নিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে এ-পথে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। „

নূহ-উল-আলম লেনিন

এক
বাংলার মুসলমান ও বাঙালি মুসলমান শব্দ দুটি সমার্থক নয়। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় প্রথম আদমশুমারি হয়। এই আদমশুমারিতে প্রথম সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় বাংলার জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশ মুসলমান। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই আদমশুমারির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে এতদিনের প্রচলিত ধারণা হিন্দুরাই বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ, এই মিথ ভেঙে দেন। তিনি বাংলার মুসলমানদের মধ্যে দুটি অংশ দেখতে পান। মুসলমানদের বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল সাধারণ কৃষক ও দরিদ্র। অন্য অংশটি ছিল অবাংলাভাষী জমিদার-জোতদার ও ধনী কৃষক। সমাজতত্ত্ববিদগণ এই সংখ্যালঘিষ্ঠ অভিজাত শ্রেণিকে বলেছেন, এদের বেশিরভাগ হয় উত্তর ভারত থেকে আগত, নয় তো মুসলিম শাসনামলে মধ্য এশিয়া প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আগত সৈনিক, অমাত্য ও রাজানুগ্রহপ্রাপ্ত অবাংলাভাষী স্থায়ী বাসিন্দা।
প্রকৃতপক্ষে এই অবাংলাভাষী এলিট বা অভিজাত বাঙালিরাই মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা। তাই পাকিস্তান আন্দোলন পর্যন্ত বাংলায় মুসলিম লীগের কর্তৃত্ব ছিল এই এলিট মুসলমানদের হাতে। দেশভাগের আগের ১০ বছর সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ভোটে জিতে মুসলমান জনপ্রতিনিধিরা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি বা অবিভক্ত বাংলার সীমিত রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করেন। এ কে ফজলুল হক, নাজিমউদ্দিন ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীÑ বাংলা ভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই তিনজনের দুজন ছিলেন অবাংলাভাষী। একমাত্র এ কে ফজলুল হক ছিলেন খাঁটি বাংলাভাষী।
বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মধ্যে প্রথম মহাযুদ্ধের পর শিক্ষার প্রসার ঘটে। এদের মধ্যবিত্তে উত্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বিংশ শতাব্দীর ত্রিশ-চল্লিশের দশকে বাংলাভাষী বাঙালিদের একটা মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ও তাদের প্রভাব দৃশ্যমান হতে থাকে। তবে তখনও সমাজের, রাজনীতির ও অর্থনীতির চাবিকাঠি থেকে যায় বাঙালি অভিজাত শ্রেণির হাতে। অবাংলাভাষী হলেও শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম মুসলিম লীগকে অভিজাত শ্রেণির হাত থেকে মুক্ত করতে চেষ্টা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এই সংখ্যাগুরু বাংলাভাষী কৃষকদের থেকে উত্থিত লোকনায়ক। তাই বাঙালি অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেন বাংলার মুসলমানদের প্রতিনিধি। তিনি বাংলার মুসলমানদেরÑ যাদের শাসক মুসলমানরা ব্রাত্য বলে মনে করত, তিনি ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি ছিলেন বিকাশমান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমন্বয়ধর্মী সংস্কৃতির যোগ্য প্রতিনিধি। তার জাতি-চেতনা তাই মুসলমানত্বে ঘেরাটোপে বন্দি ছিল না। বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন সমন্বয়ধর্মী অসাম্প্রদায়িক জাতি-চেতনার আধুনিক রূপকার।
শেখ হাসিনা ছিলেন পিতার যোগ্য উত্তরাধিকারী। তার জীবনধারা, দার্শনিক বীক্ষা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব জীবনাচরণ একদম খাঁটি বাঙালির দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলায় জন্ম নিলেই কেউ বাঙালি হয়ে যায় না। খাঁজা নামিউদ্দিন, বগুড়ার নবাব পরিবারের মোহাম্মদ আলী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ফজলুর রহমান, নূরুল আমিন, অমুক নবাব, অমুক খান বাহাদুর বা খান সাহেব প্রমুখ নৃতাত্ত্বিক অথবা মানসিকতার দিক থেকে অবাঙালি। এমনকি ইদানীংকালের খালেদা জিয়াও দেশমাতৃকার সন্তান হতে পারেনি। পেরেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা কেবল তার ঔরসজাত সন্তান পরিচয়ে পরিচিত নন। শেখ হাসিনাও হচ্ছেন ‘Doughter of the Soil’। এদেশের মাটি ও মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু যেমন অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন; তেমনি শেখ হাসিনাও নিজেকে নিবেদন করেছেন দেশমাতৃকার জন্য, ব্রাত্য বাঙালির কল্যাণের জন্য।

দুই
’৭৫-এ পা রাখছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। অতিশয়োক্তি না করেও বলা যায়, শেখ হাসিনা সমকালীন বিশ্বের একজন বিরলপ্রজ সফল রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি প্রথম মেয়াদে পাঁচ বছর এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ১৫ বছর, অর্থাৎ ২০ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন। চলমান বিশ্বে এটা প্রায় নজিরবিহীন। তার এই টানা শাসনামলে তিনি একটি ডুবন্ত-প্রায় জাতিকে কেবল তুলেই আনেননি, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ অভিধা মোচন করে জাতিকে ‘নবজীবন’ দান করেছেন- তারই নেতৃত্বে জাতি উন্নয়ন ও বিকাশের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে অদম্য গতিতে। তথ্য-উপাত্তে ভারাক্রান্ত করে এবং উচ্চকণ্ঠ নান্দীপাঠ করে শেখ হাসিনার সাফল্যের গীত গাইতে হবে না। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের মানুষ তা জানেন।
তবু প্রশ্ন মোটা দাগে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার সাফল্য গাথার কিছু নজির তুলে ধরছি।
প্রথমত; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে যে একটা ‘জাতি-রাষ্ট্র’ ও ‘আত্মপরিচয়’ দিয়েছিলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী সেনাশাসক ও তাদের তৈরি রাজনৈতিক দল এবং স্বৈরশাসকরা তাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এবং তার গৌরবোজ্জ্বল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আত্মপরিচয়কে মুছে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা ব্যর্থ রাষ্ট্রের কলঙ্ক মোচন করে, নতুন করে বাঙালি জাতি-রাষ্ট্র ও তার আত্মপরিচয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দ্বিতীয়ত; লাখ লাখ শহিদের রক্তে লেখা ১৯৭২-এর সংবিধানকেও পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।
তৃতীয়ত; খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, গ্রামীণ পুনর্গঠন এবং দারিদ্র্য হার কমিয়ে এনে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। সংবিধানে বর্ণিত ভাত, কাপড়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিপুল অগ্রগতির রথচক্র এগিয়ে নিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে এ-পথে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।
চতুর্থত; বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যাকা-ের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রভৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। কলঙ্ক মোচন করেছেন।
পঞ্চমত; ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে (পদ্মাসেতু, পায়রা নৌবন্দর, গভীর সমুদ্র বন্দরের উদ্যোগ, রাজধানীতে মেট্রোরেল, কর্ণফুলীতে টানেল, পাকশীতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট স্থাপন প্রভৃতি) বিপুল সাফল্য শিল্পোন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
ষষ্ঠত; নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় নজিরবিহীন সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখা।
সপ্তমত; আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজেকেও বিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের রূপকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা।
শেখ হাসিনা এক জীবনে যে সাফল্য অর্জন করেছেন, বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রনেতা (প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী) তা অর্জন করতে পারেননি।

তিন
শেখ হাসিনা কি ভেবেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন, রাষ্ট্রনায়ক হবেন? কৈশোর এবং তারুণ্যের দিনগুলোতে তিনি পিতার কাছ থেকে দেশপ্রেমের দীক্ষা নিয়েছেন। আপনা আপনি তিনি বা আমরা কেউই রাজনীতিবিদ, দেশ ও জনগণের কল্যাণ-ভাবনায় নিজেকে উৎসর্গ করার দীক্ষা পাইনি। আমাদের প্রথম পাঠ গ্রহণ করি পরিবার থেকে। শেখ হাসিনাও এই শিক্ষা পেয়েছেন বাবার জীবন থেকে, মায়ের কোল থেকে। শৈশব-কৈশোরের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বাবার সান্নিধ্য বঞ্চিত হয়ে। বাবার বেশির ভাগ সময় কেটেছে জেল থেকে জেলে। দু-বছরের ছোট ভাই কামাল যেমন বলেছিল, “হাসু আপা, আমি তোমার বাবাকে একটু বাবা বলি?” এমনই ছিল বঙ্গবন্ধু ও তার সন্তানদের মধ্যে সম্পর্কের রসায়ন।
বাবার জীবনই তাকে একদিকে উদ্বুদ্ধ করেছে দেশপ্রেম, রাজনীতি ও লোকহিতের শিক্ষায়। বাবা কারাগারে (১৯৬৬-ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকতেই শেখ হাসিনা বকশি বাজার সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ভিপি পদে জয়লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে আমাদের সতীর্থ থাকাকালে পিতার নির্দেশে তিনি তরুণ বিজ্ঞানী ওয়াজদ মিয়াকে বিয়ে করেন। শিক্ষা-জীবনের ধারাবাহিকতা ক্ষুণœ হলেও রাজনীতি বিযুক্ত ছিলেন না। তিনি সকল প্রতিকূল অবস্থায় পিতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেবল মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর সাড়ে সাত মাস সন্তান লালন-পালন ও পড়াশোনা নিয়ে কাটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হবেনÑ এমন কোনো উচ্চাকাক্সক্ষা তিনি পোষণ করতেন না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাকা-ে হাসিনা-রেহানা দুই বোন ছাড়া বাবা-মা, ভাই-ভ্রাতৃবধূসহ সবাই নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের দৃশ্যপট বদলে যায়। নিয়তি তাকে বাধ্য করে রাজনীতির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে।
উচ্চাকাক্সক্ষা নয়, ভাগ্যহারা বাঙালি জাতির হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার ব্রত নিয়ে ১৯৮১ সালে তিনি মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন।
অতঃপর জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে দীর্ঘ ৪০ বছরের পথচলা। কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না এই পথ। দুটি শিশুসন্তানকে মাতৃস্নেহ ও সান্নিধ্য বঞ্চিত করে পাষাণে বুক বেঁধে শেখ হাসিনা নিজেকে সঁপে দেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে। এই ৪০ বছরে তার ওপর বহুবার সশস্ত্র হামলা হয়েছে। তার পাশের সহকর্মী-কর্মীদের অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হলেও অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। বেশ কয়েকবার তাকে কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। গৃহবন্দি থেকেছেন বহুবার। প্রতিপদে মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ এই পথচলায় তার একমাত্র পুঁজি ছিল (এবং এখনও আছে) মাতৃভূমির প্রতি, মানুষের প্রতি অঙ্গীকার এবং দুর্দমনীয় সাহস।
দেশপ্রেম, সাহস, ধৈর্য, আত্মত্যাগ, রাজনৈতিক কুশলতা এবং দূরদৃষ্টি তাকে জাতীয় সীমানা পেরিয়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত করেছে। প্রকৃতই শেখ হাসিনা ‘জননেত্রী’। গত ৪০ বছরে আমি সমগ্র বাংলাদেশের বেশিরভাগ উপজেলা ভ্রমণ করেছি রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কাজে। অসংখ্য উঠান বৈঠক, কর্মিসভা করেছি, জনসভা করেছি। গরিব কৃষক ও নিম্নবর্গের মানুষের বাড়িতে ঘুমিয়েছি। বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেয়েছি। শ্রমজীবীদের রাষ্ট্র-ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছি। কিন্তু দিন শেষে আমার শ্রোতাদের কাছ থেকে মন্তব্য শুনেছি, ‘তাহলে তো শেখ হাসিনাকেই ভোট দিবার নাকব।’ আমি বারবার চেষ্টা করেছি আপনাদের প্রতিনিধিকে ভোট না দিলে তো আপনাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। তারা উত্তরে বলেছেন, ‘অমুক ভাই নিশ্চয়ই সবচেয়ে ত্যাগী ও সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু তাকে মার্কা বদলাইয়া নৌকা নিয়া আসতে বলেন। এটাই বাস্তবতা। পঁচাত্তর-পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ১৪-দল বা ১৫-দলভুক্ত বামপন্থি দলগুলোর যে কয়জন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন, তারা সবাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকা প্রতীক নিয়েই সংসদে গিয়েছেন।
কুশলী রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুসারী বাম প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দলগুলোকে একবার ‘১৫-দলে’ এবং অন্যবার ‘১৪-দল’-এর ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। বাম দলগুলো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছেন এর রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদারিত্বও পেয়েছেন।
ইউটোপিয়া বাদ দিয়ে একটি কল্যাণ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিরামহীন পরিশ্রম করে চলেছেন। একটি সুখী সুন্দর মানবিক সমাজ এবং বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার’ স্বপ্ন রূপায়ণই তার জীবনের একমাত্র ব্রত।
শেখ হাসিনার বিলাসিতাহীন জীবনযাপন, সাধারণ ব্রাত্যজনের সাথে সহজসরল্যে এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাছে টেনে নেওয়ার দুর্লভ গুণ সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করে। দ্বিধাহীনচিত্তে তাদের বুকে টেনে নিতে অথবা একান্ত আপনজনের মতো মেলামেশা করার দুর্লভ গুণ দেশের নারী-পুরুষ সবাইকে মুগ্ধ করে। দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের গ্রাম-জনপদের মানুষ উচ্ছ্বসিত বলে ‘ও যে আমাদের ঘরের মেয়ে’। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ, ইউনেস্কো, বিশ্ব খাদ্য সংস্থাসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ^বিদ্যালয় থেকে অসংখ্য সম্মাননা ও পদক পেয়েছেন। কিন্তু তার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে, বাংলার সাধারণ মানুষের গভীর ভালোবাসা উৎসারিত ‘ও যে আমাদের ঘরের মেয়ে’ হওয়ার গৌরব অর্জন।

লেখক : সম্পাদক, উত্তরণ

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য