Saturday, July 13, 2024
বাড়িSliderআমরা জনতার সঙ্গে থাকব

আমরা জনতার সঙ্গে থাকব

উত্তরণ প্রতিবেদন: ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় স্নাত হলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু উল্লেখ করে বলেছেনÑ যারা ভোট চোর, ভোট ডাকাত ছিল তারাই এখন গণতন্ত্র চায়, ভোটের অধিকারের কথা বলে! যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে তাদের কাছ থেকে এসব কথা শুনতে হয়।
তিনি বলেন, এগুলো মাঠের কথা, মাঠেই থাকবে। আমরা জনতার সঙ্গে থাকব। জনতার পাশে থাকব। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করব। জনগণের জন্য কাজ করে যাব। জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ভোটের মাধ্যমেই তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাটাই আমাদের একমাত্র শক্তি। আর কোনো শক্তি নেই। বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু। এটা মনে রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই ওই সন্ত্রাসীর দল, খুনির দল বা যুদ্ধাপরাধীর দল- এরা যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাই। গত ১৭ মে গণভবনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, বাকিগুলো লুটেরার দল। তারা এদেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে না। সে-কথা মাথায় রেখে ওই খুনি-সন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধীদের দল যেন আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
বাংলাদেশের অর্জনগুলো নস্যাৎ করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সেটাও কার্যকর করে যাচ্ছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই এ অর্জনগুলো নস্যাৎ করতে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তাদের একটা ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। কিন্তু অনেস্টি (সততা) থাকলে এবং উদ্দেশ্য যদি সততার সঙ্গে হয় তাহলে যে কোনো জায়গায় সাফল্য আনা যায়। এই কথাটাই সব সময় মনে রাখি।
দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, লক্ষ্য একটাইÑ দেশের মানুষের জীবনটা উন্নত করা, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেওয়া। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন- দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সেই হাসি ফোটানোটাই একমাত্র কর্তব্য এবং সেটা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আজকে যখন ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর দেই, ঘর পাওয়ার পরে তার মুখের হাসির চেয়ে বড় পাওয়া বা স্বার্থকতা আর কিছু নেই।
টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা। সেই সঙ্গে গণতন্ত্র, এটা নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার কবে ছিল? পঁচাত্তর সালের পর থেকে জিয়াউর রহমান ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, ভোট নিয়ে খেলা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করেছে। বরং আওয়ামী লীগেরই নানা পদক্ষেপের ফলে আজকে বিভিন্ন সংস্কার করে করে নির্বাচন পদ্ধতিটাকে গণমুখী করা, জনগণের ভোট সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হয়েছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’  স্লোগান দিয়ে মানুষকে ভোট সম্পর্কে সচেতন করা- এটা তো আওয়ামী লীগই করেছে, আর কেউ না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করা হয়েছে, যেখানে ভুয়া ভোটার দিয়ে তালিকা হতো, সেখানে ছবিসহ ভোটার তালিকা হয়েছে, আইডি কার্ড- সবই তো আওয়ামী লীগেরই করে দেওয়া। সবই করে দিয়েছি আমরা। তারপরও যখন কেউ ভোট, গণতন্ত্র আর নির্বাচন নিয়ে আমাদের ছবক দিতে আসে, সেখানে আর কিছু বলার নেই।
সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মসূচি যেন ত্বরান্বিত হয় সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন, জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাবে। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা। জাতির পিতার যে স্বপ্ন- দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা, সেটা আমরা করব, ইনশা আল্লাহ্!

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য