Sunday, July 3, 2022

ওমিক্রন ভ্যাকসিন নিলেই নিরাপদ

ডা. মোহাম্মদ হোসেন

ওমিক্রন (Omicron) করোনাভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান সিটিতে করোনাভাইরাসের (SARS-COV-2) কারণে প্রথম কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এরপর এই রোগ মহামারি আকারে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ মহামারি কেড়ে নেয় প্রায় ৫৫ লাখ মানুষের প্রাণ। বাংলাদেশেও এই রোগের কারণে গত দু-বছরে প্রায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
উহানে আবির্ভাবের পর এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট বিজ্ঞানীরা নথিবদ্ধ করেছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যে ভ্যারিয়েন্টগুলো মানুষের জন্য অত্যন্ত শঙ্কার (Variant of concern) বলে ঘোষণা করে সে-রকম কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট হলো- আলফা (Alpha), বিটা (Beta), গামা (Gamma), ডেল্টা (Delta) এবং ওমিক্রন। এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সবচেয়ে খুনে আচরণ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে, যার ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্ব গত এক বছর প্রত্যক্ষ করেছে। আমাদের সৌভাগ্য যে ডেল্টার সংক্রমণ ছড়ানোর পর্যায়েই আমাদের হাতে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন চলে আসে, যা ডেল্টার গতিকে অনেকটাই স্তিমিত করে দেয়। ডেল্টা সংক্রমণের উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে হানা দেয় ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর। এর দুদিন পর ২৬ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন (Variant of concern)) ঘোষণা করে এবং ভাইরাসের এই জাতকে পুরোপুরিভাবে বুঝে ওঠার আগ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো-
১. এটা এ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ সব ভাইরাস ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চ সংক্রমণশীল। নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে ডেল্টা যেখানে ৭-১০ দিন সময় নিয়েছে, ওমিক্রন তিন দিনেই সে-কাজটি করে ফেলছে।
২. উচ্চ সংক্রমণশীল হলেও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ওমিক্রনজনিত সংক্রমণ মৃদু উপসর্গ তৈরি করে, মানব ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের গভীরে প্রবেশ না করার কারণে এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিও কম পরিলক্ষিত হয়। সামগ্রিক ফলাফল, খুব কম সংখ্যক ওমিক্রন আক্রান্তকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আবার যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের অনেকে টিকা নেননি কিংবা অন্য কোনো গুরুতর রোগে ভুগছিলেন।
৩. উপসর্গ মৃদু হলেও উচ্চ সংক্রমণের কারণে একটি বড় জনগোষ্ঠীকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়, এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বাড়তি বোঝা। এর সমাধান কী? সমাধান কি সেটি আমরা জানি, ইতোমধ্যে প্রয়োগও করেছি। সমাধান, পরীক্ষিত সেই পুরনো পদ্ধতিগুলোই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সামাজিক মেলামেশা, মাস্ক ব্যবহার করা, নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির নিয়ম না মানা ইত্যাদি।
করোনাভাইরাসের অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছি, ভবিষ্যতে আরও অনেক ভ্যারিয়েন্ট আসবে। তবে ভ্যারিয়েন্টের প্রকারভেদ যাই হোক, এই মহামারিতে একটি অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য ধ্রুব সত্য হয়ে আবির্ভূত হয়েছে, সেটি হলোÑ আপনি যদি ভ্যাকসিন নিয়ে থাকেন, সেটি যে ধরনের ভ্যাকসিনই হোক, আপনি অনেকটাই নিরাপদ। নিশ্চিত জানবেন, ভয়ঙ্কর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আরও অনেক মানুষের প্রাণ সংহার করত, যদি না কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে আশীর্বাদ হয়ে আবির্ভূত হতো।

লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য