Sunday, July 3, 2022
বাড়িSliderউন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতেই হবে

উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতেই হবে

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে হবে। এ জন্য প্রধান নির্গমনকারীদের অবশ্যই তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (এনডিসি) পেশ এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত ১ নভেম্বর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ২৬তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে (কপ২৬) মূল অধিবেশন ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এ সময় তিনি ৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছেÑ দেশের এনডিসি আপডেট, ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের শক্তির ৪০ শতাংশ নেওয়া। প্রথম প্রস্তাবে তিনি ধনী দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দেন। শীর্ষ সম্মেলনে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে সিভিএফ এবং ভি২০ (দ্য ভালনারেবল২০)-এর সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য রেখে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। তৃতীয়ত তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং সিভিএফ দেশগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনা করা। প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা এবং খরার কারণে বাস্তুচ্যুত জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়বদ্ধতা ভাগ করে নেওয়াসহ লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নির্গমনের শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশেরও কম অবদান রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত সাত বছরে আমরা জলবায়ু সম্পর্কিত ব্যয় দ্বিগুণ করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছি। সম্প্রতি আমরা একটি উচ্চাকাক্সক্ষী এবং যুগোপযোগী এনডিসি জমা দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত সৌরশক্তি কার্যক্রম। আমরা আশা করি, ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের ৪০ শতাংশ জ্বালানি থাকবে। আমরা ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র্র বাতিল করেছি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, তার সরকার ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে- এটি জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে টেকসই ও জলবায়ু সমৃদ্ধির পথে যাত্রা।
জলবায়ু ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০-এর সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি দেশের স্বার্থ প্রচার করছি। গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপ্টেশনের ঢাকার দক্ষিণ এশিয়া অফিসের মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিকভাবে সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অভিযোজন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে চলেছি। তিনি বলেন, সিভিএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ একটি জলবায়ু জরুরি চুক্তির চেষ্টা করছে।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের চাহিদার স্বীকৃতি দাবি : এ দিন কপ২৬ সম্মেলনস্থলের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে ‘সিভিএফ-কমনওয়েলথ হাই-লেভেল ডিসকাসন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দরিদ্রতম ও সবচেয়ে বেশি পর্যুদস্ত ৪৮ দেশের অর্থায়ন চাহিদার আশু স্বীকৃতি দাবি করেছেন ধনী দেশগুলোর কাছে। তিনি প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বৈশ্বিক ও আন্তঃসীমান্ত সমস্যা এবং এর মারাত্মক পরিণতি থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়। জলবায়ু দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং এসবের প্রভাব নাজুক দেশগুলোকে অপূরণীয় ক্ষতির অগ্রভাগে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটা বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
তিনি বলেন, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সিভিএফ সদস্য দেশ কমনওয়েলথের সদস্য এবং এসব দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অবদানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যৌথ প্রচেষ্টা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলো প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
সিভিএফের চেয়ার শেখ হাসিনা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য ৬-দফা প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবের প্রথম দফায় তিনি বলেন, আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য টেকসই, সবুজ এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান অর্জনে আমাদের মধ্যে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয় দফায় তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন অবস্থান প্যারিস চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সুরক্ষিত করতে আমাদের সাহায্য করতে পারে। জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান এবং ভবিষ্যৎ ওডিএ-র অতিরিক্ত। এই পরিমাণটি অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ অনুপাতের সঙ্গে বরাদ্দ করা উচিত।
তৃতীয়ত তিনি বলেন, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা এবং খরার কারণে মানুষ তাদের পৈতৃক ভিটা এবং ঐতিহ্যবাহী পেশা থেকে চ্যুত হয়েছে, যা আলোচনা করা দরকার এবং এসব মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব নিতে হবে।
চতুর্থ দফায় তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে রাখতে তাদের উচ্চাভিলাষী এবং আগ্রাসী এনডিসি ঘোষণা করতে প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ হিসেবে কাজ করতে পারে।’ এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা মেটানোসহ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি হন্তান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চম দফায় তিনি বলেন, সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্যদের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বোপরি একসঙ্গে আমাদের অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সমাধানগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, সিভিএফের ৪৮ সদস্য দেশগুলো মোট বৈশ্বিক নির্গমনের মাত্র ৫ শতাংশের জন্য দায়ী, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের জীবন ও জীবিকার জন্য মৌলিক হুমকি সৃষ্টি করেছে। অধিকন্তু কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী, সাহসী এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের জন্য কার্যকর সহযোগিতা এবং সহযোগিতার তাৎপর্য প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হন্তান্তরের জন্য আমাদের দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের প্রচেষ্টায় আমাদের সমর্থন করার জন্য তাদের বাধ্যবাধকতা’ পূরণ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য বাংলাদেশকে প্রায়ই গ্রাউন্ড জিরো বলা হয়। আমাদের দুর্বলতা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি একটি উচ্চাভিলাষী এবং হালনাগাদ এনডিসিরও উল্লেখ করেন, যা সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউএনএফসিসিসি’তে জমা দিয়েছে।

বড় দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন বিপদ বাড়াচ্ছে
কার্বন নিঃসরণকারী গুরুত্বপূর্ণ উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত তহবিল না দেওয়ায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় কপ২৬ সম্মেলনের পাশাপাশি ফোরামের সভাপতি হিসেবে গত ২ নভেম্বর ৪৮ জাতি সিভিএফ নেতাদের সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস।
ছয় বছর আগে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো জলবায়ুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এখনও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিকে দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। সে-কারণেই অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়ে আমরা, সিভিএফ সদস্যরা এই কপে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরের অভিযোজন ও প্রশমনের ৫০:৫০ আনুপাতিক হারে প্রতি বছর মোট ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতরণ পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন উন্নত দেশগুলোর কাছে দাবি করি।
‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম লিডার্স ডায়ালগ : ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তার দেশের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ চালু করেছে। ‘কম কার্বন কৌশল’ অবলম্বনের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নের পথনির্দেশনা দিতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৩৭ সিভিএফ সদস্য রাষ্ট্রকেও নিজ নিজ দেশের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করে এগোনোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সিভিএফ একটি ‘জলবায়ু জরুরি চুক্তি’ নিয়ে এসেছে। এই চুক্তিটি জলবায়ু অর্থ সরবরাহ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।
‘নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে’ : প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান ভুক্তভোগী হিসেবে নারীরা এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্ধিত অংশীদারিত্বের দাবিদার এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ করে সহনশীল উন্নয়নে আরও সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন। কপ২৬ সম্মেলনের ফাঁকে ২ নভেম্বর নারী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কারণে বিশ্বের বেশির ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের বেশির ভাগই নারী ও মেয়েশিশু।
নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই এবং তারা প্রায়ই স্বল্প বেতনের এবং অবৈতনিক চাকরি ও কর্মকা-ে নিয়োজিত থাকে। এসব কারণে নারীদের ওপর পুরুষদের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বেশি পড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নীতি-কৌশল ও পদক্ষেপে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য