Sunday, February 5, 2023
spot_img
বাড়িSliderআমরা করবো জয়...

আমরা করবো জয়…

সম্পাদকের কথা: আমাদের উদ্যাম যৌবনে, একটা গান খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। “আমরা করবো জয় একদিন…।” মুক্তিযুদ্ধে জয়ের পর আর একটি যুদ্ধ জয়ের উদ্দীপনায় আমাদের শিরায় শিরায় মাতাল রক্ত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৃহৎ শিল্প, বিশেষত পাট শিল্প, ব্যাংক-বীমা, বৈদেশিক বাণিজ্য প্রভৃতি জাতীয়করণ ঘোষণা করেছেন। ১০০ বিঘার ওপর জমির মালিকানা বাতিল করেছেন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেছেন। ব্যক্তিগত পুঁজির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, এই বাংলায় আর কোনো শোষণ থাকবে না, বঞ্চনা-বৈষম্য থাকবে না। আমার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। আমরা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। আমরা বিশ্বাস করতাম, বাংলাদেশ পুঁজিবাদ এড়িয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হবে। আমরা তাই তরুণদের, হতাশদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য গাইতাম- We Shall Overcome some days.
তারপর গত ৪৭ বছরে পদ্মা মেঘনা বুড়িগঙ্গা দিয়ে কত জল গড়িয়ে গেছে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ উল্টোপথে যাত্রা শুরু করে। Money is not problem বলে জিয়াউর রহমান অবিশ্বাস্য দ্রুততায় লুটেরা ধনবাদী বিকাশের পথ ধরে। শুধু তা-ই নয়, জিয়া-এরশাদের আমলে মুক্তবাজার অর্থনীতির আড়ালে অর্থনীতিতে-সমাজে-রাষ্ট্রে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নকে স্বাভাবিক অর্থনীতির জায়গায় প্রতিস্থাপন করেছে। ওই বলয় ভেঙে আমরা এখনও বেরুতে পারিনি। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় বাংলাদেশকে নতুন করে উন্নয়নের মহাসড়কে এনে দাঁড় করিয়েছেন। উৎপাদনশীল, কর্মসংস্থানমূলক এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনীতিতে নতুন গতিবেগ সঞ্চারিত করেছেন। ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯-২০২২ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশের সারি থেকে উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ এখন খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল। বাংলাদেশের গড় আয়ু উপমহাদেশে সর্বোচ্চ ৭৩ বছর। শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুর হার উপমহাদেশে সর্বনিম্ন। শিক্ষার হার ৭৫ শতাংশ। নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে অগ্রসর। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৭০০ মেগাওয়াট থেকে এখন ২৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। বিনা পয়সায় বই। ভূমিহীনদের জন্য গৃহসংস্থান। আশ্রয়ণ। দারিদ্র্যসীমা ৪০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০ শতাংশে নেমেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি ট্যানেল, হাজার হাজার ব্রিজ, রাস্তা বাংলাদেশকে শক্তিশালী নেটওয়ার্কে দাঁড় করিয়েছে। গড়ে উঠেছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। মহাকাশে শেখ মুজিব স্যাটেলাইট বাংলাদেশের অবস্থান মহাকাশ যুগে নিয়ে গেছে। জনগণের গড় আয় ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলার।
এই পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হলো আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার এতদিনে অর্জিত সাফল্য ও আত্মবিশ্বাস থেকে এই সম্মেলনে সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা ‘দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশÑ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’ তার এই প্রত্যয়, অঙ্গীকার ও ঘোষণা বাংলাদেশে একটা নতুন গণজাগরণের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর নানা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, বিশ্বব্যাপী কোভিডজনিত মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট এবং উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করে দেওয়ার বাস্তবতার মধ্যে শেখ হাসিনার এই অঙ্গীকার ও ঘোষণা বাঙালি জাতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। আওয়ামী লীগের কোটি কোটি সমর্থক ও কর্মী বুকে সাহস পেয়েছে, ভরসা পেয়েছে। নতুন প্রাণশক্তিতে জেগে উঠেছে আওয়ামী পরিবার। এই বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, মেগা প্রজেক্ট চালু, বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান, বিনিয়োগ সম্ভাবনা বৃদ্ধি, জনগণের আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ বাড়িয়ে দিয়েছে। We Shall Overcome কেবল কথার কথা নয়, আমরা বাস্তবে প্রমাণ করেছি, আমরা পেরেছি, আমরা পারছি এবং আমরাই পারব। এজন্য চাই আর একটি গণজাগরণ। চাই বৈষম্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সমাজের দৃঢ়পণ লড়াই।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য